27/12/2024
শায়েখ ড. মিজানুর রহমান আজহারির কক্সবাজারের পেকুয়াতে জনতার ভালোবাসায় সিক্ত হবার দৃশ্য দেখে অভিভূত হলাম। এই ভালোবাসা টাকা কিংবা ক্ষমতা দিয়ে অর্জন করা যায় না। দেশের প্রভাবশালী কোনো রাজনীতিককে পেলেও জনতা এভাবে পঙ্কপালের মতো ঘিরে ধরে না সাধারণত। এটা সত্যিই অকৃত্রিম একটা ব্যাপার! এই ভালোবাসার পেছনে কোনো স্বার্থ নেই, ভবিষ্যতে কিছু পাবার বাসনা নেই।
ড. আজহারির জনতার কাছ থেকে পাওয়া এই অকৃত্রিম ভালোবাসা প্রমাণ করে— এদেশের মানুষ ইসলামকে ভালোবাসে। কুরআনের খেদমত করাই ড. আজহারিকে এনে দিয়েছে এই বিরল সম্মান আর অনিঃশেষ ভালোবাসা। এদেশের কোটি তাওহীদি জনতা ইসলামের প্রশ্নে এখনও আপোষহীন। ইসলামের জন্য নিরলস কাজ করা মানুষরাই তাদের চোখে সবচেয়ে বড়ো সেলিব্রেটি।
আমরা সচরাচর দেখতে পাই— যে মানুষটা ব্যক্তিগত জীবনে অনেক হিসেব করে চলেন, তিনিও মসজিদের কালেকশনের সময় মোটা অঙ্কের একটা অর্থ দিয়ে দিতে দুইবার ভাবেন না। যে ছেলেটা ব্যক্তিগত জীবনে হয়তো খুব ইসলাম পালনে অভ্যস্ত নয়, সে-ও আল্লাহর রাসূলকে অবমাননার প্রতিবাদে আহূত মিছিলে সামনের সারিতে গিয়ে দাঁড়ায়। কুরআনকে ভালোবেসে মা তাঁর আদরের সন্তানকে রেখে আসেন হিফজ মাদরাসায়।
তবুও প্রশ্ন জাগে— ইসলামের জন্য অমিত সম্ভাবনাময় ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের এই দেশটিতে কুরআনের শাসন কায়েম হতে এত বিলম্ব হচ্ছে কেন? সংকট আসলে কোথায়? আমাদের ম্যানপাওয়ার আছে, রিসোর্স আছে; তবুও কোন গলদের কারণে আটকে আছে প্রত্যাশিত ইসলামী বিপ্লব? আমার মনে হয়— সংকট আমাদের ঐক্যে। তাওহীদি জনতা ছোটোখাটো মতপার্থক্য ভুলে কাঁধে কাঁধ রেখে এক কাতারে এসে দাঁড়ালেই দেখা মিলতে পারে সেই সোনারাঙা ভোরের।
'বিপ্লবের কল্পতরু'/ মোঃ নেয়ামত উল্লাহ