17/02/2026
রমজান মাস হলো আত্মশুদ্ধি, সংযম এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক মহিমান্বিত সময়। এই মাসকে অর্থবহ করে তুলতে এখানে কিছু জরুরি উপদেশ দেওয়া হলো:
১. নিয়ত ও মানসিক প্রস্তুতি
যেকোনো কাজের সফলতা নির্ভর করে নিয়তের ওপর। তাই রমজান শুরুর আগেই মনে মনে দৃঢ় সংকল্প করুন যে, এই মাসটি আপনি কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাটাবেন। শুধু উপবাস নয়, বরং কুপ্রবৃত্তি থেকে দূরে থাকাই হোক মূল লক্ষ্য।
২. ইবাদতে ধারাবাহিকতা রক্ষা
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ: ফরজ নামাজগুলো জামাতের সাথে পড়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করুন।
কুরআন তিলাওয়াত: প্রতিদিন অন্তত কয়েক পৃষ্ঠা অর্থসহ কুরআন পড়ার অভ্যাস করুন। এটি আপনার চিন্তাধারায় পরিবর্তন আনবে।
তাহাজ্জুদ ও দোয়া: সাহরির সময় অন্তত দু-রাকাত তাহাজ্জুদ পড়ে আল্লাহর কাছে মনের আকুতিগুলো জানান। ইফতারের আগের সময়টুকু দোয়া কবুলের মোক্ষম সময়, তাই তখন বেশি বেশি দোয়া করুন।
৩. আচরণের পরিবর্তন
রোজা রেখে মিথ্যা বলা, গিবত করা (পরনিন্দা) বা কারো সাথে ঝগড়া করা থেকে বিরত থাকুন। নবীজি (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি মিথ্যা বলা ও মন্দ কাজ ত্যাগ করল না, তার পানাহার ত্যাগ করায় আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই। তাই নিজের জবান ও মেজাজ নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
৪. পরিমিত ও স্বাস্থ্যকর খাবার
সাহরি: সাহরি মিস করবেন না। এটি সুন্নত এবং এতে বরকত রয়েছে। তবে অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন যাতে সারা দিন শরীর সতেজ থাকে।
ইফতার: ইফতারে খেজুর ও পানি দিয়ে শুরু করা সুন্নাহ। অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খেয়ে পেট ভারী করবেন না, এতে ইবাদতে অলসতা আসতে পারে।
৫. দান-সদকাহ ও মানবসেবা
রমজান হলো সহমর্মিতার মাস। আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী গরিব-দুঃখীদের সাহায্য করুন। ইফতার করানো বা জাকাত আদায়ের মাধ্যমে অন্যের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করুন।