31/08/2026
ঋণের কিস্তি কেন ফেরত আসে না—দোষটা কি শুধু ঋণগ্রহীতার?
—একটি ঋণখেলাপির গল্পের আড়ালে ব্যাংকিং ব্যবস্থার যে অদৃশ্য গল্পটি আমরা দেখি না
ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার সময় একজন উদ্যোক্তা সাধারণত খুব আত্মবিশ্বাসী থাকেন। ব্যাংকারও তখন তাকে বলেন—“আপনার ব্যবসা ভালো, ক্যাশ ফ্লো ভালো, জামানত আছে, অভিজ্ঞতা আছে; আমরা আপনার পাশে আছি।”
কয়েক বছর পর সেই একই উদ্যোক্তার নামের পাশে লেখা হয়—“খেলাপি ঋণগ্রহীতা”।
তখন ব্যাংক বলে—“গ্রাহক টাকা ফেরত দিচ্ছে না।”
গ্রাহক বলে—“ব্যবসা খারাপ হয়েছে, সময় দিলে টাকা দিয়ে দেব।”
ব্যাংকারের আরেকটি অংশ বলে—“গ্রাহক ইচ্ছাকৃতভাবে টাকা আটকে রেখেছে।”
আর সমাজ খুব সহজেই রায় দিয়ে দেয়—
“লোকটা টাকা মেরে দিয়েছে।”
কিন্তু প্রশ্ন হলো—সব ক্ষেত্রে কি সত্যিই তাই?
আর যদি একজন ঋণগ্রহীতা ঋণ পরিশোধ করতে না পারেন, তাহলে তার পেছনে আসলে কারা দায়ী?
ঋণগ্রহীতা?
ব্যাংকার?
ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ?
ব্যবসার ব্যবস্থাপনা?
নাকি নিয়ন্ত্রক ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কাঠামো?
নাকি সবাই কিছুটা করে দায়ী?
বাংলাদেশের বর্তমান ব্যাংকিং সংকটের দিকে তাকালে দেখা যায়, এই প্রশ্নটির উত্তর কোনো একটি পক্ষকে দায়ী করে দেওয়া সম্ভব নয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের Financial Stability Report 2025 অনুযায়ী, ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে ব্যাংকিং খাতে মোট খেলাপি ঋণের অনুপাত ৩০.৬০ শতাংশে পৌঁছায় এবং মোট খেলাপি ঋণ দাঁড়ায় প্রায় ৫.৫৭ লাখ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজেই ঋণের মান অবনতির পেছনে দুর্বল ঋণ ব্যবস্থাপনা, দুর্বল তদারকি, ঋণ পুনরুদ্ধারের ধীরগতি এবং দেশীয় ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের কথা উল্লেখ করেছে। �
BB
অর্থাৎ সমস্যাটি শুধু “গ্রাহক টাকা দেয়নি”—এত সরল নয়।
প্রথম সত্য: সব খেলাপি ঋণ এক ধরনের নয়
এখানেই আমাদের সবচেয়ে বড় ভুল।
একজন উদ্যোক্তা ১০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে ব্যবসায় বিনিয়োগ করলেন। তিনি নিয়মিত ব্যবসা করলেন, শ্রমিকের বেতন দিলেন, কাঁচামাল কিনলেন, কর দিলেন, ব্যাংকের সুদ দিলেন।
এরপর হঠাৎ—
ডলারের দাম বেড়ে গেল,
কাঁচামালের দাম বেড়ে গেল,
বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যা হলো,
পণ্যের আন্তর্জাতিক মূল্য পড়ে গেল,
ক্রেতা পেমেন্ট আটকে দিল,
রপ্তানি অর্ডার বাতিল হলো,
অথবা রাজনৈতিক অস্থিরতায় কারখানা বন্ধ থাকল।
ফলে তার Cash Flow ভেঙে গেল।
তিনি হয়তো ১০ কোটি টাকার সম্পদের মালিক, কিন্তু হাতে মাসিক কিস্তি দেওয়ার মতো নগদ টাকা নেই।
এই ব্যক্তি কি “ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি”?
অন্যদিকে আরেকজন ব্যক্তি ১০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে ব্যবসায় না লাগিয়ে জমি কিনলেন, অন্য প্রতিষ্ঠানে টাকা সরালেন, বিদেশে সম্পদ করলেন অথবা নিজের নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানে অর্থ স্থানান্তর করলেন।
তারপর ব্যাংককে বললেন—
“ব্যবসা খারাপ।”
এই দুই ব্যক্তিকে একই শ্রেণিতে ফেললে বিচার কোথায়?
একজনের সমস্যা Liquidity।
অন্যজনের সমস্যা Integrity।
একজনের ব্যবসা বাঁচানোর জন্য পুনর্গঠন দরকার হতে পারে।
অন্যজনের ক্ষেত্রে দরকার তদন্ত, সম্পদ শনাক্তকরণ এবং কঠোর recovery।
তাহলে আসল প্রশ্ন: কে দায়ী?
আমার মতে, একটি ঋণখেলাপির পেছনে সাধারণত ছয়টি স্তরের দায় খুঁজে দেখা প্রয়োজন।
১. ঋণগ্রহীতা
২. ঋণ অনুমোদনকারী ব্যাংকার
৩. ব্যাংকের Credit Governance
৪. মালিকপক্ষ/পরিচালনা পর্ষদ
৫. নিয়ন্ত্রক ও আইন প্রয়োগকারী কাঠামো
৬. সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়িক পরিবেশ
প্রতিটি খেলাপি ঋণের ক্ষেত্রে এই ছয়টি স্তর পরীক্ষা না করে শুধু গ্রাহককে দোষারোপ করলে আমরা সমস্যার মূল জায়গায় পৌঁছাতে পারব না।
একটি উদাহরণ দিই
ধরা যাক, “ABC Textiles” নামে একটি প্রতিষ্ঠান।
ব্যাংক তাকে ৫০ কোটি টাকা ঋণ দিল।
ব্যাংক জানে—
কোম্পানির turnover ৩০ কোটি,
কিন্তু ঋণ দেওয়া হলো ৫০ কোটি,
collateral-এর মূল্য ৭০ কোটি দেখানো হয়েছে,
মালিকের নিজস্ব equity খুব কম,
cash flow projection অনেকটা আশাবাদী।
তারপরও ঋণ অনুমোদিত হলো।
কেন?
কারণ হয়তো গ্রাহক প্রভাবশালী।
হয়তো ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক business target পূরণ করতে চান।
হয়তো Credit Committee মনে করেছে collateral যথেষ্ট।
হয়তো Board-এর কোনো প্রভাব ছিল।
অথবা হয়তো Credit Assessment-ই দুর্বল ছিল।
দুই বছর পর প্রতিষ্ঠানটি ঋণ পরিশোধ করতে পারল না।
তখন ব্যাংক বলল—
“গ্রাহক খেলাপি।”
কিন্তু প্রশ্ন হলো—
৫০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার সময় যে ৫০ কোটি টাকার ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল, তখন সেই ঝুঁকির দায় কার ছিল?
ব্যাংক কি শুধু টাকা দেয়, নাকি ঝুঁকিও মূল্যায়ন করে?
এখানে ব্যাংকিংয়ের একটি মৌলিক সত্য আমাদের মনে রাখতে হবে।
ব্যাংক কোনো charity প্রতিষ্ঠান নয়।
ব্যাংক মানুষের আমানত নিয়ে সেই অর্থ ঋণ হিসেবে দেয়।
অর্থাৎ ব্যাংকারের দায়িত্ব শুধু টাকা দেওয়া নয়।
তার চেয়েও বড় দায়িত্ব হলো—
সঠিক মানুষকে, সঠিক পরিমাণে, সঠিক উদ্দেশ্যে, সঠিক কাঠামোয় ঋণ দেওয়া।
একজন ঋণ কর্মকর্তার কাজ শুধু জামানতের মূল্য দেখা নয়।
তার দেখতে হবে—
Character
ঋণগ্রহীতা কে?
Capacity
সে টাকা ফেরত দেওয়ার সক্ষমতা রাখে কি?
Capital
ব্যবসায় তার নিজের বিনিয়োগ কত?
Collateral
জামানত কতটা বাস্তব ও liquid?
Conditions
ব্যবসার সামগ্রিক পরিবেশ কেমন?
এই পাঁচটি বিষয় যথাযথভাবে বিশ্লেষণ না করে শুধু জমির দলিল দেখে ঋণ দেওয়া হলে সেটি ব্যাংকিং নয়—সেটি অনেক সময় collateral-based lending হয়ে যায়।
আর এখানেই শুরু হয় বিপদ
ধরা যাক, কোনো ব্যবসায়ীর ২০ কোটি টাকার ব্যবসা।
ব্যাংক তাকে ৫০ কোটি টাকা ঋণ দিল।
তারপর ব্যবসায়ী আরও ৩০ কোটি টাকা অন্য ব্যাংক থেকে নিলেন।
আরও ২০ কোটি অন্য একটি financial institution থেকে নিলেন।
এক পর্যায়ে তার মোট ঋণ দাঁড়াল ১০০ কোটি টাকা।
কিন্তু তার ব্যবসার প্রকৃত cash generation হয়তো ১০ কোটি টাকারও কম।
এখন প্রশ্ন—
এই ১০০ কোটি টাকা কি শুধু ব্যবসায়ীর দোষে তৈরি হলো?
নাকি পাঁচটি ব্যাংক পাঁচটি আলাদা জায়গা থেকে একই ব্যবসায়ীকে ঋণ দেওয়ার সময় কেউ পুরো চিত্রটি দেখেনি?
একই গ্রাহক, একাধিক ব্যাংক—কিন্তু ঝুঁকির হিসাব কোথায়?
ব্যাংকিং ব্যবস্থায় একটি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ব্যাংকের exposure বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
একটি ব্যাংক যদি দেখে—
“আমাদের কাছে গ্রাহকের ২০ কোটি ঋণ আছে, collateral ৩০ কোটি।”
তাহলে আপাতদৃষ্টিতে ভালো মনে হতে পারে।
কিন্তু যদি অন্য চারটি ব্যাংকে তার আরও ৮০ কোটি টাকা ঋণ থাকে?
তাহলে বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।
এখানে প্রশ্ন আসে—
ঋণ দেওয়ার আগে গ্রাহকের সামগ্রিক indebtedness কতটা গভীরভাবে যাচাই করা হয়েছিল?
আরেক ধরনের খেলাপি আছে—যাকে বলা যায় “ব্যবসায়িক দুর্ঘটনার শিকার”
একজন ব্যবসায়ী হয়তো সৎভাবে ব্যবসা করেছেন।
কিন্তু ব্যবসা সবসময় উদ্যোক্তার নিয়ন্ত্রণে থাকে না।
ধরা যাক একজন আমদানিকারক।
তিনি ১ মিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করলেন।
LC খোলার সময় ডলার ছিল ৮৫ টাকা।
পণ্য আসার সময় ডলার হলো ১২০ টাকা।
তার cost হঠাৎ করে বিশাল বেড়ে গেল।
অথবা তিনি এমন পণ্য আমদানি করলেন যার আন্তর্জাতিক মূল্য ২০ শতাংশ কমে গেল।
অথবা ক্রেতা তার পাওনা ৬ মাস ধরে দিল না।
এখন তার ব্যাংকের ঋণ পরিশোধের সময় এসেছে।
কিন্তু তার receivable আটকে আছে।
সে কি টাকা দিতে চায় না?
নাকি টাকা দেওয়ার সক্ষমতা সাময়িকভাবে হারিয়েছে?
এই দুইটির মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য।
কিন্তু আরেকটি ভয়ংকর বাস্তবতাও আছে
কিছু ঋণগ্রহীতা সত্যিই ঋণ ফেরত দিতে চান না।
এখানে কোনো অজুহাত দেওয়ার সুযোগ নেই।
ব্যাংকের টাকা মানে জনগণের টাকা।
ব্যাংকের আমানতকারীর টাকা।
একজন ঋণগ্রহীতা যদি পরিকল্পিতভাবে ব্যাংকের টাকা অন্যত্র সরিয়ে ফেলেন, সম্পদ লুকান, কোম্পানি বন্ধ করে নতুন নামে ব্যবসা শুরু করেন, অথবা আইনের দুর্বলতা ব্যবহার করে বছরের পর বছর recovery ঠেকিয়ে রাখেন—
তাহলে তিনি শুধু ব্যাংকের ক্ষতি করছেন না।
তিনি সৎ ঋণগ্রহীতাকেও শাস্তি দিচ্ছেন।
কারণ ব্যাংকের টাকা যখন কয়েকজন বড় ঋণগ্রহীতা ফেরত দেয় না, তখন ব্যাংক ঝুঁকি কমাতে অন্য ভালো গ্রাহকের ওপরও কঠোর হয়।
সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয় সৎ ব্যবসায়ীর
একজন সৎ উদ্যোক্তা ব্যাংকের কিস্তি সময়মতো দেন।
তিনি ব্যাংকের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখেন।
তার credit history ভালো।
কিন্তু তিনি যখন পরবর্তী সময়ে ঋণ নিতে যান, তখন ব্যাংক বলে—
“বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা খুব conservative।”
কেন?
কারণ ব্যাংকের balance sheet-এ বিশাল পরিমাণ খেলাপি ঋণ জমে আছে।
অর্থাৎ একজনের অনৈতিকতার খেসারত অন্যজনকেও দিতে হচ্ছে।
এটি অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।
খেলাপি ঋণ শুধু ব্যাংকের সমস্যা নয়
এটি একটি ভুল ধারণা যে—
“ব্যাংকের টাকা গেছে, ব্যাংক সামলাবে।”
না।
ব্যাংকের টাকা মানে আমানতকারীর টাকা।
ব্যাংকের ক্ষতি শেষ পর্যন্ত প্রভাব ফেলে—
আমানতকারীর ওপর,
ঋণগ্রহীতার ওপর,
বিনিয়োগকারীর ওপর,
ব্যবসার ওপর,
কর্মসংস্থানের ওপর,
সরকারের ওপর,
এমনকি সাধারণ মানুষের ওপরও।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ব্যাংকিং খাতের asset quality-এর বড় ধরনের অবনতির কথা উঠে এসেছে। একই প্রতিবেদনে দুর্বল lending ও oversight এবং recovery-এর ধীরগতির পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপকেও ঋণের মান খারাপ হওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। �
BB
তাহলে কি ব্যাংকারদের কোনো দায় নেই?
অবশ্যই আছে।
একজন ব্যাংকার যদি জেনেশুনে দুর্বল গ্রাহককে ঋণ দেন, collateral অতিমূল্যায়ন করেন, financial statement যাচাই না করেন, cash flow না দেখেন অথবা প্রভাবশালী ব্যক্তির চাপের কাছে নতি স্বীকার করেন—
তাহলে সেই ঋণ খেলাপি হলে শুধু গ্রাহককে দায়ী করা ন্যায়সংগত নয়।
কারণ ব্যাংকারের কাছে ছিল—
Credit appraisal-এর ক্ষমতা।
ছিল—
Due diligence করার সুযোগ।
ছিল—
Credit history দেখার সুযোগ।
ছিল—
Financial statement যাচাই করার সুযোগ।
ছিল—
Site visit করার সুযোগ।
ছিল—
Stock verification করার সুযোগ।
ছিল—
Cash flow analysis করার সুযোগ।
ছিল—
Risk assessment করার দায়িত্ব।
তাহলে এসব করার পরও যদি ভুল মানুষকে টাকা দেওয়া হয়, তার দায় কোথায় যাবে?
আরেকটি প্রশ্ন—জামানত কি সব সমস্যার সমাধান?
আমাদের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অনেক সময় একটি ভুল ধারণা দেখা যায়—
“জামানত আছে, তাই ঋণ নিরাপদ।”
কিন্তু ১০ কোটি টাকার ঋণের বিপরীতে ২০ কোটি টাকার জমি থাকলেই ঋণ নিরাপদ হয় না।
কারণ জমি—
বিক্রি করতে সময় লাগে,
মামলা থাকতে পারে,
মূল্যায়ন অতিরঞ্জিত হতে পারে,
বাজারমূল্য কমে যেতে পারে,
possession সমস্যা থাকতে পারে,
title defect থাকতে পারে।
অর্থাৎ Collateral হলো second way out।
প্রথম repayment source হওয়া উচিত—
Business Cash Flow।
ব্যবসা থেকে টাকা না এলে শুধু জমি দিয়ে ব্যাংক চালানো যায় না।
কেন এত বছর পরেও recovery কঠিন?
এখানেও একটি বড় প্রশ্ন আছে।
একটি ঋণ খেলাপি হওয়ার পর ব্যাংক যদি বছরের পর বছর মামলা করে, তারপরও যদি সামান্য অর্থ উদ্ধার করতে পারে, তাহলে পুরো recovery mechanism-টি কি নতুন করে ভাবার সময় আসেনি?
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য উদ্ধৃত করে একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন আদালতে নিষ্পত্তি হওয়া প্রায় ১.৭৭ লাখ কোটি টাকার খেলাপি ঋণের মামলায় আদায় হয়েছে প্রায় ২০ শতাংশ। একই প্রতিবেদনে ব্যাংকাররা indiscriminate lending, collateral overvaluation এবং borrowing institution বন্ধ হয়ে যাওয়াকে খেলাপির কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। �
The Business Standard
এখানে শুধু ঋণগ্রহীতার চরিত্র নিয়ে আলোচনা করলে হবে না।
Recovery ecosystem নিয়েও আলোচনা করতে হবে।
মামলা কি recovery-এর শেষ সমাধান?
মামলা অবশ্যই প্রয়োজনীয়।
কিন্তু প্রতিটি ঋণের সমাধান শুধু আদালতের ওপর ছেড়ে দিলে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় recovery culture তৈরি হয় না।
বরং প্রয়োজন—
Early Warning System।
গ্রাহক তিন মাস কিস্তি বন্ধ করার পর ব্যবস্থা নেওয়া অনেক দেরি।
তার আগেই ব্যাংককে বুঝতে হবে—
বিক্রি কমছে কি না,
receivable বাড়ছে কি না,
inventory অস্বাভাবিক বাড়ছে কি না,
supplier payment আটকে আছে কি না,
salary payment অনিয়মিত হয়েছে কি না,
ব্যাংকের বাইরে লেনদেন বেড়েছে কি না,
related-party transaction হচ্ছে কি না।
অর্থাৎ—
Loan Recovery-এর চেয়ে Loan Monitoring অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
একটি ভালো ব্যাংক খেলাপি হওয়ার আগেই ঋণ বাঁচায়
এটাই আধুনিক banking-এর মূল শিক্ষা।
গ্রাহক যখন বলে—
“স্যার, আমি সমস্যায় আছি।”
তখন ব্যাংকারের প্রথম প্রশ্ন হওয়া উচিত নয়—
“আপনাকে মামলা দেব?”
প্রথম প্রশ্ন হওয়া উচিত—
“সমস্যাটা কোথায়?”
যদি দেখা যায় ব্যবসাটি viable, কিন্তু temporary liquidity crisis হয়েছে, তাহলে restructuring, rescheduling, repayment tenor adjustment কিংবা working capital restructuring-এর মাধ্যমে ব্যবসাটিকে বাঁচানো সম্ভব হতে পারে—যেখানে প্রযোজ্য ও নিয়মসঙ্গত।
কারণ—
একটি ব্যবসা বাঁচানো মানে শুধু একজন উদ্যোক্তাকে বাঁচানো নয়।
তার সঙ্গে বাঁচে—
শ্রমিক,
সরবরাহকারী,
পরিবহনকারী,
ব্যাংক,
সরকার,
কর রাজস্ব,
পরিবার,
এবং পুরো supply chain।
কিন্তু restructuring যেন “ঋণ লুকানোর” হাতিয়ার না হয়
এখানেও ভারসাম্য দরকার।
একজন ভালো ব্যবসায়ীকে সময় দেওয়া আর একজন ইচ্ছাকৃত খেলাপিকে বারবার সুবিধা দেওয়া—এক জিনিস নয়।
যদি কোনো প্রতিষ্ঠান বাস্তবে মৃত, কিন্তু কাগজে তাকে বারবার “regular” দেখানো হয়, তাহলে ব্যাংকের balance sheet সুন্দর দেখালেও বাস্তব সমস্যা আরও গভীরে যায়।
অর্থাৎ—
Rescheduling should cure a temporary problem, not conceal a permanent one.
তাহলে প্রকৃত ঋণখেলাপি চেনার উপায় কী?
আমার মতে, একটি ব্যাংকের প্রতিটি বড় খেলাপি ঋণকে অন্তত পাঁচটি প্রশ্নের সামনে দাঁড় করানো উচিত।
এক.
ঋণ নেওয়ার সময় ব্যবসাটি কি বাস্তব ও viable ছিল?
দুই.
ঋণের টাকা কি অনুমোদিত উদ্দেশ্যে ব্যবহার হয়েছে?
তিন.
বর্তমান সমস্যা কি business failure, নাকি fund diversion?
চার.
ঋণগ্রহীতার নিজের সম্পদ ও cash flow কোথায়?
পাঁচ.
ঋণগ্রহীতা কি সত্যিই টাকা দিতে অক্ষম, নাকি টাকা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন?
এই পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর বের করতে পারলে অনেক রহস্য পরিষ্কার হয়ে যাবে।
একজন ব্যবসায়ী ব্যর্থ হতে পারেন—তিনি অপরাধী নাও হতে পারেন
এটি আমাদের সমাজকে বুঝতে হবে।
ব্যবসা মানেই ঝুঁকি।
১০০টি ব্যবসার মধ্যে কিছু ব্যবসা সফল হবে, কিছু ব্যর্থ হবে।
একজন উদ্যোক্তা যদি নিজের টাকা, ব্যাংকের টাকা এবং অন্য বিনিয়োগকারীর টাকা নিয়ে ব্যবসা করেন, ব্যবসা ব্যর্থ হলে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
কিন্তু তিনি যদি প্রতারণা না করেন, টাকা আত্মসাৎ না করেন, সম্পদ লুকিয়ে না রাখেন এবং repayment-এর আন্তরিক চেষ্টা করেন—
তাকে একজন failed entrepreneur হিসেবে দেখা যেতে পারে।
তাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে financial criminal বানানো ঠিক নয়।
আবার ব্যবসায়ী হলেই নির্দোষ—এটিও সত্য নয়
অন্যদিকে “ব্যবসা খারাপ হয়েছে” বললেই সব দায় শেষ হয়ে যায় না।
যদি দেখা যায়—
ঋণের টাকা অন্য কোম্পানিতে গেছে,
ব্যক্তিগত সম্পদ কেনা হয়েছে,
বিদেশে অর্থ সরানো হয়েছে,
related party-কে টাকা দেওয়া হয়েছে,
ভুয়া invoice তৈরি হয়েছে,
stock দেখানো হয়েছে কিন্তু বাস্তবে নেই,
financial statement সাজানো হয়েছে—
তাহলে সেটি আর সাধারণ ব্যবসায়িক ব্যর্থতা নয়।
সেখানে দায়বদ্ধতা ও আইনি ব্যবস্থা প্রয়োজন।
ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের দায়ও দেখতে হবে
ব্যাংকের Board শুধু নামমাত্র একটি প্রতিষ্ঠান নয়।
তাদের দায়িত্ব হলো ব্যাংকের risk culture তৈরি করা।
যদি Board-এর কাছে বারবার বলা হয়—
“এই গ্রাহকের exposure অনেক বেশি।”
তারপরও যদি অযৌক্তিকভাবে ঋণ দেওয়া হয়, তাহলে প্রশ্ন উঠবে।
যদি কোনো গ্রাহক একই সঙ্গে Board-এর সঙ্গে সম্পর্কিত হয় এবং সেই গ্রাহককে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়, তাহলেও প্রশ্ন উঠবে।
ব্যাংকিং ব্যবস্থায় conflict of interest যতদিন থাকবে, ততদিন ঋণ ব্যবস্থাপনায় ঝুঁকি থাকবে।
রাজনীতি ও ঋণের সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন তুলতে হবে
বাংলাদেশের ব্যাংকিং সংকট বিশ্লেষণ করতে গিয়ে সাম্প্রতিক বহু বিশ্লেষণে রাজনৈতিক প্রভাব, দুর্বল governance এবং connected lending-এর বিষয় উঠে এসেছে। �
The Daily Star +1
এখানে বিষয়টি খুব সতর্কভাবে দেখতে হবে।
কারণ রাজনৈতিক পরিচয় থাকা মানেই কেউ ঋণখেলাপি নন।
আবার রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে ঋণ পাওয়া বা recovery ঠেকানো হলে সেটিও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
ব্যাংকের দরজা সবার জন্য সমান হওয়া উচিত।
ক্ষমতাবান ব্যক্তির জন্য এক নিয়ম আর সাধারণ উদ্যোক্তার জন্য অন্য নিয়ম হলে ব্যাংকিং ব্যবস্থা কখনো সুস্থ হবে না।
সবচেয়ে বড় রোগ: “Too Big to Fail” সংস্কৃতি
যে গ্রাহক ছোট, তার ওপর ব্যাংক কঠোর।
যে গ্রাহক বড়, তার জন্য—
meeting,
restructuring,
rescheduling,
special consideration,
additional time।
এমন ধারণা তৈরি হলে ছোট উদ্যোক্তা প্রশ্ন করবেন—
“আমি সময়মতো টাকা দিলাম কেন?”
এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক।
কারণ অর্থনীতিতে সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় শুধু খেলাপি ঋণ নয়।
খেলাপি হওয়ার incentive তৈরি হওয়া।
সৎ ঋণগ্রহীতাকে পুরস্কৃত করতে হবে
আমাদের banking system-এ একটি নতুন culture দরকার।
যে ব্যবসায়ী—
সময়মতো কিস্তি দেন,
ব্যাংকের সঙ্গে স্বচ্ছ থাকেন,
financial statement ঠিক রাখেন,
tax ও VAT compliance করেন,
fund diversion করেন না,
তাকে অবশ্যই ভালো pricing, দ্রুত service এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে বেশি credit access দিতে হবে।
অর্থাৎ—
Good borrower should get a visible advantage.
খেলাপির ক্ষেত্রেও তিনটি শ্রেণি করা যেতে পারে
প্রথম শ্রেণি: Genuine Distress
ব্যবসা বাস্তবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
টাকা ফেরত দেওয়ার ইচ্ছা আছে।
সম্পদ আছে।
ব্যবসা viable।
সমাধান: Restructuring + Monitoring
দ্বিতীয় শ্রেণি: Weak Management
ব্যবসায়ী টাকা আত্মসাৎ করেননি, কিন্তু ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থ হয়েছেন।
ভুল বিনিয়োগ করেছেন।
অতিরিক্ত ঋণ নিয়েছেন।
cash flow ঠিকমতো পরিচালনা করেননি।
সমাধান: Management correction + restructuring + close monitoring
তৃতীয় শ্রেণি: Wilful Default/Fraud
টাকা অন্যত্র সরানো হয়েছে।
সম্পদ লুকানো হয়েছে।
ইচ্ছাকৃতভাবে repayment বন্ধ করা হয়েছে।
ব্যাংককে বিভ্রান্ত করা হয়েছে।
সমাধান: Legal action + asset recovery + accountability
এই তিন শ্রেণিকে এক করে ফেললে বিচারও ভুল হবে, recovery-ও ভুল হবে।
ব্যাংকারের KPI-ও বদলাতে হবে
আমাদের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় একটি মৌলিক প্রশ্ন হলো—
একজন কর্মকর্তাকে যদি শুধু বলা হয়—
“এ বছর কত টাকা disbursement করেছ?”
তাহলে তিনি স্বাভাবিকভাবেই বেশি ঋণ দিতে চাইবেন।
কিন্তু KPI হওয়া উচিত—
“আপনি যে ঋণ দিয়েছেন, পাঁচ বছর পর তার কত শতাংশ performing?”
Disbursement নয়,
Quality of Lending হওয়া উচিত প্রধান মাপকাঠি।
একজন ভালো Credit Officer আসলে টাকা দেয় না—ঝুঁকি বেছে নেয়
এটি ব্যাংকিং পেশার একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য।
একজন দক্ষ credit officer জানেন—
সব ভালো ব্যবসাও ভালো borrower নয়।
আবার সব ছোট ব্যবসাও খারাপ borrower নয়।
একজন borrower-এর balance sheet সুন্দর হতে পারে, কিন্তু governance খারাপ হতে পারে।
আবার একটি ছোট ব্যবসার formal financial statement দুর্বল হতে পারে, কিন্তু ব্যবসার cash flow শক্তিশালী হতে পারে।
তাই শুধু কাগজ নয়—
ব্যবসা বুঝতে হবে।
ঋণখেলাপির গল্পে “ক্যাশ ফ্লো” হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র
একটি ব্যবসা লাভ করছে—এটা যথেষ্ট নয়।
প্রশ্ন হলো—
লাভের টাকা কোথায়?
Profit আছে কিন্তু cash নেই—তাহলে ব্যাংকের কিস্তি কীভাবে দেবেন?
একজন ব্যবসায়ীর ১০ কোটি টাকা profit দেখানো আছে।
কিন্তু তার receivable ১৫ কোটি টাকা আটকে আছে।
Inventory ৮ কোটি টাকা।
Supplier payable ৭ কোটি টাকা।
তাহলে কাগজে profit থাকলেও cash কোথায়?
এই জায়গায় ভুল Credit Analysis করলে ভবিষ্যতে খেলাপি তৈরি হবেই।
আজকের বাংলাদেশে আরও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—অর্থনীতির পরিবর্তন
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ বেড়েছে—
বিনিময় হার,
সুদের হার,
আমদানি ব্যয়,
জ্বালানি ব্যয়,
কাঁচামালের মূল্য,
বৈশ্বিক বাজার,
রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা,
সরবরাহ ব্যবস্থার সমস্যা।
বাংলাদেশ ব্যাংকও ২০২৫ সালের Financial Stability Report-এ domestic economic challenges এবং global tensions-এর কারণে borrowers-এর repayment capacity দুর্বল হওয়ার কথা উল্লেখ করেছে। �
BB
অতএব, প্রত্যেক খেলাপিকে একই চোখে দেখলে অর্থনীতির বাস্তবতা অস্বীকার করা হবে।
তবে একটা প্রশ্ন থেকেই যায়
যদি এতগুলো কারণ থাকে, তাহলে আমরা কেন এখনো “খেলাপি = খারাপ মানুষ” এই সমীকরণে আটকে আছি?
কারণ সাধারণ মানুষের কাছে ঋণ একটি ব্যক্তিগত বিষয়।
কিন্তু ব্যাংকের কাছে ঋণ হলো—
Risk Management-এর বিষয়।
একটি ঋণ সফল হবে কি না, সেটা নির্ভর করে—
Borrower + Banker + Business + Governance + Economy + Regulation
সবকিছুর ওপর।
আমাদের প্রয়োজন “Defaulter Hunting” নয়, “Default Prevention”
ঋণখেলাপি হওয়ার পর শিকার শুরু করা সহজ।
কঠিন হলো খেলাপি হওয়ার আগেই ঝুঁকি শনাক্ত করা।
ব্যাংকের উচিত—
Early Warning System
Real-time Cash Flow Monitoring
Stock Verification
Receivable Monitoring
Related-party Transaction Analysis
Credit Concentration Monitoring
Independent Valuation
Beneficial Ownership Verification
Post-disbursement Monitoring
এগুলো শক্তিশালী করা।
কারণ—
এক কোটি টাকা recovery করার চেয়ে এক কোটি টাকা ভুল জায়গায় না দেওয়াই অনেক ভালো ব্যাংকিং।
শেষ কথা: ঋণখেলাপির কাঠগড়ায় একা একজনকে দাঁড় করালে সত্যিটা ধরা পড়বে না
একজন গ্রাহক ঋণ নিয়ে টাকা ফেরত দিতে পারছেন না।
আমরা তাকে বললাম—
“আপনি খেলাপি।”
কিন্তু তার আগে প্রশ্ন করা দরকার—
ঋণ দেওয়ার সময় কি যথাযথ যাচাই হয়েছিল?
ঋণের টাকা কি সঠিক কাজে গিয়েছিল?
ব্যাংক কি সময়মতো ঝুঁকি বুঝেছিল?
ব্যবসাটি কি বাস্তবেই viable ছিল?
ব্যবসার cash flow কোথায় ভেঙেছিল?
ব্যাংক কি early warning পেয়েও ব্যবস্থা নেয়নি?
Collateral কি বাস্তব ছিল?
ঋণগ্রহীতা কি টাকা দিতে অক্ষম, নাকি দিতে অনিচ্ছুক?
কেউ কি তাকে রাজনৈতিক বা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সুবিধা দিয়েছে?
Recovery process কেন এত দীর্ঘ?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত শুধু “ঋণখেলাপি” শব্দটি দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না।
আমার প্রস্তাব: প্রতিটি বড় খেলাপি ঋণের একটি “Post-Mortem” হোক
যেমন একজন রোগীর মৃত্যুর কারণ জানতে Post-Mortem করা হয়, তেমনই বড় একটি ঋণ খেলাপি হলে ব্যাংকের ভেতরে একটি স্বাধীন Credit Post-Mortem Committee থাকা উচিত।
সেখানে দেখা হবে—
ঋণ কেন দেওয়া হয়েছিল?
কে অনুমোদন করেছিল?
কী তথ্যের ওপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল?
ঋণের টাকা কোথায় গিয়েছিল?
কখন প্রথম সমস্যা দেখা দিয়েছিল?
ব্যাংক কখন ব্যবস্থা নিয়েছিল?
কেন recovery হয়নি?
কোনো অনিয়ম হয়েছিল কি না?
তারপর দায় নির্ধারণ হবে।
যদি গ্রাহকের দোষ হয়—গ্রাহক দায়ী হবেন।
যদি ব্যাংকারের অবহেলা হয়—ব্যাংকার দায়ী হবেন।
যদি Board-এর হস্তক্ষেপ থাকে—Board দায়ী হবে।
যদি মূল্যায়নে অনিয়ম থাকে—valuer দায়ী হবে।
যদি fraud থাকে—আইনি ব্যবস্থা হবে।
আর যদি অর্থনৈতিক দুর্যোগের কারণে একটি ভালো ব্যবসা সাময়িকভাবে সমস্যায় পড়ে—তাহলে তাকে পুনরুদ্ধারের সুযোগ দিতে হবে।
কারণ শেষ পর্যন্ত একটি কথা আমাদের মনে রাখতে হবে
ব্যাংকের কাজ শুধু টাকা আদায় করা নয়।
ব্যাংকের কাজ হলো সঞ্চয়কে বিনিয়োগে রূপান্তর করা, ভালো ব্যবসাকে অর্থায়ন করা এবং অর্থনীতিকে সচল রাখা।
আর ঋণগ্রহীতার দায়িত্ব শুধু টাকা নেওয়া নয়।
তার দায়িত্ব হলো সততা, স্বচ্ছতা এবং দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সেই অর্থ ব্যবহার করা।
একটি সুস্থ ব্যাংকিং ব্যবস্থা তৈরি হয় তখনই, যখন—
ব্যাংক ভালো ঋণ দেয়,
ব্যবসায়ী ভালোভাবে ব্যবসা করেন,
নিয়ন্ত্রক কঠোরভাবে নজর রাখে,
আইন দ্রুত কাজ করে,
এবং ইচ্ছাকৃত খেলাপির কোনো নিরাপদ আশ্রয় থাকে না।
তাই প্রশ্নটা হওয়া উচিত নয়—
“ঋণের টাকা কে ফেরত দিল না?”
প্রশ্নটা হওয়া উচিত—
“কেন এমন একটি ঋণ তৈরি হলো, যেটি ফেরত আসার মতোভাবে পরিকল্পিত ও পরিচালিত হয়নি?”
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে পারলেই আমরা ঋণখেলাপির গল্প থেকে বের হয়ে ঋণ-শৃঙ্খলার সংস্কৃতিতে যেতে পারব।
আর সেটিই আজ বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।