05/07/2024
আগামীকাল সন্ধ্যা থেকে ‘আল্লাহর মাস’ খ্যাত মুহাররাম শুরু হতে পারে। মুহাররাম হলো, আরবি চন্দ্রবছরের প্রথম মাস। এই মাসের গুরুত্ব ও মর্যাদা অনেক বেশি। সেগুলো নিচে আলোচনা করা হলো।
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘‘নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট সংরক্ষিত ফলকে (বছরে) মাসের সংখ্যা বারোটি—আসমানসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকে। সেগুলোর মধ্যে চারটি (মাস) সম্মানিত। এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান; সুতরাং এর মধ্যে তোমরা (গুনাহ করার মাধ্যমে) নিজেদের প্রতি জুলুম করো না।” [সুরা তাওবাহ, আয়াত: ৩৬]
আর সেই চারটি সম্মানিত মাস হলো: জিলকদ, জিলহজ, মুহাররাম ও রজব। [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ৩১৯৭]
‘মুহাররাম’ মানে সম্মানিত। এই মাসের সম্মানের কারণেই এই নামকরণ করা হয়েছে।
আলিমগণের বড় একটি অংশের মতে, রামাদানের পর সর্বশ্রেষ্ঠ মাস হলো মুহাররাম। [ইমাম ইবনু রজব, লাত্বাইফুল মাআরিফ, পৃষ্ঠা: ৭৯-৮০]
সব মাসই আল্লাহর, তবে মুহাররাম মাসকে হাদিসে বিশেষভাবে বলা হয়েছে শাহরুল্লাহ তথা ‘আল্লাহর মাস’। [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ২৬৪৫]
মূলত বিশেষ গুরুত্ব ও মর্যাদার কারণেই মুহাররামকে এই নামে অভিহিত করা হয়েছে। যেভাবে সকল মাসজিদই আল্লাহর ঘর, কিন্তু কাবা’র বিশেষ গুরুত্ব ও মর্যাদা থাকায় এটিকে বিশেষভাবে বাইতুল্লাহ তথা ‘আল্লাহর ঘর’ বলা হয়। [ইমাম ইবনু রজব, লাত্বাইফুল মা‘আরিফ, পৃষ্ঠা: ৮১-৮২]
এই মাসের প্রধান আমল দুইটি: নফল রোজা রাখা ও বেশি বেশি তাওবাহ-ইস্তিগফার পাঠ করা।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “রামাদানের পর সর্বোত্তম রোজা হলো, আল্লাহর মাস মুহাররাম (মাসের রোজা)।” [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ২৬৪৫]
প্রখ্যাত সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রা.) সম্মানিত মাসগুলোতে রোজা রাখতেন। [ইমাম ইবনু আবি শাইবাহ, আল-মুসান্নাফ: ৪/২৯২; বর্ণনাটির সনদ সহিহ]
শায়খ ইবনু উসাইমিন (রাহ.) বলেন, অনেক ফকিহ মুহাররামের সারা মাস ধরে রোজা রাখা উত্তম বলেছেন। তাঁরা উপরে বর্ণিত সহিহ মুসলিমের হাদিসটিকে দলিল হিসেবে সামনে এনেছেন। তবে, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুহাররামের সারা মাস জুড়ে রোজা রাখেননি।
মুহাররামের প্রথম দশ দিন রোজা রাখা যায়। কারণ, সালাফগণ মুহাররামের প্রথম দশককে মর্যাদাপূর্ণ বলেছেন। তবে, এ ব্যাপারে বিশুদ্ধ কোনো হাদিস আছে কি না, তা আমাদের জানা নেই। তাছাড়া, মুহাররামের প্রথম দশ দিন জিলহজের প্রথম দশক বা রমাদানের শেষ দশকের মত নয়। তাই, মুহাররাম মাসের যে কয় দিন সুবিধা হয়, রোজা রাখা উত্তম। তবে, মুহাররামের ১০ তারিখ আশুরার রোজা বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে রাখা উচিত।
আশুরার দিনে রোজা রাখার ফজিলত ও গুরুত্ব অনেক বেশি। এ ব্যাপারে বেশ কিছু হাদিস এসেছে। সেটি নিয়ে আলাদা একটি পর্ব থাকবে, ইনশাআল্লাহ।
তাছাড়া মুহাররাম মাসে তাওবাহ্ ও ইস্তিগফারের আলাদা গুরুত্ব আছে; বিশেষত আশুরার দিন।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘...এই মাসে এমন একটি দিন রয়েছে, যেদিন আল্লাহ তাআলা একটি সম্প্রদায়ের তাওবাহ কবুল করেছেন। (ভবিষ্যতে) অন্যান্য সম্প্রদায়ের তাওবাহ কবুল করবেন।’’ [ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান: ৭৪১; ইমাম আহমাদ, আল-মুসনাদ: ১৩২২; হাদিসটির সনদ দুর্বল]
#শাহরুল্লাহ (প্রথম পর্ব)
আরও কিছু পর্ব শীঘ্রই আসবে, ইনশাআল্লাহ।