07/04/2022
আল্লাহ কেয়ামতের দিন প্রথম হিসাব নিবে নামাজের----- তাই দুনিয়া ও আখেরাতের জীবনের হিসাব মিলিয়ে দেখ তোমার রাস্তা কোনটিঃ জীবন যার আছে, মৃত্যু তার নিশ্চিত। মৃত্যুর পর ৩টি জিনিস মানুষকে অনুসরণ করে। এ তিন জিনিসের মধ্যে দুইটি ফিরে আসে তথা দুনিয়াতেই থেকে যায়। আর একটি জিনিস মৃতব্যক্তির সঙ্গী হয়। নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদিসে পাকে বিষয়টি সুষ্পষ্ট করেছেন।
মৃতব্যক্তিকে অনুসরণকারী জিনিস তিনটি কী? মৃত ব্যক্তিকে অনুসরণ করা তিনটি জিনিস। প্রথমঃ তার আত্মীয় সব্জন। দ্বিতীয়ঃ তার ধন সম্পদ। তৃতীয়ঃ তার আমল। কবর দেয়ার পর প্রথম দুটি আত্মীয় সব্জন ও ধন সম্পদ দুনিয়াতে ফিরে আসে এবং তৃতীয়ঃ তার আমল তার সাথে রয়ে যায়। (বুখারি ও মুসলিম)। তাই যার আমল ভালো সে মুক্তি পায়, আর যার আমল খারাপ হয়, তার জন্য অপেক্ষা করে সীমাহীন বিপদ।
মহান আল্লাহ মানুষকে স্মরণ রাখার জন্য কোরআনুল কারিমে ঘোষণা করেছেন-
کُلُّ نَفۡسٍ ذَآئِقَۃُ الۡمَوۡتِ ؕ وَ اِنَّمَا تُوَفَّوۡنَ اُجُوۡرَکُمۡ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ ؕ فَمَنۡ زُحۡزِحَ عَنِ النَّارِ وَ اُدۡخِلَ الۡجَنَّۃَ فَقَدۡ فَازَ ؕ وَ مَا الۡحَیٰوۃُ الدُّنۡیَاۤ اِلَّا مَتَاعُ الۡغُرُوۡرِ জীব মাত্রই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। আর কিয়ামতের দিনই তোমাদের কর্মফল পূর্ণমাত্রায় প্রদান করা হবে। সুতরাং যাকে দোযখের আগুন থেকে দূরে রাখা হবে এবং যে বেহেশ্তে প্রবেশ করবে, সেই হবে সফলকাম। আর পার্থিব জীবন ছলনাময় ভোগ ব্যতীত কিছুই নয়। সূরা আল ইমরান,আয়াত-১৮৫। সুতরাং মুমিন মুসলমানের জন্য একান্ত করণীয়, মৃত্যুর আগে নেক আমলের প্রতি মনোযোগী হওয়া। অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকা। পরকালের সফলতায় কোরআনসুন্নাহর দিকনির্দেশনা মেনে চলা।
তাই আসুন আমরা আমাদের দুনিয়ার জীবনের হিসাব মিলিয়ে নেইঃ
মিলিয়ে দেখুন আপনার আমলের সাথেঃ
ফজর- ২ x ৩৬৫ দিন = ৭৩০ রাকাআত
যােহর- ৪ x ৩৬৫ দিন = ১৪৬০ রাকাআত
আসর- ৪x ৩৬৫ দিন = ১৪৬০ রাকাআত
মাগরিব- ৩ x ৩৬৫ দিন = ১০৯৫ রাকাআত
এশা- ৪x ৩৬৫ দিন = ১৪৬০ রাকাআত
মোট = ৬২০৫ রাকাআত
সুন্নাত এবং নফল সালাত তা বাদই দিলাম !!
১ বছরে (৩৬৫ x ৫) = ১৮২৫ ওয়াক্ত সালাত।
অর্থাৎ বছরে ১৮২৫ বার আপনাকে আযানের মাধ্যমে ডাকা হয়েছে।
আপনি কতবার সাড়া দিয়েছিলেন ?
আপনার মনে কি একটুও অনুশোচনা হয়নি ?
কি ভেবেছেন আল্লাহর কাছে হিসাব দিতে হবে না ?
কোঁথায় পালাবেণ,পালানোর কোন যায়গা নেই ?
এখানে শুধু ১ বছরের ফরয নামাজের হিসাব তুলে ধরা হল,
আল্লাহ্'র কাছে পুরো জীবনের হিসাব কিভাবে দিবেন. ?
কি অবস্থা হবে সেদিন ?
ভেবে দেখুন ?
রমজান তাকওয়া অর্জনের মাস তাই সবাই রোজার মাধ্যমে তাকওয়া ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করিঃ
রমজান রহমত,বরকত ও নাজাতের মাস। রোজা ও ইবাদতেঁর মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা যায়।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজান মাস পাওয়ার আশায় দুই মাস আগে অর্থাৎ রজব মাস থেকেই রমজানের প্রস্তুতি গ্রহণ করতেন এবং দোয়া করতেন "হে আল্লাহ! আপনি রজব ও শাবান মাসে আমাদের বরকত দান করুন এবং আমাদেরকে রমজানে পৌঁছে দিন"। মাহে রমজান,রহমত,বরকত ও মাগফেরাতের মাস,আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার জন্য এক বিশেষ নেয়ামত স্বরূপ শ্রেষ্ঠ উপহার।
রমজানে মুমিন মুসলমানের অন্যতম কাজ হলো তাকওয়া অর্জন করা। তাকওয়া অর্জন করার একমাত্র উপায় রোজা। আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমের ঘোষণা করেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপর; যেন তোমরা তাকওয়া বা পরহেযগারী অর্জন করতে পার।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১৮৩) রোজা এমনই এক ইবাদত। যা দুনিয়ার সব নবি-রাসুলের ওপর ফরজ ছিল। রোজা ফরজ হওয়ার অন্যতম কারণ হলো তা মানুষকে তাকওয়ার শিক্ষা দেয়। আর এ কারণেই আল্লাহ তাআলা নিজ হাতে রোজার প্রতিদান বণ্টন করবেন। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে রোজা ও ইবাদতেঁর মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের তাওফিক দান করুন। আমিন।
শবে কদরের ফজিলতঃ শবে কদর এমন একটি রজনী যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। সুরা কদর, আয়াত : ১-৩।
শবে কদরের ফজিলতঃ লাইলাতুল কদরের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো— এ গৌরবময় রজনীতে মানবজাতির পথপ্রদর্শক ও মুক্তির সনদ ঐশী গ্রন্থ "আল কোরআন" অবতীর্ণ হয়েছে। শবেকদর সম্পর্কে কোরআন মাজিদে ইরশাদ হয়েছে, "নিশ্চয়ই আমি কোরআন নাজিল করেছি লাইলাতুল কদরে। আপনি কি জানেন লাইলাতুল কদর কী? লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম"। সুরা কদর, আয়াত : ১-৩।
শ্রেষ্ঠতম এ রাতের ইবাদতে রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। হাদিস শরিফে এসেছে, "যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় কদরের রাতে ইবাদত করবে, তার আগের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে"।মুসলিম-৭৬০; বুখারি-২০১৪। তাই এসো হে মুসলিম উম্মাহ,এ রাতে আল্লাহ্ কাছে অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করে পুণ্যতা অর্জন করি। আল্লাহ্ আমাদের তাওফিক দিন। আমিন।