18/05/2026
রাহু বুঝতে পারে রাহুকে সবাই অবাক দৃষ্টিতে দেখতে আছে, কিন্তু রাহু কোনো কিছু না ভেবেই মাহিত ভাইয়ের সাথে বরই গাছ থেকে লাশ নামিয়ে ক্ষেতের একটা উঁচু জায়গায় রাখে। মাহিত ভাইয়ের গ্রামটা অনেক নিরিবিলি আর গ্রামের মানুষদের কথা চিন্তা করে কোনো থানা পুলিশ হয় না। গ্রামের মানুষজন খুব তাড়াতাড়ি লাশটা দাফন করে ফেলে। আজকে আকাশের অবস্থা আগের তুলনায় অনেকটা ঘোমট, মনে হয় আকাশে কালো মেঘ জমাট বেঁধে রয়েছে। দিনের বেলায়ও মাঝে মধ্যে ভুতুম পেঁচা ডাকতে আছে। মাহিত ক্ষেতের পাশে ছোট একটা ডোবা থেকে পরিষ্কার পানি দিয়ে হাত-মুখ ধুয়ে ঠান্ডা বাতাসে সেই বরই গাছের কাছের মাঠে বসে, যেখানে মেয়েটা আত্মহত্যা করে। মাহিতের সাথে রাহু বসে রয়েছে, দুজনের মুখে কোনো কথা নেই। সবাই সামনের দিকে তাকিয়ে কিছু একটা ভাবতে আছে। তখন সব কিছুর নীরবতা ভেঙে রাহু মাহিতকে জিজ্ঞাসা করলো। মাহিত ভাই রাহুর কথা শুনে মাহিত ঠান্ডা গলায় বললো, হ্যাঁ রাহু ভাই বলো। তখন রাহু মাহিত ভাইকে জিজ্ঞাসা করলো, আচ্ছা মাহিত ভাই, আপনি কি তান্ত্রিক, কবিরাজ যারা শয়তানের পূজা করে, কালো জাদু করে—তাদের বিষয়ে আপনার ধারণা কী? রাহুর এই সব জিজ্ঞাসা করার কারণ হলো মাহিতকে বলার আগে আগে জেনে নিতে চায়, আসলেই মাহিত ভাই রাহুর আসল পরিচয় পাওয়ার পর কী বলে বা কী করতে পারে। রাহুর কথা শুনে মাহিত বললো, যারা তান্ত্রিক ওরা হলো আমাদের ইসলামের শত্রু, আর যারা ইসলামের শত্রু তারা আল্লাহর প্রতিটি খাস বান্দার শত্রু। তখন মাহিতের কথা শুনে রাহু তার আসল পরিচয় বলতে গিয়েও আটকে যায়। রাহু চায় না মাহিত তাকে শত্রু ভাবুক। তখন মাহিতকে রাহু জিজ্ঞাসা করলো, হঠাৎ এই প্রশ্ন রাহু ভাই, কোনো সমস্যা? তখন রাহু বললো, না মাহিত ভাই, এমনিতেই জিজ্ঞাসা করলাম!
অন্যদিকে ইফ্রিদ জ্বিন রাহু ও মাহিতকে দেখতে পায়, কিন্তু মাহিতের সাথে রাহু থাকার কারণে ইফ্রিদ জ্বিন মাহিতের কাছে আসতেই পারে না। তখন ইফ্রিদ জ্বিন আকাশে বসে বিরক্ত হয় আর বলে, এই রাহুটা এখানে কী করে? তখন ইফ্রিদ জ্বিন তান্ত্রিক কালিবুশের কাছে চলে যায়। তান্ত্রিক কালিবুশ ইফ্রিদ জ্বিনকে একলা আসতে দেখে বললো, কিরে ইফ্রিদ একলা, তোর সাথে মাহিত কোথায়? তান্ত্রিক কালিবুশের কথা শুনে ইফ্রিদ ভয়ার্ত গলায় বললো, মালিক, আমি তো মাহিতকে নিয়ে আসতে পারতাম, কিন্তু আপনার শিষ্য রাহু দেখি মাহিতের সাথে বসে রয়েছে। আর মাহিত তো আমাকে চিনে, আর রাহুর সামনে বসে যদি মাহিতকে নিয়ে আসি তবে তো রাহু গ্রামের মানুষের কাছে আপনার বিষয়ে বলে দেবে যে আপনি মাহিতকে জ্বিনের মাধ্যমে অপহরণ করেছেন। তখন তান্ত্রিক কালিবুশ ইফ্রিদ জ্বিনের কথা শুনে বললো, হ্যাঁ ইফ্রিদ, তুই একদম ঠিক বলেছিস। তোকে যতটুকু বোকা ভাবি, আসলেই তুই ততটাই বুদ্ধিমান!
তখন তান্ত্রিক কালিবুশ ইফ্রিদকে বললো, আচ্ছা তবে ভয়ানক পরী হেনাকে বলি যে আমরা তার বর্ণনা দেওয়া পুরুষ খুঁজে পেয়েছি। তখন তান্ত্রিক কালিবুশের কথা শুনে ইফ্রিদ জ্বিন বললো, মালিক একটা কথা বলবো? তখন তান্ত্রিক কালিবুশ বললো, হ্যাঁ ইফ্রিদ বল। তখন ইফ্রিদ বললো, আপনি এই ঘটনা থেকে হেনা পরী নামটা চেঞ্জ করেন বা এই পরীর জায়গায় অন্য কোনো নাম রাখেন। তখন ইফ্রিদ জ্বিনের কথা শুনে তান্ত্রিক কালিবুশ বললো, তো কী নাম রাখা যায়? তখন ইফ্রিদ জ্বিন তান্ত্রিক কালিবুশকে বললো, রাখেন না যেটা আপনার ভালো মনে হয়। তখন ইফ্রিদ জ্বিনের কথা শুনে তান্ত্রিক কালিবুশ বললো, আচ্ছা আচ্ছা বেশ, তবে আজ থেকে হেনা পরীর নাম হলো ঈশানী। তখন তান্ত্রিক কালিবুশের মুখে ঈশানী নামটা শুনে ইফ্রিদ জ্বিন বললো, বাঃ বেশ মিষ্টি নাম তো, এবার ঠিক আছে!
তখন তান্ত্রিক কালিবুশ যজ্ঞের আগুনের সামনে বসে ঈশানী পরীর দেওয়া আংটিটা আকাশে তুলে ধরে। আর আংটি থেকে তীব্র আলো বের হয়। কিছু মুহূর্তের জন্য পুরো জঙ্গল আলোকিত হয়ে যায়। আর সেই আলো থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের পরী ঈশানী দৃশ্যমান হয়। পরীটা তান্ত্রিক কালিবুশকে বললো, কিরে জানোয়ারের বাচ্চা তান্ত্রিক কালিবুশ, আমাকে হঠাৎ ডাকার কারণ কী? তান্ত্রিক কালিবুশ ঈশানী পরীর কথা শুনে বললো, পরী মা, অপরাধ নিবেন না, আপনাকে এখানে ডাকার একটা উদ্দেশ্য—আমি আপনার স্বপ্নের পুরুষ মানে আপনার বর্ণনা দেওয়া সেই পুরুষকে খুঁজে পেয়েছি। তান্ত্রিক কালিবুশের কথা শুনে ঈশানী পরী সব জায়গায় খুঁজতে লাগলো, কিন্তু কোথাও সেই পুরুষকে দেখতে পায় না। তখন তান্ত্রিক কালিবুশকে ঈশানী বললো, কোথায় সেই পুরুষ, যার জন্য আমি দ্বাপরযুগ থেকে এই কলিযুগ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে আছি? তখন ঈশানী পরীর কথা শুনে তান্ত্রিক কালিবুশ বললো, পরী মা, আপনার সেই পুরুষ আমাদের আওতার মধ্যেই রয়েছে। আপনি চাইলে দেখতে পারেন। তখন তান্ত্রিক কালিবুশকে ঈশানী পরী বললো, আচ্ছা দেখা, আমি দেখতে চাই যার জন্য এত বছর এত যুগ অপেক্ষা। তখন তান্ত্রিক কালিবুশ ইফ্রিদ জ্বিনকে ইশারা করে। আর ইফ্রিদ জ্বিন তান্ত্রিক কালিবুশের ইশারা মতো ওইখানে থাকা পানির ভিতর মাহিতের সব কিছু জাদুর মাধ্যমে দৃশ্যমান করে!
অন্যদিকে মাহিত রাহুকে নিয়ে একটা ক্ষেতের কাছে যায়। তখন মাহিত ক্ষেতের কাছে গিয়ে বলতে লাগলো, ও জয়নাল চাচা, জয়নাল চাচা। তখন ক্ষেতের ভিতর থেকে একজন মধ্যবয়স্ক লোক বের হয়ে আসে আর বলে, বাবা মাহিত, তুমি এখানে? কোনো কিছু হয়েছে নাকি সবজি নিতে আসছো? তখন মধ্যবয়স্ক লোকটার কথা শুনে মাহিত একগাল হেসে বললো, না চাচা, আজকে থেকে তোমার সাথে ও কাজ করবে—এটা বলে মাহিত রাহুকে দেখিয়ে দেয়। তখন মধ্যবয়স্ক লোকটা বললো, আচ্ছা বাবা বেশ, আমারও একজন কাজের ছেলে প্রয়োজন ছিল। তখন মাহিত রাহুকে বললো, তুমি জয়নাল চাচার সাথে, তার সাথে সাথে কাজ করো। আর তুমি যদি কোনো কাজ না বোঝো, চাচাকে জিজ্ঞাসা করবে। চাচা তোমাকে সব কিছু শিখিয়ে দেবে, চাচা অনেক ভালো মানুষ। তখন মাহিত রাহুর কাছ থেকে চলে আসে আর রাহু জয়নাল চাচার সাথে মাঠে কাজ করতে আছে!
দুপুর হয়ে যাওয়ার কারণে আজকে গরমটা বেশ গায়ে লাগতে আছে। মাহিত সব সময় ঘোড়া নিয়ে চলাফেরা করলেও কিছুদিন যাবত সব জায়গায় হেঁটেই যায়। মাহিত রাস্তার পাশে শান্ত একটা জায়গায় বসে। চারদিকে পাখিদের ডাক, অজানা মিষ্টি ফুলের গন্ধে চারদিকটা ভরে ওঠে। মাহিত শান্তির নিঃশ্বাস নিতে লাগলো। আর তখনই ইফ্রিদ জ্বিনের জাদুতে মাহিতের চেহারা ভেসে ওঠে পানির ভিতরে। ঈশানী পরীসহ তান্ত্রিক কালিবুশ ও ইফ্রিদ জ্বিন দেখতে লাগলো মাহিতকে। ঈশানী পরী একদৃষ্টিতে মাহিতের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। আর হালকা বাতাস এসে মাহিতের চুলগুলো নাড়িয়ে কানের উপর ফেলে। মাহিত ভাই বুঝতেও পারে না যে তার উপর কেউ নজর রাখতে আছে। ঈশানী পরী মাহিত ভাইকে দেখে আর বলে, কীভাবে সম্ভব! এই ছেলেকে আজ থেকে ১২০ বছর আগে আমি স্বপ্নে দেখেছি, আর আজকে সে বাস্তবে পৃথিবীতে রয়েছে। আর আমি যে ছেলেকে খুঁজতেছিলাম, সেই পুরুষই হলো এই মাহিত!
অন্যদিকে রুমালি বাড়িতে বসে রয়েছে, তখন রুমালির মা রুমালিকে বললো, এই বড় দুপুরবেলা পেঁচার মতো মুখটা করে বসে আছো কেন? তখন রুমালি মাকে বললো, মা, কিছু ভালো লাগতে আছে না, ক্ষুধা লাগছে। তখন রুমালির কথা শুনে মা বললো, ঘরে ভাত আছে, খেয়ে নে। তখন মায়ের কথা শুনে রুমালি বললো, ভাত খাবো না। তখন মা বললো, কী খাবি? তখন রুমালি বললো, তেঁতুল খাবো। তখন রুমালির কথা শুনে মা বললো, আচ্ছা তো তেঁতুল খা, ঘরে রাখা আছে। তখন রুমালি বললো, ঘরে নেই, খেয়ে ফেলছি, এখন গাছ থেকে পাড়তে হবে। রুমালির কথা শুনে মা বললো, এখন তবে তেঁতুল খেতে হবে না। তোর বাবা আসুক, সে তেঁতুল পেড়ে দেবে, আর বড় দুপুরে মেয়েদের তেঁতুল তলায় যেতে নেই!
#পরীর_সাথে_বাসর
#পর্ব: ০৭
#লেখক_মাহিত_ভাই