B for Business

B for Business B For Business

08/04/2026

একটা সাসটেইনেবল ব্যবসা শুধু আপনার লাভ না,
অনেক মানুষের রিজিকের পথ খুলে দেয়।

আর একটি ভুলভাবে চালানো ব্যবসা—
একই সাথে অনেক মানুষের জীবনে অন্ধকার নামিয়ে আনতে পারে।

ব্যবসা আপনার, সিদ্ধান্তও আপনার।
আপনি কি হিসাব করে এগিয়ে আকাশে উড়বেন—
নাকি ভুল সিদ্ধান্তে হারিয়ে যাবেন অতল গহ্বরে?....

15/02/2025
14/11/2022

কেন বিশ্বস্ত কাস্টমার দরকার, কীভাবে তাদের খুঁজে পাবেন?
(প্রথম অংশ)

একটি ব্যবসার টিকে থাকার ক্ষেত্রে কাস্টমার বা ক্রেতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কাস্টমাররা দ্বিতীয়বার আপনার বিজনেস থেকে সেবা গ্রহণ করতে আসবে কিনা তা নির্ভর করে আপনার সার্ভিস তাদের কেমন লেগেছে তার ওপর। এটা কাস্টমারদের সন্তুষ্টি, ইতিবাচক অভিজ্ঞতা ও বিজনেস থেকে পাওয়া পণ্য বা সেবার মানের ফলাফল।

• বিশ্বস্ত কাস্টমার বা ক্রেতারা বেশি খরচ করেন: যেসব কোম্পানি তাদের কাস্টমারদের পছন্দ অনুযায়ী সার্ভিস দেয়, ৯০ শতাংশ ক্রেতারা তাদের থেকে বেশি কেনাকাটা করেন।
• বিশ্বস্ত কাস্টমাররা মুখ ফিরিয়ে নেন না: ৭৪ শতাংশ ক্রেতারা বলেন, ভালো সার্ভিস বা সেবা পেলে তারা একটি কোম্পানির আগের ভুলগুলি ক্ষমা করবেন।
• বিশ্বস্ত কাস্টমাররা একই জায়গায় ফিরে আসেন: ৮১ শতাংশ ক্রেতা বলেন, কাস্টমার সার্ভিস ভালো হলে তাদের পুনরায় কোনো দোকানে কেনাকাটা করতে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
• বিশ্বস্ত ক্রেতাদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে যাওয়ার সম্ভাবনা কম: কয়েকবার খারাপ কাস্টমার সার্ভিসের সম্মুখীন হলে, ৭৬ শতাংশ ক্রেতা একটি কোম্পানির প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছ থেকে কেনাকাটা করেন।
• বিশ্বস্ত ক্রেতারা পরিবার ও বন্ধুদের কাছে আপনার বিজনেসের প্রচার করে ও ব্র্যান্ডের খ্যাতি বাড়ায়: ৬৪ শতাংশ বিজনেসের মালিক ও কর্মকর্তারা মনে করেন তাদের কোম্পানির বিকাশে কাস্টমার সার্ভিসের ইতিবাচক প্রভাব আছে।

কাস্টমারদের সাথে সুসম্পর্ক তৈরি তাই একটি দরকারি বিষয়। কাস্টমারদের আস্থা অর্জনে যে কাজগুলি করতে পারেন:

১. নিজের মূল্যবোধের কথা বুঝিয়ে বলুন

কাস্টমারদের আস্থা অর্জন কিংবা বিশ্বস্ত কাস্টমার পাওয়ার আগে, আপনাকে প্রথমে বুঝতে হবে বিজনেসের কোন দিকগুলি কাস্টমারদের আস্থা অর্জনে সাহায্য করে।

নিজের টিম নিয়ে বসুন ও এমন একটি মার্কেটিং কৌশল বের করুন যাতে আপনার কোম্পানির বিশেষ বৈশিষ্ট্যগুলি ফুটে ওঠে। পাশাপাশি আপনার মূল্যবোধ কীভাবে কাস্টমার বা ক্রেতাদের চাহিদার সাথে মিলে যায় তাও তুলে ধরুন।

মার্কেটিংয়ের সময় আপনার বিজনেসের বিশেষ দিকগুলি তুলে ধরুন। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, দুই তৃতীয়াংশ কাস্টমার বর্তমানে নিজের বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করেই কেনাকাটা করেন। ব্র্যান্ডের মূল্যবোধ হবে আপনার পথনির্দেশক। নিজের বিশ্বাসকে আঁকড়ে ধরুন ও সঠিকভাবে তা সবার কাছে পৌঁছে দিন।

২. ভালো কাস্টমার সার্ভিস দেয়ার চেষ্টা করুন

নতুন ও পুরোনো কাস্টমারদের সবচেয়ে ভালো কাস্টমার সার্ভিস দেয়াই হবে আপনার লক্ষ্য। ইনবক্স থেকে শুরু করে ডেলিভারি সার্ভিস ইত্যাদি সবকিছুই কাস্টমার সার্ভিসের অংশ।

শুরু থেকেই যেই বিজনেসগুলি কাস্টমারদের সব প্রশ্নের উত্তর তাড়াতাড়ি দেন, ৮৯ শতাংশ কাস্টমার তাদের থেকে বেশি কেনাকাটা করেন। এমনটা এক গবেষণায় দেখা গেছে। তাছাড়া, প্রায় অর্ধেক ক্রেতা একবার খারাপ সার্ভিস পেলে দ্বিতীয়বার অন্য কোনো ব্র্যান্ড থেকে কেনাকাটা করবেন বলে জানিয়েছেন।

তাই, বিশ্বস্ত কাস্টমার পেতে কাস্টমার সার্ভিসের দিকে সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দিতে হবে। কাস্টমারদের অনুরোধে দ্রুত সাড়া দিতে নতুন পণ্য নিয়ে আসতে পারেন। অনলাইন ও অফলাইনে বিভিন্নভাবে কাস্টমার সার্ভিস পরিচালনা করুন, যাতে যেকোনো সমস্যায় কাস্টমাররা দ্রুত সাহায্য পান ও তাদের ইতিবাচক অভিজ্ঞতা হয়।

৩. বিশ্বস্ত ক্রেতাদের মাধ্যমে নিজের ব্র্যান্ডের প্রচার করুন

নিজের মূল্যবোধ বোঝার পর বিশ্বস্ত ক্রেতাদের খুঁজে বের করুন। যারা আপনার ব্র্যান্ড ও এর মূল্যবোধের ভক্ত। এই কাস্টমাররাই আপনার সবচেয়ে দরকারি কাস্টমার। যারা আপনার প্রডাক্ট নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেবে বা ইন্সটাগ্রামের স্টোরিতে আপনার পেইজকে মেনশন করবে। তারাই আপনার পণ্য তাদের কত পছন্দের তা তাদের বন্ধুদেরকে বলবে।

বিজনেসের শুরুর দিকে অল্পসংখ্যক সন্তুষ্ট কাস্টমার হয়ত এই কাজগুলি করবে। কিন্তু আরো বড় প্ল্যাটফর্মে পৌছাতে, বিজনেস আরো বড় করে তুলতে এই কাস্টমারদেরই দরকার বেশি।

আপনার কাজ হবে এই কাস্টমারদের খুঁজে বের করা ও তাদের সম্পর্কে যত বেশি সম্ভব তথ্য জানা। যাতে তাদের মতো অন্যান্য কাস্টমারদের খুঁজে পাওয়া সহজ হয়।

কোনো ক্রেতাকে তার বিশ্বস্ততার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে সারপ্রাইজ হিসেবে নানারকম উপহার দিতে পারেন। এই কৌশলটি ‘সারপ্রাইজ অ্যান্ড ডিলাইট’ হিসেবে পরিচিত, যা কাস্টমারদের ধরে রাখতে ও তাদের আস্থা ধরে রাখতে সাহায্য করে।

দ্বিতীয় পর্ব: https://tinyurl.com/377kysww

#বিজনেস #কাস্টমার #সার্ভিস

14/11/2022

Startup Founders, BE AWARE!

বিশ্বজুড়ে স্টার্টআপ ইন্ডাস্ট্রি এখন স্ট্র্যাগল করছে।

অসংখ্য tech startups ম্যাসিভ employee layoff এবং hiring freeze করছে।

Y Combinator এর মতো Startup Accelerator পোর্টফোলিও কোম্পানিগুলোকে সতর্ক করে বলছে কস্ট কাটিং করে রানওয়ে বাড়াতে।

স্টার্টআপ ইন্ডাস্ট্রির সবাইকেই কিছু জিনিস ক্লিয়ারলি বুঝতে হবে -

মিলিয়ন ডলার ফান্ড রেইজ করা স্টার্টআপের আল্টিমেট গোল না।
By hook or by crook কাস্টোমার acquisition করা সাসটেইনেবল রেভিনিউ মডেল না।
লংটার্ম স্ট্র্যাটেজি তৈরি না করে স্বল্পতম সময়ে Hyper-growth এর পিছনে ছোটা স্টার্টআপ ফেইলারের অন্যতম কারণ।

কিছু overhyped, misleading, dangerous কনসেপ্ট আমাদের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে ভয়াবহ ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করছে।

মনে রাখবেন - দিনশেষে স্টার্টআপ একটা “Business”.

এবং যে কোন বিজনেসের প্রাইমারী অবজেক্টিভ হচ্ছে - Being Profitable (in a Sustainable way while being socially responsible).

1994 সালে ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্ট John Elkington এজন্যই Triple Bottom Line (TBL) টার্মটাকে coin করেন (ট্রিপল বটম লাইন = Profit, People, Planet)

আনফরচুনেটলি, বাংলাদেশ সহ পুরো বিশ্বজুড়ে স্টার্টআপ ইন্ডাস্ট্রিকে ভুল পথে পরিচালিত করা হচ্ছে।

আমাদের দেশে বিভিন্ন ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্ম, accelerator প্রোগ্রামগুলো যে পরিমাণ Fundraising এর রাস্তা শেখাচ্ছে তার সিকিভাগও কেউ Practical Business Strategy শেখাচ্ছে না।

ফাউন্ডারদেরকে AirBnB থেকেও ভাল Pitch Deck বানানোতে এক্সপার্ট বানিয়ে ফেলা হচ্ছে; অথচ Full Fledged Sales & Marketing Funnel ডিজাইন করতে কেউ বলছে না, শেখানো তো দূরের কথা!

কিছুদিন পর পর একেকটা মিলিয়ন ডলার ফান্ড রেইজিং হয়, সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল নিউজ, বিভিন্ন মিডিয়াতে সেটা নিয়ে মাতামাতি…then what?

এই ফান্ড কি সেই স্টার্টআপ আদৌ সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারছে? কিভাবে করছে?

এই আলোচনা কি আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ না?

কিভাবে resource maximization এবং process optimization করতে হয়, ইকোনোমিক ক্রাইসিসে কিভাবে resliience business strategy তৈরি করতে হয় -- এইসব ব্যাপারে entrepreneurs দেরকে স্ট্র্যাটেজিক গাইডেন্স না দিয়ে ইউনিকর্ণ বানানোর দিবাস্বপ্ন দেখা বন্ধ করতে হবে।

Startup Founders, Be Aware.
Don’t Fall in the Trap.
Stop Joining the Rat Race.

আপনি আপনার বিজনেসের প্রায়োরিটি সেট করুন।

কিছু Buzzword এ Stuck হয়ে না গিয়ে বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রিতে অসংখ্য কোম্পানি কিভাবে সফলভাবে বিজনেস করেছে সেগুলো গভীরভাবে স্টাডি করুন।

সেখান থেকে ব্রেকথ্রু আইডিয়া, রেলিভ্যান্ট স্ট্র্যাটেজি, অপটিমাইজড প্রসেস আপনার বিজনেসে রেপ্লিকেট করুন।

Remember,
Customers don’t care if you are a startup, or an SME, or traditional business.
Customers just want solutions for their problems.

আপনি তাই সময় নিয়ে সলিড বিজনেস স্ট্র্যাটেজি তৈরি করুন,
আইডিয়ার এক্সিকিউশনে ruthlessly focus দিন,
প্রয়োজনীয় Policy & Process বিল্ডাপ করুন,
স্টেপ বাই স্টেপ মার্কেটিং ফানেল এবং সেলস ফানেল বানান,
কাস্টমারদের জন্য Irresistable Offer সাজান,
Category Design এর মতো হাই-ইম্প্যাক্ট ব্র্যান্ডিং কাজে লাগান,

এবং অবশ্যই শুরু থেকে সঠিক Culture প্র্যাক্টিস করুন।

আপনার উদ্যোগকে প্রথমে ‘বিজনেস’, তারপর স্টার্টআপ হিসেবে চিন্তা করুন - দেখবেন সফলতার সম্ভাবনা অনেকগুণ বেড়ে যাবে।

In the world of Failed UNICORNS, Be a Successful CAMEL.

08/11/2022

বিজনেসে অর্থনৈতিক হিসাবের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ৫ ধরনের নথিপত্র

উদ্যোক্তারা যখন তাদের ব্যবসা শুরু করেন, তখন তাদের বেশিরভাগ সময় ও শক্তি ব্যয় হয় ব্যবসা সংক্রান্ত সাধারণ অনেক কাজ করতে গিয়ে।

কাস্টমার সার্ভিস, বিক্রয় এবং চাহিদা অনুসারে মালামালের যোগান ঠিক রাখার মতো দৈনন্দিন কাজের পেছনেই বেশি সময় দেন তারা। দক্ষতার সাথে এসব বিষয় পরিচালনা করা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসার উন্নতি এবং সাফল্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দরকারি বিষয়টি হলো “প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ব্যাপারে পুঙ্খানুপুঙ্খ ধারণা রাখা।”

এখানে আলোচনা করা হলো গুরুত্বপূর্ণ ৫ ধরনের আর্থিক নথিপত্র নিয়ে। এসব ডকুমেন্ট বা নথিপত্র তৈরি করতে জানা এবং এসবের ব্যাপারে ভালোভাবে বোঝা ব্যবসায়ীদের জন্য জরুরি। ব্যবসার সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে নিয়মিত এসব নথি ব্যবহার করা প্রয়োজন।

কোন প্রতিষ্ঠানের এসব নথিগুলি একসাথে মিলিয়ে দেখা হলে সে প্রতিষ্ঠানের ব্যবসার ব্যাপারে সামগ্রিক একটা চিত্র পাওয়া যায়।

# ১. প্রফিট অ্যান্ড লস (P&L) স্টেটমেন্ট

‘লাভ এবং ক্ষতি বিবৃতি’ বা ‘প্রফিট অ্যান্ড লস স্টেটমেন্ট’কে (P&L) অনেক সময় ‘ইনকাম স্টেটমেন্ট’ও বলা হয়।

একটি প্রতিষ্ঠানের বর্তমান আর্থিক অবস্থা এবং ভবিষ্যতের প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা মূল্যায়ন করতে ব্যবহৃত হয় এ ধরনের স্টেস্টমেন্ট। একটি P&L স্টেটমেন্টের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনো ব্যবসার আয় এবং ব্যয়ের সংক্ষিপ্ত বিবরণ পাওয়া যায়।

P&L স্টেটমেন্টে খরচ বাদ দেয়ার পরে বাকি যা থাকে, তা লাভ হিসেবে দেখা হয়। এবং যদি খরচের পরিমাণ আয়ের চেয়ে বেশি হয়, তখন লস হিসেবে দেখা যায়।

ক্ষুদ্র কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য বিভিন্ন সময়ে লোকসানের সম্মুখীন হওয়া সাধারণ একটা ব্যপার। ব্যবসা যখন চালু হয় এবং সময়ের সাথে সাথে বড় হতে থাকে, তখন ক্ষতির মুখে পড়াটা স্বাভাবিক। তবে ক্রমাগত লোকসান ব্যবসায়ীদের জন্য একটি বিপজ্জনক সতর্ক বার্তা।

এর মানে হলো, যত অর্থ আয় হচ্ছে, তার চেয়েও বেশি অর্থ খরচ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ব্যবসার অর্থনৈতিক বিষয়গুলি ভালোভাবে জানা থাকলে শুরুতেই এসব সমস্যা খুঁজে বের করতে পারবেন। এবং আরো কার্যকরভাবে সমাধান করতে পারবেন এসব সমস্যার।

# ২. ক্যাশ ফ্লো স্টেস্টমেন্ট

৮২ শতাংশ ক্ষুদ্র ব্যবসাই ব্যর্থ হয় শুধুমাত্র ‘ক্যাশ ফ্লো’ সংক্রান্ত সমস্যার কারণে।

ব্যবসায় নগদ প্রবাহ বা ‘ক্যাশ ফ্লো’ এর গুরুত্ব বোঝানোর জন্য ব্যবসায়ীরা প্রায়ই এই পরিসংখ্যানের কথা বলেন।

নিয়মিত ‘নগদ প্রবাহ বিবরণী’ বা ‘ক্যাশ ফ্লো স্টেটমেন্ট’ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলে আপনার প্রতিষ্ঠান খুব সহজে ব্যর্থদের খাতায় নাম লেখাবে না।

‘লাভ এবং ক্ষতি বিবৃতি’ বা ‘প্রফিট অ্যান্ড লস (P&L) স্টেটমেন্ট’ কেবল একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রতিষ্ঠানে যে অর্থ আসছে এবং যে অর্থ বের হয়ে যাচ্ছে, তার হিসাব দেখায়। অন্যদিকে ‘ক্যাশ ফ্লো স্টেটমেন্ট’ অনেকটা বাজেটের মতো। নির্দিষ্ট একটা সময়ের মধ্যে আয় এবং ব্যয়ের হিসাব আগে থেকে অনুমান করতে ব্যবহৃত হয় ‘ক্যাশ ফ্লো স্টেটমেন্ট’।

অনেক ক্ষেত্রেই প্রায় ৩ বছরের হিসাবের জন্য ব্যবহার করা হয় ক্যাশ ফ্লো। একটি ব্যবসা কার্যকরভাবে পরিচালনা করার জন্য যা কিছু খরচ করতে হয়, তার মধ্যে কিছু থাকে নির্দিষ্ট এবং কিছু খরচ অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়। এর বাইরে অন্যান্য খরচের মধ্যে ব্যাংক ঋণ পরিশোধ, ট্যাক্স এবং প্রয়োজনে নতুন সম্পদ কেনার মতো খরচ থাকতে পারে। ব্যবসা থেকে আয় হওয়া অর্থ দিয়েই এসব খরচ চালাতে হয়। একটি প্রতিষ্ঠান কার্যকরভাবে এই প্রক্রিয়া চালাতে সক্ষম কিনা, সেটা ‘ক্যাশ ফ্লো স্টেটমেন্ট’ এর মাধ্যমে বোঝা যায়।

# ৩. ব্যালেন্স শীট

‘স্থিতিপত্র’ বা ‘ব্যালেন্স শীট’ থেকে ব্যবসার সম্পদের একটি সমীকরণ পাওয়া যায়।

এই সমীকরণে ব্যবসার লায়াবিলিটি বা দায়-এর সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের মালিকের ইক্যুইটি বা মূলধন যোগ করা হয়।
এর মধ্যে স্বল্পমেয়াদী সম্পদের হিসাব থাকতে পারে। যেমন ব্যবসার চেকিং অ্যাকাউন্টে থাকা অর্থ বা মালামাল এই হিসাবের মধ্যে থাকতে পারে, যেগুলি হয়তো দ্রুতই কাজে লাগাতে চান। আর দীর্ঘমেয়াদী সম্পদের মধ্যে থাকতে পারে ভূসম্পত্তি কিংবা ব্যবসার কাজে লাগে, এমন প্রধান প্রধান সরঞ্জাম।

একই ভাবে ব্যবসায় যেসব লায়াবিলিটি বা দায় থাকে, সেগুলি সাধারণত স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী ঋণের মাধ্যমে গঠিত হয়। স্বল্পমেয়াদী ঋণের মধ্যে বর্তমানে পণ্য উৎপাদনের খরচ এবং দীর্ঘমেয়াদী ঋণের মধ্যে ব্যবসার জন্য নেয়া ঋণের হিসাব থাকতে পারে। আর ‘ইক্যুইটি’তে অন্তর্ভুক্ত থাকে মালিক বা বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে বিনিয়োগ করা নগদ অর্থ।

# ৪. ট্যাক্স রিটার্ন

একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালানোর সময় ব্যবসার সাথে যুক্ত কর বা ট্যাক্সের পরিপূর্ণ হিসাব রাখাটা গুরুত্বপূর্ণ।

আপনি কোন ট্যাক্স ফর্ম জমা দিবেন, সেটা আপনার ব্যবসার ধরনের ওপর নির্ভর করবে। এবং বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা করতে বিভিন্ন ধরনের কর বা ট্যাক্স দিতে হয়। অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানই তাদের কর জমা দেয়ার জন্য সার্টিফায়েড পাবলিক অ্যাকাউন্টেন্ট বা কর সংক্রান্ত অন্যান্য পেশাদারদের নিয়োগ করে।

তবে অন্যদের দিয়ে ট্যাক্স জমা দেয়ার কাজ করালেও নিজের করের হিসাব নিজে পর্যালোচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। এর সাহায্যে প্রতিষ্ঠানে লেনদেন নিয়ে যেসব কর্মীরা কাজ করছে, তারা ব্যবসার বৃদ্ধির জন্য আরো ভালোভাবে কৌশল তৈরি করতে পারবে। এতে ব্যবসা পরিচালনার কাজেও সুবিধা পাওয়া যাবে।

# ৫. প্রাপ্য বা প্রদেয় হিসাব (‘এজিং রিপোর্ট’ নামেও পরিচিত)

‘এজিং রিপোর্ট’ এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান কার কাছে কত টাকা পায়, তার হিসাব রাখা হয়। কতদিন ধরে এই পাওনা আছে, তার হিসাবও রাখা হয় এর মাধ্যমে।

‘অ্যাকাউন্ট রিসিভেবল’ বা ‘প্রাপ্য হিসাব’ হলো হিসাববিজ্ঞানে ব্যবহৃত একটি টার্ম বা পরিভাষা। এর মাধ্যমে ব্যবসার পাওনা তহবিলের হিসাব রাখা হয়। আর ‘অ্যাকাউন্ট পেএ্যাবল' বা ‘প্রদেয় হিসাব’ হলো আরেকটি পরিভাষা, যা দিয়ে আপনার প্রতিষ্ঠানের কাছে অন্যদের পাওনার হিসাব রাখা হয়।

ব্যবসার জগতে সাধারণত মনে করা হয় যে, ঋণ যত বেশি পুরনো হবে, সেটা পরিশোধের সম্ভাবনা ততই কম থাকবে। আর প্রতিষ্ঠানের প্রাপ্য অর্থ না পাওয়া গেলে সেই অর্থ লসের খাতায় চলে যায়। এর ফলে ‘ক্যাশ ফ্লো’তে সমস্যা তৈরি হতে পারে।

‘এজিং রিপোর্ট’ এর মাধ্যমে পরিষ্কারভাবে বোঝা যায় যে কতদিন ধরে, কতগুলি প্রাপ্য হিসাব এখনো পরিশোধিত হয়নি। এর সাহায্যে ব্যবসার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার জন্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও পদক্ষেপ নেয়া যায়।

#ব্যবসা #নথি #হিসাব

08/11/2022

ব্যবসার উদ্দেশ্যে কী?

অধিকাংশ মানুষই মনে করে যে, ব্যবসার মুল উদ্দেশ্যে হলো প্রফিট করা। কিন্তু ব্যবসার আসল উদ্দেশ্যে হলো, কাস্টমার সৃষ্টি করা ও তাদের ধরে রাখা। একটা সফল ব্যবসার উদ্দেশ্যে হলো সব রকম চেষ্টার মাধ্যমে কোন না কোন ভাবে কাস্টমার তৈরি করা। আর কাস্টমার তৈরি ও ধরে রাখার যে পরীক্ষা, এই পরীক্ষার ফলাফলই হলো প্রফিট।

শুরুতেই কাস্টমার তৈরির খরচ অনেক। কিন্তু তাদের ধরে রাখার খরচ, কাস্টমার তৈরির খরচের চেয়ে তুলনামুলক অনেক কম।

যে সকল কোম্পানি মার্কেটিং-এ বেশ ইফিশিয়েন্ট, তাদের মাঝে দেখবেন, তাদের মুল উদ্দেশ্যেই হলো, কাস্টমার তৈরি ও তাদের ধরে রাখা।

উপরোক্ত অংশটুকু ব্রায়ান ট্রেসির মার্কেটিং বই থেকে, অনুদিত।

আর আমাদের দেশে অধিকাংশ কোম্পানির ক্ষেত্রে মুল বিষয়ই হলো প্রফিট। পাইছি কাস্টমার, কামাইয়া লই। আর আমাদের এদিকে গান ভাইরাল হয়, টুকুর টাকুর ব্যবসা কইরা কয় টাকা কামাই। অথচ ফুটপাতের ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে, রিকশাওয়ালা থেকে, শপিং মলের ধনী ব্র্যান্ডের দোকান পর্যন্ত সকলেরই একটাই উদ্দেশ্যে, পাইছি, কামাইয়া লই।..

03/10/2022

এই জিনিশগুলি একত্রিত করলে আপনে সুপারপাওয়ারের অধিকারী হবেন -

১। বিভিন্ন ডিসিপ্লিন/ফিল্ডে জেনুইন আগ্রহ, যেগুলির বেশিরভাগই নিজের পেশার বাইরে।

২। ভবিষ্যতে কী নিয়া অনুতাপ হতে পারে, এ সম্পর্কে ভালো ধারণা।

৩। ঝুঁকি সহ্য করার ক্ষমতা। এটা ধরে না নেয়া যে, ঝুঁকি এড়িয়ে যেতে পারবেন।

৪। ঝুঁকি ও ভাগ্যকে সমান সম্মান করা।

৫। যে মত বা চিন্তাকে স্থায়ী ধরতেন সেগুলি পরিবর্তন বা অভিযোজিত করার ক্ষেমতা।

৬। ফিয়ার অব মিসিং আউট অর্থাৎ সবাই করতেছে, লাভ বা চান্স মিস হয়ে যাচ্ছে, এই ফমো এড়িয়ে যাবার ক্ষেমতা।

৭। ক্ষুরধার বুলশিট চিহ্নিত করার ক্ষেমতা। দেখেই যাতে বুঝতে পারেন কার কথা বা লেখা বুলশিট।

৮। অন্যের প্রায়োরিটির চাইতে নিজের স্বাধীনতাকে বেশি গুরুত্ব দেয়া।

৯। ভবিষ্যৎবানী বা ফোরকাস্টের চাইতে ইতিহাসকে বেশি সম্মান দেয়া।

১০। শক্তি থাকা অবস্থাতেই কাজ শেষ করা। এগজস্টেড না হওয়া। নিজের সাকসেসকে এত বাড়তে না দেয়া যাতে এটি বেশি বেড়ে গিয়ে নিজেই সমস্যা না হয়ে দাঁড়ায়।

১১। সবাই যখন সাধারণ চিন্তা করতে পারছে না, বোধ বুদ্ধি হারাচ্ছে তখন গড় বুদ্ধির কাজ করে তাদের চাইতে বেটার করা।

১২। নিশ্চিতির মডেলে চিন্তা না করে সম্ভাব্যতার মডেলে চিন্তা করা। এটা বুঝা যে, ভালো সিদ্ধান্তের আউটকাম খারাপ হতে পারে।

১৩। এটা স্বীকার করে নেয়া যে কিছু জিনিশ জানা সম্ভব না। ওই "জানা সম্ভব না" জিনিশগুলি বুঝে গেছি বা জেনে গেছি মনে করে নিজেকে বোকা না বানানো।

১৪। নিজে কোন গেইম খেলতেছেন তা বুঝতে পারা, এবং অন্য যারা ভিন্ন ভিন্ন গেইম খেলছে তাদের কথায় প্রভাবিত না হওয়া।

১৫। মেনে নেয়া যে দুনিয়া অদ্ভুত এবং অযৌক্তিক ভাবে চলতে পারে। এটা মনে না করা, সকল কিছু সব সময় যৌক্তিকভাবেই ঘটবে।

১৬। নিজের কাজের দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল সম্পর্কে সচেতন থাকা।

১৭। যে সম্মান আপনি পেয়েছেন, তার যোগ্য হওয়া।

১৮। যেসব মানুষ আপনার সাথে ভিন্ন মত পোষণ করে তাদের সাথে চলতে পারা।


এইসব দৃশ্যত সাধারণ, সহজ স্কিল একত্রিত হলে, সুপারপাওয়ার। >নিজের জন্য নোট রাখছিলাম, আজ ডকে পাইলাম। মনে হইল শেয়ার করলে কেউ পড়তে পারেন।

13/09/2022

যে ৭টি কারণে অর্থনৈতিক মন্দার সময়েও আপনার মার্কেটিং বাজেট কমানো ঠিক হবে না

আপনার ব্যবসার বাজেট থেকে মার্কেটিং বা প্রচারণার পেছনে খরচ কমিয়ে ফেলাকে খরচ কমানোর সহজ সমাধান মনে হতে পারে। আর মার্কেটিংয়ের বাজেট কমানো হলে হয়তো তাতে অদূর ভবিষ্যতে কিছুটা লাভও হবে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এতে আপনার ব্যবসার ক্ষতি হতে পারে।

অর্থনৈতিক মন্দার সময়ে আপনার মার্কেটিং এর বাজেট কমানোর সিদ্ধান্ত নিতে চাইলে এই ৭টি বিষয় বার বার বিবেচনা করুন।

১. আপনার প্রতিযোগীরা যদি মার্কেটিং বাজেট না কমায়, তাহলে কী হবে?

আপনি হয়তো আপনার মার্কেটিং বা প্রচারণার বাজেট কমানোর কথা ভাবছেন। কিন্তু আপনার প্রতিযোগীরা যদি তাদের মার্কেটিং বাজেট না কমায় বা বাড়ায় তাহলে আপনার পরিস্থিতি কেমন হবে?

প্রচারণার পেছনে খরচ কমিয়ে ফেলার মানে হলো আপনার পণ্য থেকে ভোক্তাদের চোখ সরানোর আশঙ্কা তৈরি করা। এর ফলে আপনার প্রতিযোগীরা আপনাকে ছাড়িয়ে সামনে এগিয়ে যেতে পারে।

২. আপনার মার্কেটিং টিম গ্রাহকদের সমর্থন পেতে আপনাকে সাহায্য করতে পারে

স্বাভাবিক সময়ে প্রচারণার পেছনে বিনোয়োগ করলে লাভসহ তা ফেরত আসে। তবে অর্থনৈতিক মন্দার সময়েও এ কথাটা কার্যকর।

যখন সবকিছু “স্বাভাবিক” তখন আপনার বিক্রি বাড়াতে এবং ভোক্তার সাথে সম্পর্ক স্থাপনের জন্য কৌশল প্রয়োগ করেন। কিন্তু অর্থনৈতিক মন্দার সময় আপনাকে সম্পর্ক স্থাপনের দিকে বেশি গুরুত্ব ও মনযোগ দিতে হবে। কারণ এর প্রভাবেই ভোক্তারা আপনার প্রতিষ্ঠান চিনবে আর তারাই আপনার সাফল্যের অংশ হয়ে উঠবে।

এছাড়া আপনার মার্কেটিং টিম সঠিকভাবে আপনার প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতা তুলে ধরতে সাহায্য করতে পারে। এবং এর পাশাপাশি আপনি যে সত্যিকার অর্থে ভোক্তাদের সেবা করতে এসেছেন, সেই বার্তাটিও প্রচার করতে পারে।

৩. আপনার মার্কেটিং টিম আপনাকে সুরক্ষিত রাখে

ক্লায়েন্টরা প্রায়ই মার্কেটিংকে বিজ্ঞাপন হিসেবে চিন্তা করে। তবে মার্কেটিং আরো ব্যাপক একটা বিষয়।

আপনার মার্কেটিং টিম আসলে আপনার ব্র্যান্ডের গল্প বলে। এবং সেই গল্পটিকে সামাজিক পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্য করে তুলতে হয়, যাতে গল্পটি আবার আপত্তিকর না হয়।

৪. আপনি চান না আপনার গ্রাহকরা পরিত্যক্ত বোধ করুক

বিপণন বা মার্কেটিং এর কৌশল আপনার অডিয়েন্সের সাথে আপনার সম্পর্ককে শক্তিশালী করে। তাই এক্ষেত্রে বাজেট কমানো হলে আপনার গ্রাহকরা সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগতে পারে।

অথবা বিষয়টি আরো খারাপ হবে, যদি তারা ভাবে আপনার ব্যবসা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে আছে।

৫. এখনই হয়তো নতুন পণ্য বাজারে আনার সঠিক সময়

মন্দার সময় প্রতিযোগিতা কম থাকে। কারণ এই সময়ে অন্যান্য কোম্পানিগুলি টিকে থাকার দিকে বেশি মনোযোগ দেয়। এসময়ে তারা সাধারণত নতুন পণ্য বাজারে আনার বা ব্যবসা বাড়ানোর চেষ্টা করে না। আপনিও যদি একই অবস্থানে থাকেন, এবং আপনার কাছে যদি বাজারে আনার জন্য পণ্য প্রস্তুত থাকে, তাহলে আপনার নতুন পণ্যকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরুন। আর এজন্য আপনার মার্কেটিং টিমের সাথে কাজ করুন।

৬. স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যাওয়া কঠিন হয়ে উঠতে পারে

মার্কেটিং এর দিকে মনোযোগ না দিলে যখন কঠিন পরিস্থিতি থেকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে চাইবেন, তখনই আরো কঠিন অবস্থায় পড়তে পারেন।

কারণ আপনি নিজের ব্র্যান্ডের প্রচার বাড়ানোর জন্য ইতোমধ্যে প্রচুর সময় ও অর্থ ব্যয় করেছেন। তাই অর্থনৈতিক মন্দার সময়ে পিছিয়ে না গিয়ে বরং আপনার মার্কেটিং টিমের সাথে নতুন কোনো কৌশল নিয়ে আলোচনা করুন। চেষ্টা করুন যাতে আপনার ব্র্যান্ড ধারাবাহিকভাবে গ্রাহকদের সামনে আসে। এতে যখন অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হবে, তখন আপনি আগে নেওয়া সিদ্ধান্ত আর অগ্রগতির জন্য স্বস্তিবোধ করতে পারেন।

৭. লক্ষ্য পূরণের পথে বাধা এলে সমাধান করতে পারে মার্কেটিং টিম

এমনকি অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যেও আপনি এগিয়ে যেতে চান। আপনার মার্কেটিং টিম প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্যগুলি মনে রাখতে এবং সেগুলি পূরণের জন্য নতুন কৌশল খুঁজতে সহায়তা করতে পারে। এমনকি যখন অর্থনীতি ভালো অবস্থায় থাকে না, তখনো কথাটা সত্য।

আপনার মার্কেটিং টিমের অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। তাদের মাধ্যমেই আপনি নিজের ব্যবসাকে প্রতিনিয়ত বড় করে তুলতে পারেন।

তাই ব্যবসার অবস্থা খারাপ থাকলেও মার্কেটিং টিমের এই সম্ভাবনাকে অবহেলা করবেন না।

#বিজনেস #মার্কেটিং #মন্দা

13/09/2022

কোটেশন: ইলন মাস্ক

#কোম্পানি #কেক #অনুপাত

13/09/2022

নির্মাণ কর্মকাণ্ড আরো নিরাপদ করে তুলতে এআই প্রযুক্তি

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার হিসাব অনুসারে, নির্মাণ স্থলে প্রতিবছর ৬০ হাজার মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে। অর্থাৎ, প্রতি ১০ মিনিটে বিশ্বের কোনো না কোনো নির্মাণাধীন সাইটে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটছে।

বিশ্বজুড়ে নির্মাণশিল্পে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলি এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে চায়। আর সেজন্য এখন নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলি প্রকল্পের কাজ আরো দক্ষ করে তুলতে চাচ্ছে। এই লক্ষ্য পূরণে অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠানের মতো তারাও ব্যবহার করছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) বা ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’।

এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে নির্মাণ কাজে নিয়োজিত কর্মী এবং যন্ত্রপাতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। অবশ্য এ ধরনের কাজে এআই এর ব্যবহার এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে নির্মাণ শিল্পে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার আরো বাড়বে। এই প্রযুক্তির সাহায্যে সম্পদের অপচয় যেমন কমবে তেমনি বর্জ্যও তৈরি হবে অল্প।

এছাড়াও নির্মাণের সময় পর্যবেক্ষণ এবং নির্মাণ কাজের নিরাপত্তা ও দক্ষতা বাড়াতে সময়ের সাথে সাথে আরো বেশি ব্যবহার করা হবে এআই।

# উঁচু থেকে পড়ে যাওয়া ঠেকাতে এআই প্রযুক্তি

বড় বড় স্থাপনা নির্মাণের সময় মাচা তৈরি করা হয়, স্থপতি বা ইঞ্জিনিয়াররা যাকে বলে 'স্ক্যাফোল্ডিং'। শ্রমিকদের সুবিধা এবং মালামাল ও যন্ত্রপাতি আনা-নেওয়ার জন্য স্ক্যাফোল্ডিং তৈরি করা হয়। নির্মাণকাজ ছাড়াও স্থাপনা মেরামতের কাজে এমন মাচা তৈরি করার দরকার হয়। তবে প্রায়ই দেখা যায়, দুর্ঘটনাবশত এসব মাচা থেকে নিচে পড়ে শ্রমিকের প্রাণহানি ঘটে। কিংবা উঁচু মাচা থেকে নির্মাণ সামগ্রী নিচে পড়ে মানুষের ক্ষয়ক্ষতি থেকে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটে থাকে। এ ধরনের দুর্ঘটনার উদাহরণ কম নয়।

তবে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার শ্রমিকদেরকে এ ধরনের বিপদের হাত থেকে বাঁচাতে পারে। কিন্তু কীভাবে কাজ করবে এই প্রযুক্তি? তা জানতে হলে আগে বুঝতে হবে শ্রমিকরা কী কারণে নিচে পড়ে যায়।

তারা মূলত দুটি কারণে নিচে পড়তে পারে। প্রথমত, সেফটি ক্যাবল বা নিরাপত্তা-রশির সাথে নিজেদের বেঁধে না রাখলে নিচে পড়তে পারে তারা। আর দ্বিতীয়ত, শ্রমিক বা যন্ত্রপাতির ভার নিতে না পেরে ভেঙে পড়তে পারে মাচা।

এ সমস্যা সমাধানে ব্যবহার করা যেতে পারে এআই। উন্নত প্রযুক্তির সেন্সর, এআই অ্যানালিটিক্স এবং কম্পিউটার ভিশন সিস্টেম ব্যবহার করে এসব দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব।

এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দেয়ার সাথে সাথে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সবাইকে সতর্ক করে দেয়া সম্ভব হবে। মাচায় ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশি ওজন রাখা হলে বা শ্রমিকদের কেউ বেখেয়ালে সেফটি ক্যাবল না বাঁধলে সাথে সাথে অ্যালার্ম বেজে উঠবে।

এভাবে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হলে নির্মাণ কাজের জায়গায় থাকা সেফটি ম্যানেজারের কাজ অনেক সহজ হয়ে যায়। আর কর্মীরাও পূর্ণ নিরাপত্তার মধ্যে তাদের কাজ করতে পারে।

# নির্মাণ সাইটে শ্রমিকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে এআই

নির্মাণশিল্পে কাজ করা অনেক প্রতিষ্ঠানই অনেক সময় শ্রমিক নিয়োগের কাজে জটিলতার মধ্যে পড়ে। এমনকি বড় বড় অনেক কোম্পানিও দেখা যায় শ্রমিক ব্যবস্থাপনার কাজ থার্ড পার্টি প্রতিষ্ঠান দিয়ে করাচ্ছে। কিন্ত নির্মাণ কাজের জায়গা বা সাইটে শ্রমিকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা খুবই জরুরি বিষয়। বিশেষ করে প্রতিদিন কাজে উপস্থিত শ্রমিকদের হাজিরা রাখা গুরুত্বপূর্ণ একটা কাজ।

এআই প্রযুক্তি এ সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখতে পারে। ‘ফেশিয়াল রিকগনিশন সফটওয়্যার’, অর্থাৎ মানুষের চেহারা শনাক্ত করার সফটওয়্যার আর ক্যামেরা ব্যবহার করে খুব সহজেই এই সমস্যার সমাধান করা যায়।

এভাবে কোম্পানির ম্যানেজাররা নিয়মিত সাইটে না গিয়েও শ্রমিকদের হাজিরা নিশ্চিত করতে পারে। এছাড়া শ্রমিক উপস্থিতি প্রয়োজনের চাইতে কম হলে তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নেয়া যায় এ প্রযুক্তির সাহায্যে।

দূর থেকে পর্যবেক্ষণ, নিয়ন্ত্রণ এবং সিদ্ধান্ত নেয়ার এই সুবিধা কাজে লাগালে নির্মাণ শিল্পে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলি নিজেদের সময় এবং সম্পদের সুষ্ঠ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে।

# যানবাহন নিয়ন্ত্রণে এআই

প্রায় একই ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় ‘অটোমেটিক নাম্বার প্লেট রিকগনিশন’ (ANPR) প্রযুক্তিতে।

অনেক সময় ব্যস্ত এলাকায় নির্মাণ কাজ করতে হয়। ব্যস্ত সেসব এলাকায় সবসময় গাড়িঘোড়া চলাচল করে। কোনো অঘটন ছাড়াই নির্ধারিত সময়ে এ ধরনের স্থাপনা নির্মাণের কাজ শেষ করার জন্য সাইটের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখার প্রয়োজন অনেক বেশি।

এক্ষেত্রে ‘অটোমেটিক নাম্বার প্লেট রিকগনিশন’ বা ANPR প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানগুলি তাদের নির্মাণ কাজের জায়গায় সকল ধরনের যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এতে নির্মাণ কাজের জায়গা আরো নিরাপদ হয়ে ওঠে। একইসাথে নির্মাণের জায়গায় জনসাধারণের প্রবেশও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়।

এ প্রযুক্তির সাহায্যে ক্যামেরা থেকে পাওয়া ডেটার মাধ্যমে যেকোনো যানবাহনের নাম্বার প্লেট শনাক্ত করা সম্ভব। এবং এআই সফটওয়্যার সেসব ডেটা ব্যবহার করে। এরপর সফটওয়্যারেই সেসব ডেটা সংরক্ষিত থাকে। এসব ডেটার মধ্যে থাকে ক্যামেরায় তোলা যানবাহনের ছবি আর ছবি তোলার সময়। এছাড়া সেসব যানবাহনের নাম্বার প্লেটের বিবরণও থাকে।

# ড্রোনের ব্যবহার

যে স্থাপনা নির্মাণ করা হবে, সেখানকার ম্যাপ তৈরিতে সহায়তা করতে পারে ড্রোন। ড্রোনের সাহায্যে ইনফ্রারেড বা স্ট্যান্ডার্ড ইমেজিং ক্যামেরা দিয়ে প্রথমে স্থাপনার জায়গার ছবি তোলা বা ভিডিও করা যায়। এরপরে এআই প্রযুক্তির থ্রিডি ইমেজিং সফটওয়্যার ব্যবহার করে সূক্ষ্মভাবে সেখানকার ম্যাপ তৈরি করে। একইভাবে নির্মাণ কাজের জায়গায় যেকোনো ধরনের ঝুঁকির ব্যাপারে আগাম ধারণা পাওয়ার জন্যও এখন ড্রোনের ব্যবহার বাড়ছে।

মোটকথা এআই প্রযুক্তির সাহায্যে নির্মাণ কাজের জায়গা আরো নিরাপদ করে তোলা সম্ভব। এআই ব্যবহারের কারণে নির্মাণ কাজে প্রাণহানির ঘটনা আগের চাইতে এখন অনেক কম।

#নির্মাণ #নিরাপত্তা #এআই

Address

Rayerbagh
Dhaka
1100

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when B for Business posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share