Grow With Kamal

Grow With Kamal With over 20+yeras of experience, I can move your business to the exact location you thrive for! The

বাইক এক্সিডেন্টের পর কিছু দিন বিরতি নিয়েছিলাম কনসালটেন্সি সার্ভিস থেকে। যদিও একজন ইয়োরোপিয়ান ক্লায়েন্ট আমাকে ছাড়েনি...
15/11/2022

বাইক এক্সিডেন্টের পর কিছু দিন বিরতি নিয়েছিলাম কনসালটেন্সি সার্ভিস থেকে। যদিও একজন ইয়োরোপিয়ান ক্লায়েন্ট আমাকে ছাড়েনি।

ডাক্তারের অনুমতি সাপেক্ষে আবার শুরু করছি যাত্রা।

আমি মূলত নিচের সার্ভিস গুলো দিয়ে থাকি, আওয়ারলি প্যাকেজ হিসেবে।

১। Productivity Enhancement.
২। OKR Implementation.
৩। Leadership Development.
৪। Team Building and Development.

এছাড়াও, মান্থলি প্যাকেজ ১০ ঘন্টার ওপর হলে, আমি HR & Compliance এর ব্যাপারটিতেও নাক গলাতে পছন্দ করি।

আরো বড় প্যাকেজে আমার IT Expertise এর কিছুটা ধার দিতে কার্পণ্য করেছি বলে মনে পরে না।

আমি প্রতি ঘন্টায় ৪ হাজার টাকা চার্য করে থাকি, যেটা পুরোই প্রি-পেইড। কাজ শুরু করার পর ৫০% সময়ের মধ্যে যদি আপনি আমার কাজে অসন্তুষ্ট হন, জানালে পুরো টাকাটাই সাথে সাথে ফিরিয়ে দেয়া হবে।

টাকার অংক শুনে ভয় পাওয়ার কিছু নেই।

আমার সাইটে গেলে একটি ফ্রী কনসালটেন্সি অপশন পাবেন, ১৫ মিনিট কথা বলার পর যদি মনে হয়, বড় সড় একটা ডিসকাউন্ট পেলেও পেতে পারেন।

উঠতি স্টার্টআপ এর জন্যে শুরুতেই ২৫% ডিসকাউন্ট।

সাইটঃ
www.growwithkamal.com
I deliver results!

উনিশ শতকের শেষ দিকে এমেরিকার খুব বিখ্যাত এক হোটেল বড় ধরনের সমস্যায় পরেছিল। ১০ তলা হোটেল, চতুর্থ থেকে ১০ম ফ্লোর ছিল থাকার...
16/06/2022

উনিশ শতকের শেষ দিকে এমেরিকার খুব বিখ্যাত এক হোটেল বড় ধরনের সমস্যায় পরেছিল। ১০ তলা হোটেল, চতুর্থ থেকে ১০ম ফ্লোর ছিল থাকার জায়গা, মানে, প্রেসিডেন্সিয়াল সুইট, হানিমুন সুইট, সাধারণ সুইট, ইত্যাদি। নিচ তলা ছিল লবি, রিসেপশন। ২য় আর ৩য় তলায় ছিল অফিস, ডাইনিং, সেমিনার হল সহ প্রাত্যহিক কাজ চালানোর জায়গা।

সমস্যাটি ছিল গেট থেকে ঢুকে রিসেপশন পর্যন্ত যাওয়া যেত। কিন্তু সিঁড়ি আর এলিভেটর এর যায়গাটি সহ পুরো দো-তলা আর তিন-তলায় ইম্মিডিয়েট রেনোভেশন জরুরি হয়ে পড়েছিল। অবস্থা এতটাই খারাপ হয়েছিল যে রেনোভেশন ছাড়া সার্ভিসের মান বজায় রাখা সম্ভব ছিলনা, আর রেনোভেশনে গেলে সিঁড়ি/এলিভেটর বন্ধ রাখতে হবে। কেউ আর সুইট গুলোতে যেতে পারবে না।

তো, এই নিয়ে ম্যানেজমেন্ট একের পর এক জরুরী মিটিং করে যাচ্ছিল। কোন ভাবেই কোন সিধ্যান্তে আসতে পারছিলনা তারা। রেনোভেশনের জন্যে ৫ মাস দরকার, ঐ পরিস্থিতিতে ৫ মাস অপারেশন বন্ধ রাখলে ব্র্যান্ড ভ্যালু পুরোই নষ্ট হবে, ক্লায়েন্ট চলে যাবে, আর রেনোভেশন বন্ধ রাখলে সার্ভিস কোয়ালিটি খারাপ হবে, সেটাও ব্র্যান্ড নষ্ট করবে, ক্লায়েন্ট আরো হতাশ হয়ে চলে যাবে। শাঁখের কড়াতের কাহিনী।

জরুরী মিটিং চলতেই থাকে, কেউ কোন সিধ্যান্তেই আসতে পারেনা। ম্যানেজমেন্ট তখন শুধু একটি প্রব্লেম নিয়েই মাথা ঘামাতে শুরু করে, রিসেপশন থেকে বুকিং কনফার্ম করে গেস্ট জেন অন্তত ওপরের সুইট গুলোতে যেতে পারে। কিন্তু সিঁড়ি আর এলিভেটরের কাজ করতে হলে সেটা সম্ভব ছিলনা।

অনেক মিটিং, ব্রেইনস্টর্মিং সেশনের পর CEO প্রায় সিধ্যান্তে চলে আসেন, অপারেশন বন্ধ থাকুক, হোটেল বন্ধ হোক, কিন্তু সুনাম জেন নষ্ট না হয়।

প্রায় সবাই-ই তার সাথে একমত, শুধু সিধ্যান্ত নেয়া বাকি কবে থেকে হোটেল বন্ধ করা হবে।

ঐ হোটেলের এক ঝাড়ুদার, (জেনিটর) রুটিন মত মিটিং রুম পরিষ্কার করতে গিয়ে প্রায় সব আলোচনাই শোনেন। মানে প্রায় প্রতিটি মিটিঙের সিধ্যান্ত-ই তার কানে যায়।

শেষ বোর্ড মিটিং, আলোচনার আর কিছু বাকি নেই, সুধু বোর্ড মেম্বার দের ভোট নেয়া বাকি। ভোট নেয়া শুরু হয়। সবাই “হ্যাঁ” / “না” ভোট বাক্সে ফেলতে থাকে। ভোট-ও শেষ হয়।

ব্যালট বাক্স খোলার আগে কিছুটা বিরতি। কফি ব্রেক। ঠিক তখন সেই জেনিটর বোর্ডের কাছে গিয়ে বলেন, অনুমতি দিলে একটি কথা বলতে চাই! অনুমতি পেয়ে যান সাথে সাথেই।

তিনি বলেন, সিঁড়ি, এলিভেটর বন্ধ থাকবে থাকুক। হোটেলের বাইরে আরেকটি এলিভেটর বানিয়ে গেস্টদের থাকার জায়গা পর্যন্ত যাওয়া নিশ্চিত করার পর রেনোভেশনে হাত দিলেই তো হয়!

তিনি জানতেন-ও না, ক্যাপস্যুল লিফটের আইডিয়া নিয়ে তিনি হাজির হয়েছিলেন। তিনি শুধু নিয়মিত চিন্তার বাইরে গিয়ে সমস্যাটি সল্ভ করার উপায় বের করতে চেয়েছিলেন।

আউট অফ দ্যা বক্স থিংকিং, খুব-ই সহজ, শুধু মনের ভাবনার গণ্ডি-কে কোন বক্স বা লাইনের ভেতরে সীমাবদ্ধ না রাখতে পারলেই অনেক জটিল সমস্যার সহজ সমাধান চলে আসবে।

২০০৫ এর দিকে মিলেনিয়ামের মাহমুদ ভাই এই গল্পটি বলেছিলেন। সত্যি-মিথ্যা যাচাই করিনি, কতটুকু স্মৃতিতে আছে তাও জানিনা। তবু লিখে রাখলাম।

আমার ফাউন্ডার জীবনের গল্প - মহসিন হলের দুই বিপক্ষ নেতাকে এক রুমে বসিয়ে সিগারেট ফোঁকার কাহিনী। ২০০২ এর নভেম্বরের কোন এক ব...
03/06/2022

আমার ফাউন্ডার জীবনের গল্প - মহসিন হলের দুই বিপক্ষ নেতাকে এক রুমে বসিয়ে সিগারেট ফোঁকার কাহিনী।

২০০২ এর নভেম্বরের কোন এক বিকেল। বসে আছি মহসিন হলের এক ছাত্রনেতার রুমে। পুরো রুম সিগারেটের ধোয়ায় আচ্ছন্ন, কোনায় ছোট একটা ফ্রিজের মতন কিছু খুলে একজন দুটো বিয়ারের ক্যান বের করে একটি আমার হাতে দিলেন, আরেকটি খুলে নিজে মুখ দিলেন।

আমি পকেট থেকে সিগারেট বের করে একরাশ ধোয়া ছেড়ে তাকে বললাম, উনি কোথায়?
“ভাই একটু বিজি, আপনারে ওয়েট করতে বলছে।” আমি পকেট থেকে ফোন বের করে সেই “ভাই” কে ডায়াল করে বললাম, “১৫ মিনিট ধরে বসে আছি, আপনি আর ৫ মিনিটের ভেতর না আসলে আমি চলে যাচ্ছি”। উনি স্যরি বলে বললেন, বসেন, আসতেছি। একটা ঝামেলা আসছে, মিটমাট করেই আসতেছি। সময় লাগবেনা আর।

স্রেফ ২ মিনিটের মধ্যে দেখি আরেকজন হন্তদন্ত হয়ে রুমে ঢুকলেন, সোজা আমার সামনে যিনি বসেছিলেন, মানে আমাকে যিনি বিয়ার সেধেছিলেন, তাকে বললেন, মিটিং হইলে দুই পক্ষের সামনে হইতে হবে। খালি রুলিং পার্টি বইলা আপনারা একা ডিসিশন নেবেন, সেইটা হবে না। আমার “ভাই”-ও মিটিঙে থাকবেন।

সোজা কথায় বলি, ছাত্রদলের নেতা “তার” অনুমতি ছাড়া হলে ইন্টারনেটের সংযোগ দিচ্ছি বলে ক্ষেপে গিয়ে আমাকে “সমন” পাঠিয়েছিলেন। আমি যাই, এই খবর পেয়ে ছাত্রলীগের নেতা সাহেব “ইচ্ছে” প্রকাশ করেন সিধ্যান্ত নেয়ার সময় তিনিও থাকবেন।

আমি তখন “বিয়ার“ দিয়ে যিনি আপ্যায়ন করেছিলেন তাকে বলি, আপনার ভাইকে ফোন করে বলেন আমি দু’জনের সাথেই বসবো। একা উনার সাথে না। তিনি ফোন করে এই কথা জানাতেই চিৎকার শুনতে পাই ফোনের অপর পাশ থেকে। দলের নেতা ভাই চিৎকার করে বলেন, হল আমি চালাই, অন্য কোন **** *ত না। আমি কারো লগে বইসা সিধ্যান্ত নেই না, কল্লোল সাহেব আর ঐ **** পোলারে জানায়া দে।

ফোনটা স্রেফ কেড়ে নিয়ে বলি, আপনি হয় আমাদের সবার সাথে বসবেন, না হলে আমি গেলাম। উত্তরে উনি বলেন, যান গিয়া, সাথে নেটের সবকিছু খুলে নিয়ে যেয়েন। উত্তরে জানাই, “আমি গেলাম, নেট খোলার দায়িত্ব আপনি-ই নেন। খোলা শেষ হলে আমাকে জানিয়েন ফোন করে।”

আমি চলে আসি।

ঘণ্টা দেড়েক পর উনি আবার ফোন করেন, কারণ?

কারণ হলো আমি জানতাম এই ঝামেলা হতে পারে, তাই আগে থেকে কিছু পোস্টার লিখে রেখেছিলাম।

“আমরা খুব কম খরচে হলের ছাত্রদের জন্যে ইন্টারনেটের ব্যবস্থা করেছিলাম, কিন্তু ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলিও নেতাদের বিরুদ্ধতার কারনে হয়তো এটা আর চালাতে সক্ষম হবনা। হল আপনাদের সবার, সিধ্যান্ত-ও আপনাদের সবার-ই হওয়া উচিৎ!”

আমি রুম থেকে বেড়িয়েই অফিসে ফোন করে ৫০ টি পোস্টার ১৫ মিনিটের ভেতর নোটিশ বোর্ডের আশপাশ সহ যেখানে যেখানে ছাত্রদের সমাগম বেশি, সেখানে লাগিয়ে ফেলতে বলি।

জানতাম ফোন আসবে, আসলো-ও, ঘণ্টা দেড়েক পর।

স্রেফ জানিয়ে দিলাম, দল, লীগ, আমি, সাথে সাধারণ ছাত্রদের কোন প্রতিনিধি ছাড়া কারো সাথে একা বসছি না। বেশ কিছুক্ষণ চুপ থেকে উনি বললেন, “ভাই, আসেন, কিন্তু মনে রাইখেন, কাজটা ভালো হলো না”।

সন্ধ্যের কিছু পরে আবার যাই। এবার আমাকে নিয়ে যাওয়া হয় অন্য একটি রুমে। ছোট্ট একটা রুমে ১০/১২ জন উপস্থিত। দলের নেতা’কে এর আগে দেখেছিলাম, কিন্তু লীগের নেতার সাথে পরিচয় ছিলনা। ঢুকেই উনার পরিচয় জানতে চাইলাম। চিকন পাতলা গড়নের এক ছেলে উঠে দাঁড়িয়ে হাত বাড়িয়ে দিলেন। হ্যান্ডশেক করতে করতে বললাম, উনি (দলের নেতা), আপনাকে একটা গিফট দিতে চাইছেন, কিন্তু লজ্জার কারণে সেটা আমাকে দিতে বলেছেন। এই বলে পকেট থেকে আগে পাওয়া বিয়ারের ক্যানটি উনার দিকে ছুড়ে দেই।

পিন-ড্রপ সাইলেন্স কাকে বলে সেদিন সেটা বুঝতে পেরেছিলাম!

বিয়ারের ক্যান খুলতে খুলতে উনি “দলের” নেতাকে বলেন, থ্যাংকস ভাই। তারপর বলেন, “আপনি বিয়ার দেবেন জানলে আমিও কিছু নিয়ে আসতাম, আপাতত ভাই, সিগারেট নেন।”

এক বনে, মানে এক রুমে দুই বাঘকে বসিয়ে আমিও সিগারেটে টান দিচ্ছি। হাসতে হাসতে ভাবি, সিচুয়েশন আমার কন্ট্রোলে।

এর পর? এর পর আর কি? মহসিন হলে নির্বিঘ্নে কাজ চালিয়ে গেলাম।

এমেরিকার প্রাক্তন এক ডিফেন্স সেক্রেটারিকে ইনভাইট করা হয়েছিল বিশাল এক কনফারেন্স-এ বক্তৃতা দেয়ার জন্যে। হাজার হাজার মানুষ ...
27/05/2022

এমেরিকার প্রাক্তন এক ডিফেন্স সেক্রেটারিকে ইনভাইট করা হয়েছিল বিশাল এক কনফারেন্স-এ বক্তৃতা দেয়ার জন্যে। হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত ছিল সেখানে। সবাই উদগ্রীব হয়ে অপেক্ষা করছিল তার কথা শোনার জন্যে।

তো উনি আসলেন কনফারেন্সে বক্তৃতা দেয়ার জন্যে, স্টাইরোফোমের (প্লাস্টিকের ওয়ান টাইম কাপ) কাপে কফি নিয়ে হাসি মুখে স্টেজে গিয়ে দাঁড়ালেন। হঠাত উনি হাতে ধরা কফির দিকে তাকিয়ে হাসলেন, তারপর তৈরি করে নিয়ে আসা স্ক্রিপ্ট বাদ দিয়ে নিজের মতন কথা বলা শুরু করলেন।

“আপনারা জানেন, গত বছর আমি ঠিক এক-ই কনফারেন্স-এ কথা বলেছিলাম। গতবছর আমি ডিফেন্স সেক্রেটারি ছিলাম। সে সময় আমি যখন আমি ইনভাইটেশন পাই, আমাকে একটি প্রাইভেট জেট-এ করে নিয়ে আসা হয়েছিল। আমি যখন এয়ারপোর্টে পৌছি, আমাকে রিসিভ করার জন্যে কয়েক জনের একটি দল অপেক্ষা করছিলেন। আমাকে তারা একটি প্রাইভেট লিমোজিনে করে হোটেলে নিয়ে যান। হোটেলে সবকিছু রেডি ছিল, আমাকে সোজা নিয়ে যাওয়া হয় আগে থেকে রেডি করে রাখা সব থেকে লাক্সারিয়াস রুমে।

পরদিন সকালে যখন আমি নিচ তলায় আসি, আমাকে গ্রিট করার জন্যে একজন অপেক্ষা করছিল সেখানে। তারপর আমাকে নিয়ে আসা হয়েছিল এই এক-ই কনফারেন্স রুমে। খুব দামি একটা সিরামিক কাপে কফি নিয়ে আমাকে অভ্যর্থনা জানানো হয়েছিল এই একই স্টেজ-এ।”

তিনি বলে চলেন,” আমি এখন আর ডিফেন্স সেক্রেটারি নই। একটি সস্তা বিমানের ইকোনোমি ক্লাসে করে আমি এই শহরে নামি গত রাতে। কেউ-ই আমার জন্যে অপেক্ষায় ছিলনা। খুব সাধারণ মানের ট্যক্সিতে করে সস্তা একটা হোটেলে চেকইন করি। সকালে কেউ-ই আমাকে নিয়ে আসার জন্যে হোটেলে ছিলনা। আমি একটি ট্যাক্সিতে করে এখানে পৌঁছাই।

যখন আমি একজনকে কে কফির ব্যাপারে প্রশ্ন করি, সে আমাকে রুমের কোনায় থাকা কফি মেশিনের দিকে ইঙ্গিত করে। সেই কফি মেশিনে গিয়ে এই আমার হাতে ধরা স্টাইরোফোম (ওয়ানটাইম কাপ) কাপে কফি নিয়ে আয়েস করে চুমুক দেই।

লেসন টি হলো, গতবছরের ঐ অত্যন্ত দামি সিরামিক কাপটি আমার জন্যে ছিলনা। বরং, ওটা ছিল ঐ সময় আমি যে পজিশনটি হোল্ড করতাম তার জন্যে।

মনে রাখবেন, সময়ের সাথে সাথে আপনি হয়তো বড় পজিশন হোল্ড করবেন, সমাজের উঁচু স্তরে অবস্থান করবেন, হয়তোবা অনেক ফেইম-ও অর্জন করবেন! সবাই তখন আপনার জন্যে দরজা খুলে ধরবে, আপনি না চাইতেও খুব দামি মগে আপনার জন্যে চা বা কফি নিয়ে আসা হবে, কিন্তু এসবের কিছুই আপনার জন্যে না। এ সব কিছু হলো আপনি যেই পোস্টটিতে আছেন, সেটার জন্যে, লিডার হিসেবে সিঁড়ির যে অবস্থানে আপনি আছেন, তার জন্যে, সেটাকে আপনি সাফল্য বা যে নামেই ডাকেন না কেন, শুধু মনে রাখবেন, ব্যাক্তি আপনি শুধুই একটি স্টাইরোফোম কাপ ডিজার্ভ করেন। ব্যাস, আর কিছু না। বাকি সব আপনার অর্জিত সাফল্য বা পজিশনের জন্যে নির্ধারিত।

এবার আমার কথায় আসি। ব্যক্তিগত ভাবে আমি নিজেও এ পরিস্থিতিতে পড়েছিলাম। বড় MNC এর CEO থাকাকালীন আমি যে সম্মান পেতাম, তা নিমেষেই হারিয়ে যায় যেদিন আমি পদত্যাগ করি।

নাহ, আমার কোন সমস্যা হয় নি। কারণ, আমি সব সময়েই টঙ্গের দোকানের প্লাস্টিকের কাপে লাল চা খেয়ে অভ্যস্ত।

আপনিও নিজেকে এভাবেই প্রস্তুত করে নিন না কেনো?

তখন ক্লাস নাইনে পড়ি। স্কুলের পর বিকেল গড়ালে যেতাম মোস্তাফিজ স্যারের ব্যাচে অংক শিখতে। স্যারের বাসা থেকে ঘরে ফেরার দুটো...
18/05/2022

তখন ক্লাস নাইনে পড়ি। স্কুলের পর বিকেল গড়ালে যেতাম মোস্তাফিজ স্যারের ব্যাচে অংক শিখতে। স্যারের বাসা থেকে ঘরে ফেরার দুটো রাস্তা ছিল। একটি মেইন রোড দিয়ে, আরেকটি ছিল ঘুপচি পায়ে হাটার পথ। সেই পথ দিয়ে যেতে একটি বড় কবরস্থান পরতো মাঝখানে, কিন্তু সময় বাঁচতো মিনিট দশেক। সমস্যার কিছু না, ভয় ডড় কোন কালেই ছিলনা। তাই সেই মেঠো রাস্তাটি-ই ব্যবহার করতাম নিয়মিত।

সেদিন অনেক বৃষ্টি হচ্ছিলো। ব্যাচের পড়া শেষ করে আমি সেই মেঠো পথ দিয়েই বাড়ি ফিরছিলাম। এক সময় বৃষ্টি টার্ন নেয় ঝড়ে। আকাশ ঘন কালো। গাছের ডালপালা ভেঙ্গে পরার উপক্রম! বই-খাতা গুলো ভেজার হাত থেকে বাঁচিয়ে অনেকটা দৌড় দেয়ার সিধ্যান্ত নেই।

বিকট শব্দে ট্রান্সফরমার বার্স্ট হয়ে কারেন্ট চলে যায়। ভয়ানক ঝড়, নির্জন মেঠো রাস্তা, সামনে কবরস্থান। যত সাহসী-ই হইনা কেন, মনের ভেতর খানিকটা কেমন জেন করতে থাকে। আমি প্রায় দৌড়াতে শুরু করি।

কবরস্থানের কাছাকাছি আসতেই গা ছমছম করা শুরু হয়। পাত্তা না দিয়ে এগুতে থাকি। কবরস্থানের মাঝামাঝি আসতেই মনের অজান্তে চোখ চলে যায় ভেতরের দিকে।

অদ্ভুত! হঠাত দেখি অনেক ভেতরের দিকের এক কবর থেকে একটা হাত বেড়িয়ে বিদায় জানানোর মত করে নড়ছে। এইবার আর যাই কোথায়! গলা শুকিয়ে কাঠ। ভয়ে পা নাড়াতে পারছিনা।

সমস্ত সাহস জড়ো করে এক দৌড়ে কবরস্থান পার হই। বুকের হার্টবিট ধীরে ধীরে কমে আসে। আর ৫ মিনিট হাঁটলেই বাসার গলি। কিন্তু হায়, মনের ভেতর দ্বিধা জন্ম নেয়। মনে হয়, এখনতো নিরাপদে বাসায় ফিরতে পারবো, কিন্তু এই ভয় আমাকে আজীবন তাড়া করে ফিরবে। এই ভয় ধীরে ধীরে আমাকে গ্রাস করে ফেলবে। ক্লাস নাইনে পড়া কিশোরের জন্যে এই দ্বিধা স্বাভাবিক না। কিন্তু জন্ম থেকেই যে আমার ঘাড়ের দুটো রগ ত্যাড়া!!

সিধ্যান্ত বদলাই। পিছু হেঁটে হেঁটে আবার সেই কবরস্থানের দিকে যাই। গেটের সামনে দাঁড়িয়ে সেই কবরের দিকে তাকাই। একই অবস্থা। কবর ফুঁড়ে বেড়িয়ে একটা হাত তখনো হাতছানি দিচ্ছে।

সমস্ত সাহস জোগাড় করে গেট খুলে কবরস্থানের ভেতরে ঢুকি। যাই সেই কবরের কাছে। এড্রেনালের সিক্রেশনের কারণে আমার ভয় অনেকটাই থিতু হতে থাকে। অতঃপর সেই হাতছানি দেয়া কবর আমার সামনে। বেশ কয়েকবার চেষ্টার পর পকেটে থাকা দেশলাইয়ের কাঠি কোনমতে জ্বালাতে সক্ষম হই।

কি দেখি?

কবর ফুঁড়ে বের হওয়া হাতের শেপের ছোট্ট একটা ক্যাকটাসের পাতা ঝড়ো বাতাসে নড়ছে! দূর থেকে যাকে মনে হচ্ছিলো কবর থেকে মৃত কেউ হাতছানি দিয়ে ডাকছে।

আমি যদি সেদিন সেই কবরের কাছে না যেতাম, বিশ্বাস করেন, সেই ভয় বাড়তে বাড়তে আমাকে নিয়ত তাড়িয়ে বেড়াতো। আমি সেটা হতে দেই নি।

গল্পটা বলার কারণ হলো, জীবনে এমন অনেক ভয়ের সামনে আপনাকে পরতে হবে। ক্যারিয়ার তো জীবনের-ই অংশ। সেখানেও আসবে নানা রকমের আন-কম্ফোর্ট জোন। আপনার সামনে থাকবে কেবল দুটো অপশন, ভয় পেয়ে নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে কোনমতে খেয়ে পড়ে টিকে থাকা, অথবা ভয়াবহ সেই আনকম্ফোর্ট জোনে ঢুকে, তার তত্বতালাশ করে, নির্ভয়ে টাঙ্গিয়ে দেয়া অসীত চিনহিত আপনার সাহসী পতাকা। সেই ভয় বা দ্বিধাকে অতিক্রম করা!

শুধু মনে রাখবেন, ভয় বা আঙ্কম্ফোর্ট জোন গুলো বাস করে আপনার মনের গহীনে। বাস্তবে তার কোন অস্তিত্ব নেই।

আপনি যে বয়সের-ই হোন না কেন, ভয়ানক আনকম্ফোর্ট জোন গুলতে নির্ভয়ে ঢুকে, তার হাল-হদিস বের করে আপনি সেখানে রাজত্ব করবেন, এটাই আমার প্রত্যাশা!

কারণ, রিয়েল ম্যাজিক হ্যাপেন্স দেয়ার!

Eid Mubarak!
02/05/2022

Eid Mubarak!

আমার ফাউন্ডার জীবনের গল্প -৩বাবা মারা যাওয়ার পর ভয়াবহ আর্থিক দৈনতার ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছিল। ছোট আপা অল্প বেতনের একটা চাকর...
24/01/2022

আমার ফাউন্ডার জীবনের গল্প -৩
বাবা মারা যাওয়ার পর ভয়াবহ আর্থিক দৈনতার ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছিল। ছোট আপা অল্প বেতনের একটা চাকরি তে জয়েন করে। মা আমাকে প্রতিদিন ১০ টাকা হাত খরচ দিতেন। বাসা থেকে ফার্মগেট ২ টাকা, ফার্মগেট থেকে শাহবাগ ১ টাকা। তো, যেতে আসতে আমার ৬ টাকা খরচ হয়ে যেত। বাকি থাকতো ৪ টাকা। ওটা খরচ করতাম দুপুরে, যখন খিদে মোচড় দিয়ে বসতো পেটের ভেতর। ৪ টাকায় কি খাবার হয়? কিচ্ছু না, তাই বিকেলের দিকে ৪ টাকা দিয়ে দুটো সিগারেট আর এক কাপ চা খেয়ে খিদে কমাতাম।

আজিজ মার্কেট তখন ছিলো জ্ঞান চর্চার কেন্দ্র। সন্ধের পর মার্কেটের সামনের ফুটপাথ জুরে বসে পড়তো উঠতি লেখকেরা। সাথে থাকতো বই আর চা। তখন অনেক বইয়ের দোকান ছিল আজিজ মার্কেটে।

তো, তামিমকে জানালাম,যারা যারা আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, তাঁদের কাছ থেকে কানেকশন ফি আর ১ মাসের ব্যান্ডউইথ চার্য ওঠানোর জন্যে। আমার তখন সার্ভার নাই, অফিসের দরজা ভাঙ্গা, নেটের কানেকশন নষ্ট, তবু জেদের বসে কাজ চালিয়ে যেতে থাকি। ISP-এর সাথে যোগাযোগ করি আবার কানেকশনটি ঠিক করে দিতে। তারা টাকা ছাড়া কাজ করবেনা বলে স্রেফ জানিয়ে দেন।

দুপুর নাগাদ তামিম আর ধনে প্রায় ২০০০০ টাকা তুলে আনে হবু ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে। ১৬ জন। সবাই আজিজের ওপরের এপার্টমেন্টের বাসিন্দা, তারা বুঝতে পারে এই টাকা নিয়ে আমরা পালিয়ে যাবো না। কিন্তু সমস্যা হলো, সেই টাকা পুরো খরচ করলে হাতে আর কিছু থাকে না। এই ২০০০০ টাকার ৬০% ছিল কানেকশন ফি। আমি সার্ভার সারাবো, ISP কে টাকা দিয়ে লাইন ঠিক করবো? নাকি পিছু হটবো?

পিছু হটার পথ নেই, ব্যাংকের কাছে ঋণী, ক্লায়েন্টরা বিশ্বাস করে টাকা দিয়েছে। কিছু একটা করতেই হবে। হঠাত মাথায় এলো একটা এক্সপেরিমেন্ট চালানোর ইচ্ছে। ইন্টারনেট কানেকশন দেয়া হত RJ45 CAT 5 কেবল দিয়ে। যার প্রতি মিটারের দাম ছিল ২২ টাকা। আমি আমার আইডিয়ার কথা বলতেই তামিম আর ধনে চিৎকার দিয়ে বলে, ইয়েস! চলেন বস, ট্রাই করি।

আমরা কানেক্টরের সাথে CAT 5 কেবল লাগিয়ে ৩ ইঞ্চি পর কেটে ফেলি। তারপর সেই ৮টি তারের সাথে জোড়া দেই সাধারণ টেলিফোনের তার। অন্য প্রান্তেও একি কাজ করি। অতঃপর আসে মোমেন্ট অফ ট্রুথ।

আমরা দুই প্রান্ত দুটো হাব-এর সাথে লাগিয়ে দেখি দিব্যি বাতি জ্বলছে। আর্কিমিডিসের মত চিৎকার দিয়ে বলি, ইয়েস! তারপর ঐ এক্সপেরিমেন্টের এক প্রান্ত কম্পিউটার আর আরেক প্রান্ত হাব-এ কানেক্ট করে সেখান থেকে আরেকটি তার বের করে পাশের অফিসের কম্পিউটারের সাথে লাগিয়ে লেটেন্সি টেস্ট করি। দ্যা রেজাল্ট ওয়াজ সার্প্রাইজিংলি গুড। সেই সময় কেউ এটা চিন্তাও করতে পারেনি, ধনে বলে বসে, চলেন বস, পেটেন্ট করে ফেলি।

এই এক্সপেরিমেন্টের সাফল্য আমাদের মিইয়ে যাওয়া স্বপ্ন আবার জোরালো করে তোলে। কানেকশনের খরচ কমে আসে ৮০%। তখন ISP কে ফোন করি। তামিম হার্ডওয়ারের লোক ডেকে সার্ভার ঠিক করতে বসে। সেদিন ঠিক করি পেটে কিছু খাবার দেয়ার। দোতলার ক্যানটিনে গিয়ে এক প্লেট ভাত, একটি আলুভর্তা, আর ডাল দিয়ে আমাদের রাজকীয় সেলিব্রেশন চলে।

আমি জীবনে কখনও আত্মীয় স্বজনের নাম ভাঙ্গিয়ে কিছু করিনি। এটা আমার স্বভাব বিরুদ্ধ। বাবা চাচার নাম ব্যাবহার করে আমি দিব্যি বেশ কিছু প্রবলেম সলভ করতে পারতাম। কিন্তু সে পথে হাঁটা হয়নি আমার। বাবার এক জুনিয়র কলিগ তখন সন্ধ্যের পর আজিজে আসতেন। আমি সন্ধ্যের পর তার সাথে দেখা করে অনুরোধ করি আমাকে যেন মার্কেট কমিটির সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়।

মার্কেট কমিটি একত্রিত হন গভীর রাতে। আমি ততক্ষণ অপেক্ষায় থাকি। রাত ১১ঃ৩০ এর দিকে তিনি আমাকে নিয়ে কমিটির কাছে যান। আমি তাঁদের কাছে নিজের হাতে লেখা অভিযোগ-পত্র জমা দিয়ে ক্ষতিপূরণ দাবি করি। আমার পয়েন্ট ছিল, রাতে আমরা অফিসে থাকি না, কমিটিকে চাঁদা দেই, তাহলে দুর্ঘটনার দ্বায় তাদেরকেই নিতে হবে। আমি ১২০০০ টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে বসি। কমিটির সবাই ছিল হোমরাচোমরা, আমার মতন একজনের কাছ থেকে এ ধরনের দাবির কথা তারা চিন্তাও করতে পারে নি। উনারা ৩ দিন সময় চান আমার কাছ থেকে। আমি হাসিমুখে কমিটির অফিস থেকে বের হয়ে নিচে নেমে আসি।

সবাইকে থাম্বস-আপ দেখিয়ে বাসার দিকে রওনা দেই, রাত তখন ১টা। পিজি হাসপাতালের সামনে বসতো গরম গরম রুটি আর ডিম ভাজার দোকান। ভরপেট খেয়ে বাসায় গিয়ে যখন বিছানায় উঠি, আমি তখন বড্ড ক্লান্ত।

পরের পর্বঃ প্রতিঘাত।

আমার পরিচিতি
=====================
আমি আহমাদ কামাল কল্লোল, ক্যারিয়ার শুরু করেছিলাম নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। পরিশ্রম আর ডেডিকেশন এর সুবাদে বিদেশি জয়েন্ট ভেঞ্চার কোম্পানির সিইও অবদি কাজের অভিজ্ঞতা হয়েছিল আমার। ১০ জনের টিম থেকে ২৫০ জনের টিম এ গ্রো করার অভিজ্ঞতা আমার হয়েছিল প্রোডাক্টিভিটি বাড়ানোর বিশ্বমানের কিছু প্রসেস ফলো করে।

এখন কাজ করছি আরেকটা কোম্পানির সিইও হিসেবে, পাশাপাশি আমার অভিজ্ঞতা শেয়ার করে অন্যান্য কিছু প্রতিষ্ঠানের কনসাল্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করছি, তাদের প্রোডাক্টিভিটি বাড়ানোর জন্য।

আপনার টিম এর প্রোডাক্টিভিটি বাড়ানোর বিষয়ে যদি আপনার আগ্রহ থাকে, তাহলে আমাকে নক দিতে পারেন ইনবক্স এ, ইমেইল করতে পারেন এখানে: [email protected] কিংবা কল দিতে পারেন এই নাম্বারেঃ 01717481023

ভিজিট করুন আমার সাইট, সেখানে আমার সার্ভিস ডিটেইল সহ আরো অনেক তথ্য পাওয়া যাবে।
www.growwithkamal.com

অনুরোধ থাকবে কল করার আগে একটি টেক্সট করে নেয়ার।

তবে, কথা বলাটা পুরোপুরিই, ফ্রি, হা হা।

অল দ্য বেস্ট ❤️

আমার ফাউন্ডার জীবনের গল্প -২অফিসে পৌঁছে দেখি পুরো রুম ধোয়ায় আচ্ছন্ন। দুইজন সার্ভারে, আর তিন জন বাকি কম্পিউটারে বসে চ্যাট...
15/01/2022

আমার ফাউন্ডার জীবনের গল্প -২

অফিসে পৌঁছে দেখি পুরো রুম ধোয়ায় আচ্ছন্ন। দুইজন সার্ভারে, আর তিন জন বাকি কম্পিউটারে বসে চ্যাট করছে। ইয়াহু চ্যাট তখন খুব জনপ্রিয়, পোলাপান সে খবর খুঁজে পেয়ে চ্যাটে মত্ত। আমি আজিজের ৩ তলার চা স্টলে বসে ভাবছিলাম সম্ভাব্য পরিস্থিতি, বাধা বিপত্তি আর তা জুঝে ওঠার উপায়ের কথা। আমার মাথায় যা ছিল, তা করতে গেলে চতুর্দিক থেকে বাধা আসবে আমি জানতাম। যাই হোক, যখন আসবে, তখন দেখা যাবে, এই ভাবতে ভাবতে অফিসে যাই।

ততক্ষণে সব পরিপাটি। আমি ব্যবসা বুঝি না, মাথায় শুধু একটাই চিন্তা, ইন্টারনেট কে সবার কাছে সহজলভ্য করতে হবে। চেয়ার টেয়ারের বালাই ছিলনা, দুই তিনটা টুল, একটা বেঞ্চ, আর মেঝে। সবাইকে নিয়ে মেঝেতে বসে খুলে বলি আমার প্ল্যানের কথা।

এখনো মনে আছে সিধ্যান্ত গুলো।
১। সারা ঢাকায় ইন্টারনেট ফি মাসে মিনিমাম ৪ হাজার টাকা, আমরা দেব ১ হাজার টাকায়।
২। স্টুডেন্ট আইডি কার্ড দেখালে চার্জ হবে মাসে ৮০০ টাকা।
৩। সংযোগ ফি সবাই নেয় অন্তত ৫ হাজার টাকা, আমরা নেব শুরুতে ১৮০০, পরে আরো নামাবো।

টার্গেট অডিয়েন্স বুঝি না, কিন্তু কোথায় কোথায় ক্লায়েন্ট খুঁজবো সেটা ঠিক-ই মাথায় ছিল।

১। আজিজ মার্কেটের ওপরের এপার্টমেন্ট গুলো।
২। রাস্তার ওপারে ঢাবি’র হল দুটো।
৩। মার্কেটের পেছনে পরিবাগের শুরুর দিকের কিছু এপার্টমেন্ট।

প্রথম মাসে টার্গেট ছিল ২০ জন ক্লায়েন্ট। ১৬০০০ টাকা হলে দিব্যি চলে যাবে আমাদের।

মিটিং শেষে সবাই মিলে চায়ের স্টলে বসি। তামিম প্রথম আমার স্বপ্নে ছুরির আঁচর দেয়। বলে, ভাই, আপনি যা করতে যাচ্ছেন, মার্কেটের ব্যবসায়ীরা আপনাকে স্রেফ টুকরো টুকরো করে পেছনের খালে ফালায় দিবে। সাথে আমাদের জানের রিস্ক। ভাই, আরেকটু চিন্তা করেন। কিন্তু হায়, নিজের মনের ভেতর সিধ্যান্ত নেয়া হয়ে গেলে তা আর বদলানোর স্বভাব আমার নেই।

সন্ধ্যায় বড় বড় রঙ্গিন কাগজ কিনে সাইন পেন দিয়ে পোস্টার লেখা শুরু করি। আমার হাতের লেখা ভালো ছিল, আগে অসংখ্য পোস্টার লেখার অভিজ্ঞতার সৌজন্যে। ৫০ টি পোস্টার লেখা শেষ করি। রাত ৯টার দিকে পোস্টার লাগাতে বের হই। আগে থেকে ঠিক করে রাখা জায়গা গুলোতে পোস্টার লাগিয়ে ক্লান্ত হয়ে বাসায় ফিরি মাঝ রাতে।

পরের দিন ভোর, সকাল বেলা না খেয়েই চলে যাই অফিসে। হায়! এ কি অবস্থা! অফিসের দরজা ভাঙা, সার্ভার মাটিতে লুটোপুটি খাচ্ছে, সমস্ত কেবল কুচি কুচি করে কাটা!

আমার ২ পার্টনার চুপ করে দাঁড়িয়ে। সাথের ছেলেপেলেরা কাঁদছে। হঠাত ফিক করে হেসে দিলাম আমি। ধনে কে জিজ্ঞেস করলাম কয়জন আগ্রহ দেখিয়েছে? ধনে জানালো, ২০ জনের বেশি বস! আমি তখন জানি, আমি ঠিক পথে আছি, ওরা ভুল। বুকের ভেতরে তখন আত্মবিশ্বাসের তুমুল জোয়ার, কে রুখবে আমাকে!

পরের পর্ব: লড়াই হবে!

আমার পরিচিতি
=====================
আমি আহমাদ কামাল কল্লোল, ক্যারিয়ার শুরু করেছিলাম নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। পরিশ্রম আর ডেডিকেশন এর সুবাদে বিদেশি জয়েন্ট ভেঞ্চার কোম্পানির সিইও অবদি কাজের অভিজ্ঞতা হয়েছিল আমার। ১০ জনের টিম থেকে ২৫০ জনের টিম এ গ্রো করার অভিজ্ঞতা আমার হয়েছিল প্রোডাক্টিভিটি বাড়ানোর বিশ্বমানের কিছু প্রসেস ফলো করে।

এখন কাজ করছি আরেকটা কোম্পানির সিইও হিসেবে, পাশাপাশি আমার অভিজ্ঞতা শেয়ার করে অন্যান্য কিছু প্রতিষ্ঠানের কনসাল্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করছি, তাদের প্রোডাক্টিভিটি বাড়ানোর জন্য।

আপনার টিম এর প্রোডাক্টিভিটি বাড়ানোর বিষয়ে যদি আপনার আগ্রহ থাকে, তাহলে আমাকে নক দিতে পারেন ইনবক্স এ, ইমেইল করতে পারেন এখানে: [email protected] কিংবা কল দিতে পারেন এই নাম্বারেঃ 01717481023

ভিজিট করুন আমার সাইট, সেখানে আমার সার্ভিস ডিটেইল সহ আরো অনেক তথ্য পাওয়া যাবে।
www.growwithkamal.com

অনুরোধ থাকবে কল করার আগে একটি টেক্সট করে নেয়ার।
তবে, কথা বলাটা পুরোপুরিই, ফ্রি, হা হা।

অল দ্য বেস্ট ❤️

আমার ফাউন্ডার জীবনের গল্প -১২০০০ এর মাঝা মাঝির ঘটনা, আমি তখন অনার্সের স্টুডেন্ট। হাতে কিছু টাকা জমলেই সাইবার ক্যাফেতে এক...
11/01/2022

আমার ফাউন্ডার জীবনের গল্প -১
২০০০ এর মাঝা মাঝির ঘটনা, আমি তখন অনার্সের স্টুডেন্ট। হাতে কিছু টাকা জমলেই সাইবার ক্যাফেতে এক আধ-ঘণ্টা সময় কাটাই। ইন্টারনেট আমার সামনে খুলে দিয়েছে বিশাল দুনিয়া। আমি পাগলের মত চষে বেড়াই বিভিন্ন সাইট।

তখন ইন্টারনেট ছিল খুব কস্টলি। বাসায় একটা কানেকশন নিতে গেলে ৫-৬ হাজার টাকার চার্য, সাথে মাসে দিতে হতো মিনিমাম ৪ হাজার টাকা। স্টুডেন্টদের জন্যে এটা ছিল অকল্পনীয়।

একদিন খুব মনোযোগ দিয়ে পড়ছিলাম, হঠাত করে ক্যাফের মালিক এসে স্রেফ উঠিয়ে দেয়, সময় শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে। বাসার ফিরতে ফিরতে মনে হচ্ছিল কিছু করা দরকার।

খানিকটা লেখা লেখি, বাবার নামের সুবাদে আজিজ মার্কেটে ছিল আমার নিত্য বিচরণ। ওখানের এক সার্ভিস প্রোভাইডারের সাথে কথা বলে জানতে পারি কোথা থেকে মূল কানেকশনটি নেয়া হয়। দু-এক দিনের মাথায় চলে যাই ISP এর অফিসে, খোঁজ খবর নেই। ওরা আমার হাতে একটা লিস্টি ধরিয়ে দেয়। সে অনেক টাকার ব্যাপার।

আজিজ মার্কেটের তিন তলার ৫৭ নাম্বার রুমটি ছিল আমার বড় বোনের হাসবেন্ডের সাহিত্য আলোচনার জায়গা। তিনি ঠিক মতন ভাড়া দিতে পারতেন না, তাই বড় আপাকে ধরে বসি রুমটা আমাকে দেয়ার জন্যে। নতুন অফিসের এডভান্স দেয়ার ক্ষমতা ছিলনা আমার।

সপ্তাহ খানেক পর বড় আপা রাজি হন। অনেক দূর এগিয়ে গেলাম। আমার সাথে ছিল এক দঙ্গল ছেলে মেয়ে, অন্ধভক্ত। আমি এক একটা বই পড়তাম, আর ওদের সাথে সেসব নিয়ে আলোচনা করতাম, স্বপ্ন দেখাতাম। তাই কাজের মানুষের অভাব হয়নি আমার।

সব থেকে বড় প্রবলেম তখনো সামনে, টাকা! ইনভেস্টমেন্ট! ওই ছন্নছাড়া, আজিজ মার্কেটে ঘোরাঘুরি করা সদ্য তরুণকে টাকা দেবে কে? তখন ছিল-ও না, জানতাম-ও না ইনভেন্টরদের কথা।

চাচা ছিল অনেক নামি ব্যাংকার। কিন্তু কারো কাছে টাকা চাইতে ভেতরে ছিল বিশাল দ্বিধা। শেষমেশ একদিন আমার চাচাকে ফোন করি। উনি আমাকে ব্যংক-এ ডেকে নিয়ে একটি একাউন্ট খুলে দেন ৫০০ টাকা দিয়ে, আর একটা লোণের ফর্ম পূরণ করে জমা দিতে বলেন।

ব্যাংক থেকে ১ লাখ টাকা পাই, সাথে বয়সে বড় দুজন বন্ধুকে নিয়ে প্রত্যেকে সমান ইকিউটি নিয়ে কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন করি। ২ টো কম্পিউটার কিনতেই অনেক টাকা বেড়িয়ে যায়। CGS নামের একটা ISP থেকে ইন্টারনেট কানেকশন নেই।

সব মিলিয়ে হাতে তখন ১১ হাজার টাকা বাকি ছিল। কিভাবে ISP এর কানেকশন ক্লায়েন্টদের ভেতর ডিস্ট্রিবিউট করতে হয় সেটা জানা ছিলনা। খুঁজে পেতে নিজেকে এক্সপার্ট দাবি করা একজনকে ৪০০০ টাকার বিনিময়ে সার্ভার সেটআপ করিয়ে দেয়ার কন্ট্রাক্ট দেই। উনি সন্ধ্যে নাগাদ কাজ শুরু করেন। আমাদের চোখে তখন বিশাল বিশাল সব স্বপ্ন।
পাক্কা ৩ দিন ধরে এটা ওটা ট্রাই করতে করতে উনি ব্যর্থ হন, কিন্তু টাকা ফেরত আর দেননি।

সেদিন বিকেলে আমি আর ধন-রাজ লামা আজিজের ২ তলার চায়ের স্টলে বশে দীর্ঘশ্বাস ফেলতে ফেলতে চিন্তা করতে থাকি, কি করা যায়। আমি এতটাই আশাহত হয়ে ছিলাম, ধনে’র খুব খারাপ লাগে। ও আমাকে বলে, ভাই, শেষ ট্রাই করি গিয়া চলেন।

চা শেষ করে নীলক্ষেতে চলে যাই। খুঁজে খুঁজে কিনে ফেলি, “লার্ন লিনাক্স ইন টুয়েন্টি ডেইজ”। সন্ধে সারে ৭টার দিকে বই পড়া শুরু হয়। শেষ রাতের দিকে আমি স্কুইড এর ক্যাশ সার্ভার আর ফায়ারওয়াল কনফিগার করে ফেলি।

ক্লান্ত অবস্থায় বাসায় ফিরি সকালে। বিরাট এক ঘুম দিয়ে সন্ধে বেলা চলে যাই অফিসে।

পরের পর্বে থাকছে দারুন কিছু অভিজ্ঞতার কথা। শুনতে চান? 🙂

১৩ এপ্রিল, ২০০৪। আমি তখন একটা ISP তে কাজ করি। আমাদের অন্যতম বড় ক্লায়েন্ট ছিল স্ক্যান-সিমেন্ট। পয়েন্ট টু পয়েন্ট রেডিও তে ...
07/01/2022

১৩ এপ্রিল, ২০০৪। আমি তখন একটা ISP তে কাজ করি। আমাদের অন্যতম বড় ক্লায়েন্ট ছিল স্ক্যান-সিমেন্ট। পয়েন্ট টু পয়েন্ট রেডিও তে কানেক্টেড ছিল তারা। কিন্তু রেডিও ঠিক মত টিউন না করা থাকায় প্রায়ই প্যাকেট ড্রপ হত, আর স্পিড-ও কমে যেত। কয়েকবার বলার পর তারা আমাদের বাদ দিয়ে দেয়ার সিধ্যান্ত নেয়।

দুপুর ৩টের দিকে ডিস্কন্টিনিউএশন মেইল আসে। তাঁদের IT হেডের সাথে আমার পার্সোনাল সম্পর্ক গড়ে ওঠায় আমার ওপর দায়িত্ব পরে আরেকবার ট্রাই করে সব ঠিক করে দেয়ার অনুমতি নেয়ার। আমার অনুরোধ তিনি ফেলতে পারেন নি। আমাকে ১৬ ঘণ্টা সময় দেয়া হয়, শেষ চেষ্টা করার।

বিকেল ৪ঃ৩০, আমাদের রেডিও ইঞ্জিনিয়ার বকাঝকা খেয়ে রেগে বাসায় চলে যান।

সাধারণ বিমা টাওয়ারের ১৩ তলায় ছিল আমাদের অফিস। ১৪ তলার ছাদের ওপর ৪০ ফুট রেডিও টাওয়ার। সাধারণত যেই টেকনিশিয়ানরা রেডিও ইন্সটল করেন, তারা স্রেফ জানিয়ে দেন বিকেল ৫টার পর টাওয়ারে ওঠা নিষেধ। উনারা সেটা হাজার টাকার বিনিময়েও করতে রাজি হন না।

বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে আমি, আমাদের ISP হেড, আর এক জুনিয়র কলিগ রেডিও টাওয়ারে হেলান দিয়ে সিগারেট খেতে খেতে আলাপ করতে থাকি কে কবে রিজাইন দেবে। হঠাত, মাথার ভেতর পোকা কামড় দিয়ে ওঠে, বলি, মজুমদার ভাই, আমি উঠবো টাওয়ারে। তিনি সেই প্রথম আমাকে ধমক দেন। সাথে থাকা জুনিয়র কলিগও বলে, বস, আমরা উঠি, আপনি নিচ থেকে মনিটর করেন। আমাদের যৌথ আর জোড়ালো অনুরোধে এক পর্যায়ে তিনি রাজি হন।

খবর চলে যায় হেড অফিসে, সেখান থেকে স্রেফ জানিয়ে দেয়া হয় কোন দুর্ঘটনার দায়িত্ব তারা নেবেন না। সাথে ছিল সেলস টিমের ব্যঙ্গাত্মক কিছু কমেন্ট।

বিকেল ৫ঃ১০ এ পকেটে এক প্যাকেট সিগারেট, ওয়াকিটকি, আর সীমিত সেফটি ইকুইপমেন্ট নিয়ে আমরা দুজন টাওয়ারে ওঠা শুরু করি। ১৪ তলা ছাদের ওপর ৪০ ফুট টাওয়ার, কিছুটা উঠতেই বাতাসে টাওয়ার দুলে ওঠে, সব কিছু ছাপিয়ে তখন স্রেফ ভয় কাজ করছিলো বুকের ভেতর। সন্ধে নেমে আসে, ২০ ফুট ওঠার পর সাথের ছেলেটা বলে, বস, চলেন বিড়ি খাই। আমিও ঠিক তেমন কিছু চাচ্ছিলাম। টাওয়ারের রেলিঙে হেলান দিয়ে ২০-২৫ টা ম্যাচের কাঠি খুইয়ে শেষে সিগারেট ধরাতে সক্ষম হই।

মাটি থেকে ৮৫ ফুট ওপরের টাওয়ারের ওপরে ওঠা শেষ হয় ৬টার দিকে। চারিদিকে তখন ঘোর অন্ধকার। বাতাস, দুলুনি, ভয়, অনভিজ্ঞতা, সীমিত ইকিউপমেন্ট, এ সব নিয়ে আমরা তখন টাওয়ারের মাথায়। নিচে তাকিয়ে দেখি সেলস টিমের ম্যানেজার এসেছেন, অত ওপর থেকেও দেখতে ভুল হয়নি তার ব্যঙ্গাত্মক হাসি। কিছুটা বিরতি নেয়ার পর ৬ঃ১৫ তে মজুমদার ভাই ওপর থেকে ফেলা কেবল ল্যাপটপে কানেক্ট করে ছাদের ওপর বসে পরেন।

রেডিও কিভাবে টিউন করতে হয় তার বিন্দুমাত্র অভিজ্ঞতা ছিলনা আমাদের। পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট রেডিও, এক মিলিমিটার ডানে ঘোড়াই, সিগনাল ড্রপ করে ১০%। আধ মিলিমিটার বামে ঘোড়াই, সিগনাল ডানে গিয়ে নয়েজ সেকশনে চলে যায়। ওয়াকিটকি তে মজুমদার ভাই ক্রমাগত ইন্সট্রাকশন দিতে থাকেন, আমরা চেষ্টা করতে থাকি। রাত ১২ টার দিকে হঠাত দেখি ম্যানেজিং ডিরেক্টর ৩ প্যাকেট বিরিয়ানি নিয়ে হাজির। আমরা নিচে নেমে আসি।

বিরিয়ানি হাপিশ করে ছোট্ট একটা মিটিং করি। ১২ঃ৩০ এর দিকে মজুমদার ভাই আর ম্যানেজিং ডিরেক্টরের প্রবল নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে আবার টাওয়ারে উঠি। ভোর ৬টা পর্যন্ত অনভিজ্ঞ হাতে রেডিও টিউন করার ব্যর্থ চেষ্টা শেষ করে নিচে নেমে আসি। একেবারে ব্যর্থ না, আগে যেখানে পাওয়ার ছিল ৬৫%, আমরা সেটাকে বাড়িয়ে ৭৮% পর্যন্ত নিতে পারি।

এক বুক ভয় নিয়ে ফোন করি স্ক্যান-সিমেন্টের IT হেড কে। উনি টেস্ট করে কিছুটা বিরক্ত গলায় বলেন, এনাফ ইজ এনাফ। প্লিজ স্টপ দিস।

সব গুছিয়ে সারে ছটার দিকে আমরা তিন জন বিধ্বস্ত, ক্লান্ত, পরাজিত মানুষ বাসার দিকে রওনা দেই। সেটা ছিল পহেলা বৈশাখ। চারিদিকে উৎসব, আনন্দ, আর আমরা কালি ঝুলি মাখা মুখ নিয়ে ওর ভেতরেই হাটতে থাকি নিশ্চুপ। রমনার দিকে পুলিশ আটকায়, পকেট থেকে কার্ড বের করে দেখিয়ে পার পাই।

বাসায় পৌঁছে ঘুমিয়ে পরি। দুপুরের পর মজুমদার ভাইয়ের ফোনে ঘুম ভাঙে। উনি জাস্ট বলেন, আই এম সো প্রাউড অফ ইউ ম্যান। নট এভ্রি ট্রাই ব্রিংস রেজাল্ট, বাট হোয়াট ইউ ডিড লাস্ট নাইট, দ্যাট ওয়াজ বিওয়ান্ড ইমাজিনেশন। প্লিজ ডোন্ট গেট স্যাড, বি প্রাউড ম্যান!

সন্ধ্যায় মজুমদার ভাইয়ের বাসায় আমরা তিন জন সিনেমা দেখতে দেখতে নববর্ষ উদযাপন করি। সিগারেটের সাথে কয়েকটি বিয়ারের ক্যান-ও সম্ভবত ছিল, এত দিন পরে কি আর সে সব মনে থাকে বলুন। হা হা।

কিছুদিন আগে হঠাত দেখি লিঙ্কড-ইন এ উনি আমার সম্পর্কে কিছু লিখে গেছেন। এত দিন পর কেন তিনি সেটা করলেন তা বুঝে উঠতে পারিনি, তবে শেয়ার করার লোভ-ও সামলাতে পারছিনা। তিনি ছিলেন যুগের থেকে অনেক এগিয়ে থাকা একজন মানুষ।

সিডরের সাথে যুদ্ধ!নভেম্বর ১২, ২০০৭। টেলিভিশন আর ইন্টারনেট-এ প্রচার হচ্ছিল একটি নিম্নচাপের কথা। প্রথম দিকে খুব একটা পাত্ত...
03/01/2022

সিডরের সাথে যুদ্ধ!
নভেম্বর ১২, ২০০৭। টেলিভিশন আর ইন্টারনেট-এ প্রচার হচ্ছিল একটি নিম্নচাপের কথা। প্রথম দিকে খুব একটা পাত্তা দেইনি। ১৩ তারিখ দুপুরের দিকে যখন দেখি ঘূর্ণিঝড়ের দিকে টার্ন নিচ্ছে আর সোজা এগিয়ে আসছে বাংলাদেশের দিকে, আমাদের টনক নড়ে। ১৩ তারিখ রাত ১০ টার দিকে আমরা প্রথম মিটিং করি কি ভাবে এটা সামলাবো তা নিয়ে।

১৪ তারিখ সকাল থেকেই একজন বসেছিল টিভি আর ইন্টারনেটের সামনে। আপডেট নিচ্ছিল। আমাদের মূল ভয় ছিল ইন্টারনেট আর ইলেক্ট্রিসিটি নিয়ে। কারণ যে গতিতে ঘূর্ণিঝড়টি এগিয়ে আসছিল, আমরা খুব ভয়ে ছিলাম, এটি আঘাত করলে কাজ বন্ধ রাখতে হবে, ক্লায়েন্টদের ডেলিভারিতে সমস্যা হবে, আর ডেলিভারিতে সমস্যা হলে ক্লায়েন্ট হারানোর ভয়।

১৪ তারিখ সকাল ১১টার দিকে জরুরি মিটিঙে বসি। কোম্পানিতে আমার বয়স তখন মাত্র ১১ মাস। কিন্তু ধকল সব আমাকেই নিতে হত।

৩টি মূল সমস্যা আইডেন্টিফাই করি আমরা।
১। ইলেক্ট্রিসিটি
২। ইন্টারনেট
৩। খাবার

আমাদের ১টি ১৫০ KVA জেনারেটর ছিল। ওটার পুরো ট্যাঙ্ক ভরার পরেও আরো ১০ গ্যালন ডিজেল মজুত করি সম্ভাব্য সিচুয়েশন সামলানোর জন্যে। এডমিন থেকে একজনকে পাঠিয়ে দেই কাওরান বাজার, কিন্তু ইন্টারনেট? ওটার ওপর আমাদের হাত ছিলনা। কিন্তু ক্রমাগত ISP এর সাথে যোগাযোগ রাখছিলাম। আমার প্রবল জোরাজুরিতে বাধ্য হয়ে বিকেলের মধ্যে তারা আরেকটি ব্যাকআপ ফাইবার এর লাইন কানেক্ট করে আমাদের অফিসে। ২ দিক দিয়ে ২টো কেবল-এ কানেক্টেড হই আমরা।

বিকেলে খাবার এসে হাজির হয়, মোটামুটি ১ সপ্তাহ চালানোর মত। টিমের অর্ধেকের বেশি মেম্বার কে আমি রেখে দেই অফিসে। কি মনে করে একজনকে তার মোটরসাইকেলটি নিয়ে আসতে বলি।

কিন্তু মাথার মধ্যে কি যেন কাজ করছিল। শান্তি পাচ্ছিলাম না। হঠাত মনে পরে, জেনারেটর ৫ ঘণ্টা চালানোর পর ৩০ মিনিটের বিরতি দিতে হবে। সাথে সাথে জেনারেটর সাপ্লায়ারের সাথে যোগাযোগ করি। অনেক বাক-বিতণ্ডার পর রাত ৮টার দিকে আরেকটি 150 KVA এর জেনারেটর একটি ট্রাকে করে হাজির হয় আমাদের ড্রাইভওয়েতে।

ব্যাস। আর কিছু করার ছিলনা। আমরা মোটামুটি প্রস্তুত ছিলাম যে কোন পরিস্থিতির জন্যে! কিন্তু তখন কি আর জানতাম, প্রকৃতি হাসছিলো আমাদের দিকে চেয়ে?

১৫ তারিখ সকাল। খুব ভোরে অফিসের দিকে রওনা হই। কিন্তু একি? এ কোন ঢাকা আমি দেখছি? সমস্ত রাস্তা জুড়ে উপড়ে পরা গাছের ডাল, লণ্ডভণ্ড ইলেক্ট্রিসিটির তার ছিঁড়ে পরে আছে, সমস্ত কিছু বন্ধ। সাড়া পথ জুড়ে কাকে বিকট কা কা কা শুনতে শুনতে হেটে হেঁটে অফিসে পৌছাই।

আমার কিছু বলতে হয়নি, ঢুকেই দেখি ড্রাইভওয়ে থেকে সমস্ত ভাঙ্গা ডাল, তারের টুকরো, সব পরিষ্কার করে ফেলা হয়েছে। প্রডাকশন রুমে ঢুকে দেখি সবাই কাজে মগ্ন। জেনারেটর চলছে। কিন্তু এত পরিকল্পনার পরেও ইন্টারনেট নেই। দুটো কেবল-ই ছিঁড়ে টুকরো টুকরো।

প্রডাকশন ইনচার্জ আমাকে দেখে হাঁপ ছেড়ে বাঁচে। বলে, ভাই, কাজ তো রেডি, ডেলিভারি দেব কেমন করে?

এখনো ভুলবোনা সেই ISP এর কথা। তারা জানতো আমাদের দুর্বলতার কথা। তাই সকাল পৌনে ৭টায় যখন তাঁদের ম্যানেজার কে ফোন করি, সাথে সাথেই ফোন রিসিভ করেন তিনি। জানাই আমাদের সমস্যার কথা। সে জানায়, তাঁদের অবস্থাও খুব খারাপ। সব বন্ধ, শুধু NOC ছাড়া। আমি একটি বিশেষ অনুরোধ করি, তিনি রাজি হন।

আমাদের ERP চেক করে দেখি নেক্সট ৮ ঘণ্টার সব কাজ ডেলিভারির জন্যে প্রস্তুত। একটা ডিভিডি-তে সে সব রাইট করে আগের রাতে এনে রাখা মোটরসাইকেলে করে চলে যাই NOC তে। ম্যানেজার আমাকে নিয়ে ঢোকেন NOC তে। আমি একটি ল্যাপটপে ডিভিডি ঢুকিয়ে শুরু করি আপলোড। সেখান থেকেই ক্লায়েন্ট দের মেইল করে জানাই ডেলিভারি নোটিফিকেশন।

২ টো জেনারেটর ৫ ঘণ্টা পর পর সার্ভিস দিতে থাকে। ধীরে ধীরে আরও বেশ কয়েকজন টিম মেম্বার এসে হাজির হন অফিসে। প্রডাকশন পিপল রোটেট হতে থাকে। খাবার রান্না হতে থাকে সময় মতন। আমিও ISP এর NOC থেকে ডেলিভারি দিতে থাকি একের পর এক।

পরের তিন দিন এভাবেই কাটতে থাকে। পুরো ঢাকা শহরে অল্প যে কয়টি অফিস খোলা ছিল, তাঁদের ভেতর আমরা ছিলাম অন্যতম। হয়তোবা আমরাই ছিলাম একমাত্র প্রতিষ্ঠান যারা ১০০% এফিসিয়েন্সি নিয়ে কাজ চালিয়ে গিয়েছিলাম।

পরে কয়েকজন ক্লায়েন্ট মেইল করে জানতে চায়, এই অসম্ভব পরিস্থিতির ভেতরে আমরা কিভাবে এভাবে সার্ভিস দিয়ে গিয়েছিলাম?

মেইলের উত্তরে সবাইকেই লিখেছিলাম, বাংলাদেশ এখন আর শুধু ঘূর্ণিঝড়ের দেশ নয়। আমরা শিখে গেছি কি করে তা মোকাবেলা করতে হয়। আর, হু, আমার সাথে থাকা ইঙ্ক্রেডিবল টিমের কথা জানাতে ভুল করিনি এক বিন্দু।

5P (Proper Preparation Prevents Poor Performance.) এর কথা হয়তো অনেকেই শুনেছেন। কাজে এপ্লাই করেছেন কখনও? কাজে দেয়।

আমার পরিচিতি
=====================
আমি আহমাদ কামাল কল্লোল, ক্যারিয়ার শুরু করেছিলাম নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। পরিশ্রম আর ডেডিকেশন এর সুবাদে বিদেশি জয়েন্ট ভেঞ্চার কোম্পানির সিইও অবদি কাজের অভিজ্ঞতা হয়েছিল আমার। ১০ জনের টিম থেকে ২৫০ জনের টিম এ গ্রো করার অভিজ্ঞতা আমার হয়েছিল প্রোডাক্টিভিটি বাড়ানোর বিশ্বমানের কিছু প্রসেস ফলো করে।

এখন কাজ করছি আরেকটা কোম্পানির সিইও হিসেবে, পাশাপাশি আমার অভিজ্ঞতা শেয়ার করে অন্যান্য কিছু প্রতিষ্ঠানের কনসাল্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করছি, তাদের প্রোডাক্টিভিটি বাড়ানোর জন্য।

আপনার টিম এর প্রোডাক্টিভিটি বাড়ানোর বিষয়ে যদি আপনার আগ্রহ থাকে, তাহলে আমাকে নক দিতে পারেন ইনবক্স এ, ইমেইল করতে পারেন এখানে: [email protected] কিংবা কল দিতে পারেন এই নাম্বারেঃ 01717481023

ভিজিট করুন আমার সাইট, সেখানে আমার সার্ভিস ডিটেইল সহ আরো অনেক তথ্য পাওয়া যাবে।
www.growwithkamal.com

অনুরোধ থাকবে কল করার আগে একটি টেক্সট করে নেয়ার।

তবে, কথা বলাটা পুরোপুরিই, ফ্রি, হা হা।
অল দ্য বেস্ট ❤️

Address

House 1, Road 8, Sector/5, Uttara
Dhaka
1230

Opening Hours

Monday 10:00 - 18:00
Tuesday 10:00 - 18:00
Wednesday 10:00 - 18:00
Thursday 10:00 - 18:00
Sunday 10:00 - 18:00

Telephone

+8801717481023

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Grow With Kamal posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Grow With Kamal:

Share