19/03/2023
( কফির জন্মস্থান )
#ইথিওপিয়া সারা বিশ্বে কফির জন্মস্থান হিসেবে পরিচিত । ইথিওপিয়ান কফি সম্মন্ধে বলতে গেলে কোথা থেকে শুরু করা হবে সেটা ঠিক করে বলা দায়। এই দেশে কফির প্রাপ্ত স্বাদের মত কফি উৎপাদনের প্রায় প্রতিটি দিকই বাতিক্রমি। আমরা জানি যে ইথিওপিয়া মানব সভ্যতার ইতিহাসে একটি বিশেষ স্থান। মানব জাতির প্রাচীন বসতি এবং বেশ কয়েকটি প্রাচীন আফ্রিকান সংস্কৃতির একটি উল্লেখ্য দেশ। প্রাচীন কাল থেকেই দেশটি অনেক অসুবিধার সম্মুখিন হয়ে আসছে যেমন রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং খরা। বিগত বছর গুলিতে ইথিওপিইয়া দ্রুত
বিকাশ হয়েছে এবং কফি এই বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
#ইথিওপিয়াতে কফির প্রথম উল্লেখ্য ৯০০ সালের দিকে যা আরবি নথি গুলিতে পাওয়া যায়। নথিগুলি``বুনা’ নামে একটি অদ্ভত নতুন পানিয়র কথা উল্লেখ করে যা সারা দেশে সেই সময় খাওয়া হচ্ছিল। বর্তমান ইথিওপিয়াতে স্থানীও ভাষায় কফিকে বুন’’ বা ``বুনা’’ বলা হয়। কফির উৎপত্তিস্থলের নাম ছিল কাফা,তাই কফিকে কখনও কখনও ``কাফা বান’’ বা কাফা থেকে পাওয়া কফি হিসেবে উল্লেখ্য করা হত।এই কারনে কেউ কেউ বিশ্বাস করে যে কফি বিন শব্দটি ``কাফা বান’’এর একটি ইংরেজিকরণ। কফি গাছ গুলি প্রধানত ইথিওপিয়ার দক্ষিণ -পশ্চিমাঞ্চলে জন্মে এবং কফির জন্য বিখ্যাত অঞ্চলগুলি হল ইরগাচেফে,সিদামো,কাফা,বুনো,হারার,জিম্মাহ বা লিমু।
#ইথিওপিয়ায় যে কফির জাতটি বেশি উৎপাদিত হয় সেটির নাম হল এরাবিকা।কাফা এবং বুনো জেলার পাহাড়ে এরাবিকা কফি বন্যভাবে জন্মায় তাই সেসব এলাকায় ধীরে ধীরে অনেক কফি খামার গড়ে উঠে।বর্তমান ইথিওপিনাদের কফি চাষে ৯৮% ছোট আকারের খামার, কারণ কফি এখনও সেখানে অনেক এলাকায় বন্যভাবে প্রচুর জন্মায়। কৃষকরা ৪টি পদ্ধতি ব্যবহার করে চাষ ও সংগ্রহ করে। ১ফরেষ্ট কফি,২ সেমি ফরেষ্ট কফি,৩ বাগান কফি, প্লান্টেশন কফি। কফি উৎপাদনের পরিমাণের ক্ষেত্রে ইথিওপিয়া বিশ্বব্যাপী পঞ্চম স্থানে রয়েছে। নেতৃস্থানীয় দেশগুলি হল ব্রাজিল,ভিয়েতনাম,কলম্বিয়া এবং ইন্দোনেশিয়া।
#মজার ব্যাপার হল ইথিওপিয়ায় তাদের নিজেদের চাহিদা অনুযায়ী যে পরিমান কফি ব্যাবহার করে টা তাদের মোট উৎপাদনের প্রায় অর্ধেকের বেশী। ২০১৬ সালে এক জরিপে দেখা যায় তারা মাথা পিছু ২.২৬ কেজি করে কফি ব্যাবহার করে। সেখানে ১০৫ মিলিয়ন ইথিওপিয়ানদের মধ্যে ১৫ মিলিয়নের বেশি মানুষ কফি সেক্টরে নিযুক্ত রয়েছে। তাদের রপ্তানির প্রায় ৩৫% এবং বিদেশ থেকে আসা রাজস্বের প্রায় ৬০% অংশ আশে কফি খাত থেকে। দেশটি প্রতি বছর ২০০.০০০ টন কফির বেশি উৎপাদনে সক্ষম। কফি ইথিওপিয়ান সংস্কৃতি এবং দৈনন্দিন জীবনের একটি প্রধান উপাদান হয়ে উঠতে বেশি সময় নেয়নি, যা আজ অবধি রয়েছে।
আমদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।