25/07/2026
আয়কর আইন,২০২৩-এর ১৬৩ ধারার ন্যূনতম কর বা টার্নওভার ট্যাক্স সংক্রান্ত বিধানটি ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার ওপর চাপ তৈরি করছে বলে ব্যবসায়িক মহলে আলোচনা রয়েছে। এই ধারার ফলে অনেক সময় প্রকৃত আয়ের চেয়ে বিক্রির ওপর করের বোঝা বেড়ে যায়,যা ছোট ব্যবসার টিকে থাকাকে কঠিন করে তোলে।
☆ মূল উদ্বেগ ও প্রভাব
■ মুনাফা না থাকলেও কর: লোকসানে থাকা ব্যবসায়েও গ্রস প্রাপ্তি বা টার্নওভারের ওপর ন্যূনতম কর পরিশোধ করতে হয়।
■ নগদ প্রবাহ সংকট: ছোট ব্যবসার পুঁজি কম থাকায় এই ধরনের বাধ্যতামূলক কর তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রমে টান ফেলে।
■ বৈষম্যমূলক চাপ: বড় প্রতিষ্ঠানের তুলনায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা এই নির্দিষ্ট হারের করের কারণে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন।
টার্নওভার ট্যাক্সের বিধান পরিবর্তনে করের দায় অনেক বেড়েছে
আয়কর আইনের সংশোধিত ধারা ১৬৩(৬) অনুযায়ী,এখন গ্রস প্রাপ্তির কোনো ন্যূনতম সীমা নেই।
ফলে নিয়মিত পদ্ধতিতে নির্ধারিত আয়কর যদি টার্নওভার ট্যাক্সের চেয়ে কম হয়, তাহলে টার্নওভার ট্যাক্সই পরিশোধ করতে হবে।
■ উদাহরণ
ব্যবসার ধরন: ইলেকট্রনিক পণ্যের প্রোপ্রাইটরশিপ ব্যবসা
বার্ষিক বিক্রয় (Gross Receipt) = ৪০,০০,০০০ টাকা
নিট আয় (Taxable Income) = ৫,৩৫,০০০ টাকা
---
📌 আগের বিধান (ধারা ১৬৩(৫))
গ্রস প্রাপ্তি ৪ কোটি টাকার কম হওয়ায় টার্নওভারভিত্তিক ন্যূনতম কর প্রযোজ্য হতো না।
নিয়মিত করের হিসাব
প্রথম ৪,০০,০০০ × ০% = ০ টাকা
অবশিষ্ট আয় = ৫,৩৫,০০০ − ৪,০০,০০০ = ১,৩৫,০০০ টাকা
১,৩৫,০০০ × ১০% = ১৩,৫০০ টাকা
👉 মোট প্রদেয় কর = ১৩,৫০০ টাকা
---
📌 বর্তমান বিধান (ধারা ১৬৩(৬))
নিয়মিত কর
= ১৩,৫০০ টাকা
টার্নওভার ট্যাক্স
৪০,০০,০০০ × ১%
= ৪০,০০০ টাকা
যেহেতু—
টার্নওভার ট্যাক্স (৪০,০০০ টাকা) > নিয়মিত কর (১৩,৫০০ টাকা)
তাই প্রদেয় কর হবে ৪০,০০০ টাকা।
✅ অতিরিক্ত করের দায়
৪০,০০০ − ১৩,৫০০
= ২৬,৫০০ টাকা
⚖️ আইনগত রেফারেন্স
পূর্বের বিধান: আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৬৩(৫)
বর্তমান বিধান: সংশোধিত ধারা ১৬৩(৬)
---সংগ্রহীত।