10/09/2024
Environmental Conservation Rules-2023
বাংলাদেশের পরিবেশের রক্ষা কবচ বলা চলে পরিবেশ সংরক্ষন আইন-১৯৯৫ এবং পরিবেশ সংরক্ষন বিধিমালা-১৯৯৭! মার্চ ০৫, ২০২৩ এ পরিবেশ, বন ও জলবায়ূ মন্ত্রনালয় পরিবেশ সংরক্ষন বিধিমালা-২০২৩ প্রকাশ করে, যা ১৯৯৭ এর পরিমার্জন অনেকাংশে।
১. নতুন বিধিমালায় শ্রেনীগুলাকে নাম দেওয়া হয়েছে: 'সবুজ', 'হলুদ', 'কমলা' এবং 'লাল' যা পূর্বে ছিল সবুজ, কমলা-ক, কমলা-খ, এবং লাল। আমার মোতে এই চেঞ্জ টা দরকার ছিল । যতবার বিদেশী এবং ভিন্ন ফিল্ডের কাউকে বুঝাতে গিয়েছি ততবার ই কমলা-ক, কমলা-খ এর পার্থক্য বুঝাতে ঝামেলা হয়েছে। কমলা-ক ই এখন হলুদ শ্রেনী (সহজে বোঝার সুবিধার্থে)!
২. ১৯৯৭ মোতাবেক সবুজ শ্রেনীর পরিবেশ ছাড়পত্রের মেয়াদ ছিল ৩ বছর যা নতুন বিধিতে ৫ বছর (২০২৩)। আর 'কমলা-ক' এর ছাড়পত্রের মেয়াদ ছিল ১ বছর। যদি ;কমলা-ক' কে বর্তমান শ্রেনীবিভাগের 'হলুদ' এর সাথে মিলায় তাহলে এখন কার হলুদ শ্রেনীর ছাড়পত্রের মেয়াদ ২ বছর। আগে কমলা-ক এবং কমলা-খ দুইটার এ মেয়াদ ১ বছর করে ছিল।
৩. এবং বেশ কিছু ব্যাবসা কে প্রমোট করার জন্য বা সুবিধা দেওয়ার জন্য তাদের হলুদ শ্রেনীভুক্ত করা হয়েছে। মানে এই সকল ব্যাবসা/প্রকল্প এর ক্ষেত্রে ১৯৯৭ অনুযায়ী প্রতি বছর পরিবেশ ছাড়পত্র নবায়ন করতে হইতো এখন প্রতি ২ বছরে নবায়ন করলে চলবে। যেমন: গম, ডাল, মসলা মিল (মুলধন ৫০ লক্ষের বেশি), চাউল কল (৫০ টন পর্যন্ত), কনফেকশনারী এদের সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। আগের বিধি মোতাবেক এদের প্রতি বছর ছাড়পত্র নবায়ন করত হত। এখন হলুদ শ্রেনী ভুক্ত করায় প্রতি ২ বছরে ছাড়পত্র নবায়ন করলেই হবে! এসএমই সেক্টরের প্রবৃদ্ধিতে ভাল সিদ্ধান্ত বলে মনে করি।
এখন দেখা যাক যে সকল সেক্টর পরিবেশ দূষনের জন্য মূলত দায়ী অর্থাৎ 'লাল' শ্রেনী তাদের অবস্থা কি? যেমন জীবাশ্ম জ্বালীনি ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। পূর্বের বিধিমালা অনুসারে, সকল প্রকার বিদ্যুৎ কেন্দ্র যেখানে জীবাশ্ম জ্বালীনি ব্যাবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হত, তারা লাল শ্রেনীর অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু এখন কয়লা ও তৈল ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র যদি ৫০ মেঘাওয়াট বা তার নিচে হয় সেক্ষত্রে 'কমলা' শ্রেনীভুক্ত হবে। গ্যাস ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে ক্ষেত্রে ১০০ মেঘাওয়াট বা তার নিচে হলেও 'কমলা' শ্রেনীভুক্ত। যা ১৯৯৭ অনুসারে লাল শ্রেনীভুক্ত ছিল। মানে, জীবাশ্ম জ্বালীনি ভিত্তিক কিছু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ব্যবসা সহজ করা হইলো।
এখন 'লাল' হলে কি আর 'কমলা' হলে কি হয়? ' 'লাল' শ্রেণীর ক্ষেত্রে অবস্থান গত ছাড়পত্রের পরে উৎপাদনে যাওয়ার পূর্বে তাকে পরিবেশগত প্রভাব নিরুপন সমীক্ষা প্রতিবেদন (Environmental Impact Assessment/ Environmental & Social Impact Assessment) পেশ করার পরে যদি পরিবেশ অধিদপ্তর সন্তুষ্ট হয় তখন পরিবেশ ছাড়পত্র প্রদান করে। যাদের 'লাল' শ্রেনী থেকে 'কমলা' শ্রেনীতে নামানো হলো তাদের ক্ষেত্রে এই ইএসআইএ করা প্রয়োজন না।
কোন প্রকল্প বর্তমানে এবং ভবিষ্যতে পরিবেশের কি ধরনের ক্ষতিসাধন করতে পারে তার বিষদ বিজ্ঞান ভিত্তিক আলোচনা থাকে ইএসআইএ রিপোর্টে। পরিবেশ বিজ্ঞানের ছাত্র হিসাবে এবং সরাসরি কাজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি যদি সঠিক ভাবে এই ইএসআইএ রিপোর্ট করা হয় এবং সেই মোতাবেক দূষণ বিরোধী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় তাহলে উক্ত প্রকল্প থেকে পরিবেশ দূষণের মাত্রা গ্রহণযোগ্য মাত্রায় নামানো সম্ভব।