01/07/2026
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাননীয় সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান স্যারকে ধন্যবাদ জানাই। বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে ২য় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়নের কোম্পানিগুলোর নামকরণ নিয়ে নেওয়া এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই একটি ঐতিহাসিক ও সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
একটি স্বাধীন দেশের সেনাবাহিনী যখন নিজের শিকড়, ঐতিহ্য এবং দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের আবেগ ও বিশ্বাসকে সম্মান করার চেষ্টা করে, তখন সেই বাহিনীর সদস্যদের মনোবল, আত্মপরিচয় এবং দেশপ্রেম আরও দৃঢ় হয় বলে অনেকের বিশ্বাস।
বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির ২য় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়নের চারটি কোম্পানির নাম ইসলামের প্রথম চার খলিফা — আবু বকর (রা.), উমর (রা.), উসমান (রা.) এবং আলী (রা.)-এর নামে রাখা হয়েছে বলে জানা যাওয়ার পর, ওপার বাংলা ও এপার বাংলার কিছু তথাকথিত ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ মহল এবং কিছু স্বঘোষিত সুশীল ব্যক্তির প্রতিক্রিয়া অনেকের নজর কেড়েছে। সমালোচনা ও আপত্তির মাত্রা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কোনো বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটে গেছে।
যারা নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষতার ধারক ও বাহক হিসেবে উপস্থাপন করেন, তাদের প্রতি প্রশ্ন উঠছে— তারা কি কখনও নিজেদের অবস্থান ও মানদণ্ড একইভাবে পর্যালোচনা করেছেন? বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে উপদেশ দেওয়ার আগে নিজেদের অবস্থানও নতুন করে বিবেচনা করা উচিত ছিল বলে অনেকে মনে করেন।
যারা এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করছেন, তাদের অনেকেরই দৃষ্টি প্রতিবেশী দেশের সামরিক ঐতিহ্যের দিকে দেওয়া যেতে পারে, যেখানে বিভিন্ন রেজিমেন্ট বহু বছর ধরেই ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত স্লোগান ব্যবহার করে আসছে।
উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা যায়—
* রাজপুত রেজিমেন্ট ব্যবহার করে: “বোল বজরং বলী কী জয়” — যা হনুমানের সঙ্গে সম্পর্কিত।
* রাজপুতানা রাইফেলস ব্যবহার করে: “রাজা রামচন্দ্র কী জয়” — যা রামচন্দ্রের সঙ্গে সম্পর্কিত।
* ডোগরা রেজিমেন্টের স্লোগান: “জ্বালা মাতা কী জয়” — যা দুর্গার সঙ্গে সম্পর্কিত।
* গোর্খা রাইফেলসের যুদ্ধধ্বনি: “জয় মা কালী, আয়ো গোর্খালি” — যা কালীকে কেন্দ্র করে।
* কুমায়ুন ও আসাম রেজিমেন্ট ব্যবহার করে: “কালিকা মাতা কী জয়” — এটিও কালীকে ঘিরে।
* গাড়ওয়াল রাইফেলসের স্লোগান: “বদ্রি বিশাল কী জয়” — যা বিষ্ণুর সঙ্গে সম্পর্কিত।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, যখন অন্য কোনো দেশের সেনাবাহিনী রাম, কালী, হনুমান কিংবা দুর্গার নাম উচ্চারণ করে যুদ্ধক্ষেত্রে যায়, তখন সেটিকে ঐতিহ্য, বীরত্ব এবং দেশপ্রেমের অংশ হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যখন নিজেদের ইতিহাস ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব আবু বকর (রা.), উমর (রা.), উসমান (রা.) এবং আলী (রা.)-এর নামে কোম্পানির নামকরণ করে, তখন সেটিকে কেউ কেউ ‘ইসলামীকরণ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
অনেকের মতে, মূল আপত্তির বিষয় ধর্মনিরপেক্ষতা নয়; বরং বাংলাদেশ তার মুসলিম পরিচয় ও ঐতিহ্যকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ধারণ করছে— এই বাস্তবতাই কিছু মহলের অস্বস্তির কারণ। তাদের দৃষ্টিতে, বাংলাদেশ যেন নিজের পরিচয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী না হয়ে বরং একধরনের হীনমন্যতায় ভোগে— এমন প্রত্যাশাই দীর্ঘদিন ধরে ছিল। কিন্তু অনেকেই মনে করেন, সেই সময় এখন আর নেই।
একটি স্বাধীন দেশের সেনাবাহিনী যখন নিজের শিকড়, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে, তখন সেই বাহিনীর মনোবল ও দেশপ্রেম আরও শক্তিশালী হয়।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই গৌরবময় অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক।
আল্লাহু আকবার।