29/11/2025
✔️✔️✔️Living Wage Policy
একটি নীতিমালা এমন, যার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়—
একজন কর্মী যে মজুরি পান, তা দিয়ে তার নিজের এবং পরিবারের মৌলিক চাহিদা—যেমন খাবার, বাসা ভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা, পোশাক, যাতায়াত এবং দৈনন্দিন প্রয়োজন—স্বাভাবিকভাবে পূরণ করে সম্মানজনক জীবন-যাপন করা সম্ভব হবে।
সহজ ভাষায়—
Living Wage Policy মানে হলো কর্মী যেন তার প্রাপ্ত মজুরি দিয়ে সম্মানের সাথে পরিবারের সংসার চালাতে পারে—এ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নীতি।
Living Wage Policy–তে সাধারণত যা থাকে:
1. কর্মীর মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য মজুরি পর্যাপ্ত কি না তা মূল্যায়ন।
2. বাজারদর, জীবনযাত্রার ব্যয় ও মুদ্রাস্ফীতি অনুযায়ী মজুরি হিসাব করা।
3. শ্রমিকের পরিবারের সদস্য সংখ্যা ও বাস্তব খরচ বিবেচনা।
4. জরিপের মাধ্যমে প্রকৃত জীবনধারণ ব্যয় সংগ্রহ।
5. সরকারের ন্যূনতম মজুরি অনুসরণ + কর্মীদের সাপ্লিমেন্টারি ভাতা বা সুবিধা বিবেচনা।
6. বার্ষিক পর্যালোচনা, অডিট ও হালনাগাদ করা।
অর্থাৎ, Living Wage Policy কর্মীর ন্যায্য, মানবিক ও টেকসই পারিশ্রমিক নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি।
একজন কর্মী যে মজুরি পান, সেই মজুরি দিয়ে তার পরিবারের মৌলিক চাহিদা পূরণ করে সংসার চালানো সম্ভব কি না—এটাই জীবিকা নির্বাহ মূল্যায়নের মূল বিষয়। কর্মীর প্রাপ্ত বেতন দিয়ে তার মাসিক জীবনের বিভিন্ন খাতে যেমন—খাদ্য, বাড়ি ভাড়া, শিক্ষা, চিকিৎসা, যাতায়াত ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয়—মেটানো কতটা সম্ভব, তা বিবেচনায় নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কারখানার মালিকপক্ষ এ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছেন। কর্মীদের ন্যায্য পারিশ্রমিক ও জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যকে সামনে রেখে একটি নির্দিষ্ট নীতি থাকা প্রয়োজন। নিচে জীবিকা নির্বাহ (Living Wage) সংক্রান্ত একটি নীতি উপস্থাপন করা হলো, যা আপনারা পর্যালোচনা করতে পারবেন।
জীবিকা নির্বাহ নীতি ও পদ্ধতি
Living Wage / Fair Remuneration Policy & Procedure
Factory: __ Ltd.
ভূমিকা:
__ Ltd. সর্বদা শ্রমিকদের কল্যাণ, মানবিক মূল্যবোধ এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশ সরকারের প্রণীত নিম্নতম মজুরি নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করার পাশাপাশি শ্রমিকদের মৌলিক চাহিদা, বাজারদর ও জীবনযাত্রার মান বিবেচনায় জীবিকা নির্বাহ ব্যয়-সংক্রান্ত ডাটা সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে ন্যায্য পারিশ্রমিক নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়।
উদ্দেশ্য:
জীবিকা নির্বাহ নীতি বা ন্যায্য পারিশ্রমিক নীতির মূল উদ্দেশ্য হলো—সরকার নির্ধারিত নিম্নতম মজুরির সাথে বাস্তব বাজারমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনা করে শ্রমিকদের অতিরিক্ত সুবিধা প্রদানের সম্ভাব্যতা নির্ধারণ করা এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে সহায়তা করা।
লক্ষ্য:
৩০ জুন ২০২৬ সালের মধ্যে সকল শ্রমিকের কমপক্ষে ৯০% জীবিকা নির্বাহ ভাতা নিশ্চিতকরণ। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হবে।
নীতি:
প্রতি বছর সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীর জীবনধারণ ব্যয় সংক্রান্ত ডাটা সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হবে।
বিশ্লেষণের ভিত্তিতে ন্যায্য পারিশ্রমিক/জীবিকা নির্বাহ ভাতা নির্ধারণের সুপারিশ করা হবে।
পদ্ধতি:
জীবিকা নির্বাহ বা ন্যায্য পারিশ্রমিক নির্ধারণ নিম্নোক্ত বিষয়সমূহের উপর ভিত্তি করে করা হয়—
পরিবারের সদস্য সংখ্যা
স্কুলগামী সন্তানের শিক্ষা ব্যয়
খাবার ব্যয়
বাসাভাড়া
চিকিৎসা ব্যয়
বস্ত্র
যাতায়াত ব্যয়
বাজারদর/মুদ্রাস্ফীতি
অন্যান্য প্রয়োজনীয়তা
জরিপ পদ্ধতি:
__ Ltd.-এর কমপ্লায়েন্স ও ওয়েলফেয়ার অফিসার কর্তৃক নির্ধারিত জরিপ প্রশ্নমালা শ্রমিকদের একটি নমুনার উপর প্রয়োগ করা হয়।
জরিপের উপাত্ত বিশ্লেষণ করে জীবিকা নির্বাহ ব্যয় নিরূপণ করা হয়।
বার্ষিক মজুরি বৃদ্ধির সময় শ্রমবিধি অনুযায়ী ন্যূনতম ৫% মজুরি বৃদ্ধি নিশ্চিত করা হয়।
সরকার কর্তৃক ঘোষিত নতুন মজুরি কাঠামো বা সংশোধন __ Ltd. পূর্ণ সমর্থন ও বাস্তবায়ন করে।
অডিট পদ্ধতি:
১. জীবিকা নির্বাহ নীতি ও পদ্ধতির উপর ইন্টারনাল অডিটর নিয়মিত অডিট করেন।
২. অডিট রিপোর্ট কমপ্লায়েন্স ম্যানেজারের নিকট দাখিল করা হয়।
৩. হেড অব কমপ্লায়েন্স/কমপ্লায়েন্স ম্যানেজার GM/ম্যানেজমেন্টের সাথে আলোচনার মাধ্যমে অ্যাকশন প্ল্যান গ্রহণ করেন।
৪. অ্যাকশন প্ল্যান অনুযায়ী ফলো-আপ অডিট করা হয়।
৫. প্রতি ৩ বা ৬ মাস অন্তর অথবা প্রয়োজন অনুযায়ী অডিট সম্পন্ন করা হয়।
হালনাগাদ (Update):
১. অডিট রিপোর্টের ভিত্তিতে নীতি ও পদ্ধতি হালনাগাদ করা হয়।
২. হেড অব কমপ্লায়েন্স/GM নীতির আপডেট সম্পন্ন করেন।
৩. হালনাগাদকৃত নীতি পরিচালক/CEO কর্তৃক অনুমোদিত হয়।
পর্যালোচনা (Review):
১. নীতি ও পদ্ধতি বছরে অন্তত একবার রিভিউ করা হয়।
২. রিভিউ শেষে প্রয়োজনীয় হালনাগাদ করা হয়।
৩. রিভিউ রিপোর্ট প্রস্তুত করে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে প্রদান করা হয়।
ম্যানেজমেন্ট মিটিং:
১. প্রতি বছর ন্যায্য পারিশ্রমিক/জীবিকা নির্বাহ নীতি-পদ্ধতি নিয়ে ম্যানেজমেন্ট রিভিউ মিটিং অনুষ্ঠিত হয়।
২. মিটিং-এর রেকর্ড সংরক্ষণ করা হয়।
৩. বিস্তারিত আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
৪. সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে অ্যাকশন প্ল্যান বাস্তবায়ন করা হয়।
বাস্তবায়নকারী সেকশন/বিভাগ:
১. মানবসম্পদ বিভাগ
২. প্রশাসন বিভাগ
৩. কমপ্লায়েন্স বিভাগ
৪. উৎপাদন বিভাগ
বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ:
১. মানবসম্পদ অফিসার
২. প্রশাসন অফিসার
৩. ইন্টারনাল অডিটর
৪. উৎপাদন সুপারভাইজার
মনিটরিং কর্তৃপক্ষ:
১. মহাব্যবস্থাপক (GM)
২. হেড অব কমপ্লায়েন্স
৩. কমপ্লায়েন্স ম্যানেজার
৪. মানবসম্পদ ম্যানেজার
৫. ওয়েলফেয়ার অফিসার
৬. দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্