02/03/2026
(এমন শ্বশুর বাড়ির লোকদের জুতাপেটা করা উচিত!🙂)
মুড়ি নেই "অতঃপর আমার বাবাকে চো*রের মতো ইফতার করতে হলো" 🙂
আমার বিয়ের ১ সপ্তাহ পরেই রোজা শুরু হয়। আর আমাদের সিলেটির মধ্যে বিয়ের পরে প্রথম রোজায় ভ্যান ভরে ভরে ইফতারি পাঠাতে হয় শ্বশুর বাড়িতে।
আমার বাবার টাকা পয়সার কোনো কমতি নেই, সো আমার বাবা ১ ভ্যান না, তিন ভ্যান ভরে প্রথম রোজায় ইফতারি নিয়ে আসেন আমার শ্বশুর বাড়ি।
শ্বশুর বাড়িতে আগের দিন জানানো হয়, প্রথম রোজার দিন ইফতারি আসবে আমার বাবার বাড়ি থেকে ।
তো দুপুর থেকেই আমার শ্বাশুড়ি বার বার আমাকে জিজ্ঞেস করছিলেন, আসছে না কেনো ইফতারি! পাড়া প্রতিবেশীদেরকে বিলিয়ে দিতে হবে। আমি নিজেও টেনশন নিয়ে নিলাম কেনো দেরি হচ্ছে কারন এখানে সবাই অনেক মাতামাতি শুরু করে দিয়েছে, আমার কেনো জানি আব্বার জন্য টেনশন হচ্ছিলো।
যাই হোক, আমার শ্বশুর বাড়িতে ইফতারি পৌঁছে ৪ টার দিকে এবং আমার ভাইদের কাছে থেকে জানতে পারি আব্বার ছোটখাটো একটা এক্সিডেন্ট হয়েছে। রাস্তায় উঁচুনিচু একটা জায়গায় ভ্যান আটকে যায়। তখন আব্বা পেছন থেকে ধাক্কা দেয়ার জন্য নামেন। এবং ধাক্কা দেয়ার সময় সাইড থেকে আরেকটা রিকশা দ্রুত যায়। তখন আব্বার পায়ে রিকশা টা লাগে এবং খানিকটা ছিলে যায়, আব্বা কিছুটা ব্যথাও পান।
তো আব্বা পরে ইফতারি টা পাঠিয়ে দেন ছোট ভাইদের কে দিয়ে, আর উনাকে নিয়ে আরেক ভাই হসপিটাল গিয়ে টিটেনাস দিয়ে ৫ টার দিকে আমার শ্বশুর বাড়িতে নিয়ে আসে।
আসর এর নামাজ শেষে আমার শ্বাশুড়ি সব ইফতারি আইটেম চেক করে ছোট ছোট ওয়ানটাইম বক্সে ভরছিলেন তখন হঠাৎ চিৎকার দিয়ে বলে "মুড়ি নেই" এবং আমাকে বলেন তোমার বাবাকে জিজ্ঞেস করো "মুড়ি কই", "মুড়ি নেই" "মুড়ি দেয়নি"।
আমার কথা হলো, মুড়ি দেখা যাচ্ছে না মানে নেই। এখন মুড়ি কই জিজ্ঞেস করার তো কোনো মানে হয় না আবার আমার আব্বা এক্সিডেন্ট করেছেন সো মুড়ি কই জিজ্ঞেস করার প্রশ্ন ই আসেনা এখানে। তখন আমার অনেক কষ্ট হয়, আমি রুমে বসে এসে কান্না করে দেই কারন কেনো জানি মনে হচ্ছিলো ঝামেলা হবে, আমার আব্বাকে হয়তো এরা অ*পমান করবে।
৫ টার দিকে চোখ মুখ ধুয়ে বের হয়ে দেখলাম, আমাদের ইফতারি গুলো আবার সব গুছিয়ে রাখা হচ্ছে ঝুড়ি গুলোতো এবং তারা লোকাল মার্কেট থেকে কিছু ইফতারি কিনে এনে সেগুলো বক্সে করে ভরাচ্ছে।
এরমধ্যে আব্বা চলে আসেন এসে তাদের সামনে যেয়ে হাত জোড় করে মাফ চাওয়া শুরু করেছেন কিন্তু তারা বলল ইফতারি আবার আব্বার সাথে ব্যাক দিবে এগুলো তারা ছুঁয়ে ও দেখবে না।
আব্বা কথা বাড়ালেন না, আমার দিকে তাকাতেও পারলেন না, হয়তোবা লজ্জা লাগছে বা "মুড়ি নেই" ভূলের জন্য অনুতপ্ত ফিল করেছেন নিজের মেয়ের কাছেই।
এরমধ্যে আমি অবস্থা খারাপ হয়ে গেছে দেখে বেশরম এর মতো আমার ভাইদেরকে বললাম তোমরা বাসা চলে যাও, বাসায় গিয়ে ইফতার করো, তারা চুপচাপ বোনের মুখের দিকে তাকিয়ে চলে গেলো।
মাগরিব এর আজান এর সময় হলো তারা কেউ আব্বাকে ইফতার করার জন্য টেবিলে ডাক দিলো না। তাই আমিও সব রেডি করে দিয়ে রুমে চলে আসলাম খেজুর আর পানি নিয়ে আব্বার আর আমার জন্য।
তখন আমার সো কোল্ড হাজবেন্ড এসে আমাকে বলল, তোমার প্রথম ইফতার আমাদের পরিবারে, তুমি রুমে কেনো?
আমি বললাম আব্বাকে রেখে আমি ইফতার করবো? এটা কিভাবে বললে তুমি?
সে বলল, আব্বাকে রুমে ইফতার পাঠানোর ব্যবস্তা করছি।
তখন আব্বা আমাকে বুঝিয়ে বললেন, বাইরে যেতে সবার সাথে ইফতার করতে, আমি না করাতে উনি কান্না করে দিলেন।
আমি বাইরে গেলাম সবার সাথে ইফতার করতে আর আব্বা নতুন মেয়ের শ্বশুর বাড়িতে মেয়ের বেডরুমে একা বসে চোরের মতো ইফতার করেছিলেন, জাস্ট "মুড়ি নেই" এর অপরাধে। হয়তো-বা সেটা ইফতারও ছিলো না, জাস্ট রোজা ভাঙা ছিলো।
বিয়ের পরে শ্বশুর বাড়িতে প্রথম ইফতার এর এই "মুড়ি নেই" গল্প টা দিয়েছেন একজন সিলেটি আপু, আমি নিজেও সিলেটি এবং আমাদের পরিবার থেকে এই "মুড়ি নেই" নামের ইফতার এর ট্রাডিশন টা অনেক আগেই বয়কট করা হয়েছে, দিবে ও না নিবেও না এবং আমাদের পরিবার এর ছেলে মেয়েদের শ্বশুর বাড়ি থেকেও এগুলোতে আমাদেরকে সাপোর্ট করেছে নিজে থেকেই।
_এক আপু