03/02/2023
Job Seeker Visa - আবেদনের যোগ্যতা ও প্রক্রিয়া #
মূলত সুইডেনের চাকরিপ্রার্থী ভিসা (Sweden Job Seeker Visa ) নামে কোনো নির্দিষ্ট ভিসার প্রকার নেই। সুইডেন সরকার কাজের সন্ধান করতে বা ব্যবসা শুরু করার সুযোগ খুজতে নির্দিষ্ট কয়েক মাসের জন্য সুইডেনে বসবাসের অনুমতি (Residence permit) প্রদান করে থাকে।
আর এ ধরনের পারমিটের সুযোগ সুইডেন সরকার ২০২২ সালের জুন মাস থেকে শুরু করেছেন। এই নতুন সুইডিশ ভিসার মাধ্যমে মানুষ সুইডেনে চাকরি খুঁজতে পারবে। এই চাকরিপ্রার্থী ভিসা ন্যূনতম ৩ মাসের জন্য বৈধ হবে, ক্ষেত্র বিশেষে ইহার মেয়াদ সর্বাধিক ৯ মাসের জন্য মঞ্জুর করা হতে পারে।
তবে বিশেষভাবে মনে রাখবেন এ ধরনের ভিসা ইস্যু করার ক্ষেত্রে অনেক সর্তকতা অবলম্বন করা হয়। শুধুমাত্র যারা অতি পারদর্শী (Highly Skilled) এবং যে ধরনের পেশার লোক সুইডেনে পর্যাপ্ত নাই, সে সকল পেশার ব্যক্তিরা এ ধরনের ভিসা পাবার সম্ভাবনা বেশি।
আবেদন করার যোগ্যতা:
নিম্নে উল্লেখিত ছয়টি (০৬) শর্ত পূরণ করতে পারলে আপনি এই ভিসার জন্য বা রেসিডেন্স পারমিটের জন্য আবেদন করতে পারবে। শর্তগুলো:
১। আপনার অবশ্যই অ্যাডভান্স লেভেলের ডিগ্রি থাকতে হবে।
২। একটি বৈধ পাসপোর্ট থাকতে হবে।
৩। আর্থিক সামর্থ্যতা অর্থাৎ আপনি ওই দেশে অবস্থান করার সময় যে সকল খরচ প্রয়োজন হবে সেগুলো আপনি নিজে বহন করতে সক্ষম প্রমাণের জন্য আপনাকে প্রতিমাসে সুইডেন মুদ্রার ১৩০০০ ক্রোনা হিসাবে যে কয়েক মাসের জন্য আপনি আবেদন করবেন সেই সমপরিমাণ টাকা আপনার ব্যাংকে থাকতে হবে।
৪। আপনার একটি কম্প্রিহেনসিভ হেলথ ইন্সুরেন্স থাকতে হবে।
৫। আপনার অবস্থান অবশ্যই সুইডেনের বাহিরে হতে হবে।
৬। এবং আপনার প্রধান উদ্দেশ্য হবে ওই দেশে চাকরি খোঁজা অথবা ব্যবসার জন্য সুযোগ খোঁজা।
আবেদনের প্রক্রিয়া:
এই প্রক্রিয়ার মধ্যে মূলত তিনটি ধাপ রয়েছে।
ক. আবেদন করা।
খ. ইন্টারভিউর জন্য শিডিউল নেওয়া।
গ. সিডিউল অনুযায়ী নির্ধারিত তারিখে ইন্টারভিউ তে অংশগ্রহণ করা।
ভিসা আবেদনের জন্য আপনার দুই ধরনের পথ খোলা রয়েছে।
১) আপনি অনলাইনে মাধ্যমে আবদেন করতে পারবেন; অথবা
২) আপনি আবেদন ফরম ডাউনলোড করে পূরণ সহ সংশ্লিষ্ট সকল ডকুমেন্ট সংযুক্ত করে সরাসরি জমা দিতে পারবেন।
কোন ধরনের কাগজপত্র সংযুক্ত করতে হয়:
১। পাসপোর্ট এর কপি
২। সকল শিক্ষাগত যোগ্যতার কপি
৩। হেলথ ইন্সুরেন্স এর কপি
৪। আর্থিক প্রমাণের জন্য ব্যাংক স্টেটমেন্ট এর কপি
৫। এবং সম্মতির ফরম (Consent Form - আপনি সুইডেন সরকারকে সম্মতি দিচ্ছেন যে আপনার সকল শিক্ষাগত যোগ্যতা সঠিক কিনা তা তথ্য যাচাই করার ক্ষমতা)
আপনি যদি অনলাইনে আবেদন করেন তাহলে উপরোক্ত কাগজপত্র গুলো আপলোড করতে হবে অথবা পেপার ভিত্তিক আবেদন করলে আপনাকে আবেদন ফরমের সাথে এগুলো সংযুক্ত করে দিতে হবে।
আবেদন সম্পন্ন করার পর সুইডিশ দূতাবাস কর্তৃক নির্ধারিত VFS global এর মাধ্যমে আপনার ইন্টারভিউ শিডিউল নিতে হবে এবং যথারীতি নির্ধারিত তারিখে ইন্টারভিউ তে অংশগ্রহণ করতে হবে।
এই ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক সহজ কিন্তু একটা বিষয় মনে রাখবেন শুধুমাত্র যোগ্য ব্যক্তিদের এই ধরনের ভিসা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আমি আপনাদেরকে সতর্কতামূলক একটি পরামর্শ দিতে চাই, কোন অবস্থাতেই আপনার সকল যোগ্যতা বিবেচনা না করেই এই ধরনের ভিসা আবেদন করবেন না। কারণ আপনি এক্ষেত্রে বিফল হলে আপনার ভবিষ্যত অন্য ভিসার জন্য সমস্যা হতে পারে।
খায়রুল হাসান
অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট
এবং
কনসালটেন্ট ও ফাউন্ডার
এডভোকভাইস
(সাইবার ক্রাইম | টেকনোলজি | ডাটা প্রটেকশন এন্ড প্রাইভেসি | মিডিয়া | ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি | ইমিগ্রেশন ও ভিসা | ভ্যাট ও ট্যাক্স | যে কোনো আইনগত বিষয়ে পরামর্শের জন্য ইমেইল করুন – [email protected] or [email protected] )
ছবি সৌজন্যে: canva.com
( বিশেষ সতর্কতাঃ লেখকের একান্ত নিজস্ব মতামত । শুধুমাত্র পাঠকদের প্রাথমিক ধারণা ও সচেতনতা সৃষ্টির জন্য এই পোস্ট । কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট দেশের সরকার কর্তৃক পরিচালিত ওয়েবসাইট ভিজিট করার অনুরোধ রইলো। )