15/11/2021
✅✅✅ খাঁটি সরিষার তেল ব্যবহার ✅✅✅
বাঙালির রান্নায় সরিষার তেল না থাকলে যেন জমে না! এর আছে ঝাঁজালো অনন্য স্বাদ। মাছ ভাজা, ভর্তা, মুড়ি মাখা, আচারের মতো মুখরোচক খাবারে সরিষার তেল যোগ করে নতুন মাত্রা।
বাঙালিয়ানার প্রতীক এই সরিষার তেল কিন্তু শুধু এদেশেই না, ভারত, নেপাল সহ আরো বিভিন্ন দেশের ঐতিহ্যবাহী রান্নায় ব্যবহৃত হয়। অথচ এই তেলটিই যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপের সকল দেশে একদম নিষিদ্ধ!
সরিষার তেল নিয়ে একটা কথা চালু ছিল যে এতে ক্ষতিকর ইউরাসিক অ্যাসিড (Erucic acid) অতিমাত্রায় আছে। ১৯৪০ থেকে ১৯৫০ সালের মধ্যে ইঁদুরের ওপর বেশ কিছু পরীক্ষা করে এই দেখা গিয়েছিল যে ইঁদুরের হার্টে অত্যধিক ফ্যাট জমেছে ও মাসলে ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু এরপর অন্যান্য তেল নিয়ে যখন গবেষণা হয়েছে, তখন দেখা গিয়েছে একই ঘটনা! অর্থাৎ ইঁদুরের অভ্যন্তরীণ মেটাবলিজম আসলে দায়ী ছিল, সরিষার তেল না। কিন্তু ততদিনে মানুষের চোখে খলনায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে গিয়েছিল সরিষার তেল!
এরপর বেশ কিছু গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে মানুষের ওপর এই তেলের কোনো ক্ষতিকর প্রভাব নেই। বরং অন্য সব তেলের তুলনায় বেশ স্বাস্থ্যকর তেল হিসেবে বিবেচনা করা হয় একে, কারণ অন্যান্য তেলের তুলনায় এতে ওমেগা-৩ ও ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিডের পরিমাণ বেশি।
তাই আবারও সরিষার তেলের সুদিন ফিরে এসেছে! আজকাল খুব শোনা যায়, সরিষার তেল নাকি অনেক উপকারী, হার্টকে ভালো রাখে। কারণ এটি ক্ষতিকর কোলেস্টরল (bad cholesterol বা LDL) কমায়। এ কথাটা তো সত্যই, সাথে আরো নানা রকম গুণ আছে সরিষার তেলের-
◆ বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন ভোজ্যতেলের মধ্যে চর্বির তুলনা করে দেখেছেন, সরিষার তেলের ব্যবহারে হৃদ্রোগের ঝুঁকি ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমে।
◆ শরীরের রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে সরিষার তেল। এই প্রক্রিযা যাতে বাধাপ্রাপ্ত না হয়, সেদিকেও নজর রাখে। ফলে শরীরের ক্লান্ত পেশীগুলোকে উজ্জীবিত এবং সবল রাখে। সরিষার তেল শুধু কোলেস্টেরল কমায় না, সাথে লোহিত রক্ত কণিকার গঠনে ভূমিকা রাখে।
◆ এতে আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে। ফলে শরীরে কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমিয়ে তোলে এবং হার্টকে ভালো রাখতে সাহায্য করে।
◆ সরিষার তেলে থাকা অ্যালিল আইসোথিয়োকানেট উপাদান মূত্রাশয়ে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা ৩৪ ভাগ কমায়।
◆ সরিষার তেল খুব ঘন হয়। তাই এই তেল ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে এবং অন্যান্য দূষিত পদার্থ থেকে ত্বককে সুরক্ষা করে। এটি ত্বকের ক্যানসারও প্রতিরোধ করতে পারে। সানস্ক্রিন হিসেব ব্যবহার করতে পারেন এই সরিষার তেল।
◆ এতে উচ্চমাত্রার ভিটামিন ই থাকে। ভিটামিন ই বলিরেখা ও বয়সের ছাপ দূর করতেও সাহায্য করে।
◆ সরিষার তেল অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিফাঙ্গাল উপাদানসমৃদ্ধ। ত্বকের ওপর এই তেল দিয়ে ম্যাসাজ করলে ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন দূর হয়। এরা ফাঙ্গাসের বৃদ্ধি রোধ করে।
◆ পোকামাকড় সরিষার তেল সহ্য করতে পারে না। এই তেল শরীরে ব্যবহার করে পোকামাকড় থেকে অনেকাংশে রক্ষা পাওয়া যায়।
◆ এই তেলে থাকা ফ্যাটি অ্যাসিড (অলিক ও লিনোলিক অ্যাসিড) চুল পুনরুজ্জীবিত করে তোলে। চুলের গোড়া মজবুত করে এবং মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে। নিয়মিত সরিষার তেল ব্যবহারে চুল পড়া কমে।
◆ এটি শরীর উষ্ণ রাখতে সাহায্য করে এবং শরীরের ঘাম বের হওয়ার গ্রন্থিগুলো পরিষ্কার ও সচল রাখে। ফলে শরীরের বর্জ্য পদার্থগুলো বের হয়ে যায়।
◆ এর উষ্ণতার গুণের কারণে একে কফ ও কাশি প্রতিরোধক হিসেবে গণনা করা হয়।
◆ বাতের ব্যথা দূর করতে সরিষার তেলের ব্যবহার দেখা যায়।
◆ দাঁতের মাড়ির বিভিন্ন রোগ দূর করতে লবণ ও সরিষার তেল ব্যবহার করা হয়।
এত এত উপকারিতার কথা পড়ে সরিষার তেল কেনার কথা ভাবছেন নিশ্চয়ই ? তাহলে একটা কথা খালি মাথায় রাখবেন, এসব উপকারিতা তখনই পাওয়া যাবে তখন সরিষার তেলটা হবে একদম খাঁটি।
আমাদের আরগন কনজিউমার দিচ্ছে আপনাকে একদম খাঁটি সরিষার তেল এর নিশ্চয়তা , আপনি নিজে ব্যবহার করে বুঝবেন ভালো পন্যের কার্যকারিতা ।