26/08/2026
আজ ১২ রবিউল আউয়াল প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) এর জন্ম দিন। চলুন একবার প্রিয় নবীর সংক্ষিপ্ত জীবনি সম্পর্কে জানি।
মহানবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ মক্কা নগরীতে আমুল ফীলের বছর, আনুমানিক ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম আবদুল্লাহ (রাঃ) এবং মাতার নাম আমিনা (রাঃ)। তিনি জন্মের আগেই পিতাকে হারান।
শৈশবে তিনি হালিমা সাদিয়া (রাঃ)-এর কাছে লালিত-পালিত হন। ছয় বছর বয়সে তাঁর মা ইন্তেকাল করেন। এরপর দাদা আবদুল মুত্তালিব এবং তাঁর মৃত্যুর পর চাচা আবু তালিব তাঁকে লালন-পালন করেন।
🕊️ শৈশব ও যৌবন
ছোটবেলা থেকেই তিনি সত্যবাদী, বিশ্বস্ত ও উত্তম চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। মক্কার মানুষ তাঁকে “আল-আমিন” (বিশ্বস্ত) এবং “আস-সাদিক” (সত্যবাদী) বলে ডাকত।
তরুণ বয়সে তিনি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন। তাঁর সততা ও উত্তম চরিত্রে মুগ্ধ হয়ে হযরত খাদিজা (রাঃ) তাঁকে বিয়ে করেন। তাঁদের সংসার ছিল ভালোবাসা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধায় পূর্ণ।
📖 নবুয়ত লাভ
৪০ বছর বয়সে মক্কার হেরা গুহায় অবস্থানকালে ফেরেশতা জিবরাইল (আঃ)-এর মাধ্যমে তাঁর কাছে প্রথম ওহি আসে। প্রথম ওহির সূচনা হয়েছিল—“ইকরা” (পড়ো) নির্দেশের মাধ্যমে।
এরপর তিনি মানুষকে এক আল্লাহর ইবাদত, সত্যবাদিতা, ন্যায়বিচার, মানবতা ও সৎ জীবনের দিকে আহ্বান করতে থাকেন।
🕋 মক্কার জীবন ও নির্যাতন
মক্কার কাফিররা তাঁর দাওয়াতের বিরোধিতা করে এবং তাঁকে ও তাঁর সাহাবিদের ওপর নানা ধরনের নির্যাতন চালায়। তবুও তিনি ধৈর্য ধরে ইসলামের দাওয়াত অব্যাহত রাখেন।
পরবর্তীতে আল্লাহর নির্দেশে তিনি সাহাবিদের সঙ্গে মদিনায় হিজরত করেন। এই হিজরত ইসলামের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এবং এর মাধ্যমে হিজরি সনের সূচনা হয়।
🕌 মদিনার জীবন
মদিনায় তিনি একটি আদর্শ সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন। সেখানে মুসলিমদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করেন এবং ন্যায়বিচার ও শান্তির ভিত্তিতে সমাজ পরিচালনা করেন।
এ সময় বদর, উহুদ ও খন্দকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ও যুদ্ধ সংঘটিত হয়। তিনি প্রতিটি পরিস্থিতিতে ধৈর্য, কৌশল ও আল্লাহর ওপর ভরসার শিক্ষা দিয়েছেন।
🕋 মক্কা বিজয়
অবশেষে ৮ হিজরিতে মুসলিমরা মক্কা বিজয় করে। মহানবী ﷺ বিজয়ী হয়ে মক্কায় প্রবেশ করেও প্রতিশোধপরায়ণ হননি। বরং বহু পুরোনো শত্রুকেও ক্ষমা করে দেন। তাঁর এই ক্ষমাশীলতা মানব ইতিহাসের অন্যতম উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
🌿 বিদায় হজ ও শেষ জীবন
১০ হিজরিতে তিনি বিদায় হজ পালন করেন। বিদায় হজের ভাষণে তিনি মানুষের জীবন, সম্পদ ও সম্মানের মর্যাদা, নারীদের অধিকার, সুদ পরিত্যাগ, মুসলিমদের পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব এবং আল্লাহর বিধান মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেন।
১১ হিজরিতে, আনুমানিক ৬৩ বছর বয়সে, মদিনা মুনাওয়ারায় মহানবী ﷺ ইন্তেকাল করেন। তাঁকে মসজিদে নববীর সংলগ্ন হুজরা শরিফে দাফন করা হয়।
❤️ তাঁর জীবনের মূল শিক্ষা
মহানবী ﷺ-এর জীবন থেকে আমরা শিখি—
সত্য কথা বলা
আমানত রক্ষা করা
অসহায় ও দরিদ্রের পাশে দাঁড়ানো
ক্ষমাশীল হওয়া
ন্যায়বিচার করা
বাবা-মা ও পরিবারের প্রতি সদয় হওয়া
প্রতিবেশীর অধিকার রক্ষা করা
আল্লাহর ওপর ভরসা করা
মানুষের প্রতি দয়া ও ভালোবাসা দেখানো
তিনি ছিলেন আল্লাহর সর্বশেষ নবী ও রাসুল এবং তাঁর জীবন মুসলমানদের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ।