04/02/2023
✌ 🎀 বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রস্তুতি [দ্বিতীয় পর্ব] 🎀 ✌
বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতা এবং সাধারণ বিজ্ঞান, কম্পিউটার ও তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ে একটু পরিশ্রম করলেই পূর্ণ নম্বর পাওয়া সম্ভব। প্রিলিমিনারির বিষয়ভিত্তিক সিলেবাস ও বিগত প্রশ্ন বিশ্লেষণের আলোকে পরামর্শ দিয়েছেন ৩৫তম বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা রবিউল আলম লুইপা 💔
✌ ♦ গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতা : প্রিলিমিনারি সিলেবাসে গাণিতিক যুক্তি অংশের জন্য ১৫ নম্বর এবং মানসিক দক্ষতা অংশের জন্য ১৫ নম্বর বরাদ্দ আছে। প্রিলিমিনারি পরীক্ষার গাণিতিক যুক্তি অংশ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে লসাগু ও গসাগু, শতকরা, সরল ও যৌগিক মুনাফা, সরল ও দ্বিপদী অসমতা, সূচক ও লগারিদম, সমান্তর ও গুণোত্তর ধারা, সেট, কোণ ও ত্রিভুজ প্রভৃতি অংশ থেকে প্রতিবছরই ১-৩ নম্বরের প্রশ্ন করা হয়। অন্যদিকে মানসিক দক্ষতা অংশ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, কোডিং ও ডিকোডিং, সাদৃশ্য/অ্যানালজি, গাণিতিক সমস্যা, সঠিক দিক ও চিত্র নির্ণয়, দিন ও সম্পর্ক নির্ণয়, সিরিজের সংখ্যা নির্ণয়, আয়নার প্রতিবিম্ব প্রভৃতি অংশ থেকে প্রতি বিসিএসে ১-২টা প্রশ্ন করা হয়েছে। তাই সব টপিক একবার পড়লেও বারবার আসা টপিকগুলো কয়েকবার পড়ে এই অংশে অধিকাংশ নম্বর নিশ্চিত করা প্রয়োজন। গাণিতিক যুক্তি অংশে ভালো নম্বর নিশ্চিত করার জন্য প্রতিদিনই অল্প সময় করে বিষয়টি চর্চা করতে হবে। মানসিক দক্ষতা বিষয়ের নম্বর একজন প্রার্থীর সারা জীবনের অর্জিত জ্ঞান এবং কমনসেন্সের ওপর অনেকটাই নির্ভর করে। তাই এই বিষয়ের প্রস্তুতি অল্প বা অধিক যেমনই নিন না কেন আপনার নম্বরের খুব একটা পার্থক্য হবে না। গাণিতিক যুক্তি এবং মানসিক দক্ষতা দুটো বিষয়ের প্রিলি ও লিখিত পরীক্ষার টপিকগুলো অনেকটা একই রকম হওয়ার কারণে এই বিষয়ের প্রিলি প্রস্তুতি লিখিত পরীক্ষায় খুব কাজে আসে। বিগত প্রশ্নের পাশাপাশি খাইরুলস ম্যাথ, ওরাকল প্রকাশনীর বই থেকে গাণিতিক যুক্তি এবং ইন্ডিয়ান আইকিউ সম্পর্কিত ওয়েবসাইট থেকে মানসিক দক্ষতার এমসিকিউগুলো চর্চা করতে পারেন।
✌ ♦ সাধারণ বিজ্ঞান, কম্পিউটার ও তথ্য-প্রযুক্তি : বিসিএস প্রিলিমিনারিতে সাধারণ বিজ্ঞান অংশে ১৫ নম্বর এবং কম্পিউটার ও তথ্য-প্রযুক্তি অংশে ১৫ নম্বর বরাদ্দ থাকে। সাধারণ বিজ্ঞানে পূর্বে প্রচুর রিপিট প্রশ্ন হতো কিন্তু এখন নতুন নতুন প্রশ্ন করা হচ্ছে। প্রতিটি অধ্যায় থেকে অনিয়মিত প্রশ্ন করা হচ্ছে। তার পরও আলোর প্রকৃতি, স্থির ও চল তড়িৎ, ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া, ভিটামিন, খাদ্য ও পুষ্টি, মানবদেহ, রোগের কারণ ও প্রতিকার প্রভৃতি অধ্যায় থেকে প্রশ্ন কমন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কম্পিউটার ও তথ্য-প্রযুক্তি অংশের কম্পিউটার ডিভাইস, অপারেটিং সিস্টেম, কম্পিউটার নম্বর ব্যবস্থা, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, বিভিন্ন সংক্ষিপ্তরূপের পূর্ণ রূপ ইত্যাদি অধ্যায় থেকে নিয়মিত প্রশ্ন করা হয়।
এই বিষয়টি প্রায়োগিক বলে মুখস্থ করার চেয়ে বুঝে বুঝে পড়া বেশি কার্যকর। জীববিজ্ঞানের প্রশ্নগুলো চিত্র দেখে দেখে পড়লে মনে থাকে। সাধারণ বিজ্ঞানের কিছু প্রশ্নোত্তর নিয়ে কনফিউশন সৃষ্টি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে বোর্ডের বই অধিকতর গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচনা করা হবে। বিজ্ঞান গ্রুপের চাকরিপ্রার্থীরা অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস এবং অন্যান্য গ্রুপের চাকরিপ্রার্থীরা অপ্রতুল আত্মবিশ্বাসের কারণে এই বিষয়ে কম নম্বর পেয়ে থাকেন।
তাই আপনি যে গ্রুপেরই হোন না কেন, সময় দিয়ে পড়লে এই বিষয়ে গণিতের মতো পূর্ণ নম্বর তোলা সম্ভব। তা ছাড়া এই বিষয়ের প্রিলি ও লিখিত পরীক্ষার টপিকগুলো অনেকটা একই রকম হওয়ার কারণে প্রিলি প্রস্তুতি লিখিত পরীক্ষায় খুব কাজে আসে। সাধারণ বিজ্ঞান অংশের জন্য ওরাকল বা বাজারে প্রচলিত যেকোনো বইয়ের পাশাপাশি সম্ভব হলে অষ্টম, নবম, দশম ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের বই থেকে সিলেবাসের টপিকগুলো পড়ে নেওয়ার চেষ্টা করবেন এবং কম্পিউটার ও তথ্য পদ্ধতির জন্য ইজি কম্পিউটার বই থেকে প্রস্তুতি নেওয়া যেতে পারে।
* কম্পিউটার ও তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ের বিগত প্রশ্ন বিশ্লেষণ ও অন্যান্য তথ্য দেখুন আগামী সংখ্যায়।