30/09/2022
যারা শ’খানেক ইসলামি বক্তা ও হাজার খানেক কওমি মাদ্রাসার ব্যাপারে ‘দুদক’এ শ্বেতপত্র জমা দিয়েছিলেন সেই “গণ কমিশন”এর আয় ব্যয়ের এক্সটার্ণাল অডিট রিপোর্ট দেখতে চাই।
যারা কমেন্টবক্স বন্ধ করে কন্টেন্ট পোস্ট করেন, তারা কি জানেন না যে এর মাধ্যমে তারা নিজেদের প্রেজেন্ট করা পয়েন্টকে নিজেরাই প্রশ্নবিদ্ধ করছেন? কারণ, কমেন্টবক্স তারা তখনই বন্ধ রাখেন, যখন বুঝতে পারেন জনমত তাদের বিপক্ষে যাবে। যখনই তারা টের পান, নেটিজেনদের বিশাল অংশ তাদের স্ট্যাটাসের বিপরীত মত ব্যক্ত করবেন, তখনই তারা কমেন্টবক্স বন্ধ করে দেন।
আসলে এরা হলেন এমন সব বিশেষজ্ঞ যারা আগামীকাল জানবেন তারা গতকাল যে ভবিষ্যৎ বাণী করেছিলেন তা আজ কেন ঘটেনি। এদের বর্ণণা করা ইতিহাস হল সেসব পুঁথির মত যার প্রথম দিকের পাতাগুলো হারিয়ে গেছে আর শেষ দিকের পাতাগুলো এখনো লিখা হয়নি। নিজেদের বলা যেসব কথায় মানুষের রিঅ্যাকশন দেখার ভয়ে এরা কমেন্টবক্স বন্ধ রাখে, সেই কথাগুলো হল ক্ষণিকের স্ফুলিঙ্গের মত - উড়ে গিয়ে ফুরিয়ে যায়, যুক্তির অরণ্যে দাবানল সৃষ্টি করতে পারেনা।
বিভিন্ন টকশোতে এসে যে সমস্ত যুক্তি তারা তুলে ধরেন, তর্কশাস্ত্রের অবশ্যপাঠ্য পাওয়ার অব লজিক বইতে ফ্রান্সিস হাওয়ার্ড এগুলোকেই বলেছেন লজিকাল ফ্যালাসি। আর গ্রীক কবি পারমিন্দেস তার "στη φύση" বা “On Nature” কবিতায় এধরনের অযৌক্তিক যুক্তিকে বলেছেন reductio ad absurdum.
এদের অবস্থা আসলে কেমন তার একটা মজার উদাহরণ দেই। মনে করেন, তাদের দলের নেতৃত্বের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে কোন কারনে হয়তো বলা হয়েছে “কপোল ভাসিয়া গেল নয়নের জলে”। কপোল মানে যে গাল, কপাল নয় – তা জানার আগেই নিজেদের ওয়ালে এসে তারা তাদের নেতার অনুকরণে একই বুলি আওড়াচ্ছেন। অতঃপর নিজেরাই ভাবনায় পড়ে যাচ্ছেন, চোখের জলে কপাল ভেসে যাবে কেমন করে! অবশেষে তাদের অপাপবিদ্ধ নেতার বলা এ কথা সঠিক প্রমাণ করতে নতুন একটা লাইন জুড়ে দিয়ে নিজেদের বোঝা ভুল অর্থটাকেই জাস্টিফাই করছেন – “ঠ্যাং দুটি বাঁধা ছিল কদম্বের ডালে”।
©Faatiha Aayat