06/03/2023
রুচিশীল ব্যক্তিত্বের বাহ্যিক পরিচয় পাওয়া যায় তার পোশাকে। আল্লাহ জাল্লাহ শানুহু যেমন সুন্দর তেমনি তিনিও সৌন্দর্য্য, শালীনতা ও রুচিশীলতাকে পছন্দ করেন। আল্লাহ পাক তাঁর বান্দাকেও চান সুন্দর পরিপাটি অবস্থায় দেখতে।
এক সাহাবি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকটে এলেন। তাঁর পরনে ছিল অতি নিম্নমানের পোশাক। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার কি সম্পদ আছে? সাহাবি বললেন, হ্যাঁ।
তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করেন, কী সম্পদ আছে? সাহাবি বললেন, সব ধরনের সম্পদই আল্লাহ আমাকে দান করেছেন। উট, গরু, ছাগল, ঘোড়া, গোলাম ইত্যাদি। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করলেন, ‘যখন আল্লাহ তাআলা তোমাকে সম্পদ দিয়েছেন তখন তোমার ওপর তাঁর নিয়ামতের ছাপ থাকা চাই। ’ (নাসাঈঃ ৫২৯৪)
রুচিশীল পোশাক মানেই এই নয় যে তা অনেক দামী হবে। বরং সেই পোশাক হবে সকলের নিকট মার্জিত ও গ্রহনযোগ্য। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন রুচিশীল একজন মহামানবের প্রতিচ্ছবি। তিনি নোংরা থাকাকে অপছন্দ করতেন। শুধু তাই নয়; তাঁর পোশাক থেকে ঠিকরে বের হয়ে আসতো নানা রকম সুগন্ধির ছটা।
সুগন্ধির প্রতি আমাদের প্রিয় নবীজি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রচণ্ড অনুরাগ ছিল। নিজেও ছিলেন সুগন্ধির আকর। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সবসময় নিজেকে সুরভিত করে রাখতেন। নবীজির পরিধেয় পোশাক, পাগড়ি মোবারক থেকেও পাওয়া যেতো সুগন্ধির স্নিগ্ধতা। তিনি রাস্তা দিয়ে হেঁটে গেলে সুগন্ধির ঝরনা বয়ে যেত। সাহাবিরা বুঝতে পারতেন, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই রাস্তা দিয়ে হেঁটে গেছেন।
সুগন্ধির সবচেয়ে বেশি প্রজেকশন পাওয়া যায় পরিধেয় পোশাকে ব্যবহার করলে। ত্বকে ব্যবহার করলে ওযু গোসলের পর এমনিতেও সুগন্ধি শরীর থেকে উবে যায়। ঘামের সাথে যদি সুগন্ধি মিশে যেতে পারে অনেক সময় উলটো বাজে স্মেল আসে। বরং আমরা যদি সরাসরি পোশাকে ব্যবহার করি, দেখা যাবে পোশাকে লম্বা সময় জুড়ে কাপড়ের ভাজে ভাজে রয়ে যায় সুবাসের রেশ। গোসল করুন কিংবা ওযু করুন, পরিধেয় পোশাকে ঠিকই পাবেন সুগন্ধির পরশ। যেকোন সুগন্ধি পোশাকে ব্যবহারে লম্বা সময় জুড়ে পাওয়া যায় সুগন্ধির আবেশ।
সবাই মিলে একসাথে এই স্লোগানই দিবো শেষে:
“বুদ্ধিদীপ্ত ভ্রাতারা এখন থেকে আর করবেনা ভুল,
রুচিশীল পোশাকে সুগন্ধি মেখে বলিতে যাইবে কবুল।”