22/02/2026
যাকাতের নামে দায় সারা কাজ বন্ধ হোক
যাকাত মানে দায়িত্ব।
যাকাত মানে এমন সাহায্য, যা মানুষের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনে।
কিন্তু আমরা কী করছি?
রোজার মাস এলেই বাজার থেকে সবচেয়ে সস্তা লুঙ্গি, পাতলা শাড়ি, নিম্নমানের কাপড় কিনে ব্যাগ ভরে বিলি করি। দুইবার ধুলে সুতো উঠে যায়, রং চলে যায়, তৃতীয়বার আর পরার মতো থাকে না। তারপর ছবি তুলে বলি, “এতজনকে যাকাত দিলাম।”
এটা কি সত্যিকারের সাহায্য?
নাকি শুধু দায় ঝেড়ে ফেলা?
যাকাতের কাপড় যদি এমন হয় যে মানুষ লজ্জায় পরে, কষ্টে পরে, অল্পদিনেই ফেলে দিতে বাধ্য হয়, তাহলে তার আর্থিক উপকার কোথায়?
যাকাত এমন কিছু হওয়া উচিত, যা একজন মানুষের প্রয়োজন মেটাবে—অন্তত কিছুদিনের জন্য স্বস্তি দেবে।
আমরা নিজের জন্য কাপড় কিনতে গেলে ভালোটা খুঁজি। কাপড়ের মান দেখি, টেকসই কি না দেখি।
কিন্তু যাকাতের ক্ষেত্রে কেন মানসিকতা বদলে যায়?
কেন মনে হয়, “গরিব মানুষ, যেকোনোটা দিলেই হবে”?
এই চিন্তাটাই ভুল।
গরিব মানে মানহীন না।
অভাবী মানে অসম্মানিত না।
যাকাতের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সম্পদের ভারসাম্য আনা, অভাব কমানো। যদি আমরা এমন জিনিস দিই যা দুদিনেই নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে সেটা সাময়িক দেখানো সাহায্য, বাস্তব উপকার না।
বরং কী করা যায়?
ভালো মানের প্রয়োজনীয় জিনিস দিন।
অথবা নগদ টাকা দিন, যাতে সে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী কিনতে পারে।
চেষ্টা করুন এমনভাবে দিতে, যাতে তার আত্মসম্মান অক্ষুণ্ণ থাকে এবং সে কিছুটা স্বস্তি পায়।
যাকাত ইবাদত। এটা কোনো সস্তা বিতরণ কর্মসূচি না।
মানের সাথে আপস করে যাকাত দিলে সংখ্যায় বাড়তে পারে, কিন্তু উপকারে বাড়ে না।
আসুন, যাকাতকে শুধু সংখ্যা না বানিয়ে, উপকার বানাই।
দায় সারা নয়, দায়িত্ব নিয়ে দিই।
কারণ যাকাতের আসল মান নির্ধারণ হয় জিনিসের দামে না, মন আর নিয়তের মানে।