05/02/2023
নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্তদের জন্য বাড়ি নির্মাণের জন্য কিছু পরামর্শ
****************************************************************
* পরিবারের সকলের সাথে বসে পরামর্শ নিন।
* পরবর্তী ২০ বছরে বাড়িতে কে কে থাকতে পারে সেটা মাথায় নিয়ে রুমের সংখ্যা নির্ধারণ করুন।
* আপনার সর্বোচ্চ বাজেট নির্ধারণ করুন। নগদ অর্থ হাতে কত আছে তার উপর ঠিক করুন বাড়ি কেমন হবে।
* স্বপ্ন, আবেগ এবং বাস্তবতা ভিন্ন। মনে রাখবেন, সব চাওয়া পৃথিবীতে পাওয়া হয়না।
* ১৫ লক্ষ টাকা হাতে আছে, সেই টাকার ভিতর ডিজাইন করুন। অমুক জায়গা থেকে টাকা পেতে পারেন, তখন সব হয়ে যাবে। এমন সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসুন। যদি টাকা না পান তাহলে? আর যদি টাকা পেয়েই যান তাহলে সেই অপশন রেখে ইঞ্জিনিয়ার ও আর্কিটেক্টকে ডিজাইন করতে বলুন।
* মুখস্থ বিদ্যায় ফাউন্ডেশন করবেন না। আপনার বাজেট অনুযায়ী ইঞ্জিনিয়ার ফাউন্ডেশন নির্ধারণ করবে। বাজেট আছে ২ লক্ষ টাকার কিংবা ইহজনমে আপনার ৪ তলার ফাউন্ডেশনের সামর্থ্য নেই, তাহলে অযথা মজবুত করতে গিয়ে বাড়তি ফাউন্ডেশনের টাকা অপচয় করবেন না।
* আপনার সার্বিক পরিকল্পনা ইঞ্জিনিয়ার ও আর্কিটেক্ট এর সাথে শেয়ার করুন। তাদেরকে বলুন আপনার বাজেটের ভিতর ডিজাইন করতে।
* লক্ষ কোটি টাকার বাড়ির বানাতে ইঞ্জিনিয়ার ও আর্কিটেক্ট এর জন্য কিছু বরাদ্দ রাখুন। আপনার নিজের ও মিস্ত্রির দেয়া ডিজাইনে বাড়ি করতে গিয়ে ক্ষতি ডেকে আনবেন না।
* আপনি, মিস্ত্রি, ঠিকাদার কেউ তো আধুনিক স্থাপত্য, নকশা, আলো বাতাস চলাচল, ফ্লোর প্লান, ইন্টেরিয়র ও স্ট্রাকচারাল বিষয়ে পড়াশোনা করেননি। আপনারা শুধুমাত্র মতামত দিতে পারেন, সিদ্ধান্ত নয়।
* ইউটিউব বা ইন্টারনেট থেকে ছবি বা ডিজাইন নিয়ে বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা বাদ দিন। এসব মাধ্যম থেকে যদি কিছু পছন্দ হয় তা ইঞ্জিনিয়ার ও আর্কিটেক্ট এর কাছে মন খুলে বলুন। তিনি আপনার চাওয়াকে প্রাধান্য দিবেন। সস্তার ৩ অবস্থা হয়। "১৫০০ টাকায় বাড়ির ডিজাইন করা হয়" এমন বিজ্ঞাপন দেখে ভিড় জমাবেন না। যিনি অভিজ্ঞ তিনি এতো সস্তায় ডিজাইন করে দিবেন না।
* নিজের সামর্থ্য মাথায় রাখুন।
* বাজার যাচাই করে অভিজ্ঞ ব্যক্তির পরামর্শ নিয়ে মালামাল কিনুন।
* মালামাল কিনে কোথায় রাখবেন তা আগেই ঠিক করুন।
* ইট কিনে সাজিয়ে রাখুন, বালি ঢেকে রাখুন, রড মাচান করে রাখুন।
* দাম বাড়বে এমন কথায় ঝাপিয়ে পড়ে মালামাল কিনে কৃত্তিম সংকট তৈরি করবেন না। দাম কমতেও তো পারে!
* প্রয়োজনের অতিরিক্ত মালামাল কিনে নষ্ট ও অপচয় রোধ করুন।
* খুচরা খোয়া না কিনে পিকেট ইট কিনে ভাংগিয়ে নিন।
* কলাম, বীম, ছাদে কয়টা রড ও কত মিলিমিটার রড ব্যবহার করবেন, কলামের মাটি কত ফুট গভীর হবে সেইসব সিদ্ধান্ত আপনার, ঠিকাদারের বা মিস্ত্রির নয়। এটার দায়িত্ব ইঞ্জিনিয়ারের।
* আগে মাথা গোজার ঠাঁই ঠিক করুন, তারপর চাকচিক্য।
* সামর্থ্য না থাকলে ইটের গায়ে পয়েন্টিং করুন। পছন্দ নাহলে পরে তো প্লাস্টার ও রঙ করার সুযোগ আছেই।
* ইটের গাথুনিতে ৮/১০ মিলিমিটার রড ব্যবহার করুন, এতে মসলার অপচয় রোধ হবে।
* ১০" ইটের গাথুনির কাজে Rat Trap দেয়াল গাথুনি দিতে পারেন। এতে ইট কম লাগে, অধিক মজবুত, গরম কম অনুভূত হবে। (ছবিতে দিয়েছি, তাছাড়া ইন্টারনেট ঘাটুন)।
* অনেক মিস্ত্রি অনেক কাজে পারদর্শী নয় কিংবা তার খাটুনি বেশি হয়, এজন্য অনেক মিস্ত্রি এসব আধুনিক কাজে ভুলভাল পরামর্শ দিতে পারে আপনাকে। আমরা বাস্তবে এসব প্রয়োগ না করে নিশ্চয়ই পাবলিক প্লেসে এসে ভুলভাল পরামর্শ দিচ্ছিনা।
* একজন ইঞ্জিনিয়ার ও আর্কিটেক্ট সবসময় চেষ্টা করে আধুনিক অনেক কিছু রপ্ত করে ডিজাইন করতে, যা আপনার কাছে এখনো অজানা। আপনি, মিস্ত্রি বা ঠিকাদার নিশ্চয়ই এটা নিয়ে কাজ করেননি?। ঠিকাদার ও মিস্ত্রি অভিজ্ঞ হলেও ডিজাইন ও স্ট্রাকচারাল বিষয় তার পেশা নয়।
* আপনি তো আর রঙের মিস্ত্রি দিয়ে প্লাস্টারের কাজ করাবেন না, তাই না? সেকারনে যার যে কাজ তাকেই সেই কাজে নিয়োগ করুন।
* ১/২ তলার বাড়ির জন্য নিজে সময় দিন। ঠিকাদার নিয়োগ করে অর্থের অপচয় রোধ করুন। প্রয়োজন মনে করলে সাইট ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগ করুন।
* যতই পরিচিত হোক না কেন, মিস্ত্রি বা ঠিকাদারের সাথে লিখিত চুক্তি করুন। চুক্তিতে এটা অবশ্যই করুন "ডিজাইনের বাইরের কাজের মালামাল ও পারিশ্রমিকের যাবতীয় খরচ ও ক্ষতিপূরণ মিস্ত্রি বা ঠিকাদার নিজে বহন করবে।"
* কিউরিং, সিমেন্ট বালির অনুপাত, মাখানো মসলা কত সময়ের মধ্যে ব্যবহার করতে হয়, কখন প্লাস্টার ও রঙ করতে হয়, কিভাবে রঙ করতে হবে ইত্যাদি বিষয় নিয়ে ইন্টারনেট ঘাটুন। ডিজাইন নিয়ে নয়।
* একটা বাড়ি নির্মাণ করতে যদি ১০০ টা আইটেম লাগে, তাহলে সঠিক পরিকল্পনা করে প্রতি আইটেমেই কিছু কিছু করে টাকা বাঁচাতে পারলেই লাভ আপনার। দিন শেষে বেশ টাকা বাঁচাতে পারবেন।
* এবার আপনি মাথা খাটান, তাহলে আরো কিছু আপনার মাথা থেকে বের হবে।
* খরচ কমানোর আরো অনেক টেকনিক্যাল বিষয় আছে, যা এভাবে লিখে পরামর্শ দেয়াটা আসলে সম্ভব নয়।