New Adnan Agrovet Ltd.

New Adnan Agrovet Ltd. Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from New Adnan Agrovet Ltd., Business service, Dhaka.

27/05/2026
ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল পালন -আদর্শ খামার পদ্ধতিভূমিকাঃ এদেশে প্রাপ্ত প্রায় ২০ মিলিয়ন ছাগলের প্রায় ৯৩ ভাগ পালন করে ক্ষুদ্র এ...
18/02/2025

ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল পালন -আদর্শ খামার পদ্ধতি
ভূমিকাঃ এদেশে প্রাপ্ত প্রায় ২০ মিলিয়ন ছাগলের প্রায় ৯৩ ভাগ পালন করে ক্ষুদ্র এবং মাঝারী ধরণের খামারীরা। বাংলাদেশে প্রাপ্ত ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের মাংস যেমন সুস্বাদু চামড়া তেমনি আন্তর্জাতিকভাবে উন্নতমানের বলে স্বীকৃত। তাছাড়া ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের বাচ্চা উৎপাদন ক্ষমতা অধিক এবং তারা দেশীয় জলবায়ুতে বিশেষভাবে উৎপাদন উপযোগী। এসব গুনাবলী থাকা সত্ত্বেও ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের বাণিজ্যিক উৎপাদন এদেশে এখনো চোখে পরার মত প্রসার লাভ করেনি। এর অন্যতম কারণ ইন্টেনসিভ বা সেমি-ইন্টেনসিভ পদ্ধতিতে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল পালনের ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তিগত জ্ঞানের অভাব। সরকারী – বেসরকারি ভাবে প্রশিক্ষণের ব্যাবস্থা থাকা সত্ত্বেও আমাদের অনিহা । সার্বিক কৃষির উপরে আমাদের বিরূপ মনোভাব বা অবহেলা ।

যে ভাবে একটি আদর্শ ছাগল খামার শুরু করবেন :
ঘর নির্মাণ :

ছাগল সাধারণত: পরিষ্কার, শুষ্ক, দুর্গন্ধমুক্ত, উষ্ণ, পর্যাপ্ত আলো ও বায়ূ চলাচলকারী পরিবেশ পছন্দ করে। গোবরযুক্ত, স্যাঁত স্যাঁতে, বদ্ধ, অন্ধকার ও গন্ধময় পরিবেশে ছাগলের বিভিন্ন রোগবালাই যেমন: নিউমোনিয়া, একথাইমা, চর্মরোগ, ডায়রিয়া ইত্যাদি বিভিন্ন জাতীয় সংক্রামক ও পরজীবীয় রোগ হতে পারে। সেই সাথে ওজন বৃদ্ধির হার, দুধের পরিমাণ এবং প্রজনন দক্ষতা কমে যায়।

ঘর নির্মাণের স্থান :



পূর্ব পশ্চিমে লম্বালম্বী, দক্ষিণ দিক খোলাস্থানে ঘর নির্মাণ করা উচিৎ। খামারের তিন দিকে ঘেরা পরিবেশ, বিশেষ করে উত্তর দিকে গাছপালা লাগাতে হবে। ছাগল খামারে স্থান নির্বাচনে অবশ্যই অপেক্ষাকৃত উঁচু এবং উত্তম পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকতে হবে। প্রতিটি পূর্ণ বয়স্ক ছাগলের জন্য গড়ে ৮-১০ বর্গ ফুট জায়গা প্রয়োজন। প্রতিটি বাড়ন্ত বাচ্চার জন্য গড়ে ৫ বর্গফুট জায়গা প্রয়োজন। ছাগলের ঘর ছন, গোল পাতা, খড়, টিন বা ইটের তৈরী হতে পারে। তবে যে ধরণের ঘরই হউক না কেন, ঘরের ভিতর বাঁশ বা কাঠের মাচা তৈরী করে তার উপর ছাগল রাখতে হবে। মাচার উচ্চতা ৪/৫ ফুট এবং মাচা থেকে ছাদের উচ্চতা ৬-৮ ফুট হতে হবে। মল মুত্র পড়ার সুবিধার্থে বাঁশের চটা বা কাঠকে ২ ইঞ্চি ফাঁকা রাখতে হবে। মাচার নিচ থেকে সহজে মল মুত্র সরানোর জন্য ঘরের মেঝে মাঝ বরাবর উঁচু করে দুই পার্শ্বে ঢালু রাখতে হবে। মেঝে মাটির হলে সেখানে পর্যাপ্ত বালি মাটি দিতে হবে। ছাগলের ঘরের দেয়াল, মাচার নিচের অংশ ফাঁকা রাখতে হবে এবং মাচার উপরের অংশ এম.এম. ফ্ল্যাক্সিবল নেট দিতে হবে। বৃষ্টি যেন সরাসরি না ঢুকে সে জন্য ছাগলের ঘরের চালা ৩/৪ ফুট ঝুলিয়ে দেয়া প্রয়োজন। শীতকালে রাতের বেলায় মাচার উপরের দেয়ালকে চট দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। মাচার উপর ৪/৫ ইঞ্চি পুরু খড়ের বেডিং বিছিয়ে দিতে হবে। বিভিন্ন বয়সের এবং বিভিন্ন ধরণের ছাগলকে ভিন্ন ভিন্ন ঘরে রাখা উচিৎ। পাঁঠাকে সব সময় ছাগী থেকে পৃথক করে রাখা উচিৎ। দুগ্ধবতী, গর্ভবতী ও শুষ্ক ছাগীকে একসাথে রাখা যেতে পারে। তবে তাদের পৃ্থক খাওয়ানোর ব্যবস্থা থাকতে হবে। শীতকালে বাচ্চাকে রাতের বেলা মায়ের সাথে ব্রুডিং পেনে রাখতে হবে। ব্রুডিং পেন একটি খাঁচা বিশেষ যা কাঠের বা বাঁশের তৈরী হতে পারে। এর চারপার্শ্বে চটের ব্যবস্থা দিয়ে ঢাকা থাকে।

খাদ্য ব্যবস্থাপনা :

ছাগলের খাদ্য ব্যবস্থাপনাই খামারের অন্যতম প্রধান বিষয়। ইন্টেনসিভ এবং সেমি-ইন্টেনসিভ পদ্ধতিতে ছাগলের খাদ্যের পরিমাণ ও গুনগত মান নির্ভর করে, চারণ ভূমিতে প্রাপ্ত ঘাসের পরিমাণ ও গুনগত মানের উপর।

ছাগলের বাচ্চাকে কলষ্ট্রাম (শাল দুধ) খাওয়ানো:



সাধারণত ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের বাচ্চার ওজন ০.৮-১.৫ কেজি (গড়ে ১.০০ কেজি) ওজন হয়। বাচ্চা জন্মের পরপরই পরিস্কার করে আধা ঘন্টার মধ্যেই মায়ের শাল দুধ খেতে দিতে হবে। ছাগলের বাচ্চার প্রতি কেজি ওজনের জন্য ১৫০ থেকে ২০০ গ্রাম শাল দুধ খাওয়ানো প্রয়োজন। এই পরিমাণ দুধ দিনে ৮-১০ বারে খাওয়াতে হবে। শাল দুধ বাচ্চার শরীরে এন্টিবডি তৈরী করে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধি করে। দুই বা ততোধিক বাচ্চা হলে প্রত্যেকেই যেন শাল দুধ পায় তা নিশ্চিত করতে হবে। ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল ছানা সাধারণত ২-৩ মাসের মধ্যে দুধ ছাড়ে। ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের দুধ উৎপাদন কম হওয়ায় ২-৩ ছানা বিশিষ্ট মা ছাগীর দুধ কখনো কখনো বাচ্চার প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে পারেনা। এক্ষেত্রে ছানাকে পরিমাণমত ৩৭-৩৮ সেঃ তাপমাত্রায় অন্য ছাগলের দুধ বা মিল্ক রিপ্রেসার খাওয়ানো উচিত। ছাগলের বাচ্চার দানাদার খদ্যের মিশ্রণ কম আঁশ, উচ্চ প্রোটিন, উচ্চ বিপাকীয় শক্তি সম্পন্ন হতে হয়।

ছাগলের বাচ্চাকে দানাদার খাদ্য খাওয়ানো :



ছাগল ছানা প্রথমে মায়ের সাথেই দানাদার খাবার খেতে অভ্যস্থ হয়। ছাগলের বাচচাকে জন্মের প্রথমে সপ্তাহ থেকে ঘাসের সাথে পরিচিত করে তুলতে হবে। সাধারণত শুরুতে মায়ের সাথেই বাচ্চা ঘাস খেতে শিখে। অভ্যস্থ করলে সাধারণত দুই সপ্তাহ থেকেই বাচচা অল্প অল্প ঘাস খায়। এ সময়ে বাচ্চাকে কচি ঘাস যেমন: দুর্বা, স্পেনডিডা, রোজী, পিকাটুলাম, সেন্টোসোমা, এন্ড্রোপোগন প্রভৃতি ঘাস খাওয়ানো যেতে পারে। তাছাড়া, ইপিল ইপিল, কাঁঠাল পাতা, ধইনচা ইত্যাদি পাতা খাওয়ানো যেতে পারে।



বাড়ন্ত ছাগলের খাদ্য ব্যবস্থাপনা:



ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের ৩-১২ মাস সময়কালকে মূল বাড়ন্ত সময় বলা যায়। এ সময়ে যেসব ছাগল প্রজনন বা মাংস উৎপাদনের কাজে ব্যবহৃত হবে তাদের খাদ্য পুষ্টি চাহিদা যথাযথভাবে পূরণ করতে হবে। দুধ ছাড়ানোর পর থেকে পাঁচ মাস পর্যন্ত সময়ে ছাগলের পুষ্টি সরবরাহ অত্যন্ত নাজুক পর্যায়ে থাকে। এ সময়ে একদিকে ছাগল দুধ থেকে প্রাপ্ত প্রোটিন ও বিপাকীয় শক্তি থেকে যেমন বঞ্চিত হয়, তেমনি মাইক্রোবিয়াল ফার্মেন্টেশন থেকে প্রাপ্ত পুষ্টি সরবরাহও কম থাকে। এজন্য এ সময়ে পর্যাপ্ত প্রোটিন সমৃদ্ধ দানাদার ও আঁশ জাতীয় খাদ্য দিতে হবে। ঘাসের পরিমাণ ও গুনগত মান বেশি হলে দানাদার খাদ্যের পরিমাণ কমবে এবং পরিমাণ ও গুনগত মান কম হলে উপরোক্ত পরিমাণ দানাদার খাদ্যেই চলবে।
ব্লাক বেঙ্গল বাড়ন্ত ছাগলের জন্য একটি আদর্শ খাদ্য তালিকা নিচে দেয়া হলো —-

ছাগলের ওজন (কেজি)—দানাদার খাদ্য দৈনিক সরবরাহ (গ্রাম)–ঘাস সরবরাহ(কেজি)
৪————————————১০০————————————০.৪
৬————————————১৫০————————————০.৬
৮———————————–২০০————————————-০.৮
১০———————————-২৫০————————————-১.৫
১২———————————-৩০০————————————-২.০
১৪———————————-৩৫০————————————-২.৫
১৬———————————-৩৫০————————————-৩.০
১৮ কেজি বা তার উপরে——–৩৫০————————————-৩.৫

প্রজননক্ষম পাঁঠার খাদ্য ব্যবস্থাপনা :

পাঁঠার খাদ্য ব্যবস্থাপনা বাড়ন্ত ছাগলের মতই। তবে প্রজননে সহায়তার জন্য প্রতিটি পাঁঠাকে দৈনিক ১০ গ্রাম ভিজানো ছোলা দেয়া প্রয়োজন। একটি পাঁঠা ১০ মাস থেকে ৩ বছর পর্যন্ত প্রজননক্ষম থাকে। কোনভাবেই পাঁঠাকে বেশি চর্বি জমতে দেয়া উচিত নয়। ২৮-৩০ কেজি ওজনের পাঁঠার জন্য দৈনিক ৪০০ গ্রাম পরিমাণ দানাদার খাবার দেয়া প্রয়োজন।

দুগ্ধবতী ও গর্ভবতী ছাগলের খাদ্য ব্যবস্থথাক —- দুগ্ধবতী ছাগল তার ওজনের ৫-৬ শতাংশ হারে শুষ্ক পদার্থ খেয়ে থাকে। একটি তিন বছর বয়স্ক ২য় বার বাচ্চা দেয়া ছাগীর গড় ওজন ৩০ কেজি হারে দৈনিক ১.৫-১.৮ কেজি শুষ্ক পদার্থ খেয়ে থাকে। এক্ষেত্রে ১ বা ১.৫ কেজি পরিমাণ শুষ্ক পদার্থ ঘাস থেকে (৩-৫ কেজি কাঁচা ঘাস) বাকি ০.৫-০.৮ কেজি শুষ্ক পদার্থ দানাদার খাদ্য থেকে দেয়া উচিত। যেহেতু ছাগী বাচ্চা দেয়ার ১.৫- ২.০ মাসের মধ্যে গর্ভবতী হয় সেজন্য প্রায় একই পরিমাণের খাবার গর্ভাবস্থায়ও ছাগলকে দিতে হবে।

ছাগলের দানাদার খাদ্যের সাধারণ মিশ্রণ নিন্মরুপ—–

গম/ভূট্টা ভাঙ্গা/চাল—————————————————-১২.০০%
গমের ভূষি/আটা কুড়া————————————————৪৭.০০%
খেসারী/মাসকালাই/অন্য ডালের ভূষি——————————১৬.০০%
সয়াবিন খৈল———————————————————-২০.০০%
শুটকি মাছের গুড়া—————————————————–১.৫০%
ডাই-ক্যালসিয়াম ফসফেট——————————————-২.০০%
লবণ———————————————————————১.০০%
ভিটামিন মিনারেল প্রিমিক্স ——————————————-০.৫০%

মোট ——————————————————————১০০.০০%

ছাগলের চরানো :

ঘাস সরবরাহের জন্য নেপিয়ার, স্পেনডিডা, পিকাটুলুম, রোজী, পারা, জার্মান ইত্যাদির চাষ করা যেতে পারে। মাঠের চারপার্শ্বে ইপিল ইপিল গাছ লাগানো যেতে পারে। তাছাড়া বর্ষাকালে চারণ ভূমিতে ঘাসের সাথে মাসকালাই ছিটিয়ে দিলেও ঘাসের খাদ্যমান অনেক বেড়ে যায়। শীতকালে অনেক সময় পর্যাপ্ত ঘাস পাওয়া যায় না। এজন্য এ সময়ে ছাগলকে ইউএমএস (ইউরিয়া ৩%, মোলাসেস ১৫%, খড় ৮২%)-এর সাথে এ্যালজির পানি খাওয়ানো যেতে পারে।

প্রজনন ব্যবস্থাপনা :

একটা পাঁঠা সাধারণত: ৩/৪ মাস বয়সে যৌবন প্রাপ্ত হয় কিন্তু আট/নয় মাস বয়সের পূর্বে পাল দেবার জন্য ব্যবহার করা উচিত নয়। কোন পাঁঠার শারীরিক দুর্বলতা, পঙ্গুত্ব বা কোন যৌন অসুখ ,সমস্ত পালকে নষ্ট করে দিতে পারে। তাই সেদিকে অবশ্যই মনোযোগী হতে হবে। দশটি ছাগীর জন্য একটা পাঁঠাই যথেষ্ট। ছাগী যখন প্রমবারে (৫-৬ মাস বয়সে) গরম (Heat) হয় তখন তাকে পাল না দেওয়াই ভাল। এক্ষেত্রে এক/দুইটি হিট বাদ দিয়ে মোটামুটি ১১-১২ কেজি ওজনের সময় পাল দেয়া উচিত। ছাগীর হিটে আসার লক্ষণগুলো হচ্ছে- মিউকাস নিঃসরণ, ডাকাডাকি করবে, অন্য ছাগীর উপর উঠা ইত্যাদি। ছাগী হিটে আসার ১২-৩৬ ঘন্টার মধ্যে পাল দেওয়া উচিত। অর্থাৎ সকালে হিটে আসলে বিকেলে এবং বিকেলে হিটে আসলে পরদিন সকালে পাল দিতে হবে।

স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা :

ছাগলের খামারে রোগ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। এজন্য নিয়মিত পিপিআর টিকা, কৃমিনাশক ইত্যাদির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হয়। ছাগলের সবচেয়ে মারাত্ক রোগ পি.পি.আর এবং গোটপক্সের ভেক্সিন জন্মের ৩ মাস পরে দিতে হয়। বছরে দুবার বর্ষার আগে (এপ্রিল-মে) কৃমিনাশক এবং বর্ষার শেষে (অক্টোবর-নভেম্বর) কৃমিনাশক যেমন: নেমাফেক্স, রেলনেক্স অথবা ফেনাজল ইত্যাদি খাওয়ানো যেতে পারে। তাছাড়া যকৃত কৃমির জন্য ফেসিনেক্স, ডোভাইন, ইত্যাদি ব্যবহার করা প্রয়োজন। কোন ছাগলের চর্মরোগ দেখা দিলে তা ফার্ম থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে। যে কোন নূতন ছাগল খামারে প্রবেশ করানোর আগে কমপক্ষে এক সপ্তাহ অন্যস্থানে রেখে পর্যবেক্ষণ করা উচিত। খামারের সকল ছাগলকে ১৫-৩০ দিন পর পর ০.৫% মেলাথায়ন দ্রবণে ডিপিং করানো (চুবানো) উচিত। তাছাড়া ম্যাসটাইটিসসহ অন্যান্য সংক্রমক রোগের জন্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়া বাঞ্ছনীয়।

বাচ্চার ব্যবস্থাপনা :

বাচ্চা বয়সে ডায়রিয়া, বাচ্চা মৃত্যুর অন্যতম কারণ। এজন্য বাচ্চাকে সব সময় পরিচ্ছন্ন জায়গায় এবং পরিমান মত দুধ খাওয়াতে হবে। ফিডার ও অন্যান্য খাদ্য পাত্র সবসময় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

জন্মের পর পর বাচ্চাকে পরিস্কার করে নাভি থেকে ৩-৪ সেঃ মিঃ নিচে কেটে দিতে হবে।
যে বাচ্চার মায়ের দুধের পরিমাণ কম তাদেরকে বোতলে অন্য ছাগলের দুধ/বিকল্প দুধ (মিল্ক রিপেসার) খাওয়াতে হবে।
শীতের সময়ে বাচ্চাকে মায়ের সাথে ব্রুডিং পেনে রেখে ২৫-২৮ সেঃ তাপমাত্রায় রাখতে হবে।
বাচ্চা যেন অতিরিক্ত দুধ না খায় তা লক্ষ্য রাখতে হবে।
যেসব পাঁঠা বাচ্চা প্রজনন কাজে ব্যবহৃত হবে না তাদেরকে ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে খাসি করাতে হবে।
কৃমিনাশক ঔষধ প্রয়োগঃ

সকল ছাগলকে নির্ধারিত মাত্রায় বছরে দুইবার কৃমিনাশক ঔষধ প্রদান করতে হবে। কৃমিনাশক কর্মসূচি অনুসরণের জন্য পশু চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

খাদ্য ব্যবস্থাপনাঃ

ছাগলকে রাস্তার ধার, পুকুর পাড়, জমির আইল, পতিত জমি বা পাহাড়ের ঢালে বেঁধে বা ছেড়ে ৮-৯ ঘন্টা ঘাস খাওয়াতে পারলে খুব উপকার হবে। এ ধরনের সুযোগ না থাকলে প্রতি ২০ কেজি ওজনের ছাগলের জন্য দৈনিক ০.৫-১ কেজি পরিমাণ কাঠাঁল, ইপিল ইপিল, ঝিকা, বাবলা পাতা অথবা এদের মিশ্রণ দেয়া যেতে পারে। প্রতিটি ছাগলকে দৈনিক ২৫০-৩০০ গ্রাম ঘরে প্রস্তুতকৃত দানাদার খাদ্য দেয়া যেতে পারে। ১০ কেজি দানাদার খাদ্য মিশ্রণে যেসব উপাদান থাকা প্রয়োজন তা হচ্ছেঃ চাল ভাঙ্গা ৪ কেজি, ঢেঁকি ছাঁটা চালের কুড়া ৫ কেজি, খেসারি বা অন্য কোনো ডালের ভূষি ৫০০ গ্রাম, ঝিনুকের গুড়া ২০০ গ্রাম এবং লবণ ৩০০ গ্রাম। ইউরিয়া দ্বারা প্রক্রিয়াজাত খড় ও সাইলেজ খাওয়ালে ভাল হয়। কারণ প্রক্রিয়াজাত খাদ্যে আমিষের পরিমাণ বেশি থাকে এবং পরিপাকও ভালোভাবে হয়। জন্মের পর থেকেই ছাগল ছানাকে আঁশ জাতীয় খাদ্য যেমন কাঁচা ঘাস ইত্যাদিতে ধীরে ধীরে অভ্যস্ত করে তুলতে হবে। দানাদার খাদ্য খাওয়ানোর পর ছাগলকে পর্যাপ্ত পরিমাণ পরিষ্কার পানি খেতে দিতে হবে। বাড়ন্ত ছাগলকে দৈনিক প্রায় ১ লিটারের মতো পানি পান করা উচিত। কাঁচাঘাস কম বা এর অভাব ঘটলে ছাগলকে ইউরিয়া-চিটাগুড় মেশানো খড় নিম্নোক্ত প্রণালীতে বানিয়ে খাওয়াতে হবে।

উপকরণঃ ২-৩ ইঞ্চি মাপের কাটা খড় ১ কেজি, চিটাগুড় ২২০ গ্রাম, ইউরিয়া ৩০ গ্রাম ও পানি ৬০০ গ্রাম। এবারে পানিতে ইউরিয়া গুলে তাতে চিটাগুড় দিয়ে খড়ের সাথে মিশিয়ে সরাসরি ছাগলকে দিতে হবে। খাসীর ক্ষেত্রে তিন-চার মাস বয়সে দুধ ছাড়ানোর পর নিয়মিত সঠিকভাবে এই প্রক্রিয়াজাত খাদ্য খাওয়ালে দৈনিক ৬০ গ্রাম করে দৈহিক ওজন বাড়ে ও এক বছরের মধ্যে ১৮-২২ কেজি ওজন প্রাপ্ত হয়ে থাকে। খাসীকে দৈহিক ওজনের উপর ভিত্তি করে মোট ওজনের ৭% পর্যন্ত পাতা বা ঘাস জাতীয় খাদ্য দানাদার খাদ্যের মিশ্রণ (চাল ভাঙ্গা ৪০%, কুড়া ৫০%, ডালের ভূষি ৫৫, লবণ ৩% এবং ঝিনুকের গুড়া ২%) ১০০ গ্রাম থেকে সর্বোচ্চ ৩০০ গ্রাম ও ভাতের মাড় ৪০০ গ্রাম পর্যন্ত খেতে দেয়া যেতে পারে। খাসীর ওজন ২০ কেজির বেশি হয়ে গেলে এদের দেহে চর্বির পরিমাণ বেড়ে যায়। তাই এ সময়েই এদেরকে বাজারজাত করা উচিত। ছাগল খামারের খাদ্য খরচ মোট খরচের ৬০-৭০% হওয়া আবশ্যক। বাণিজ্যিক খামারের লাভ-লোকসান তাই খাদ্য ব্যবস্থাপনার উপর নির্ভরশীল। নিম্নে বাণিজ্যিকভাবে পালিত ছাগলের দানাদার খাদ্যের সাধারণ মিশ্রণ প্রদত্ত হলঃ ছাগলের বাচ্চার বয়স অনুযায়ী খাদ্য সরবরাহের পরিমাণ

কোরবানিকে সামনে রেখে কম খরচে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে গরু মোটাতাজা করবেন যেভাবেগত বছর কোরবানির ঈদে প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ পশু কোর...
17/02/2025

কোরবানিকে সামনে রেখে কম খরচে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে গরু মোটাতাজা করবেন যেভাবে

গত বছর কোরবানির ঈদে প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ পশু কোরবানি হয়েছে। তাই এ বছরে আসন্ন কোরবানি ঈদে প্রায় দেড় কোটি পশুর চাহিদা হতে পারে। গরু মোটাতাজা করে বিক্রি করা লাভজনক। অল্প সময়ে অল্প পুঁজিতে গরু মোটাতাজা করে বেকারত্ব ও দারিদ্র্য দূর করা যায়।

যদি ৩ মাস মেয়াদি মোটাতাজাকরণ প্রক্রিয়া হাতে নেওয়া হয় তাহলে ৩ মাস সময় হাতে রেখে এর আগের ১ মাসের মধ্যে গরু নির্বাচন করে ফেলতে হবে। আসন্ন কোরবানিতে কেউ যদি গরু মোটাতাজাকরণ প্রক্রিয়া করতে চায় তাহলে রোজার ঈদের আগের সময়টাতে গরু কিনতে হবে।

গরু কেনার ক্ষেত্রে অবশ্যই গরুর রং লাল বা কালো যেটা গ্রাহকেরা খুবই পছন্দ করে তার দিকে খেয়াল রাখতে হবে। গরুর বয়স হতে হবে ২-২.৫ বছর। উল্লেখ্য গরুর বয়স ন্যূনতম ২ বছর হলে সেটি কোরবানির জন্য উপযুক্ত বলে বিবেচিত হয়। এ ক্ষেত্রে গরুর দাঁত দেখে বয়স যাচাই করে নিতে হয়।

গরুর মুখের নিচের পাটিতে যদি দুধ দাঁতের পাশাপাশি সামনে অন্তত দুটি কোদালের মতো স্থায়ী দাঁত থাকে, তাহলে বুঝতে হবে গরুটি কোরবানির উপযুক্ত। চামড়া হতে হবে ঢিলেঢালা, পেছনের অংশ ও পিঠ চওড়া, দেহ হবে আয়তাকার, কপাল ও বুক প্রশস্ত, খাটো লেজ, হাড় ও হাড়ের জয়েন্টগুলো একটু মোটা হতে হবে। এবং পশুগুলো হবে শান্ত প্রকৃতির ও রোগমুক্ত। নির্বাচনের পর অবশ্যই গরুগুলোকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আলাদা রাখতে হবে।

গরুর জন্য বাসস্থান দীর্ঘস্থায়ী এবং ক্ষণস্থায়ী দুইভাবে তৈরি করা যেতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী বলতে খামারির নিজস্ব জায়গার মধ্যে শেড নির্মাণ আর ক্ষণস্থায়ী বলতে অন্যের জমি বর্গা বা চুক্তির মাধ্যমে নিয়ে তাতে শেড নির্মাণ করতে হবে। গরু রাখার জন্য অবশ্যই পর্যাপ্ত জায়গা দিতে হবে। সর্বনিম্ন ৯ ফুটের মতো উঁচু জায়গা রাখতে হবে যাতে বাতাস সহজে চলাচল করতে পারে। গড়ে ৩০-৪০ বর্গ ফুট জায়গা দিতে হবে প্রতিটি গরুর জন্য এবং প্রতি গরুর জন্য আলাদা খাবার পাত্র এবং পানির পাত্র রাখতে হবে।

গরু কেনার পর প্রথম কাজ হচ্ছে কয়েকদিন (৭-১০ দিন) গরুটিকে ভালোভাবে লক্ষ্য করা তারপর গরুকে কৃমিনাশক খাওয়ানো যেমন: বাজারে এনডেক্স ১.৫ গ্রামের একটি বোলাস প্রতি ৫০ কেজি ওজনের জন্য অথবা রেনাডেক্স ১টি বোলাস প্রতি ৫০ কেজি দৈহিক ওজনের জন্য, এর সঙ্গে লিভারটনিক প্রতি গরুকে ৫০ মিলি করে ৩ দিন এবং এরপর তাকে বিভিন্ন মাল্টি ভিটামিন প্রয়োগ করা যেতে পারে (প্রাণী চিকিৎসকের নির্দেশনা মোতাবেক)।

গরু কেনার পর কৃমি রোধ করা যেমন জরুরি ঠিক তেমনি বিভিন্ন সংক্রামক রোগের টিকা দেওয়াও জরুরি যেমন: এফএমডি, এলএসডি এই রোগ গুলোর টিকা দেওয়া দরকার।

গরু মোটাতাজাকরণ করতে হলে গরুকে পর্যাপ্ত পরিমাণ খাবার দিতে হবে। খাবারের মধ্যে শক্তি ও প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার বেশি দিতে হবে। যেমন: প্রতি ১০০ কেজি ওজনের গরুর জন্য খড় জাতীয় খাদ্য ২.৫-৩ কেজি, তাজা ঘাস ৩ কেজি প্রতিদিন, শক্তি ও প্রোটিন সমৃদ্ধ খাদ্য (ভুসি, খৈল, চিটাগুড়, ইউরিয়া, শুঁটকি মাছের গুঁড়া)। চিটাগুড় ১৫০ গ্রাম, ইউরিয়া ৭-৮ গ্রাম ১ লিটার পানির সঙ্গে মিশিয়ে প্রতি ১.৫ কেজি খড়ের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়ানো যেতে পারে।

সকল ক্ষেত্রেই তাজা ঘাস দেওয়ার প্রয়োজন আছে। খৈল ও ভুসির মিশ্রণ প্রক্রিয়াজাত খড়ের বেলায় অর্ধেক (২০০ গ্রাম) দেওয়া যেতে পারে। এ ছাড়াও পরিমাণমতো (১-২%) লবণসহ অন্যান্য খনিজ দ্রব্যের মিশ্রণ প্রতিদিন খাদ্যের সঙ্গে দিতে হবে। ফিতার সাহায্যে গরুর ওজন মেপে তাকে খাবার প্রদান করতে হবে এবং বিভিন্ন রুচিবর্ধক যেমন এনোরা ডিএস, এভেইলা-৪ ইত্যাদি দেওয়া যেতে পারে

ওপরে বর্ণিত পদ্ধতি অনুযায়ী পালন করলে ৯০ থেকে ১২০ দিনের মধ্যেই গরু মোটাতাজাকরণ করে বাজারজাত করা সম্ভব। কোরবানির ১০-১৫ দিন আগে থেকে বাজারজাতকরণ প্রক্রিয়া হাতে নিতে হবে।

উপরিউক্ত উপায়ে গরু মোটাতাজাকরণ শুধু কোরবানিতে নয়, বরং সারা বছর অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে মাংস রপ্তানি করারও উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। ইতিমধ্যে সৌদি আরবসহ মধ্য প্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশ থেকে মাংস আমদানিতে আগ্রহ দেখিয়েছে।

ড. এ কে এম হুমায়ুন কবির অধ্যাপক, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়।

Immunity Vet যা immune system কে আরো বেশি  শক্তিশালী করে।
06/05/2024

Immunity Vet যা immune system কে আরো বেশি শক্তিশালী করে।

ল্যাম্পিস্কিন ডিজিজ থেকে যেসব উপায়ে বাঁচতে পারে খামারদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অতিরিক্ত আকারে দেখা দিয়েছে গরুর এলএসডি বা ল্যা...
22/10/2023

ল্যাম্পিস্কিন ডিজিজ থেকে যেসব উপায়ে বাঁচতে পারে খামার

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অতিরিক্ত আকারে দেখা দিয়েছে গরুর এলএসডি বা ল্যাম্পিস্কিন ডিজিজ। এলএসডি গরুর জন্য একটা ভয়ংকর ভাইরাস বাহিত চর্মরোগ যা খামারের ক্ষতির অন্যতম। এই রোগের গড় মৃত্যুহার আফ্রিকাতে ৪০%। একটা খামারকে অর্থনৈতিকভাবে ধসিয়ে দেয়ার জন্য এফএমডি বা খুরা রোগের চেয়ে অনেক বেশি ভয়ংকর রোগ হিসেবে ধরা হয় এটিকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন উপজেলা ও মেট্রো অঞ্চলে সাম্প্রতিককালে বেড়েছে এই রোগের প্রাদুর্ভাব। দেশের ৮ বিভাগের প্রতিটিতে লাখ ছাড়িয়েছে আক্রান্ত গরুর সংখ্যা। সারাবছরই প্রতিটি ইউনিয়নে গরুর চিকিৎসা করানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর আরো বলছে- নিয়মিত টিকা কার্যক্রম বছর জুড়েই চালু রয়েছে। ভাইরাস জনিত রোগ হওয়ার কারণে সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে, প্রতিরোধের কিছু উপায় রয়েছে।

আক্রান্তের সময়
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এটি মূলত এক প্রকার পক্স ভাইরাস বা এলএসডি ভাইরাসের সংক্রমণে গবাদিপশুতে এই রোগ দেখা দেয় এবং এক গরু থেকে আরেক গরুতে ছড়িয়ে পড়ে। প্রধানত বর্ষার শেষে, শরতের শুরুতে অথবা বসন্তের শুরুতে যে সময়ে মশা মাছি অধিক বংশবিস্তার সেই সময়ে প্রাণঘাতী এই রোগটি ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়।

বিভাগের বেশ কিছু খামারির সাথে কথা বলে জানা গেছে দিন বিশেক আগে থেকে শুরু হয়েছে এই রোগের প্রদুর্ভাব। বর্ষার শুরুতে ও বন্যার পরবর্তী সময়ে বেশি দেখা যায়। ভাইরাস জনিত রোগ হওয়ায় এক গরু থেকে অন্য গরুতে ছড়িয়ে পড়ছে এই রোগ।

রোগের লক্ষণ
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের খামার শাখার সাবেক পরিচালক জিনাত আরা এগ্রিকেয়ার২৪.কমকে রোগের লক্ষণ ও চিকিৎসার বিষয়ে জানিয়েছেন। আক্রান্ত হওয়ার পর আতঙ্কিত না হয়ে রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলেন তিনি।

এলএসডি আক্রান্ত গরু লক্ষণ শুরু থেকে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করে। আক্রান্ত গরু প্রথমে জ্বরে আক্রান্ত হয় এবং খাবার রুচি কমে যায়। জ্বরের সাথে সাথে মুখ দিয়ে এবং নাক দিয়ে লালা বের হয়। পা ফুলে যায়। সামনের দু’পায়ের মাঝ স্থান পানি জমে যায়। শরীরের বিভিন্ন জায়গা চামড়া পিণ্ড আকৃতি ধারণ করে, লোম উঠে যায় এবং ক্ষত সৃষ্ট হয়। ধারাবাহিকভাবে এই ক্ষত শরীরের অন্যান্য জায়গা ছড়িয়ে পড়ে।

ক্ষত মুখের মধ্যে, পায়ে এবং অন্যান্য জায়গা ছড়িয়ে পড়তে পারে। ক্ষত স্থান থেকে রক্তপাত হতে পারে। শরীরে কোথায় ফুলে যায় যা ফেটে টুকরা মাংসের মতো বের হয়ে ক্ষত হয়, পুঁজ কষানি বের হয়।পাকস্থলী অথবা মুখের ভেতরে সৃষ্ট ক্ষতের কারণে গরু পানি পানে অনীহা প্রকাশ করে এবং খাদ্য গ্রহণ কমে যায়।

কিভাবে ছড়ায়
লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত গরু থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে রোগটি অন্য গরুতে ছড়িয়ে পড়ে। এই রোগ এক গরু থেকে অন্য গরুতে ছড়িয়ে পড়ার প্রধান মাধ্যমগুলো হচ্ছে মশা ও মাছি : এই রোগের ভাইরাসের প্রধান বাহক হিসাবে মশা মাছিকে দায়ী করা হয়। অন্যান্য কীট পতঙ্গের মাধ্যমেও ভাইরাসটি আক্রান্ত গরু থেকে অন্য গরুতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। লালা : আক্রান্ত গরুর লালা খাবারের মাধ্যমে অথবা খামারে কাজ করা মানুষের কাপড়ের মাধ্যমে এক গরু থেকে অন্য গরুতে ছড়াতে পারে।

দুধ: যেহেতু আক্রান্ত গাভীর দুধে এই ভাইরাস বিদ্যমান থাকে তাই আক্রান্ত গভীর দুধ খেয়ে বাছুর দুধ খেয়ে আক্রান্ত হতে পারে। সিরিঞ্জ : আক্রান্ত গরুতে ব্যবহার করা সিরিঞ্জ থেকে এই ভাইরাসবাহিত হতে পারে। রক্ষণাবেক্ষণকারী : খামারে কাজ করা মানুষের পোশাকের মাধ্যমে আক্রান্ত গরু থেকে অন্য গরুতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। আক্রান্ত গরুর সিমেন : ভাইরাস আক্রান্ত ষাঁড়ের সিমেন এই রোগের অন্যতম বাহন, কারণ আক্রান্ত গরুর সিমেনেও এই ভাইরাস বিদ্যমান থাকে। তবে, সবচেয়ে ভালো বিষয়, এই রোগ শুধুমাত্র গরু মহিষ আক্রান্ত হয়, মানুষ হয় না।

প্রতিকার ও আক্রান্ত পরবর্তী সময়ে করণীয়
যেকোন রোগের চিকিৎসার চেয়ে প্রতিকার সব সময় অধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক। আক্রান্ত গরুকে নিয়মিত এলএসডি ভ্যাকসিন দেয়া। আমাদের দেশে ইতঃপূর্বে রোগটির প্রাদুর্ভাব কম দেখা গেছে তাই এই রোগের ভ্যাকসিন সহজলভ্য নয়। খামারের ভেতরের এবং আশেপাশের পরিবেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা যেন মশা মাছির উপদ্রব নিয়ন্ত্রণ করা যায়। আক্রান্ত খামারে যাতায়াত বন্ধ করা এবং আক্রান্ত খামার থেকে আনা কোনো সামগ্রী ব্যবহার না করা।

আক্রান্ত গরুকে শেড থেকে আলাদা স্থানে মশারি দিয়ে ঢেকে রাখা মশা মাছি কামড়াতে না পারে। কারণ আক্রান্ত গরুকে কামড়ানো মশা মাছি সুষ্ঠু গরুকে কামড়ালে এই রোগের সংক্রমণ হতে পারে। আক্রান্ত গভীর দুধ বাছুরকে খেতে না দিয়ে ফেলে দিয়ে মাটি চাপা দেয়া। আক্রান্ত গরুর পরিচর্যা শেষে একই পোশাকে সুষ্ঠু গরুর মধ্যে প্রবেশ না করা। আক্রান্ত গরুর খাবার বা ব্যবহার্য কোনো জিনিস সুষ্ঠু গরুর কাছে না আনা। ক্ষতস্থান টিনচার আয়োডিন মিশ্রণ দিয়ে পরিষ্কার রাখা।

Address

Dhaka
1310

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when New Adnan Agrovet Ltd. posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to New Adnan Agrovet Ltd.:

Share