06/10/2024
আস্সালামু আলাইকুম,
আজকে আমি আমার জীবনে ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ একটা ঘটনা বর্ণনা করতে যাচ্ছি।
আমারও আমাদের দেশের বাকী দশজনের মতো ইচ্ছা হচ্ছিলো বিদেশ চলে যেতে। ইচ্ছা হচ্ছিলো বললেও ভুল হবে, কয়েকবছর আগে আমি একপ্রকার মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছিলাম। আসলে আমাদের দেশে আমি যেভাবে চলতে চাচ্ছিলাম, কোনটার কোনরকম কিছুই নাই। পেপাল নাই, ১০০০সিসি এর বাইকের পারমিশন নাই, জবের সুযোগ নাই, মানুষের জীবনযাত্রার মানের অবস্থা নাই, আর রাজনৈতিক আলাপে যেতে চাচ্ছি না, জীবনের নিরাপত্তা নেই, উদ্যোক্তা হতে যাবো যে ঐখানেও নানান ভেজাল, সবকিছু যদি বিবেচনা করেন আমরা সবাই একমত হবো যে বিদেশ চলে যাওয়ায় শ্রেয়। আর ইসলাম প্র্যাকটিস করার পরে ঐখানে মনে হতো আরো বেশি গুছিয়ে ইসলাম প্র্যাকটিস করতে পারবো এমন ধারণা জন্মেছিল।
আমার কানাডা যাওয়ার বেশ ইচ্ছে ছিল। আমি কানাডার কিছু ভার্সিটির তথ্যও জোগাড় করছিলাম পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ডিপ্লোমা করবো ঐ সুবাদে। আর দিনের পর দিন কানাডা ডট সিএ অর্থাৎ তাদের সরকারি অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ঘাটাঘাটি করে তথ্য সংগ্রহ করতাম। কিভাবে কোন পদ্ধতিতে তাদের দেশে আবেদন করা যায়, আমার ফিল্ডে কি কি সুবিধে পাবো ইত্যাদি ইত্যাদি। আই ই এল টি এস এর প্রস্তুতিও চলছিল।
আমার ঘনিষ্ঠ একজন আমার জন্যে ইউকে তেও চেষ্টা চালাচ্ছিলো, উনাকে ৬ মাস স্কিপ করতে বলছিলাম আমার ফাইনাল এক্সামের কারণে। কোভিড লকডাউনের জন্যে আমার এক্সাম পিছিয়ে ছিল প্রায় ২ বছর। তাই ঐ উছিলায় বলছিলাম একটু স্কিপ করেন এই ৬ মাস, তাহলে আমি আমার গ্র্যাজুয়েশনের সার্টিফিকেট দিয়ে ভালো কোন কিছুর জন্যে আবেদন করতে পারবো।
ঠিক ঐ মুহূর্তে আল্লাহ রাব্বুল আল-আমিন আমার চোখের পর্দা খুলে দিলেন। আমার কাছে কিছু বড় আলেম ওলামার ভিডিও অটোমেটিক সাজেশনে আসলো। বিদেশে বিশেষ করে কাফের মুশরিকদের দেশে মাইগ্রেশন/হিজরতের ব্যাপারে ইসলাম কি বলে এই বিষয়ে। আমি এই বিষয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করলাম। আমি যেমন চমকে গেছি এই তথ্য জেনে! আমি নিশ্চিত আপনিও চমকে উঠতে বাধ্য হবেন।
আলেম ওলামারা কোরআন-হাদিস হতে এই সিদ্ধান্ত উপনীত হয়েছেন, মুসলিম দেশ হতে অমুসলিম দেশে দুনিয়াবী উদ্দেশ্য হাসিলের জন্যে মাইগ্রেশন/ হিজরত করা নাজায়েজ, হারাম!
'اِنَّ الَّذِیۡنَ تَوَفّٰهُمُ الۡمَلٰٓئِكَۃُ ظَالِمِیۡۤ اَنۡفُسِهِمۡ قَالُوۡا فِیۡمَ كُنۡتُمۡ ؕ قَالُوۡا كُنَّا مُسۡتَضۡعَفِیۡنَ فِی الۡاَرۡضِ ؕ قَالُوۡۤا اَلَمۡ تَكُنۡ اَرۡضُ اللّٰهِ وَاسِعَۃً فَتُهَاجِرُوۡا فِیۡهَا ؕ فَاُولٰٓئِكَ مَاۡوٰىهُمۡ جَهَنَّمُ ؕ وَ سَآءَتۡ مَصِیۡرًا'
"নিশ্চয় যারা নিজেদের প্রতি যুলমকারী, ফেরেশতারা তাদের জান কবজ করার সময় বলে, ‘তোমরা কী অবস্থায় ছিলে’? তারা বলে, ‘আমরা যমীনে দুর্বল ছিলাম’। ফেরেশতারা বলে, ‘আল্লাহর যমীন কি প্রশস্ত ছিল না যে, তোমরা তাতে হিজরত করতে’? সুতরাং ওরাই তারা যাদের আশ্রয়স্থল জাহান্নাম। আর তা মন্দ প্রত্যাবর্তনস্থল।" [সূরা আন-নিসা (৪:৯৭)]
এই আয়াতটি হিজরতের প্রসঙ্গে নাজিল হয়েছিল। অর্থাৎ কাফের/মুশরিকদের দেশে জুলুমের শিকার হলে, নিজের দ্বীন খোলামেলা পালন করতে না পারলে তখন যদি মৃত্যু হয় তার কথা বলা হয়েছে। আল্লাহর যমীন অর্থাৎ পৃথিবী প্রশস্ত হওয়া সত্ত্বেও কেন একজন মুসলিম অমুসলিম দেশ হতে মুসলিম দেশে মাইগ্রেশন/হিজরত করেনি তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আর এইখানে স্পষ্ট শাস্তি জাহান্নামের কথাও উল্লেখিত আছে।
আবার এর পরের দুটি আয়াতে যারা দুর্বল পুরুষ, নারী এবং শিশু তাদের মাইগ্রেশন/হিজরতের ব্যাপারে বলা হয়েছে। অর্থাৎ যারা অক্ষম, যাদের মাইগ্রেশন করার সামর্থ্য নেই তাদের কথা বলা হয়েছে।
আর আল্লাহর ক্ষমার কথা উল্লেখিত হয়েছে।
'اِلَّا الۡمُسۡتَضۡعَفِیۡنَ مِنَ الرِّجَالِ وَ النِّسَآءِ وَ الۡوِلۡدَانِ لَا یَسۡتَطِیۡعُوۡنَ حِیۡلَۃً وَّ لَا یَهۡتَدُوۡنَ سَبِیۡلًا ﴿ۙ۹۸﴾ فَاُولٰٓئِكَ عَسَی اللّٰهُ اَنۡ یَّعۡفُوَ عَنۡهُمۡ ؕ وَ كَانَ اللّٰهُ عَفُوًّا غَفُوۡرًا ﴿۹۹﴾'
"তবে যে দুর্বল পুরুষ, নারী ও শিশুরা কোন উপায় অবলম্বন করতে পারে না এবং কোন রাস্তা খুঁজে পায় না। অতঃপর আশা করা যায় যে, আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করবেন। আর আল্লাহ মার্জনাকারী, ক্ষমাশীল।" [সূরা আন-নিসা(৪:৯৮-৯৯)]
যারা মুসলিম জন্মগতভাবে অমুসলিম দেশে জন্মেছেন তাদের ক্ষেত্রে বিধান রয়েছে। তারা যদি স্বাধীনভাবে দ্বীন পালন করতে পারে তাহলে তাদের জন্যে মুসলিম দেশে মাইগ্রেশন/হিজরত মুস্তাহাব। যদি স্বাধীনভাবে দ্বীন পালন করতে না পারে তাহলে মুসলিম দেশে হিজরত করা তাদের জন্যে ফরজ হয়ে যায়।
মুসলিমদের জন্ম হয়েছে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ সমাজে বসবাসের জন্যে। যেখানে মুসলিমরা স্বাধীনভাবে ইসলাম পালন করতে পারবেন। আল্লাহর হুকুম, আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ মোতাবেক চলতে পারবেন। আপনি যেখানে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে ঐখানে মাইগ্রেশন/হিজরত করতে পারেন তা জায়েজ রয়েছে। কিন্তু অমুসলিম দেশে যেখানে আপনি স্বাধীনভাবে আপনার ইসলামিক রীতিনীতি, কোরআন, সুন্নাহ মোতাবেক চলতে পারবেন না, ঐখানে বসবাস করতে গিয়ে কিছু না কিছু ছুটে যাবে ঐখানে থাকা আপনার জন্যে হারাম।
আমরা সবাই একটা ধারণা নিয়ে আছি কাফের মুশরিকদের দেশ স্বর্গ, আমাদের দেশ নরক। আসলেই দুনিয়ায় তারা তাদের দেশ স্বর্গর মতোই বানাই রাখছে। ঐটাও একটা শয়*তানের টোপ।
আমরা সবাই ঐখানে চিরতরে সেটেল হওয়ার উদ্দেশ্যেই মূলত দেশ ছাড়ি। কড়ি কড়ি টাকা কমানোর ইচ্ছাই। কারণ আমরা ফিল করি আমরা যেমন চলতে চাচ্ছি ঐভাবে আমাদের দেশে চলতে পারছি না। অর্থাৎ আমরা দুনিয়াবী উদ্দেশ্যকে প্রায়োরিটি দিয়ে ফেলছি। অথচ আমাদের জীবনের উদ্দেশ্যটাই দুনিয়া গোছানো না, আখেরাত সাজানো।
' مَا هٰذِهِ الۡحَیٰوۃُ الدُّنۡیَاۤ اِلَّا لَهۡوٌ وَّ لَعِبٌ ؕ وَ اِنَّ الدَّارَ الۡاٰخِرَۃَ لَهِیَ الۡحَیَوَانُ ۘ لَوۡ كَانُوۡا یَعۡلَمُوۡنَ ﴿۶۴﴾'
"আর এ দুনিয়ার জীবন খেল-তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয় এবং নিশ্চয় আখিরাতের নিবাসই হলো প্রকৃত জীবন, যদি তারা জানত।" [সূরা আল-আনকাবুত (২৯:৬৪)]
আমি যদি কাফের মুশরিকদের দেশে যায় বিশেষ করে যেগুলোকে আমরা সভ্য দেশ বলে দাবি করি ঐখানে যাবো দুনিয়াবি উদ্দেশ্য হাসিল করতে, টাকা কামাতে, একটু আরামে থাকতে এবং বাকি আরো কিছু ব্যাপার আছে যা শুরুতে উল্লেখ করছি তাও দুনিয়াবী। আমাদের জীবনের পারপার্স দুনিয়াবী আরাম আয়েশ হাসিল করা না।
'عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم الدُّنْيَا سِجْنُ الْمُؤْمِنِ وَجَنَّةُ الْكَافِرِ-'
"আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দুনিয়া মুমিনের জন্য জেলখানা এবং কাফিরের জন্য জান্নাত।’ [মুসলিম ২৯৫৬, তিরমিযি ২৩২৪, ইবন মাজাহ ৪১১৩, আহমদ ৮০৯০, ২৭৪৯১, ৯৯১৬]"
হ্যাঁ আমার দেশে বসবাসে, জীবন যাপনে নানান রকম সমস্যা আছে এইটা আমি মানি, কিন্তু সবগুলোর সমাধান আছে কোন না কোন ভাবে।
-পেপাল নাই!
তাহলে যারা দেশে বসে রিমোট জব করতেছে বাইরের দেশের তারা কিভাবে আয় করতেছে?
-১০০০সিসি এর বাইকের পারমিশন নাই!
৩৭৫সিসি লিমিট দিছে ইনশাআল্লাহ সামনে আরো বাড়াবে আর এতো বছর তো ১৬৫সিসি পর্যন্ত লিমিট ছিল মানুষ কি বাইক চালায় নাই, শখ পূরণ করে নাই?
-জবের সুযোগ নাই!
হ্যাঁ জনসংখ্যা বেশি, সেলারি কম অফার করে, যোগ্যতা থাকলে আল্লাহ অবশ্যই মিলাই দিবেন।
-আবার মানুষের জীবনযাত্রার মানের অবস্থা নাই আর রাজনৈতিক আলাপে যেতে চাচ্ছি না, জীবনের নিরাপত্তা নেই!
এইগুলো হার হামেশাই চলবে, আমাদের আগের জেনারেশনও চলে গেছে। আমরা কোন রাজা বাদশার ফ্যামিলি থেকে আসি নাই যে আমাদের পরিশ্রম করতে হবে না। এইগুলো মোকাবেলা করাও একটা পরীক্ষা। সভ্য দেশে যে সে সেমি অটোমেটিক রাই*ফেল দিয়ে কিছু দিন পর পর শুনবেন অমুক স্কুলের সামনে, তমুক শপের সামনে খেলাধুলা করছে! সব বাদ তাদের তো প্রেসিডেন্টরাও এইগুলো থেকে মুক্ত নাই। তাহলে ঐখানেও জীবনের নিরাপত্তা কোথায়?
-দেশে উদ্যোক্তা হতে যাবো যে ঐখানেও নানান ভেজাল
কেন তাহলে প্রতি বছর আমাদের দেশে ব্যবসায়ী বাড়ছে, বিনিয়োগ বাড়ছে, নতুন নতুন স্টার্টআপ লঞ্চ হচ্ছে?
আর উপরের গুলোসহ যা আমাদের কল্পনাতে আছে সবই নিছক দুনিয়াবী চাওয়া ছাড়া আর কিছুই না।
সবচেয়ে বড় কথা নিজের দেশে থাকার মধ্যে একটা তৃপ্তি আছে। নিজের রক্তের মানুষ সব এইখানে, মাটির টান, নাড়ির টান সব তো এইখানেই।
আমি আমার দেশে স্বাধীনভাবে দ্বীন পালন করতে পারতেছি। যেটা ঐখানে আমার পক্ষে অসম্ভব হয়ে যেত।
ধরেই নিলাম আমি অন্য সভ্য দেশে গেলাম, আমার অবশ্যই জীবিকার তাগিদে ঐখানে চাকরি করতে হবে মাস্ট। এখন ঐখানে আপনি আমাকে কত পার্সেন্ট সিউরিটি দিতে পারবেন যে আমার পাঁচ ওয়াক্ত সালাত টাইম টু টাইম জামায়াতের সাথে পড়তে পারবো? তারপরে বেশিরভাগ সভ্য দেশে শুক্রুবার জুমুআ'র দিন বন্ধ নেই। তাহলে জুমুআ'র সালাত কিভাবে আদায় করবো? ঠিক আছে ওয়ার্ক প্লেস থেকে আমি নামাজের ব্রেক নিবো কিন্তু কয়টা কোম্পানি আমাকে এইসুযোগটা দিবে?
তার উপরে ঐটা তো ভাই বাংলাদেশ অথবা অন্য মুসলিম কান্ট্রি না যে আপনি কিছুক্ষণ পর পর মসজিদ পাবেন।
ভাই বিশ্বাস করবেন কিনা জানিনা, ' যখন বাইরের মুশরিকদের দেশে যাবেন, আযানের শব্দ না শুনলেই আপনার খারাপ লাগবে'।
ঐখানে আমি কিভাবে স্বাধীনভাবে দ্বীন প্র্যাকটিস করবো?
আমার দেশে আমার ইসলাম পালন করতে, চর্চা করতে কোন সমস্যা হচ্ছে না, কষ্ট হচ্ছে তবে এতোটা না। ফ্যাসিস্ট আমলেও হয়নি। আমাকে নানান রকম ট্যাগ খেতে হয়েছে (জামাত-শিবির, তাবলীগ, আহলে হাদিস, ওয়াহাবী, গঙ্গী, দরবেশ, ভাণ্ডারী ইত্যাদি) কিন্তু স্বাধীনভাবে দ্বীন পালনে সমস্যা হয়নি,আমি প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তাহলে আমি কেনই বা মাইগ্রেশন বা হিজরত করবো? আমাকে যদি জোর করে ধর্ম ত্যাগ করতে বলা হতো তখন আমার জন্যে মাইগ্রেশন বা হিজরত ফরজ হয়ে যেত।
ইসলামের নিয়ম অনুযায়ী মাইগ্রেশন বা হিজরতের নিয়মগুলো দয়া করে ভালো করে জেনে নেওয়া উচিত আমাদের সকলের।
মালাকুল মউত যখন এসে জিজ্ঞেস করবেন ,'তুমি কোন অবস্থায় মারা গেছো?'
আমি দুনিয়াবী উদ্দেশ্য হাসিলের জন্যে যদি কাফের মুশরিকদের দেশে থাকি তাহলে তখন আমি কি জবাব দিবো?
"... রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি ঐ মুসলিম থেকে দায়মুক্ত যারা মুশরিকদের মধ্যে বসবাস করে।..." (সুনান আবু দাউদ ২৬৪৫)
এইটা অনেক চিন্তার বিষয় মুশরিকদের ভিতরে বসবাসরত মুসলিমদের থেকে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেকে দায়মুক্ত বলেছেন।
অনেকেই প্রশ্ন করেন, আপনি এতোই যখন ধার্মিক, তাহলে আপনি ঐসব সভ্য দেশে গিয়ে ইসলামের দাওয়াত দিয়ে আসলেই পারেন! এইরকম এলিট শ্রেণীর মুসলিম ভাবার কি আছে?
আমি নিজেকে কখনোই এলিট শ্রেণীর মুসলিম ভাবি নাই।
বিশ্বাস করেন আমাদের সমাজেই, আমাদের দেশেই অনেক বেশি পরিবর্তনের প্রয়োজন। ঐটা আপনি দ্বীনকে আঁকড়ে ধরার চেষ্টা করলে বুঝতে পারবেন। আপনি দ্বীনের কোর ভ্যালুস গুলো যখন সম্পূর্ণ রূপে মেনে চলতে শুরু করবেন সবার আগে নিজের পরিবারের মধ্যেই দেখবেন অনেক কাজ করার স্কোপ আছে।
আমাকে-আপনাকে ঐ সভ্য দেশকে দেখেই আমাদের এই বেদ্বীন সমাজের চাপে পড়েই আমাদের পরিবার সভ্য দেশের শিক্ষা টা ঠিকই দিছেন কিন্তু দ্বীনের শিক্ষাতে অনেক ঘাটতি রেখে দিছেন। আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহর রহমতে যত জানতেছি তত জীবন সহজ হচ্ছে।
আর আমার দেশের মানুষগুলো ও মানুষ। এইখানেও দ্বীনি সোসাইটি গড়ে উঠার স্কোপ আছে।
তাই আমি নিজের দেশে, নিজের সমাজে, নিজের আশে পাশে, নিজের পরিবারে কাজ করার এতো স্কোপ ফেলে তথাকথিত সভ্য দেশে কেন যাবো?
আর ভাই আমি তো এই দুনিয়ার একজন নাচিজ বান্দা আমার চেয়ে বড় বড় আলেম, ওলামারা দ্বীন প্রচারের উদ্দেশ্যে মাইগ্রেশন করেছেন, শোকর আলহামদুলিল্লাহ। অনেক অমুসলিম রিভার্ট/কনভার্ট হচ্ছেন।
কিন্তু বিপরীতে অনেক মুসলিম দ্বীন ত্যাগ করতেছে বিশেষ করে মুসলিম পরিবারের দ্বিতীয় প্রজন্ম। এইটা থেকে রেজাল্ট গুলো আপনারা একটু চেক করে নিয়েন। যারা বাইরে বিশেষ করে অমুসলিম দেশে যায় নানান কারণে নানান হারামের সাথে লিপ্ত হয়ে পড়েন, দ্বীনকে আঁকড়ে ধরা অনেক টাফ হয়ে যায়। বিশেষ করে সবচেয়ে কষ্ট যে ৩টা জিনিস থেকে দূরে থাকা। ঐ ৩টা জিনিসই একদম খোলামেলা পাওয়া যায়, মদ, যিনা, রিবা/সুদ (বাকি আরো আছে)। তারপরে এইযুগের আরেক ফিতনা বিকৃত যৌ*ন মতাদর্শ তো আছেই।
সবচেয়ে কষ্ট যিনা আর রিবা/সুদ থেকে বেঁচে থাকা।
আমি ঐদেশে থেকে আমার জেনারেশন পর্যন্ত মোরালিটি ঠিক রাখতে পারবো কিন্তু পরের জেনারেশনকে যে ঠিক রাখতে পারবো এর নিশ্চয়তা কি? একটা জেনারেশন গড়ে উঠতে পরিবেশ অনেক বেশি প্রভাবশালী ইলিমেন্ট। ঐ পরিবেশে আমার ছেলে মেয়ে মোরালিটি হারানো সম্ভাবনা খুব বেশি। আর আমি মৃত্যুর পর সদকায়ে জারিয়া হিসাবে রেখে যাবো আমার ছেলেমেয়েদের, যারা আমার এবং আমার পরিবারের জন্যে মৃত্যুর পরে দোয়া করবে। যদি তারা বেদ্বীন/ইসলাম থেকে বের হয়ে যায় আমার এবং আমার পরিবারের জন্যে কে দোয়া করবেন? আমার বংশধারা ইসলামীয়ভাবে কারা এগিয়ে নিয়ে যাবেন?
আর আমি ইসলাম প্র্যাকটিস করতেছি এর মানে এইটা না যে আমি মাদ্রাসা অথবা ইসলামিক স্টাডিজ নিয়েই পড়ালেখা করছি। আমি দ্বীনের দাঈ বা মুফতি না।
হ্যাঁ, অবশ্যই কালিমার দাওয়াত দেওয়া আমাদের গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ। এইটা আমি যতটুকু জানি ততটুকু প্রচার করি, করবো, ইনশাআল্লাহ। কিন্তু ঐটার জন্যেও একটা ন্যুনতম যোগ্যতা প্রয়োজন, একটা পরিবেশ প্রয়োজন।
আমাদের দেশেই প্রথমে প্রয়োজন দাওয়াতের কাজ করা।
আর হ্যাঁ আমি যদি ইসলামিক দাঈ অথবা মুফতি হতাম তাহলে ভিন্ন ব্যাপার ছিল। কারণ ফুল টাইম দাঈ হিসেবে আপনি দ্বীনের প্রচার করতে যেতে পারবেন অবশ্যই, এইটা জায়েজ আছে।
শুধু পড়ালেখার জন্যে হলে অমুসলিক দেশে যেতে পারবেন এইটা জায়েজ আছে, তবে পড়ালেখা শেষ করে আবার নিজ দেশে ফিরে আসতে হবে। কিন্তু আমি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবো আমরা যারা পড়ালেখার উদ্দেশ্যে যায়, আমরা পি আর কে প্রথম টার্গেট নিয়ে যায়, ঐটাও দুনিয়াবী কারণ। ঘুরে ফিরে আরামে থাকার উদ্দেশ্যে।
এই দুনিয়াতে আরামে থাকার জন্যে আমি কেন আমার আখিরাত বিসর্জন দিবো?
'بَلْ تُؤْثِرُونَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا- وَالْآخِرَةُ خَيْرٌ وَأَبْقَى.'
"কিন্তু তোমরা পার্থিব জীবনকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাক। অথচ আখিরাত উত্তম ও চিরস্থায়ী।" [সূরা আল-আ‘লা (:৮৭:১৬-১৭)]
এত কথা বললাম এইগুলো সম্পূর্ন জেনে শুনে ভালো করে পড়ে বুঝে বললাম। আমি আপনাদের মনে আঘাত হানার জন্যে অথবা যারা বাইরের দেশে যেতে চান তাদের উদ্দেশ্যে কিছু বলিনি। যাওয়া না যাওয়া আপনাদের ব্যাপার। দ্বীনের পথে চেস্টারত থাকলে ব্যাপার গুলো ভালো করে যাচাই করা উচিত।
আমি আমার অগোছালো লিখাগুলো দিয়ে নিজের যে বিদেশ পাড়ি জমানোর ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষা তা কেন নিঃশেষ হয়ে গেল তা তুলে ধরলাম। আমার লিখাটা এই বিষয়ে শুধু চিন্তা করার জন্যে হয়তো আপনাদের সহায় হবে। কিন্তু আপনাদের উচিত বড় কোন আলেম, ওলামা, ইসলামিক স্কলার থেকে এই বিষয়ে বিস্তারিত নিজ উদ্যেগে জানা, বিশেষ করে যারা দ্বীন চর্চা করছেন।
আল্লাহ আমাদের দ্বীনের পথে হেদায়েত নসিব করুক।
জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।