12/08/2022
আপনার স্টার্টআপ বা কোম্পানীর নাম রাখার সেরাসব কৌশল
কথায় আছে,
“প্রথমে দর্শনদারী, পরে গুণবিচারী”
অর্থ্যাৎ মানুষ প্রথমে দেখে তারপর সিদ্ধান্ত নেয়। আসলেই একটি মানুষকে জানতে বা বুঝতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। তবে কথা শুরু করার জন্য বা সেই মানুষটির প্রতি আকর্ষন অনুভবের জন্য তার বাহ্যিক রূপ, ব্যবহার, পোশাক-পরিচ্ছেদ গুরুত্বপূর্ণ।
ঠিক তেমনি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। একটি আকর্ষণীয় ও বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট নাম আপনার ব্যবসা বা পরিসেবাকে নিয়ে যেতে পারে অনন্য উচ্চতায়। বড় বড় প্রতিষ্ঠানের দিকে যদি খেয়াল করি, তবে দেখতে পারবো আমরা প্রতিষ্ঠানের নাম জানি, পণ্য সমন্ধেও জানি কিন্তু কে তার প্রতিষ্ঠাতা সেটা জানি না।
বর্তমানে কে মালিক তাও জানি না। যুগের পর যুগ সেই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামটাই বেঁচে থাকে মানুষের হৃদয়ে। যেমন বসুন্ধরা,মেঘনা,যমুনা, স্কয়ার, আকিজ, বেক্সিমকো, সিটি গুরুপ। বাংলাদেশের আনাচে কানাচে এই কোম্পানিগুলোর বিভিন্ন পণ্য মানুষ ব্যবহার করে থাকে।
ওকে, এবার বকবক বন্ধ করে মূল কথায় আসি। ধরে নিলাম, আপনার বিজনেসের মিনিমাম স্কেলের ফান্ড রেডি। এখন সময় এসেছে স্বপ্নগুলোর ডানা মেলে উড়বার। আপনার ব্র্যান্ড কেবল বাংলাদেশেই নয় বরং গোটা দুনিয়ার তাবত মানুষের মুখে মুখে থাকবে। আপনি দুনিয়া জুড়ে চষে বেড়াবেন আর মানুষের মুখে নিজ ব্রান্ডের প্রশংসা শুনে পুলকিত হতে থাকবেন।
চলুন, মূল্যবান সেই নাম সৃষ্টি করার কৌশলগুলো আজ শিখে ফেলি
১. Verb Potential:
ধরুন, আপনার ক্ষুধা লেগেছে। ভাবলেন কোন একটি রেস্তোরাঁয় আজকের সন্ধার নাস্তাটুকু খাবেন। ভাবলেন আশেপাশে কি আছে একটু Google করে নেই।
এখন ভাবুন তো, Google এর নাম যদি আগে থেকেই অন্য কোনো অর্থ মিন করত তাহলে কি আমরা বলতে পারতাম Google করে নেই। সো নাম ঠিক করার সময় চেষ্টা করবেন নিজের বিজনেস/ব্র্যান্ড এর নামটাও যেন একটি Verb Potential শব্দ হয়।
২. Meaning in other language :
যেহেতু আপনার উদ্দেশ্যই হলো, নিজের বিজনেসকে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে গোটা পৃথিবীতে নিয়ে যাওয়া, সো আপনাকে আগে দেখে নিতে হবে আপনি যেই নামটা ঠিক করছেন সেটি পৃথিবীর অন্য প্রান্তে বা অন্য কোনো ভাষায় ব্যবহার হয় কিনা।
৩. Avoid Multiple word name (বড় শব্দের নাম পরিহার করুন):
Google, Amazon, Apple, Adidas, Puma পৃথিবীর সব বড় বড় কোম্পানিগুলো Multiple word অ্যাভয়েড করে এসেছে। কেননা Multiple word উচ্চারণ করতে সুন্দর শোনায় না এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে মনে রাখাও কঠিন। বাংলাদেশেও এর একটি ভালো উদাহরণ আছে। DBBL (ডাচ বাংলা ব্যাংক লিমিটেড) শুরুতে তাদের Mobile Banking এর নাম দিয়েছিল Dutch Bangla Mobile Banking যা দোকানে গিয়ে বলাটাই চরম বিরক্তিকর ছিল। পরে কোম্পানীটি নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে সহজ ও অর্থবহ একটি নাম দিল। (Rocket)
৪. Represent what is your Market (নামের মাঝে অডিয়ান্সের উপস্থিতি আবশ্যক):
আপনার টার্গেট যদি হয় আসবাবপত্রের ক্রেতা তাহলে আপনার ব্রান্ডের নাম যেন আসবাবপত্রকেই রিপ্রেজেন্ট করে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
৫. Composite / Anchor Anchor মানে হলো আপনার টার্গেট
কাস্টমার। আর Composite মানে হলো আপনার Anchor এর আগে বা পড়ে কী component যোগ করলে আপনার Anchor এর Benefit প্রকাশ করে?
ধরুন, Happy Socks এখানে Anchor হলো যারা Socks পড়ে। আর Component হলো Happy
৬. Available of Domain Name :
সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ, আপনি যেই নামই পছন্দ করেন না কেন, চেক করে নেবেন Domain নাম যেন অবশ্য অবশ্য খালি থাকে।
কীভাবে চেক করবেন? সোজা চলে যান godaddy.com সাইটে। সেখানে গিয়ে আপনার প্রয়োজনীয় নামটা লিখে সার্চ করেন। পেয়ে গেছেন? অভিনন্দন। আর যদি না পেয়ে থাকেন তবে একটি ট্রিক্স বলি। পছন্দের নামের শেষে ছোট্ট করে bd যোগ করে দিন, পেয়ে যাবেন।
যেমন: Storytellerbd.com
নাম রাখার ক্ষেত্রে যে কাজগুলো ভুলেও করবেন না
১। কপি করবেন না
কখনোই নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য অন্য কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠনের নাম ব্যবহার করবে না। মানুষ যাচাই বাছাই করে অল্প দিনের মধ্যেই আসল কোম্পানি সম্পর্কে জানতে পারবে। তখন আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হবে। আপনি বড় ধরণের ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন। তাই এমন কাজ করা থেকে বিরত থাকুন।
২। অন্য কোম্পানির সাথে মিলিয়ে নাম রাখবেন না
আপনি একই রকম ব্যবসা করছেন হয়তো কিন্তু বাজারে প্রসিদ্ধ কোম্পানির নামের সাথে নিজের কোম্পানির নাম মিলিয়ে রাখবেন না। এতে করে আপনি কখনোই নিজস্ব পরিচিতি পাবেন না। যেমন আমি যদি এখন একটি ইলেকট্রনিক কোম্পানি শুরু করি এবং নাম দেই 'Walton24।
আমার মূলত ইচ্ছে, 'Walton' কোম্পানির ব্যান্ড ভ্যালু কাজে লাগানো। তবে এর ফলাফল হবে জিরো।
সবার মাঝে যখন ব্যাপারটা জানাজানি হয়ে যাবে তখন আপনার কোম্পানি পড়বে বিপদে। লোকেরা আমার পণ্য কিনলেও দিনশেষে ব্র্যান্ড ভ্যালু কিন্তু 'Walton কোম্পানিরই বৃদ্ধি পাবে।
এভাবে আমি কিছুতেই আমার নিজস্ব ব্রান্ড ভ্যালু তৈরী করতে পারবো না। খুব দ্রুত আমাকে মার্কেট ছাড়তে হবে। একটি নামের কারণে আমি হারিয়ে ফেলবো আমার স্বপ্নকে।
৩। প্রতিষ্ঠানে নিজস্ব নাম পরিহার করুন
আপনার যদি নিজ প্রতিষ্ঠান নিয়ে অনেক বড় স্বপ্ন থাকে তবে নিজের বা ছেলে মেয়ের নামে নাম না দেওয়াই ভাল। এলাকা ভিত্তিক ব্যবসা হলে নাম দিতে পারেন। হয়তো তখন মানুষ আপনার নাম জেনেশুনে প্রতিষ্ঠানে আসতে পারে।
কিন্তু আপনার লক্ষ্য যদি হয় সমগ্র দেশ বা গোটা পৃথিবী, তাহলে পণ্য বা সেবার সাথে যায় এমন নাম বেছে নিন।
দেশী-বিদেশী বড় বড় কোম্পানির দিকে লক্ষ্য করলে দেখবেন, এসব কোম্পানির মালিকেরা তাদের নিজস্ব নাম কখনোই ব্যবহার করেননি।
ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ তার নিজের নাম বা প্রিয় মানুষের নাম বেছে নেননি। এমন নামই নিয়েছেন যা তার কাজের সাথে যায়।
বিল গেটস তার কোম্পানির নাম রেখেছেন মাইক্রোসফট। নিঃসন্দেহে বহুজাতিক কম্পিউটার প্রযুক্তি উৎপাদন কোম্পানির সাথে এই নামটি বেশ মানাসই।
৪। কঠিন ও অপ্রচলিত শব্দ এড়িয়ে চলুন
কঠিন কঠিন নাম ব্যবহার না করাই ভাল। এতে করে ক্রেতা আকর্ষণ হারাতে পারে। ছোট, সুন্দর, সহজ বানানের প্রতি মনযোগী হতে হবে। অপ্রচলিত শব্দ যার অর্থ অনেকে বুঝবে না এমন নাম না দেওয়ার চেষ্টা করুন। ক্রেতার যত কাছাকাছি আপনি পৌঁছাতে পারবেন, ততই আপনি লাভবান হবেন।
গল্প করতে করতে আরেকটি কথা বলতে ভুলেই গেছি, অনুগ্রহ করে বেশ কিছু মানুষের ফিডব্যাক নিয়ে নেন। যদি ১০ জন থেকে ৭ জনও পছন্দ করে তাহলে গো ফর ইট।