16/09/2022
আমরা অনেকেই পার্টনারশিপ/ অংশীদারি ব্যবসা করতে ভয় পাই। অনেকেরই ধারণা পার্টনারশিপ ব্যবসায় বেশকিছু ঝুঁকি আছে কিন্তু নিয়ম মেনে ব্যবসা করলে অনেকাংশই ঝুঁকি কমিয়ে ফেলা সম্ভব। আসুন জেনে নেই কিভাবে ঝুঁকিমুক্ত ভাবে পার্টনারশিপ ব্যবসা রেজিস্ট্রেশন করা যায়।
পার্টনারশিপ ফার্ম নিবন্ধন করতে নিচের তিনটি ধাপ অনুসরণ করুন...
🔰১. পার্টনারশিপ ডিড/ অংশীদারী চুক্তিপত্র করুন
🔰২. আর.জে.এস.সি রেজিষ্ট্রেশন করুন
🔰৩. ট্রেড লাইসেন্স করুন
পার্টনারশীপ ডিড/অংশীদারি চুক্তিপত্র কি?
কেন করবেন পার্টনারশিপ চুক্তিপত্র?
এটি এমন একটি ডকুমেন্ট যেখানে লেখা থাকে আপনার কোম্পানির বিস্তারিত বিবরণ। যেমনঃ
* পার্টনারদের বিস্তারিত বিবরণ
* কে কতটুকু শেয়ার পাচ্ছে তার বিবরণ
* কে কতটুকু লাভ বা ক্ষতির অংশ পাবে তার বিবরণ
* পার্টনারদের মাঝে যদি কোন সমস্যা হয় সেটা কিভাবে সমাধান করা হবে তার বিবরণ।
* যদি কোন পার্টনার মৃত্যু গ্রহণ করে তাহলে তার লভ্যাংশটির মালিক কে হবে বা তার নমিনির বিবরণ।
*আপনার ব্যবসার সংক্ষিপ্ত বিবরন।
* কেউ যদি ব্যবসা ছেড়ে দিতে চায় তাহলে সে কতটুকু সময় আগে জানিয়ে বা কিভাবে ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে যেতে পারবে তার বিবরন, ইত্যাদি।
পার্টনারশিপ ডিড/ অংশীদারি চুক্তিপত্র কিভাবে করবেন?
পার্টনারশিপ ডিড বা অংশীদারি চুক্তিপত্র করতে প্রথমেই আপনাকে ৪,০০০ টাকার স্ট্যাম্পে বিস্তারিত বিবরণ লিখতে হবে তারপর পার্টনারদের ছবি ও স্বাক্ষরযুক্ত করে পার্টনারশিপ ডিডটি নোটারি করতে হবে।
তবে এখানে মনে রাখতে হবে নোটারিস অর্ডিন্যান্স এবং নোটারিস রুলস-১৯৬৪ দ্বারা বাংলাদেশে নোটারি পাবলিকের বিষয়টি নিয়ন্ত্রিত হয়। সাধারণত কোনো ব্যক্তি, যিনি কমপক্ষে সাত বছর আইনজীবী হিসেবে কর্মরত আছেন অথবা বিচার বিভাগের সদস্য হিসেবে কমপক্ষে পাঁচ বছর কর্মরত ছিলেন অথবা সরকারের আইনি খসড়া এবং সরকারের আইন প্রণয়নকাজে নিয়োজিত ব্যক্তি নোটারি পাবলিক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার যোগ্য।
আর.জে.এস.সি বা রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানি থেকে কেন আপনার পার্টনারশিপ ফার্মটি নিবন্ধন করাবেন ? এর সুবিধা বা অসুবিধা গুলো কি কি?
এটার প্রধান অসুবিধা হলো রেজিস্ট্রেশন করতে সামান্য কিছু অর্থ বেশি প্রয়োজন হয়। এবার সুবিধা গুলো নিয়ে আলোচনা করা যাক। আপনি যদি মনে করেন আপনার পার্টনারশিপ ফার্ম টি অবশ্যই সব নিয়ম মেনে ঝুঁকিমুক্ত ভাবে পরিচালনা করবেন তাহলে আর.জে.এস.সি থেকে নিবন্ধন নেয়াটা আপনার জন্য সুবিধাজনক। আরজেএসসি থেকে নিবন্ধন নিলে সবথেকে বেশি যেটা সুবিধা পাওয়া যায় তাহলো প্রতিষ্ঠান তার নিজের একটি লিগ্যাল এন্টিটি তৈরি করে। আপনার প্রতিষ্ঠানের নামটি বাংলাদেশের কোথাও অন্য কেউ রেজিস্ট্রেশন করতে পারবে না। যদি কেউ আপনার নামটি ব্যবহার করে তাহলে আপনি তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন। এছাড়াও আরজেএসসি থেকে নিবন্ধন করলে আপনার পার্টনারশিপ চুক্তিপত্রটি নিবন্ধিত অংশীদারিত্বের দলিল হিসেবে গণ্য হবে এবং নিবন্ধিত অংশীদারিত্বের দলিল অংশীদারদের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তিতেও সাহায্য করে, একটি ভাল খসড়া এবং ভারসাম্যপূর্ণ দলিল পৃথক অংশীদারদের সমস্ত দায়িত্ব, সুবিধা, অবদান এবং দায় সম্পর্কে তথ্য সংজ্ঞায়িত করবে। এছাড়াও, অংশীদারদের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে একটি নিবন্ধিত অংশীদারি দলিল একটি অংশীদারকে অন্য অংশীদারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দেয়।
তবে আরজেএসসি থেকে নিবন্ধন করা টি ঐচ্ছিক
আপনি আরজিসি থেকে নিবন্ধন না নিয়েও অংশীদারি ব্যবসা করতে পারবেন তবে এমনটা করলে, রেজিস্ট্রেশন খরচ একটু বেঁচে গেলও আপনার প্রতিষ্ঠানের লিগ্যাল কোন এন্টিটি থাকে না। এমনকি আপনার প্রতিষ্ঠানের নামে অন্য কেউ রেজিস্ট্রেশন করে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারে।
ট্রেড লাইসেন্স আসলে কি
ট্রেড লাইসেন্স কতটা জরুরি?
ট্রেড লাইসেন্স একটি নির্দিষ্ট এলাকায় ব্যবসা করার ছাড়পত্র প্রদান করে নাগরিক হিসেবে যেমন জাতীয় পরিচয় পত্র থাকা বাঞ্চনীয়,তেমনি উদ্যোক্তা হিসেবে "ট্রেড লাইসেন্স" না থাকলে আপনার উদ্যোগের কোন স্বীকৃতি ই নেই। ফলে যেকোন ধরনের অনুদান, প্রণোদনা বা ব্যবসায়িক সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অনেক দেশীয় উদ্যোক্তারা। এছাড়াও যেকোন মুহুর্তে আইনি ঝামেলায় ও পরতে পারেন।
তাই নিজের ব্যবসার ধরনের উপর ভিত্তি করে ট্রেড লাইসেন্স গ্রহন করুন।
ট্রেড লাইসেন্স এর জন্যে আপনাকে স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন/পৌরসভা/ইউনিয়ন পরিষদ) এ যোগাযোগ করতে হবে।
সেখান থেকে ট্রেড লাইসেন্স ফর্ম সংগ্রহ করে, বিস্তারিত বিবরণ যেমন ব্যাবসার ঠিকানা, মালিকানা এর ধরন, ব্যাবসার ধরন এগুলো বিস্তারিত লিখে আবেদন করতে হবে।
ব্যবসা এর ধরনের উপর ভিত্তি করে ট্রেড লাইসেন্স এর ভিত্তি মূল্য, সাইনবোর্ড কর, ভ্যাট, বই ফি এগুলো দিয়ে আপনি আবেদন করতে পারবেন।
এড্রেস ভেরিফিকেশন এরপর পেয়ে যাবেন আপনার ট্রেড লাইসেন্স।
ব্যাস তাহলে হয়ে গেল আপনার পার্টনারশিপ ফার্ম
এছাড়াও আপনার ব্যবসার প্রয়োজনে
আপনার প্রতিষ্ঠানের নাম ও লোগো রক্ষা করতে
ট্রেডমার্ক করতে পারেন।
আর যদি আপনার প্রতিষ্ঠানের বাৎসরিক ট্রানজেকশন যদি ৫০ লক্ষ টাকার কাছাকাছি বা বেশি হয় তাহলে ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন করা বাধ্যতামূলক।
এছাড়াও এ বিষয়ে যে কোন সহায়তার জন্য Rahman Hossain Associates Ltd তো আপনার পাশেই আছে