24/04/2024
ফরিদপুরই যেতে পারলাম না, অথচ ফিলিস্তিনে যাবার কত আফসোস❞
সকাল থেকে এই পোস্ট দেখতে দেখতে ত্যক্ত ও বিরক্ত হয়ে গেসি!
অথচ এইটার মতন আবেগি ও ভিত্তিহীন দ্বিতীয় কোনো কথা হইতেই পারে না। ফিলিস্তিনে নেতা আছে, নের্তৃত্ব আছে, নির্দিষ্ট একটা কেন্দ্রতে সবার ফোকাস আছে। সেখানে হক্ব আর বাতিল সম্পূর্ণ আলদা হয়ে গেসে। ফিলিস্তিনের আলেম উলামাদের মধ্যেও কী ফিকহের ইখতেলাফ নেই! আছে, কিন্তু সবার লড়াই করার উদ্দেশ্যে একটাই ও অভিন্ন। আছে সমস্ত মা বোনদের ত্যাগ ধৈর্য দুয়া ও ভালোবাসা। এতকিছু যেখানে আছে সেখানে ৫বার শহীদ হইতেও আফসোস লাগবে না। ফরিদপুরে কী আছে..? যেখানে যেতে না পারলে আমার আফসোস করা লাগবে!
দেখেন একনিষ্ঠ নেতৃত্ব ছাড়া, ময়দানে নেমে আন্দোলন বা প্রতিবাদ করে খামাকা নিজের জীবন বিপন্ন করে আদৌও কোনো সুদূরপ্রসারী লাভ হবে না। তেতো হলেও সত্য যে, রাজনৈতিক নেতাদের আর আমাদের আলেম সমাজের নেতৃত্বের মধ্যে আকাশ-পাতাল কোনো তফাৎ নেই। নীতিগত পার্থক্য থাকলেও কর্মের বৈশিষ্ট বা বাস্তবায়ন প্রায় এক।
রাজনৈতিক নেতারা যেমন জনসমাবেশে কর্মীদের নানান ইন্সপায়ার, নানান দিকনির্দেশনা দিয়ে ঘরে গিয়ে এসির নিচে আরাম করে, রাজনৈতিক আদর্শে সবাইকে উজ্জীবিত করার পর, নিজেদের সন্তানদের বাইরে, রাজনীতি থেকে দূরে, গ্রাজুয়েট হবার জন্য USA Singapore, France Japan পাঠিয়ে দিয়ে, কর্মীদের রক্তের উপর রাজনীতি করে! একে অপরের নৌকা, ধানের শীষ, লাঙ্গল, দাঁড়িপাল্লা, নিয়ে টকশো, টিভি শো, ট্রল, করে বেড়ায়! বেঠিক হলেও যে যার দলকে ঠিক মনে করে!
আমাদের আলেম সমাজের চিত্র ঠিক এরকমই। তাদের হুংকার, তাদের রাগ, তাদের আফসোস, তাদের দিকনির্দেশনা, তাদের প্রতিবাদ সবকিছু ওয়াজের ময়দান আর ফেইসবুকের স্টাস্টাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তারা অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে বলে, অথচ রাজপথে কাউকে পাওয়া যায় না।তাদের কোনো সন্তানদের কোনোদিন ময়দানে কোনো অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে, কোথাও আহত হতে, কোথাও নিহত হতে শোনা যায়না। নেতার ছেলেরা বাইরে গিয়ে পড়াশোনা করে দেশে এসে নেতাই হচ্ছে, আর আলেমদের ছেলেরাও মক্কা, মদিনা, মিশর, মালয়েশিয়া গিয়ে উচ্চতর ডিগ্রী নিয়ে এসে আলেমের ছেলে আলেমই হচ্ছে।
আর আমরা আলেমদের মুখ থেকে, আবুল কাসিমের ভা*রত জয়, তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা, হাজী শরিয়ত উল্লাহর ফরায়েজি আন্দোলন, সালাউদ্দিন আইয়ুবির সাহসীকতার ইতিহাস শুনে, নিজেদেরকে একেকজন সালাউদ্দিন আর কাসিম ভেবে প্রতিনিয়ত রক্ত ঢেলে, যাচ্ছি। রাজনৈতিক নেতা আর কর্মীদের মতন, আলেম সমাজ ও তাদের যারযার ভক্তরাও একে অপরের মাজহাব, আদর্শ, আকিদা,যারযার বিশ্বাস অনুযায়ী বাহাস করছে, একে অপরের আকিদা নিয়ে ট্রল করছে, সবাই নিজেকে ঠিক প্রমাণ করতেই ব্যস্ত।
আলেমরা সবাই একে অপরের মুখের দিকে তাকায়া থাকে। আত্মসম্মানের কারণে কেউ কারো কাছে ছোট হবার পাত্র না। কেন! ভাই? আর কতদিন, আমরা নেতৃত্ব সংকটের কারণে নিজেদের অস্তিত্ব সংকটের দিন গুনবো? কত ছাত্র আর সাধারণ মুসলিম মরলে আপনারা আলেমরা নিজেদের আত্মসম্মান একপাশে রেখে, ঐক্যবদ্ধ হবেন?
ফিকহী ইখতেলাফের কারণে যেহেতু এক হওয়া যাইতেসেনা এইটা কী একেবারে বাদ দেয়া যাই না! কয়েকজন মান্যগণ্য আলেম একসাথে হয়ে ভীন্ন মতাদর্শের আলেমদের বাড়ি বাড়ি যাক, আহলে হাদিস, ওয়াহাবি, সুন্নি, কওমি, জামাত, চরমোনাই! সব মতাদর্শের একজন দুজন আলেম মিলে একসাথে বসুক। ঘোষিত থাকবে এখানে ফিকহের কোনো বাহাস হবে না, সকলেই মিলে কেবল বর্তমান মুসলিম সংকট নিরসনে কী করা যায়, কীভাবে পদক্ষেপ নেয়া যায়, এই বিষয়ে আলাপ হবে। পদক্ষেপ হবে, বাংলাদেশের সব জায়গায়, সব মতাদর্শের লোক নাই, কিন্তু সব জায়গায়তেই একেক মতাদর্শের লোক আছে। ধর্মের কোনো অধিকার আদায়ে যখন সব মতাদর্শের আলেম ও তাদের ভক্তরা একসাথে লড়াই করবে! তখন এই লড়াইয়ের জন্য রক্ত দিলে, শহীদ হইলেও আফসোস হবে না। যে যার মতাদর্শ অনুযায়ী দ্বীন পালন করবে, কিন্তু মুসলিম সংকটে সবাই এক হয়ে লড়বে।
এখন হইতেসে কী! জামাতের কেউ জুলুমের শিকার হইলে, কওমিরা চুপ থাকবে, কওমির কেউ জুলুমের শিকার হইলে সুন্নিরা চুপ থাকবে, সুন্নিদের কেউ জুলুমের শিকার হইলে কওমি জামাতি সবাই চুপ থাকবে। এমনে যে যার গা বাঁচাইয়া থাকতে থাকতে! পিটাইয়া মুসলিম কয়েকজনরে মাইরা ফেললে, বইনদের ধর্ষণ কইরা পেটে বাচ্চা দিয়া চইলা গেলে পরিবার ছাড়া পাশে আর কাউরে পাওয়া যাই না! এরা দেখতেসে না কে সুন্নি, কে কওমি, আর কে জামাতি, এরা দেখতেসে না কে তারাবি ৮রাকাআত পড়ে কে ২০ রাকাআত, তারা দেখতেসে মুসলিম কে...! কী জন্য ফরিদপুর যাইতে না পাইরা আমার আফসোস করা লাগবে ভাই!