23/09/2023
ইপিএস কর্মসূচীর আওতায় রোস্টারভুক্ত প্রার্থীদের শ্রম চুক্তি ইস্যু সংক্রান্ত
সংশ্লিষ্ট সকলে অবগত আছেন যে, বাংলাদেশ সরকার ও দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের মধ্যে সম্পাদিত সমঝোতা চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) ও কোরিয়া সরকারের পক্ষে হিউম্যান রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট সার্ভিস অব কোরিয়া (এইচআরডি কোরিয়া)’র যৌথ ব্যবস্থাপনায় ইপিএস-এর আওতায় বাংলাদেশি কর্মীরা দক্ষিণ কোরিয়ায় গমন করে থাকে। এইচআরডি কোরিয়া কর্তৃক নির্ধারিত বার্ষিক কোটার ভিত্তিতে কোরীয় ভাষা পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য অনলাইন প্রাথমিক নিবন্ধন, প্রয়োজনে লটারি, চূড়ান্ত নিবন্ধন ও চূড়ান্ত পাশের সংখ্যা এবং জব রোস্টারভুক্ত করে থাকেন। নিবন্ধন কার্যক্রম থেকে শুরু করে চূড়ান্ত নির্বাচন, জব রোস্টার, শ্রমচুক্তি ইস্যুসহ দক্ষিণ কোরিয়া গমন প্রক্রিয়া এইচআরডি কোরিয়া কর্তৃক বিধি অনুযায়ী সম্পন্ন করা হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে বোয়েসেল-এর কোনো ধরণের সুপারিশ বা হস্তক্ষেপ করার সুযোগ নেই। বোয়েসেল ও এইচআরডি কোরিয়া বর্ণিত কার্যক্রমে বিধি মোতাবেক সহায়তা প্রদান করে থাকে।
রোস্টার-এ অন্তভূক্তির পদ্ধতি:
এইচআরডি কোরিয়া কর্তৃক কোরীয় ভাষা পরীক্ষা, স্কীল টেস্ট ও কালার ব্লাইন্ডনেস টেস্ট গ্রহণের মাধ্যমে সর্বোচ্চ নম্বরের ভিত্তিতে প্রার্থী চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করা হয়ে থাকে। এইচআরডি কোরিয়ার চাহিদা মোতাবেক নির্বাচিত প্রার্থীদের চাকরির লক্ষ্যে রোস্টারভুক্ত করা হয়ে থাকে। রোস্টারভুক্ত হওয়ার পর কে আগে বা পরে পাশ করলো, কে বেশি বা কম নম্বর পেলো, কার শিক্ষাগত কম বা বেশি এ তথ্যগুলো জব রোস্টারে উল্লেখ থাকে না বিধায় শ্রম চুক্তি ইস্যুর ক্ষেত্রে ব্যাচ/সাল ভিত্তিক অগ্রাধিকার প্রদানের কোনো সুযোগ নেই।
দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মসংস্থানের পদ্ধতি:
ইপিএস-এর আওতায় দক্ষিণ কোরিয়া সরকার ১৬টি দেশ থেকে প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে কর্মী নিয়োগ করে থাকেন;
সংশ্লিষ্ট ১৬ দেশের সেন্ডিং এজেন্সি (বোয়েসেল)-এর কার্যক্রমের মূল্যায়ন ও দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থানরত কর্মীদের অবৈধ অবস্থান রোধ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার আর্থিক অবস্থার উপর কোরিয়া সরকার বার্ষিক কোটা নির্ধারণ করে থাকেন;
কোরিয়াগামী ইপিএস কর্মীদের কর্মস্থলসহ সার্বিক বিষয়ের উপর বার্ষিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে নিয়োগকর্তা কর্মসংস্থান কোটা পূরণ নিশ্চিত করে থাকেন;
কোরিয়ান নিয়োগকর্তা কর্মী নিয়োগের লক্ষ্যে নির্ধারিত ১৬ দেশের মধ্যে পছন্দের দেশের প্রায়োরিটি তালিকাসহ কোরিয়াস্থ শ্রম মন্ত্রণালয়ে আবেদন দাখিল করেন;
কোরিয়াস্থ শ্রম মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তার সক্ষমতা যাচাই বাছাই করে সঠিক প্রমাণিত হলে, নির্ধারিত জব রোস্টার থেকে এক জন প্রার্থীর বিপরীতে ৩ জন প্রার্থীর তথ্যসহ জব অ্যাপলিকেশ নিয়োগকর্তার নিকট প্রদান করেন;
সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তা তিন জন থেকে যাচাই বাছাই করে একজন প্রার্থীর শ্রম চুক্তি ইস্যু করে থাকেন এবং
শ্রম চুক্তি ইস্যুর প্রেক্ষিতে সিসিভিআই ইস্যু হলে বোয়েসেল নির্ধারিত প্রশিক্ষণ ও বর্হিগমন কার্যাদি সম্পন্ন করে নিয়োগ প্রাপ্ত দক্ষিণ কোরিয়া গমনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
যেহেতু ইপিএস-এর আওতায় কর্মী নিয়োগ/শ্রম চুক্তি ইস্যু প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে হয়ে থাকে, সেহেতু ২০২৩ সনে নির্ধারিত দশ হাজার কোটা পূরণের লক্ষ্যে নির্বাচিত প্রার্থী বা কোরিয়া অবস্থানরত সকলকে কোরীয় ভাষা চর্চা আরও বৃদ্ধিসহ সকল পর্যায়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশেষ করে, তুচ্ছ বা বিনা প্রয়োজনে চাকরি পরিবর্তন/রিলিজ না করা, দক্ষিণ কোরিয়ার আইন কানুন ও দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থানকালীন চলাফেরা ও চাকরির রীতিনীতি এবং সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া, কোরীয় ভাষায় স্পিকিং ও লিসেনিং এর উপর অধিকতর গুরুত্বারোপ করতে হবে। কোরীয় ভাষা কোচিং সেন্টার/প্রতিষ্ঠান, প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষণার্থী এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে বর্ণিত বিষয়ে গুরুত্ব দেয়ার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।
বর্ণিতাবস্থায়, উপর্যুক্ত বিষয়ের আলোকে ইপিএস কর্মীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্য পরামর্শ দেয়া হলো। এতে দক্ষিণ কোরিয়াসহ বর্হিবিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে এবং ভবিষ্যতে অধিকসংখ্যক ইপিএস কর্মী দক্ষিণ কোরিয়ায় গমনের সুযোগ সম্প্রসারিত হবে।
সবার জন্য নিরন্তর শুভকামনা, বোয়েসেল।