01/10/2024
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ভিপি নুরুল হক নুর আমার ২ বছরের জুনিয়র, আমার ডিপার্টমেন্টের কিছু ফ্রেন্ড একটা সময় বলতো জুনিয়রের পেছনে রাজনীতি করছ, তোর তো মিয়া পারসোনালিটিই নাই! যখন কথা উঠতো কিছুটা লজ্জা ফিল করতাম কথা অন্যদিকে ঘুরানোর চেষ্টা করতাম আমি যেটা মনে করতাম- ক্যাম্পাসে সিনিয়র-জুনিয়র যাই হই রাজনীতিতে সে আমার নেতা, রাজনীতিতে সে আমাদের থেকে অনেক বেশি পরিপক্ব, রাজনীতিতে তার ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্ব, তার সাহসিকতা দেখে পুরো জাতি মুগ্ধ, যে সময়টাতে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা মাঠে নেমে প্রতিবাদ করার সাহসটুকু পাচ্ছিলো না, হামলা-মামলা, জেল জুলুমের ভয়, সেই সময় জাতি এই হ্যাংলা পাতলা ছেলেটির সাহসিকতায় বাংলাদেশকে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে।
এপর্যন্ত প্রায় ৩০ বার হামলার শিকার হয়েছে এরপরও পিছু হটে নি, থেমে যায়নি, রাস্তায় গাড়ি চাপা দিয়ে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে, গভীর রাতে র্যাব, ডিবি হানা দিয়েছে সেই ভয়ার্ত মুহুর্তেও জাতি তার সাহসিকতা দেখেছে, ২৮ অক্টোবর, ২০২৩ তারিখে বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ যখন পল্টন এলাকা থেকে নিরাপদ গন্তব্যে চলে যায় ভিপি নুরের নেতৃত্বে জীবন বাজি রেখে আমরা পল্টন এলাকায় সন্ধ্যা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাই, বেশ কয়েক বার টিয়ার গ্যাস খেয়ে যখন ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম তখন একটা গলিতে আমি ও সরকার নুরে এরশাদ সিদ্দিকী ভাই বসে পড়ি সেখানে বিএনপি'র বিভিন্ন জেলা থেকে আগত নেতাকর্মী বিএনপির সিনিয়র নেতাদের গালিগালাজ করছিলো, একেকটাকে ভীতু, কাপুরুষ আখ্যা দিচ্ছিলো কারণ সব নেতারাই কর্মীদের ফেলে রেখে চলে গিয়েছিলো আর আর বলতেছিলো ভিপি নুর অল্প কিছু নেতাকর্মী নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে, টিয়ার গ্যাস খাচ্ছে আবার উঠে পুলিশকে ধাওয়া দিচ্ছে আর আমাদের নেতারা আগেই পালাইছে।এই হলো আমাদের নেতা ভিপি নুর।
টাকা খেয়ে হাসিনার ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে গেলে দল পূর্বেই নিবন্ধন পেতো ২/৪ টা আসনও দল থেকে পেতো, আজকের প্রেক্ষাপট ভিন্ন কিছুও হতে পারতো কিন্তু জাতির সাথে নুর বেইমানি করতে পারে নি।
কোটা পুনর্বহাল হওয়ার পর কেউ মাঠে নামার সাহস পাচ্ছিলো না তখন ভিপি নুর ছাত্রদের আমাদের সামনেই বলেছে তোমরা সাহস করে নামো দেখবা সবাই নামার সাহস পাবে, যেহেতু আমাদের ছাত্রত্ব নেই শুরুটা আমরা করতে পারি না, তোমরা শুরু বাকিটা আমরা দেখতেছি, প্রথমদিকে অল্প কিছু ছাত্র কোটা পুনর্বহালের প্রতিবাদ জানায় আস্তে আস্তে মিছিল বড় হতে থাকে। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ধীরে ধীরে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে রুপ নেয়।
ভিপিকে গভীর রাতে কেন র্যাব, ডিবি তুলে নিয়ে যায় সেটা সকলেরই জানা, কারণ গোয়েন্দারা ভালো করেই বুঝতে পেরেছিলো বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে যারা নেতৃত্ব দিচ্ছে তারা প্রায় সকলেই নুরের ছাত্র সংগঠনের ছাত্রনেতা, বুঝতে বাকি নেই তারা দিকনির্দেশনা কার কাছ থেকে পাচ্ছে। ৫ দিন ৫ দিন ১০ রিমান্ডে নির্যাতনে নুর সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছিলো না, সেই পরিস্থিতিতেও ভিপি নুর বুঝতে পেরেছিলো হাসিনার মসনদ দুলছে, তাই বলেছিলো ৯০% পতন হাসিনার হয়ে গেছে, আর ১০% ধাক্কা দিতে হবে। পুরো জাতি নুরের দিকে তাকিয়ে, নুরের এই দৃশ্য দেখে মানুষ চোখের পানি যেমন ফেলছে তেমনি বুকে সাহস সঞ্চার করে রাজপথে নেমে এসেছে, দুদিন যেতে না যেতেই হাসিনা দেশ থেকে পালাতে বাধ্য হয়েছে, ১৬ বছর ধরে চলা ফ্যাসিবাদ থেকে জাতি মুক্তি পেয়েছে। এই হলো ভিপি নুর।
রাজনীতিতে আলোচনা, সমালোচনা থাকবেই।
আমরা নুরের মাঝে আগামীর বাংলাদেশ পরিচালনার নেতৃত্ব খুঁজে পাই।
আমি তাঁর নেতৃত্বে রাজনীতি করছি, করবো ইনশাআল্লাহ।
মো. তোফাজ্জল হোসেন
সাংগঠনিক সম্পাদক ঢাকা বিভাগ
গণঅধিকার পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি
Md Tofazzal Hossain