Md MaHit Bhai - মোঃ মাহিত ভাই

Md MaHit Bhai - মোঃ মাহিত ভাই Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Md MaHit Bhai - মোঃ মাহিত ভাই, Business service, Dhaka.
(41)

আমরা ঘৃণাকেও ভালোবাসা দিই, ভালোবাসার জন্য খুশি বিসর্জন দিই; ভেবেচিন্তে আমাদের সাথে কোনো প্রতিশ্রুতি করো, কারণ আমরা একটি প্রতিশ্রুতির ওপর পুরো জীবন কাটিয়ে দিই।💙

M B R '❤️‍🩹
Md MaHit Bhai - মোঃ মাহিত ভাই

রাহু বুঝতে পারে রাহুকে সবাই অবাক দৃষ্টিতে দেখতে আছে, কিন্তু রাহু কোনো কিছু না ভেবেই মাহিত ভাইয়ের সাথে বরই গাছ থেকে লাশ ন...
18/05/2026

রাহু বুঝতে পারে রাহুকে সবাই অবাক দৃষ্টিতে দেখতে আছে, কিন্তু রাহু কোনো কিছু না ভেবেই মাহিত ভাইয়ের সাথে বরই গাছ থেকে লাশ নামিয়ে ক্ষেতের একটা উঁচু জায়গায় রাখে। মাহিত ভাইয়ের গ্রামটা অনেক নিরিবিলি আর গ্রামের মানুষদের কথা চিন্তা করে কোনো থানা পুলিশ হয় না। গ্রামের মানুষজন খুব তাড়াতাড়ি লাশটা দাফন করে ফেলে। আজকে আকাশের অবস্থা আগের তুলনায় অনেকটা ঘোমট, মনে হয় আকাশে কালো মেঘ জমাট বেঁধে রয়েছে। দিনের বেলায়ও মাঝে মধ্যে ভুতুম পেঁচা ডাকতে আছে। মাহিত ক্ষেতের পাশে ছোট একটা ডোবা থেকে পরিষ্কার পানি দিয়ে হাত-মুখ ধুয়ে ঠান্ডা বাতাসে সেই বরই গাছের কাছের মাঠে বসে, যেখানে মেয়েটা আত্মহত্যা করে। মাহিতের সাথে রাহু বসে রয়েছে, দুজনের মুখে কোনো কথা নেই। সবাই সামনের দিকে তাকিয়ে কিছু একটা ভাবতে আছে। তখন সব কিছুর নীরবতা ভেঙে রাহু মাহিতকে জিজ্ঞাসা করলো। মাহিত ভাই রাহুর কথা শুনে মাহিত ঠান্ডা গলায় বললো, হ্যাঁ রাহু ভাই বলো। তখন রাহু মাহিত ভাইকে জিজ্ঞাসা করলো, আচ্ছা মাহিত ভাই, আপনি কি তান্ত্রিক, কবিরাজ যারা শয়তানের পূজা করে, কালো জাদু করে—তাদের বিষয়ে আপনার ধারণা কী? রাহুর এই সব জিজ্ঞাসা করার কারণ হলো মাহিতকে বলার আগে আগে জেনে নিতে চায়, আসলেই মাহিত ভাই রাহুর আসল পরিচয় পাওয়ার পর কী বলে বা কী করতে পারে। রাহুর কথা শুনে মাহিত বললো, যারা তান্ত্রিক ওরা হলো আমাদের ইসলামের শত্রু, আর যারা ইসলামের শত্রু তারা আল্লাহর প্রতিটি খাস বান্দার শত্রু। তখন মাহিতের কথা শুনে রাহু তার আসল পরিচয় বলতে গিয়েও আটকে যায়। রাহু চায় না মাহিত তাকে শত্রু ভাবুক। তখন মাহিতকে রাহু জিজ্ঞাসা করলো, হঠাৎ এই প্রশ্ন রাহু ভাই, কোনো সমস্যা? তখন রাহু বললো, না মাহিত ভাই, এমনিতেই জিজ্ঞাসা করলাম!

অন্যদিকে ইফ্রিদ জ্বিন রাহু ও মাহিতকে দেখতে পায়, কিন্তু মাহিতের সাথে রাহু থাকার কারণে ইফ্রিদ জ্বিন মাহিতের কাছে আসতেই পারে না। তখন ইফ্রিদ জ্বিন আকাশে বসে বিরক্ত হয় আর বলে, এই রাহুটা এখানে কী করে? তখন ইফ্রিদ জ্বিন তান্ত্রিক কালিবুশের কাছে চলে যায়। তান্ত্রিক কালিবুশ ইফ্রিদ জ্বিনকে একলা আসতে দেখে বললো, কিরে ইফ্রিদ একলা, তোর সাথে মাহিত কোথায়? তান্ত্রিক কালিবুশের কথা শুনে ইফ্রিদ ভয়ার্ত গলায় বললো, মালিক, আমি তো মাহিতকে নিয়ে আসতে পারতাম, কিন্তু আপনার শিষ্য রাহু দেখি মাহিতের সাথে বসে রয়েছে। আর মাহিত তো আমাকে চিনে, আর রাহুর সামনে বসে যদি মাহিতকে নিয়ে আসি তবে তো রাহু গ্রামের মানুষের কাছে আপনার বিষয়ে বলে দেবে যে আপনি মাহিতকে জ্বিনের মাধ্যমে অপহরণ করেছেন। তখন তান্ত্রিক কালিবুশ ইফ্রিদ জ্বিনের কথা শুনে বললো, হ্যাঁ ইফ্রিদ, তুই একদম ঠিক বলেছিস। তোকে যতটুকু বোকা ভাবি, আসলেই তুই ততটাই বুদ্ধিমান!

তখন তান্ত্রিক কালিবুশ ইফ্রিদকে বললো, আচ্ছা তবে ভয়ানক পরী হেনাকে বলি যে আমরা তার বর্ণনা দেওয়া পুরুষ খুঁজে পেয়েছি। তখন তান্ত্রিক কালিবুশের কথা শুনে ইফ্রিদ জ্বিন বললো, মালিক একটা কথা বলবো? তখন তান্ত্রিক কালিবুশ বললো, হ্যাঁ ইফ্রিদ বল। তখন ইফ্রিদ বললো, আপনি এই ঘটনা থেকে হেনা পরী নামটা চেঞ্জ করেন বা এই পরীর জায়গায় অন্য কোনো নাম রাখেন। তখন ইফ্রিদ জ্বিনের কথা শুনে তান্ত্রিক কালিবুশ বললো, তো কী নাম রাখা যায়? তখন ইফ্রিদ জ্বিন তান্ত্রিক কালিবুশকে বললো, রাখেন না যেটা আপনার ভালো মনে হয়। তখন ইফ্রিদ জ্বিনের কথা শুনে তান্ত্রিক কালিবুশ বললো, আচ্ছা আচ্ছা বেশ, তবে আজ থেকে হেনা পরীর নাম হলো ঈশানী। তখন তান্ত্রিক কালিবুশের মুখে ঈশানী নামটা শুনে ইফ্রিদ জ্বিন বললো, বাঃ বেশ মিষ্টি নাম তো, এবার ঠিক আছে!
তখন তান্ত্রিক কালিবুশ যজ্ঞের আগুনের সামনে বসে ঈশানী পরীর দেওয়া আংটিটা আকাশে তুলে ধরে। আর আংটি থেকে তীব্র আলো বের হয়। কিছু মুহূর্তের জন্য পুরো জঙ্গল আলোকিত হয়ে যায়। আর সেই আলো থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের পরী ঈশানী দৃশ্যমান হয়। পরীটা তান্ত্রিক কালিবুশকে বললো, কিরে জানোয়ারের বাচ্চা তান্ত্রিক কালিবুশ, আমাকে হঠাৎ ডাকার কারণ কী? তান্ত্রিক কালিবুশ ঈশানী পরীর কথা শুনে বললো, পরী মা, অপরাধ নিবেন না, আপনাকে এখানে ডাকার একটা উদ্দেশ্য—আমি আপনার স্বপ্নের পুরুষ মানে আপনার বর্ণনা দেওয়া সেই পুরুষকে খুঁজে পেয়েছি। তান্ত্রিক কালিবুশের কথা শুনে ঈশানী পরী সব জায়গায় খুঁজতে লাগলো, কিন্তু কোথাও সেই পুরুষকে দেখতে পায় না। তখন তান্ত্রিক কালিবুশকে ঈশানী বললো, কোথায় সেই পুরুষ, যার জন্য আমি দ্বাপরযুগ থেকে এই কলিযুগ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে আছি? তখন ঈশানী পরীর কথা শুনে তান্ত্রিক কালিবুশ বললো, পরী মা, আপনার সেই পুরুষ আমাদের আওতার মধ্যেই রয়েছে। আপনি চাইলে দেখতে পারেন। তখন তান্ত্রিক কালিবুশকে ঈশানী পরী বললো, আচ্ছা দেখা, আমি দেখতে চাই যার জন্য এত বছর এত যুগ অপেক্ষা। তখন তান্ত্রিক কালিবুশ ইফ্রিদ জ্বিনকে ইশারা করে। আর ইফ্রিদ জ্বিন তান্ত্রিক কালিবুশের ইশারা মতো ওইখানে থাকা পানির ভিতর মাহিতের সব কিছু জাদুর মাধ্যমে দৃশ্যমান করে!

অন্যদিকে মাহিত রাহুকে নিয়ে একটা ক্ষেতের কাছে যায়। তখন মাহিত ক্ষেতের কাছে গিয়ে বলতে লাগলো, ও জয়নাল চাচা, জয়নাল চাচা। তখন ক্ষেতের ভিতর থেকে একজন মধ্যবয়স্ক লোক বের হয়ে আসে আর বলে, বাবা মাহিত, তুমি এখানে? কোনো কিছু হয়েছে নাকি সবজি নিতে আসছো? তখন মধ্যবয়স্ক লোকটার কথা শুনে মাহিত একগাল হেসে বললো, না চাচা, আজকে থেকে তোমার সাথে ও কাজ করবে—এটা বলে মাহিত রাহুকে দেখিয়ে দেয়। তখন মধ্যবয়স্ক লোকটা বললো, আচ্ছা বাবা বেশ, আমারও একজন কাজের ছেলে প্রয়োজন ছিল। তখন মাহিত রাহুকে বললো, তুমি জয়নাল চাচার সাথে, তার সাথে সাথে কাজ করো। আর তুমি যদি কোনো কাজ না বোঝো, চাচাকে জিজ্ঞাসা করবে। চাচা তোমাকে সব কিছু শিখিয়ে দেবে, চাচা অনেক ভালো মানুষ। তখন মাহিত রাহুর কাছ থেকে চলে আসে আর রাহু জয়নাল চাচার সাথে মাঠে কাজ করতে আছে!

দুপুর হয়ে যাওয়ার কারণে আজকে গরমটা বেশ গায়ে লাগতে আছে। মাহিত সব সময় ঘোড়া নিয়ে চলাফেরা করলেও কিছুদিন যাবত সব জায়গায় হেঁটেই যায়। মাহিত রাস্তার পাশে শান্ত একটা জায়গায় বসে। চারদিকে পাখিদের ডাক, অজানা মিষ্টি ফুলের গন্ধে চারদিকটা ভরে ওঠে। মাহিত শান্তির নিঃশ্বাস নিতে লাগলো। আর তখনই ইফ্রিদ জ্বিনের জাদুতে মাহিতের চেহারা ভেসে ওঠে পানির ভিতরে। ঈশানী পরীসহ তান্ত্রিক কালিবুশ ও ইফ্রিদ জ্বিন দেখতে লাগলো মাহিতকে। ঈশানী পরী একদৃষ্টিতে মাহিতের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। আর হালকা বাতাস এসে মাহিতের চুলগুলো নাড়িয়ে কানের উপর ফেলে। মাহিত ভাই বুঝতেও পারে না যে তার উপর কেউ নজর রাখতে আছে। ঈশানী পরী মাহিত ভাইকে দেখে আর বলে, কীভাবে সম্ভব! এই ছেলেকে আজ থেকে ১২০ বছর আগে আমি স্বপ্নে দেখেছি, আর আজকে সে বাস্তবে পৃথিবীতে রয়েছে। আর আমি যে ছেলেকে খুঁজতেছিলাম, সেই পুরুষই হলো এই মাহিত!

অন্যদিকে রুমালি বাড়িতে বসে রয়েছে, তখন রুমালির মা রুমালিকে বললো, এই বড় দুপুরবেলা পেঁচার মতো মুখটা করে বসে আছো কেন? তখন রুমালি মাকে বললো, মা, কিছু ভালো লাগতে আছে না, ক্ষুধা লাগছে। তখন রুমালির কথা শুনে মা বললো, ঘরে ভাত আছে, খেয়ে নে। তখন মায়ের কথা শুনে রুমালি বললো, ভাত খাবো না। তখন মা বললো, কী খাবি? তখন রুমালি বললো, তেঁতুল খাবো। তখন রুমালির কথা শুনে মা বললো, আচ্ছা তো তেঁতুল খা, ঘরে রাখা আছে। তখন রুমালি বললো, ঘরে নেই, খেয়ে ফেলছি, এখন গাছ থেকে পাড়তে হবে। রুমালির কথা শুনে মা বললো, এখন তবে তেঁতুল খেতে হবে না। তোর বাবা আসুক, সে তেঁতুল পেড়ে দেবে, আর বড় দুপুরে মেয়েদের তেঁতুল তলায় যেতে নেই!

#পরীর_সাথে_বাসর
#পর্ব: ০৭
#লেখক_মাহিত_ভাই

শয়তানের কথা শুনে ক্বারীন জ্বিন হেসে বললো, "বাঃ! শয়তানেরও আবার শান্তি!"ক্বারীন জ্বিনের কথা শুনে শয়তান কিছু বলে না। শয়তা...
17/05/2026

শয়তানের কথা শুনে ক্বারীন জ্বিন হেসে বললো, "বাঃ! শয়তানেরও আবার শান্তি!"

ক্বারীন জ্বিনের কথা শুনে শয়তান কিছু বলে না। শয়তান কবরস্থান থেকে চলে যায় আর ভাবে, 'জানোয়ারের বাচ্চা রাহু আমার শক্তিতে শক্তিশালী হয়ে আমাকে পূজা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।' তখন শয়তানকে চিন্তিত অবস্থায় দেখে শয়তানের মেয়ে শিপ্রা এসে বললো, "পিতা জান, আপনাকে খুব চিন্তিত দেখাচ্ছে। আপনি নাহুদ ফেদুলার বংশধর; আমার ১১০ বছর বয়সে জন্মের পর আজকে আপনাকে প্রথম চিন্তিত অবস্থায় দেখছি। কী হয়েছে পিতা জান?"

শয়তান তার মেয়ের কথা শুনে এক গ্লাস তাজা রক্ত খেতে খেতে বললো, "বলিস না আমার কন্যা, এই মানবজাতি আসলেই অনেক বেইমান।" তখন শয়তানের কথা শুনে শয়তানের মেয়ে বললো, "পিতা, আপনি এত তাড়াতাড়ি এটা বুঝতে পারছেন তার জন্য ধন্যবাদ। কিন্তু এই মানবজাতি আপনার সাথে কী এমন বেইমানি করলো?" শয়তানের মেয়ের কথা শুনে শয়তান মানুষের তাজা মাথার মগজ খেতে খেতে বললো, "আর বলিস না কন্যা! যখন কোনো তান্ত্রিক কোনো খারাপ শক্তি বা অন্ধকার জগতের বাদশাহ হতে চায়, তখন বিভিন্ন ভোগ আর ওয়াদা করে আমাদের বিশ্বাস অর্জন করে। আর আমাদের বিশ্বাস অর্জন করে শক্তিশালী হয়ে আমাদের ভুলে যায়।" তারপরে শয়তান রাহুর সমস্ত কথা শয়তানের মেয়ে শিপ্রাকে খুলে বলে। সবকিছু শুনে শয়তানের মেয়ে শিপ্রা তার ঘর থেকে মানুষের হাড়ের তৈরি একটা তলোয়ার নিয়ে বের হয়ে যায়। তখন শয়তান নাহুদ ফেদুলা তার মেয়ে শিপ্রাকে আটকিয়ে বললো, "কন্যা, এখন মাথা গরম করার সময় নয়। আর তুই চাইলেও রাহুকে এখন কিছু করতে পারবি না। কারণ রাহু বিবিচিনি গ্রামের পবিত্র স্থানে রয়েছে; আর সেখানে আমার আর তোর মতো শয়তান প্রবেশ নিষিদ্ধ!"

অন্যদিকে মাহিত গ্রামের সমস্ত কৃষকদের এক জায়গায় জড়ো করে বললো, "আপনারা তো জানেন, আমার বাবা আপনাদের বিপদে-আপদে সবসময় তার সবটা দিয়ে আপনাদের পাশে রয়েছেন। আর এই গ্রামের বাইরেও আমার বাবার অনেক অনুদান রয়েছে। আর আপনারা আমার বাবাকে যে ভালোবাসাটা দিয়েছেন, সেটা এই যুগে পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। আমার বাবা সর্বদা আপনাদের বিপদে পাশে ছিল আর আজকেও পাশে আছে।" তখন মাহিত প্রতিটি কৃষকের হাতে নগদ ৫০০০ টাকা করে দিতে লাগলো। গরিব সর্বহারা কৃষকরা হাতে টাকা পেয়ে আল্লাহর কাছে শুকরিয়ার হাত বাড়িয়ে দিলো। তখন মাহিত দেখতে পায় অনেক দূর থেকে রুমালি মাহিতের দিকে তাকিয়ে হাসছে। আজকে রুমালিকে অনেক আগের চেয়ে সুন্দর লাগছে। মাহিত রুমালির দিকে তাকিয়ে একটা মুচকি হাসি দিয়ে সবার সাথে কথা বলতে লাগলো।

অন্যদিকে রাহু মসজিদ থেকে বের হয়ে গ্রামের দিকে চলতে লাগলো। তখন রাহু দেখতে পায় একটা কালো গরু রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছে। আর গরুটার পাশে রয়েছে অনেকগুলো বড় বড় কুকুর; কুকুরগুলো স্বাভাবিক কুকুরের চেয়ে অনেক বড় হবে। রাহু তান্ত্রিক হওয়ার কারণে বুঝতে পারে শয়তান অনেক দূর থেকে রাহুকে মায়াজালে জড়ানোর চেষ্টা করছে। রাহু ভাবছে, আগে মাহিত ভাইয়ের সাথে কথা বলে ১০ পরীকে মুক্তি করে দিবো, নইলে কখনো আমি এত পাপ নিয়ে আল্লাহর ইবাদত করতে পারবো না। রাহু রাস্তা দিয়ে চলতে লাগলো আর তখন রাহু শুনতে পায় সেই অদৃশ্য স্বর। আর এই অদৃশ্য স্বর রাহুকে উদ্দেশ্য করে বলতে লাগলো, "রাহু, কীভাবে বাঁচবি? মরতে তো তোকেই হবে!"

তখন রাহু দাঁড়িয়ে যায় আর বলে, "যে বুকে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস আর ভরসা আছে, সেই বুকে মৃত্যুর কোনো ভয় নেই। হ্যাঁ, মৃত্যু তো হবেই—সেটা আমার আল্লাহ যখন চাইবে। আমার আল্লাহ যদি চায় তোদের হাতে আমার মৃত্যু হবে, তবে সেদিন আমার মুখে মৃত্যুর ভয় দেখবি না; দেখবি এক আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা!"

অন্যদিকে তান্ত্রিক কালিবুশ ইফ্রিদ জ্বিনকে বললো, "যা ইফ্রিদ, এখন মাহিতকে তুলে নিয়ে আয়। আর আমি ভয়ানক পরী হেনাকে আহ্বান করার জন্য যজ্ঞের ব্যবস্থা করছি।" তান্ত্রিক কালিবুশের কথা শুনে ইফ্রিদ জ্বিন বললো, "জি মালিক আমার।" এটা বলে ইফ্রিদ যেতে লাগলো বিবিচিনি গ্রামের দিকে। অন্যদিকে মাহিত গরিব কৃষকদের টাকা দিয়ে বাড়িতে যেতে লাগলো। তখন রুমালি মাহিতকে রাস্তায় আটকিয়ে দাঁড়িয়ে যায়। তখন রুমালিকে দেখে মাহিত বললো, "উফ রুমালি!

তুমিও না!" তখন রুমালি মাহিতকে বললো, "তুমি যে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাও, সেই রাস্তার ধূলিবালিও আমি ভালোবাসি, সম্মান করি।" রুমালির কথা শুনে মাহিত বললো, "রুমালি ভালোবাসি।" তখন রুমালি মাহিতের মুখে 'ভালোবাসি' কথাটা শুনে বললো, "আমিও অনেক অনেক বেশি ভালোবাসি।" তখন মাহিত বললো, "হুম।" তখন রুমালি মাহিতকে বললো, "হুম কী?" তখন মাহিত বললো, "হুম, জানি তো তুমি ভালোবাসো!"

তখন মাহিত রুমালির দিকে তাকিয়ে রয়েছে। রুমালি আজকে মাহিতের পছন্দের নীল শাড়ি পরেছে; হাতে নীল চুড়ি, কপালে কালো টিপ, মুখে সেই চিরচেনা হাসি। রুমালির দিকে তাকিয়ে মাহিতের কেমন জানি একটা অসম্পূর্ণ লাগতে লাগলো। তখন মাহিত দেখতে পায় রাস্তার পাশে একটা জবা গাছ। মাহিত হাত বাড়িয়ে একটা জবা ফুল ছিঁড়ে রুমালির কানে দিয়ে বললো, "ভালোবাসি। কিছু তো একটা আছে তোমার ভিতরে, নইলে তুমি আমার স্বপ্নে আসতে না।" তখন একটা ছেলে দৌড়ে এসে বললো, "মাহিত ভাই, আপনি এখানে?" তখন মাহিত ছেলেটাকে হাঁপিয়ে যেতে দেখে বললো, "কী হয়েছে?" তখন ছেলেটা বললো, "ভাই আপনার ধানের যে জমিটা..." তখন মাহিত বললো, "হ্যাঁ, কী হয়েছে?" তখন ছেলেটা বললো, "সেই জমির পাশে যে বরই গাছটা রয়েছে, সেখানে একটা মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। আপনার বাবা আপনাকে সেখানে যেতে বললো।" তখন রুমালি মাহিতকে বললো, "আমিও যাবো আপনার সাথে।" তখন মাহিত রুমালিকে বললো, "একদম না!" তখন ছেলেটাকে মাহিত বললো, "তোর ভাবীকে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে আয়।" ছেলেটা বললো, "আচ্ছা ভাই।" তখন ছেলেটা রুমালিকে বললো, "ভাবী চলুন।" রুমালির ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও বাড়ি যেতে লাগলো।
অন্যদিকে রাহু রাস্তা দিয়ে হাঁটতে লাগলো। তখন রাহু দেখতে পায় গ্রামের সব মানুষ কোথায় যেন যাচ্ছে। রাহু ভয় পেয়ে দাঁড়িয়ে যায় আর বলে, "শয়তান কি আবার কোনো ক্ষতি করছে নাকি গ্রামের মানুষদের? আমি যদি এই গ্রামে না আসতাম, তবে এই গ্রামের এত বড় ক্ষতি হতো না।" রাহুর পালিত বন্ধু জ্বিন জোভান রাহুকে অদৃশ্যভাবে বলে, "বন্ধু, আপনি আপনার এত শক্তি থাকতেও এই গ্রামে সাধারণ সাদামাটা জীবন কাটাচ্ছেন। আপনি চাইলে শয়তান নাহুদ ফেদুলার সাথে আমরা যুদ্ধ করবো। আর আপনি তো জানেন বন্ধু আমাদের শক্তির উৎস।" রাহু তার বন্ধু জ্বিন জোভানকে বললো, "বন্ধু, যুদ্ধ করে রাজ্য জয় করা যায়, মানুষের ভালোবাসা না। আর এখন যদি শয়তানের বিরুদ্ধে আমরা যুদ্ধ ঘোষণা করি, তবে একবার ভেবে দেখুন আমাদের মানুষজাতির কতটা ক্ষতি হবে!"

অন্যদিকে মাহিত যেখানে মেয়েটা আত্মহত্যা করেছে সেখানে যায়। আর গিয়ে দেখে তার চেয়ে বয়সে বড় একটা মেয়ের লাশ বরই গাছে ঝুলছে। মাহিত গিয়ে সবাইকে বললো, "লাশটা নামানোর ব্যবস্থা করো।" কিন্তু গ্রামের মানুষ কেউ সাহস করে লাশের কাছে যেতে পারে না; কারণ লাশটার জিভ বের হয়ে রয়েছে—এটা দেখে মানুষ ভয় পাচ্ছে। মাহিত কোনো উপায় না পেয়ে নিজেই লাশটা নামানোর চেষ্টা করে। আর গাছটা অনেক বড় হওয়ার জন্য মাহিতের কষ্ট হয়। তখন কেউ একজন মাহিতকে বললো, "মাহিত ভাই, আপনি লাশের হাত ধরেন, আমি নিচে আছি।" মাহিত তাকিয়ে দেখে রাহু এই কথাটা বললো। রাহুকে দেখে মাহিত অনেক খুশি হয়। আর গ্রামের সবাই রাহুর দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছে।

#পরীর_সাথে_বাসর
#পর্ব: ০৬
#লেখক_মাহিত_ভাই

ঐন্দ্রিলা তাকিয়ে দেখে, যাকে এইমাত্র হত্যা করে এসেছে, সেই রিশান তার সামনে বসা! আর এই রিশানের সাথেই তার বাবা বিয়ে ঠিক করেছ...
16/05/2026

ঐন্দ্রিলা তাকিয়ে দেখে, যাকে এইমাত্র হত্যা করে এসেছে, সেই রিশান তার সামনে বসা! আর এই রিশানের সাথেই তার বাবা বিয়ে ঠিক করেছে!
ঐন্দ্রিলার শিরদাঁড়া বেয়ে নেমে যাওয়া শীতল স্রোতটা যেন তার পুরো শরীরকে অবশ করে দিল। ঘরের সিলিং ফ্যানটা স্বাভাবিক নিয়মেই ঘুরছে। পাত্রের পাশে বসা তার মধ্যবয়সী বাবা খুব অমায়িক হেসে ঐন্দ্রিলার বাবার সাথে কথা বলছেন, "আপনার মেয়ে তো মাটির পুতুল মশাই! একদম শান্ত-শিষ্ট।"

ঐন্দ্রিলা পলকহীন চোখে তাকিয়ে রইল পাত্রের দিকে। পরনে হালকা নীল রঙের পাঞ্জাবি—ঠিক ঐন্দ্রিলার শাড়ির সাথে মিলিয়ে। মুখটা হুবহু রিশানের মতো। সেই তীক্ষ্ণ চোখ, এমনকি বাঁ গালে থাকা সেই চেনা কাটা দাগটা স্পষ্ট। কিন্তু রিশানের ঠোঁটের কোণে এখন যে হাসিটা লেগে আছে, তা ঐন্দ্রিলার চেনা রিশানের নয়। ওটা এক তীব্র রহস্যের হাসি।

ঐন্দ্রিলা আড়চোখে শ্রীজার দিকে তাকাল। শ্রীজা তখন ঘরের এক কোণায় দাঁড়িয়ে অবাক হয়ে রয়েছে এবং ভাবছে রিশান কীভাবে এখানে। শ্রীজার ফ্যাকাশে মুখ আর কোটরগত চোখ বলে দিচ্ছে, সে-ও নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছে না। জঙ্গলে যে রিশানের মাথাটা ছিন্নভিন্ন হয়ে মাটিতে পড়ে রইল, সে এখানে জীবন্ত মানুষের মতো শ্বাস নিচ্ছে কীভাবে?

তখন ঐন্দ্রিলার মা ফিসফিস করে বললেন, "কী রে ঐন্দ্রিলা? মাথা নিচু করে রাখ, এভাবে তাকিয়ে থাকলে ছেলেপক্ষ কী ভাববে?"
মায়ের কথা শুনে তখন ঐন্দ্রিলা কোনোমতে নিজের গলাটা পরিষ্কার করে, শুকনো জিব দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে কাঁপা গলায় বলল, "পাত্র কে? আপনার... আপনার নাম?"

ঐন্দ্রিলার কথা শুনে পাত্রটি একটু ঝুঁকে বসে। ঐন্দ্রিলার চোখে চোখ রেখে খুব শান্ত গলায় বলল, "আমার নাম মাহিত। মাহিত চৌধুরী।"
নামটা শুনেই ঐন্দ্রিলা একটা দীর্ঘশ্বাস নিল আর ভাবল, যাকে এতক্ষণ রিশান ভেবে আসলাম, সে আসলে রিশান না। তখন মাহিত ঐন্দ্রিলাকে বলল, "আপনি কিছু ভাবতেছেন?"

তখন মাহিতের কথা শুনে ঐন্দ্রিলা মনে মনে বলল, যাকে এইমাত্র হত্যা করে আসলাম, আর তার মতো হুবহু কেউ যদি সামনে বসে থাকে তবে মাথা ঠিক রাখাটা কতটা কঠিন, তা শুধু আমিই জানি! রিশানের মতো হুবহু দেখতে এই ছেলেটি নিজেকে 'মাহিত চৌধুরী' বলে পরিচয় দিচ্ছে কেন? এটা কি কোনো কাকতালীয় ব্যাপার, নাকি রিশান অন্য কোনো পরিচয়ে তার জীবনে এসেছে, যাকে রিশান হিসেবে এইমাত্র হত্যা করলাম, সে আমার সামনে বসা আবার নিজেকে মাহিত চৌধুরী হিসেবে পরিচয় দেয়। ঐন্দ্রিলা তাকিয়ে দেখে তার বাবার সাথে মাহিত চৌধুরীর বাবার খুব ভাব জমে গেছে এবং এখন তাদের মতামতের জন্য অপেক্ষা, ঐন্দ্রিলাকে যদি মাহিত পছন্দ করে তবে খুব তাড়াতাড়ি সম্ভব বিয়েটা হবে!

অন্যদিকে রিশানের লাশ থেকে রক্তের ফোঁটা মাটিতে পড়তে লাগল। রিশানের ছেঁড়া মাথাটা একদম রক্তশূন্য ফ্যাকাশে হয়ে যায়। আর তখন একটা দমকা বাতাসে রিশানের লাশটা ঝুলতে থাকে। আর একটা স্যাঁতস্যাঁতে হালকা গন্ধ বাতাসে ভেসে যেতে লাগল। আর তখনই রিশানের ছেড়া মাথার চোখ দুটো লাল হয়ে জ্বলে ওঠে। আর গ্যাচ গ্যাচ শব্দ করে রিশানের লাশটা মাটিতে দড়ি ছিঁড়ে পড়ে যায়। আর তখন লাশটা উঠে দাঁড়ায়, মনে হয় এই মাথাবিহীন রিশানের লাশে জীবন ফিরে পেয়েছে!

অন্যদিকে ঐন্দ্রিলাকে তার মা জিজ্ঞাসা করল, "কিরে ঐন্দ্রিলা, তোর কি পাত্র পছন্দ হয়েছে?"

ঐন্দ্রিলা তার মাকে বলল, "মা, বিয়েটা যখন তোমাদের ইচ্ছায়, তখন আমি রাজি।" আর ঐন্দ্রিলার রাজি হয়ে যাওয়ার পিছনে রয়েছে মাহিতকে দেখতে হুবহু তার প্রেমিক রিশানের মতো। যে রিশানকে ঐন্দ্রিলা তার জীবনের চেয়ে বেশি ভালোবেসেছে, সেই রিশানকে সামান্য অবহেলা আর প্রতারণার জন্য নিজ হাতে খুন করেছে। আর সেই মৃত রিশানের মতো হুবহু তার সামনে মাহিত চৌধুরী, তবে তার বিয়ে করার কোনো সমস্যা নেই। ঐন্দ্রিলা মাহিতকে বিয়ে করে তার মনের মতো রাখবে, যেন মাহিত সর্বদা তার কথা শোনে। আর মাহিতের ভিতরে ঐন্দ্রিলা তার মৃত রিশানকে যেন খুঁজে নেবে!
তখন মাহিত চৌধুরীর বাবা মাহিতের হাতে একটা রিং দেয়। আর মাহিত সবার সামনে ঐন্দ্রিলাকে রিং পরিয়ে দেয়। যে হাতে কিছুক্ষণ আগে লেগে ছিল রিশানের রক্তের ছাপ, ঐন্দ্রিলা মাহিতের দেওয়া রিংটার দিকে তাকিয়ে থাকে। আর তখনও ঐন্দ্রিলার হাতের আঙুলে রক্তের কিছু অংশ লেগে থাকে। শ্রীজা সব কিছু দেখতেছে আর ভাবতেছে, এই মাহিতের সাথে রিশানের কোনো না কোনো সম্পর্ক রয়েছে। আর মাহিতের বাবা তো বলল তাদের একমাত্র সন্তান মাহিত, তবে কীভাবে সম্ভব রিশানের মতো হুবহু এই মাহিত চৌধুরী?

আর তখন আকাশে প্রচণ্ড একটা বজ্রপাত হয়। আর কিছুক্ষণ আগের স্বাভাবিক আকাশটা মুহূর্তের মধ্যেই কালো আঁধার মেঘে ঢেকে যায়। আর একটা গরম গুমোট আবহাওয়া তৈরি হয়। আর তখন ঝিরঝির করে বৃষ্টি শুরু হয়। ঘরের ভিতরে থাকা সবাই বুঝতে পারে না, সব কিছু ঠিক ছিল হঠাৎ এমন হলো কেন। তখন সবাই অনুভব করে একটা মাংস পচার গন্ধ এবং কিছু মুহূর্তের মধ্যেই সব কিছু স্বাভাবিক হয়ে যায়। হঠাৎ কী হয়েছে কেউ কিছু বুঝতে পারে না। আর তখন ঐন্দ্রিলা দেখতে পায় বাইরে জানালার কাছে দাঁড়িয়ে রয়েছে মাথাবিহীন একটা দেহ। এটা দেখে ঐন্দ্রিলা জোরে চিৎকার দেয় আর তার সামনে থাকা মাহিতকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে!

আর তখন রিশানের মাথাবিহীন লাশটা হাঁটতে হাঁটতে একটা পুকুরপাড়ে পৌঁছায় আর সেখানে একটা গর্ত তৈরি করে। গর্তটা এমন মনে হয়, সে নিজেকে দাফন দেওয়ার জন্য কবর খুঁড়তেছে।
আর আকাশের চাঁদের আলোতে সব কিছু দিনের মতো পরিষ্কার হলো, যেখানে ঝোপঝাড় সেখানে অন্ধকার জমাট বাঁধা। আর আকাশের চাঁদটা রিশানের মাথার উপর। আর তখন মাথাবিহীন লাশটা তার ছিঁড়ে থাকা মাথাটা গর্তের কাছে রেখে কিছু মুহূর্ত চুপ হয়ে দাঁড়িয়ে যায়। তারপরে মাথাটা গর্তে রেখে মাটিচাপা দেয়!

অন্যদিকে ঐন্দ্রিলাকে মাহিত ছাড়িয়ে বলল, "কী হয়েছে?" ঐন্দ্রিলা কিছুই বলতে পারে না তার হবু বরকে যে, তার মৃত প্রেমিক ফিরে এসেছে।
অন্যদিকে রিশানের মাথাবিহীন দেহটা তার প্যান্টের পকেট থেকে একটা ছবি বের করে। আর সেই ছবিটা, যেটা তাদের ভালোবাসার প্রথম সুন্দর মুহূর্তের, যেখানে তাদের প্রথম দেখা হয়। তারা খুব কাছে ছিল, ঐন্দ্রিলা তার কাঁধে মাথা রেখে বসে আছে। আর প্রতিজ্ঞা করেছিল, মৃত্যুর আগের মুহূর্ত পর্যন্ত সঙ্গ দেবে। আর রিশান ঐন্দ্রিলাকে বলছিল, "মানুষের গড় আয়ু ৬০ বছর, ২০ বছর পার হয়ে গেছে। আর বাকি বছর তোমার সাথে কাটানো আমার স্বপ্ন। এই ছোট জীবনে তোমাকে ছাড়া প্রতিটি নিঃশ্বাস আমার কাছে বিষের মতো। আমি চাই আমার জীবনে তুমি থাকবে।" আর ঐন্দ্রিলা রিশানকে ছুঁয়ে বলল, "হ্যাঁ, থাকব তোমার সাথে!"

আর সেই ঐন্দ্রিলাই আমাকে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে নিজ হাতে হত্যা করল, যে আমাকে নিয়ে বাঁচার স্বপ্ন দেখত। আমি তো ফিরে এসেছে শুধু সত্যিটা জানানোর জন্য, আমি তো কোনো প্রতারণা করেনি।

#ঐন্দ্রিলা
#পর্ব: ০২
#লেখক_মাহিত_ভাই

ইফ্রিদ মনে মনে খুশি হয় আর ভাবে, এই কলিযুগে এমন ছেলে পাবো এটা ছাইয়ের মধ্যেও সোনা পাওয়ার মতো। ইফ্রিদ তখন বিশখালী গ্রামের ভ...
16/05/2026

ইফ্রিদ মনে মনে খুশি হয় আর ভাবে, এই কলিযুগে এমন ছেলে পাবো এটা ছাইয়ের মধ্যেও সোনা পাওয়ার মতো। ইফ্রিদ তখন বিশখালী গ্রামের ভিতরে প্রবেশ করবে মাহিতকে তুলে নিয়ে আসার জন্য, তখনই আসরের আযানের শব্দ ভেসে আসে। ইফ্রিদ জ্বিন আযানের শব্দ শুনে তখনই পালিয়ে যায় আর মনে মনে বলে, এই খুশির খবর আমার মালিক তান্ত্রিক কালিবুশকে দিলে অনেক খুশি হবে!

অন্যদিকে মাহিত রাহু কে বললো, "রাহু ভাই, আচ্ছা তুমি থাকো, আমি বাড়িতে যাই। কালকে তোমাকে কাজে নিয়ে যাবো। আর কোনো কারণ ছাড়া নদীর কাছে যাবে না।" রাহু মাহিতের কথা শুনে বললো, "জি মাহিত ভাই।" মাহিত রাহুর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ঘোড়া ছুটিয়ে চলতে লাগলো। তখন মাহিত দেখে, রুমালি রাস্তায় বসে পেয়ারা খায়, চুলগুলো দু'সাইটে বেঁধে রাখছে ফিতা দিয়ে। কপালে ছোট একটা লাল টিপ, মুখে লাল লিপস্টিক, পরনে খৈরী শাড়ি, পায়ে নূপুর। মাহিতকে দেখে রুমালি বসা থেকে উঠে পেয়ারা হাতে নিয়ে দৌড় দিলো। মাহিত ঘোড়ার পিঠে বসে দেখে আর হাসতে লাগলো, আর মনে মনে বলতে লাগলো, খাটাস মেয়ে, আজকে পাইছি মায়ের কাছে মিথ্যা বলা! মাহিত ঘোড়ার পিঠে বসেই রুমালিকে উদ্দেশ্য করে বললো, "এই খাটাস, দাঁড়া!" রুমালি দৌড়াতে আছে আর বলতে আছে, "দাঁড়াবো না।" তখন মাহিত বললো, "তবে..." এটা বলে মাহিত ঘোড়ার নাখালে টান দেয়, সাথে সাথে ঘোড়া জোরে ছুটতে লাগলো। আর তখন মাহিত এক হাত দিয়ে রুমালির কোমর ধরে টান দিয়ে ঘোড়ার পিঠে তুলে ফেলে!

ঘোড়া জোরে ছুটতে লাগলো, রুমালি ভয় পেয়ে মাহিতকে শক্ত করে চেপে ধরে। মাহিত তখন ঘোড়াটা নিয়ে একটা বিলের পাশে দাঁড়িয়ে যায়। মাহিত রুমালিকে বললো, "এই খাটাস, তোর সাহস হয় কীভাবে মায়ের কাছে গিয়ে বানিয়ে বানিয়ে আমার নামে মিথ্যা কথা বলা?" মাহিতের কথা শুনে রুমালি বললো, "আপনার একলার মা না, আমারও মা, ঠিক আছে?" রুমালির কথা শুনে মাহিত বললো, "তোর মা! মানে আমার মা তোর?" রুমালি পেয়ারায় কামড় দিয়ে বললো, "হ্যাঁ, আপনার কোনো সমস্যা? আমার স্বামীজানের মা তো আমারও মা।" রুমালির কথা শুনে মাহিত বললো, "এই খাটাস, আর একবার যদি স্বামীজান বলিস, তবে না তোকে..." তখন রুমালি বললো, "হ্যাঁ, তবে না আমাকে বিয়ে করবেন, এটাই তো বলতে চান।" এটা বলে রুমালি হাসতে লাগলো!

মাহিত বললো, "তোর খবর আছে, দাঁড়া!" তখন রুমালি দৌড়ে পালিয়ে যেতে লাগলো। তখন রুমালির পরন থেকে কাপড়ের কুঁচি খুলে যায় আর তখন রুমালি লজ্জায় দাঁড়িয়ে যায়। তখন মাহিত রুমালির কাছে গিয়ে এক হাত দিয়ে চোখ বন্ধ করে নেয় আর রুমালির শাড়ির আঁচলের কুঁচি ঠিক করে দেয়। মাহিতের শক্ত হাতের স্পর্শে রুমালি চোখ বুজে নেয়। তখন মাহিত রুমালিকে বললো, "কুঁচি ঠিক করা শেষ, এখন কি চোখ খুলবো?" তখন রুমালি চোখ খুলে লজ্জায় বললো, "হ্যাঁ, খুলেন।" তখন মাহিত রুমালিকে বললো, "পিচ্চি মেয়ে, বাচ্চা মেয়ে শাড়ি পড়তে পারে না, আবার শাড়ি পরে বের হয়েছে!" তখন মাহিতের কথা শুনে রুমালি বললো, "বেশি হচ্ছে কিন্তু, একদম বাচ্চা বলবেন না আমাকে, খারাপ হবে কিন্তু।" রুমালির কথা শুনে মাহিত বললো, "বাচ্চাকে বাচ্চা বললে কী হবে?" তখন রুমালি বললো, "আপনি বাচ্চা!" তখন রুমালির কথা শুনে মাহিত বললো, "আমি তোমার ২ বছরের সিনিয়র, তোমার বয়স ২১ বছর, আমার বয়স ২৩, এখন বলো কে বাচ্চা?" তখন রুমালি বললো, "হইছে, আপনি বাচ্চা।" তখন মাহিত বললো, "তুমি বাচ্চা।" তখন রুমালি বললো, "আমি আপনার বাচ্চার আম্মু হতে চাই।" তখন মাহিত বললো, "একে এই বাচ্চা বউকে নিয়ে পারি না, তার পরে আবার বাচ্চা! উফ্ বাবা, বাঁচাও!" এটা বলে মাহিত ঘোড়ার পিঠে চড়ে ছুটে পালালো। রুমালি মাহিতের চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে খিলখিল করে হাসতে লাগলো!

অন্যদিকে ইফ্রিদ জ্বিন তান্ত্রিক কালিবুশের কাছে গিয়ে বললো, "মালিক, আপনার জন্য ভালো একটা সংবাদ আছে।" ইফ্রিদ জ্বিনের কথা শুনে তান্ত্রিক কালিবুশ বললো, "বেশি কথা না বলে বল, কী খুশির সংবাদ?" তখন তান্ত্রিক কালিবুশকে ইফ্রিদ জ্বিন বললো, "আপনার বর্ণনা দেওয়ার মতো একদম সেইম একজন ছেলে পেয়েছি। ওর নাম মাহিত, ও বিবিচিনি গ্রামে থাকে।" ইফ্রিদ জ্বিনের মুখে এই সব কথা শুনে তান্ত্রিক কালিবুশ হাসতে লাগলো আর বললো, "তবে আর কেউ আমাকে কালীদেবীর সাথে দেখা করানো থেকে আটকাতে পারবে না।" তখন তান্ত্রিক কালিবুশ ইফ্রিদ জ্বিনকে বললো, "তুই তবে মাহিতকে কেন ধরে নিয়ে আসিসনি?" তখন তান্ত্রিক কালিবুশের কথা শুনে ইফ্রিদ জ্বিন বললো, "মালিক, ধরে তো আনতে গেছিলাম, কিন্তু তখন পবিত্র আযানের জন্য ধরে নিয়ে আসতে পারিনি। আজকে রাতে মাহিতকে ধরে নিয়ে আসবো।" তখন ইফ্রিদ জ্বিনের কথা শুনে তান্ত্রিক কালিবুশ বললো, "আজকে না। আজকে তোর বাধা পড়েছে, কালকে মাহিতকে ধরে নিয়ে আসবি। এখন এখান থেকে যা।"

অন্যদিকে বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমে আসছে, মাহিত মসজিদের ভিতরে বসে আল্লাহকে স্মরণ করতে আছে আর বলতে আছে, "হে সর্বশক্তিমান আল্লাহ, আপনার কাছে আমার এই পাপিষ্ঠ বান্দার ফরিয়াদ কবুল করুন।" তখন একটা ঠান্ডা বাতাস আসে আর সাথে সাথে রাহুর চোখ দুটো বন্ধ হয়ে যায়। রাহু তখন স্বপ্নের মধ্যেই দেখতে পায় কেউ একজন রাহুকে বলতে আছে, "তুমি যে ১০ জন পরী বন্দী করে তোমার কুটিরে রাখছো, তাদের মুক্ত করে দাও এবং আল্লাহর কাছে তোমার খারাপ কাজের জন্য ক্ষমা চাও!"

আর তখনই রাহুর ঘুম ভেঙে যায় আর তখনই রাহু একটা সুন্দর ঘ্রাণ পেতে থাকে, মনে হয় কোনো জান্নাতের ফুলের ঘ্রাণ। রাহু তখন মনে মনে ভাবে, কালকে জঙ্গলের ভিতরে গিয়ে তার কুটিরে থাকা পরীদের মুক্ত করে দিবে। তখন রাহুর মনে পড়ে, তার উপর তো শয়তান নাহুদ ফেদুলের নজর রয়েছে! তখন রাহু চোখ বন্ধ করে নেয় আর তার পাহারাদার জিনকে বলে, "আমার কুটিরে থাকা আমাদের ১০ পরী স্ত্রীকে মুক্ত করে দাও।" তখন রাহুর পাহারাদার জিন বললো, "মালিক, আপনার এই শক্তিশালী মন্ত্রের বাঁধন আমি মুক্ত করতে পারবো না।" তখন রাহুর পাহারাদার জিনের কথা শুনে খুব কষ্ট পায়। রাহু মনে মনে ঠিক করে নিয়েছে যে মাহিতকে সবকিছু খুলে বলবে!

অন্যদিকে মাহিত ঘরে গিয়ে তার বাবাকে বললো, "বাবা?" তখন মাহিতের বাবা মাহিতের দিকে তাকিয়ে বললো, "হ্যাঁ বাবু, কিছু বলবি?" তখন মাহিত বললো, "বাবা, আমাদের গ্রামের তো কৃষকদের সব জমির ধানের ফসলে আগুন লেগেছে। তুমি যদি অনুমতি দিতে, আমাদের ধানের গোলা থেকে কৃষকদের ধান দিয়ে দিতাম।" মাহিতের কথা শুনে মাহিতের বাবা বললো, "বাবু, এত মানুষকে ধান দেওয়া আমার একলার পক্ষে সম্ভব নয়। গোলার ধান আমাদের ফুরিয়ে গেছে, তার চেয়ে তুই একটা কাজ কর, যত কৃষকের ক্ষতি হয়েছে সবাইকে ৫০০০ করে টাকা দিয়ে আয়।" এটা বলে মাহিতের বাবা মাহিতকে একটা চেক লিখে দেয়!
তখন মাহিতের মা এসে বললো, "ছেলের হাতে এত বড় একটা দায়িত্ব দেওয়া ঠিক হলো?" মায়ের কথা শুনে বাবা বললো, "ছোট থেকে দায়িত্ব নিতে নিতে একদিন বড় হবে। আর তার চেয়ে বড় কথা, মাহিত আমার একমাত্র সন্তান, আমার পরে এই বিবিচিনি গ্রামের কর্তা হবে।" অন্যদিকে শয়তান একটা কবরস্থানে বসে রয়েছে আর একটা সবেমাত্র দাফন করা লাশের ক্বারীন জিনের সাথে গল্প করতে আছে। তখন লাশের ক্বারীন জিন শয়তানকে বললো, "কী ব্যাপার, আজকে কোনো কারণ ছাড়াই কবরস্থানে কোনো কিছু হয়েছে?" ক্বারীন জিনের কথা শুনে শয়তান বললো, "হয়েছে না হবে! তোরা মানব সন্তান বেঁচে থাকতেও জ্বালিয়ে মারিস, আবার মরে গেলেও জ্বালিয়ে মারিস। তোরা আসলে আমাদের শয়তানদের শান্তিতে থাকতে দিবি না।" শয়তানের কথা শুনে ক্বারীন জিন হেসে বললো, "বাঃ! শয়তানেরও আবার শান্তি!"

#পরীর_সাথে_বাসর
#পর্ব: ০৫
#লেখক_মাহিত_ভাই

মাসুদ তখন বুঝতে পারে অন্তিকাদের হয়তো কোনো বিপদ হয়েছে!তখন মাসুদ কোনো কিছু না ভেবেই অন্তিকাদের বাড়িতে চলে যায়। আর গিয়ে দেখ...
16/05/2026

মাসুদ তখন বুঝতে পারে অন্তিকাদের হয়তো কোনো বিপদ হয়েছে!
তখন মাসুদ কোনো কিছু না ভেবেই অন্তিকাদের বাড়িতে চলে যায়। আর গিয়ে দেখে সারা বাড়ি একদম ফাঁকা, কোনো মানুষ নেই। বাবা, অন্তিকা আর মাকে জোরে জোরে নাম ধরে ডাকতে আছে। আর তখন পাড়ার সব মানুষ ছুটে আসে অন্তিকাদের বাড়িতে; তখন বাবা সবাইকে সব কিছু খুলে বলে। সব কিছু শুনে মাসুদ পাগলের মতো হয়ে যায়, আর পাগলের মতো সব জায়গায় খুঁজতে লাগল। বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমে আসছে; উপ্তখালী গ্রামের মানুষের সবার হাতে জ্বলন্ত আগুনের মশাল, সবাই অন্তিকাকে আর মাকে খুঁজতে লাগল। কিন্তু কোথাও কেউ খুঁজে পেতে লাগল না। মাসুদ অন্তিকার জন্য কান্না করতে লাগল আর মনে মনে বলতে লাগল, "আমার পরীজানের কিছু হয়নি। শ্মশানের প্রেতাত্মা আমার পরীজানের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।" রাত আনুমানিক ১২টা, তখন মাসুদ কোনো কিছু চিন্তা না করে ধর্মনগর কেন্দ্রীয় শ্মশান ঘাটে চলে যায়। এটি একটি প্রাচীন শ্মশান; চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার, আর মাঝেমধ্যে শেয়ালের ভয়ানক ডাক ভেসে আসে। আর গা হিম করার মতো ঠান্ডা বাতাস!

মাসুদ অন্ধকারের ঝাপসা চাঁদের আলোতে ধর্মনগর কেন্দ্রীয় শ্মশান ঘাটের দিকে যেতে লাগল। আর তখন একদল বাদুড় উড়ে যায় শব্দ করে; গাছের পাতার সাথে বাতাসের সা সা শব্দ। আর যতটা শ্মশানের দিকে মাসুদ যেতে লাগল, ততটাই বাতাসে স্যাঁতস্যাঁতে একটা মাংস পোড়ার গন্ধ ভেসে আসতে লাগল। মাসুদের বমি আসতে লাগল; মাসুদ পেটে হাত দিয়ে চেপে ধরে হাঁটতে লাগল। মাসুদ এখন দাঁড়িয়ে রয়েছে ধর্মনগর শ্মশানের গেটের একদম সামনে। চাঁদের আলোতে মাসুদ শ্মশানের গেটের দিকে হাত বাড়িয়ে দেয়, আর একটা ঝন ঝন শব্দ করে শ্মশানের পুরোনো গেটটা খুলে যায়। আর তখন একটা গরম বাতাস মাসুদকে ছেদ করে চলে যায়। মাসুদ চোখ বন্ধ করে শিব ঠাকুরকে স্মরণ করে বলল— "হে ভোলানাথ, তুমি তো এই শ্মশানের অধিপতি। মহাকালের অধীশ্বর! জগতের সব অশুভ শক্তি তোমার চরণে এসে শান্ত হয়। আজ এক চরম বিপদে আমি তোমার দুয়ারে দাঁড়িয়েছি। আমার পরীজান... ও তো কোনো দোষ করেনি। ও তো নিষ্পাপ! কোনো এক অশুভ ছায়া ওকে গ্রাস করতে চাইছে। হে শ্মশানেশ্বর, তুমি ওকে রক্ষা করো। তোমার ত্রিশূলের শক্তিতে সব পিশাচকে দূর করে দাও। আমার পরীজানের ওপর যেন কোনো আঁচ না পড়ে। ওকে বাঁচিয়ে রাখার শক্তি দাও, প্রভু!"

তখন মাসুদ চোখ খুলল কোনো একটা শব্দের কারণে; মাসুদ তাকিয়ে দেখে তার সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে একটা ভয়ানক ষাঁড়। আর তখন মাসুদ দেখতে পায় ষাঁড়ের কপালের মাঝ বরাবর রয়েছে লাল সিঁদুর। আর তখন মাসুদ শুনতে পায় কেউ একজন অদৃশ্যভাবে মাসুদকে বলতে লাগল, "তুমি এই ষাঁড়ের কপাল থেকে কিছু সিঁদুর নিয়ে তোমার কপালে লাগিয়ে নাও। তবে এই শ্মশানের কোনো খারাপ জ্বিন বা পিশাচ তোমার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।" তখন মাসুদ কাঁপা কাঁপা হাতে ষাঁড়ের দিকে হাত বাড়িয়ে দেয়; মাসুদের মনে একটা ভাবনা— নিজেকে শ্মশানে পুড়িয়ে হলেও তার পরীজানকে সে নিয়ে আসবে।
অন্যদিকে অন্তিকা চোখ খুলে তাকাল; চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার। এতটাই অন্ধকার, অন্তিকা নিজের শরীরটা পর্যন্ত দেখতে পায় না। তখন অন্তিকা অনুভব করে সে নড়াচড়া করতে পারে না। অন্তিকা তার তলপেটে ব্যথা অনুভব করে; মনে হয় অসহ্য যন্ত্রণা। অন্তিকা চিৎকার দিয়ে ওঠে। আর তখন গ্যাঁছ গ্যাঁছ শব্দ করে একটা দরজা খুলে যায় আর সাথে সাথে অন্ধকার রুমটা আলোকিত হয়। অন্তিকা দেখতে পায় তার গোপন অঙ্গ থেকে রক্ত বের হচ্ছে; মনে হয় এইমাত্র পিরিয়ড শুরু হয়েছে। আর অন্তিকা নিজেকে উলঙ্গ অবস্থায় দেখে লজ্জায় লাল হয়ে যায় আর চোখ বন্ধ করে নেয়। আর তখন অন্তিকা কারো পায়ের শব্দ শুনতে পায়; তখন তাকিয়ে দেখে তার সামনে মাসুদ দাঁড়িয়ে রয়েছে। মাসুদকে দেখে অন্তিকা কিছু একটা বলতে যাবে, তখন মাসুদ অন্তিকাকে হাতের ইশারা দিয়ে চুপ থাকতে বলে!

তখন মাসুদ তার গা থেকে শার্টটা খুলে অন্তিকার পিরিয়ডের রক্ত মুছে ফেলে। আর তখন অন্তিকা বলে, "তুমি কী করতে আছ?" তখন মাসুদ বলল, "রক্ত মুছে ফেলার কারণ নইতো রক্তের ঘ্রাণ পেয়ে পিশাচরা এখানে চলে আসবে।" মাসুদকে অন্তিকা জিজ্ঞাসা করল, "তুমি কীভাবে এখানে আসছ?" তখন মাসুদ বলল, "আমি কীভাবে আসছি, সব কিছু পরে বলব।" তখন মাসুদ অন্তিকার হাতের বাঁধন খুলে দিতে লাগল। আর মাসুদের সামনে অন্তিকা নিজেকে উলঙ্গ দেখে লজ্জায় লাল হয়ে যায়। তখন মাসুদ বলল, "এতটা লজ্জা পেতে হবে না। আমার পরীজান, এখানে আমি তোমার বর, তোমার ভবিষ্যৎ বাচ্চার আব্বু।" তখন মাসুদ অন্তিকাকে বলল, "মা কোথায়?" তখন অন্তিকা বলল, "আমি জানি না।" তখন মাসুদ অন্তিকাকে বলল, "তুমি আমার সাথে আসো।" আর মাসুদ আর অন্তিকা এক সাথে হাঁটতে লাগল!
অন্যদিকে মাসুদের ছোট ভাই বলল, "মা, বড়দা তোমার বড় ছেলে কী করে জানো? তোমার বড় ছেলের কোনো খবর রাখবে না, সব খবরাখবর তোমার ছোট ছেলের বিষয়ে রাখলে হবে। এখন রাত ২টা আর এখনো তোমার ছেলে ঘরে আসে না। আর আমি সন্ধ্যার পর দেরি করে ঘরে আসলে আমাকে কথা শোনাও।" তখন মা বলল, "চুপ, একদম চুপ! শুধু বড়দার পিছনে পড়ে থাকা।" তখন মা শুনতে পায় ঠাকুর ঘর থেকে ঘণ্টার শব্দ!

#পরী_জান
#পর্ব: ০৫
#লেখক_মাহিত_ভাই

রিশানের দেহটা উল্টো করে ঝুলে আছে, গা থেকে রক্ত চুষে চুষে মাটিতে পড়ছে। তখন একটা মেয়ে এসে রিশানের মাথার চুল শক্ত করে চেপে ...
15/05/2026

রিশানের দেহটা উল্টো করে ঝুলে আছে, গা থেকে রক্ত চুষে চুষে মাটিতে পড়ছে। তখন একটা মেয়ে এসে রিশানের মাথার চুল শক্ত করে চেপে ধরে। শ্বাসনালীতে জোরে এক কামড় দিয়ে ছিঁড়ে ফেলে। মেয়েটার মুখ তাজা গরম রক্তে লাল হয়ে যায়। রিশান চিৎকার করতে গিয়ে পারে না। রিশানের রক্তে চারদিকটা লাল হয়ে যায়। রিশানের গলার শ্বাসনালী দিয়ে রক্তের স্রোত বয়ে যেতে লাগল। তখন মেয়েটা রক্ত হাতে নিয়ে নাক-মুখ ধুতে লাগল আর হাসতে লাগল। আর তখন মেয়েটা একটা হেঁচকা টান দিয়ে রিশানের মাথাটা ছিঁড়ে ফেলে, আর ঝুলে থাকে রিশানের মাথাহীন দেহটা। তখন একটা মেয়ে এসে বলল, "ঐন্দ্রিলা, কীভাবে সম্ভব! যাকে তুই অসম্ভব ভালোবেসেছিস, তাকে তুই এত ভয়ানকরকভাবে হত্যা করেছিস?"

মেয়েটার কথা শুনে ঐন্দ্রিলা রিশানের ছেঁড়া মাথাটা হাতে নিয়ে বলল, "ভালো তো বেসেছি আমি প্রথম মানুষটিকে, যে আমাকে অসম্ভব ভালোবাসত। কিন্তু দিন যত যায়, মাস যত যায়, আর সম্পর্কটা যতটা পুরনো হয় ততটা সে আমার কাছ থেকে দূরে চলে যায়; আর এটা কতটা নীরব যন্ত্রণা সেটা আমি বুঝি। রিশান আমার সাথে প্রতারণা করে। তখন আমি রিশানের ভিতরে কোনো ভালোবাসা দেখিনি। আর যাকে আমি অসম্ভব ভালোবেসেছি সে কীভাবে আমার না হয়ে অন্যের হয়? তাই নিজ হাতে আমার প্রেমিককে আমি হত্যা করেছি।" এটা বলে ঐন্দ্রিলা রিশানের ছেঁড়া মাথাটা ছুঁড়ে ফেলে!

চাঁদের আলো ঐন্দ্রিলার রক্তমাখা মুখে পড়ে এক ভয়ানক রূপ ধারণ করে। চারদিকে কাঁচা রক্তের গন্ধ আর ঐন্দ্রিলার ভয়ানক হাসি। তখন সেই মেয়েটি হলো ঐন্দ্রিলার বান্ধবী শ্রীজা। শ্রীজা ঐন্দ্রিলাকে বলল, "রিশান কি আজও তোর সাথে প্রতারণা করেছে নাকি তুই রিশানকে ভুল বুঝে হত্যা করেছিস?" শ্রীজার কথা শুনে ঐন্দ্রিলা বলল, "প্রেমিকের অতিকষ্টে প্রেমিকা তাকে হত্যা করে না।" তখন ঐন্দ্রিলার কথা শুনে শ্রীজা বলল, "আমি জানি না, তবে এতটুকু জানি রিশান কখনোই তোর সাথে প্রতারণা করতে পারে না।" তখন শ্রীজার কথা শুনে ঐন্দ্রিলা হাসতে লাগল। আর রিশানের ঝুলন্ত মাথাহীন দেহটার কাছে গিয়ে, রক্তমাখা হাত দিয়ে নিজের মুখ মুছতে মুছতে সে রিশানের দেহের সামনে বসে পড়ল। আর ফিসফিস করে বলল, "এখন তো ও আর কারো হতে পারবে না। এখন তুমি শুধু আমার।" এটা বলে ঐন্দ্রিলা শ্রীজার দিকে তাকিয়ে বলল, "যাকে মন দিয়ে ভালোবেসেছি তাকে না পাওয়ার কষ্ট নিয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে নিজ হাতে হত্যা করে আলাদা এক শান্তি পাওয়া যায়। নারী কী চায়? পুরুষের একটু ভালোবাসা, একটু যত্ন, একটু খেয়াল। এসব যখন নারী তার শখের পুরুষের কাছ থেকে পায় না, তবে সব কিছু নীরব হয়ে হারিয়ে যেতে নেই, মৃত্যু দিয়ে হলেও কেড়ে নিতে হয়!"

শ্রীজা ঐন্দ্রিলার দিকে তাকিয়ে রয়েছে। তখন ঐন্দ্রিলার ফোনে একটা কল আসে। ঐন্দ্রিলা স্বাভাবিক অবস্থায় ফোনের দিকে তাকিয়ে দেখে ঐন্দ্রিলার বাবা ফোন দিয়েছেন। তখন ঐন্দ্রিলা রক্তমাখা হাতে ফোনটা রিসিভ করে। ফোনের অপর দিক দিয়ে ঐন্দ্রিলার বাবা বললো, "মা, তুই কোথায়? তাড়াতাড়ি বাড়িতে আয়, তোকে দেখতে আসবে।" বাবার কথা শুনে ঐন্দ্রিলা স্বাভাবিক অবস্থায় বলল, "হ্যাঁ বাবা, আমি আসছি।" শ্রীজা কাঁপতে কাঁপতে বলল, "তোর বাবা তোকে বিয়ের কথা বলছে ঐন্দ্রিলা! তুই এই অবস্থায় যাবি? তোর হাতে রিশানের রক্ত!" ঐন্দ্রিলা ধীরস্থিরভাবে তার ওড়না দিয়ে হাতের রক্ত মুছতে মুছতে হাসল। "রক্ত? ওটা তো রঙ। আর বাবা যখন ডেকেছে, তখন তো যেতেই হবে। বাড়ির সবার সামনে আমাকে এখন 'লক্ষ্মী মেয়ে' সেজে থাকতে হবে!"

ঐন্দ্রিলা তার ব্যাগ থেকে জলের বোতল বের করে মুখটা ধুয়ে নিল। তারপর শ্রীজার দিকে তাকিয়ে এক রহস্যময় হাসি দিয়ে বলল, "তুই এখানে দাঁড়িয়ে থাকবি? নাকি আমার সাথে যাবি? মনে রাখিস শ্রীজা, রিশান যেমন আমার না হয়ে অন্যের হতে চেয়েছিল বলে এই অবস্থা হয়েছে, তুইও যদি আমার কথা অন্য কাউকে বলিস... তবে সেই পরিণাম তুই সহ্য করতে পারবি না।" শ্রীজা কোনো কথা বলতে পারল না। সে শুধু দেখল, ঐন্দ্রিলা অন্ধকার জঙ্গল থেকে স্বাভাবিক পায়ে বেরিয়ে যাচ্ছে, যেন কিছুই হয়নি। পিছনে পড়ে রইল রিশানের মাথাহীন নিথর দেহটা, আর বাতাসের কানে কানে বাজতে লাগল ঐন্দ্রিলার সেই অদ্ভুত কথাগুলো— "সব কিছু নীরব হয়ে হারিয়ে যেতে নেই, মৃত্যু দিয়ে হলেও কেড়ে নিতে হয়।"

ঐন্দ্রিলা জঙ্গলের মধ্যে হাঁটতে লাগল আর ঐন্দ্রিলার পিছনে পিছনে শ্রীজা। চারদিকে গুমোট এক অন্ধকার আর অনেক দূর থেকে কুকুরের ভয়ানক আর্তনাদ শোনা যায়। শ্রীজা ভাবতে আছে আর হাঁটতে আছে, ভালোবাসলে আসলেই কি মৃত্যু দিয়েও কেড়ে নিতে হয়? ঐন্দ্রিলা কিছুক্ষণ পর তার বাড়িতে যায়, সাথে শ্রীজাও থাকে। তখন ঐন্দ্রিলার বাবা ঐন্দ্রিলাকে উদ্দেশ্য করে বলে তারা সব কিছু ঠিক করে নিয়েছে, এখুনি পাত্রপক্ষ তোকে দেখতে আসবে। তখন বাবার কথা শুনে ঐন্দ্রিলা বাবাকে উদ্দেশ্য করে বলল, "তারা কতদূর?" তখন বাবা বললেন, "তারা এখুনি এসে যাবে, হয়তো এসে গেছে।" তখন ঐন্দ্রিলা বাবাকে কিছু না বলে সোজা তার রুমে গিয়ে নাক-মুখ পানি দিয়ে ধুতে লাগল। তখনো ঐন্দ্রিলা তার হাত থেকে রিশানের তাজা রক্তের ঘ্রাণ পেতে লাগল!

তখন শ্রীজা ঐন্দ্রিলাকে বলল, "আমি জানি না তোকে ভগবান কীভাবে তৈরি করেছে। একটা মানুষ একটা মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করে কীভাবে এতটাই স্বাভাবিক থাকতে পারে!" শ্রীজার কথা শুনে ঐন্দ্রিলা কিছু বলে না, চুপ থাকে। আর এই চুপ থাকার ভিতরে রয়েছে এক গভীর রহস্য। তখন ঐন্দ্রিলাকে চুপ থাকতে দেখে শ্রীজা আর কিছু বলে না। ঐন্দ্রিলা আজকে তার পছন্দের নীল শাড়ি পরেছে; হাতে নীল চুড়ি, চোখে কাজল, মুখে হালকা লিপস্টিক, কপালে ছোট একটা কালো টিপ। নীল শাড়িতে ঐন্দ্রিলাকে সব সময় সুন্দর লাগে, আজকেও তার ব্যতিক্রম নয়। তার কিছুক্ষণ পর বাবার ডাক পড়ল। পাত্রপক্ষ এসেছে, সবাই সবার সাথে গল্প করতে আছে। তখন ঐন্দ্রিলার মা ঐন্দ্রিলাকে রুমে নিতে আসলেন। ঐন্দ্রিলা পাত্রপক্ষের সামনে মাথা নিচু করে বসে। শ্রীজা ঐন্দ্রিলাকে কিছু বলতে যাবে কিন্তু সবার সামনে কিছু বলতে পারে না। তখন ঐন্দ্রিলা পাত্রের দিকে তাকায় আর অবাক হয়ে যায়। ঐন্দ্রিলার শিরদাঁড়া দিয়ে এক শীতল বাতাস বয়ে যায়। ঐন্দ্রিলা তাকিয়ে দেখে, যাকে এইমাত্র হত্যা করে এসেছে, সেই রিশান তার সামনে বসা! আর এই রিশানের সাথেই তার বাবা বিয়ে ঠিক করেছে!

#ঐন্দ্রিলা
#পর্ব: ০১
#লেখক_মাহিত_ভাই

Address

Dhaka

Telephone

+8801644788663

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Md MaHit Bhai - মোঃ মাহিত ভাই posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share