13/12/2024
এক নারীর সফল উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্প
স্বাতী স্বপ্ন দেখতেন তার নিজস্ব একটা পরিচয় থাকবে,
একটি গল্প নিজের হবে, যে গল্পের প্রতিটা শব্দ হবে একজন সফল মানুষের। বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর শিক্ষা অর্জন শেষে তাইতো নিজের একটা গল্প তৈরিতে উদ্যোগী হন নাহিদ আক্তার স্বাতী।
স্বাতী স্বপ্ন দেখতেন তার নিজস্ব একটা পরিচয় থাকবে, যা দিয়ে সবাই তাকে চিনবে। স্বাতীর এ স্বপ্নই তাকে উদ্যোক্তা হওয়ার প্রেরণা দিয়েছে। ছোটবেলা থেকে দাদি-নানির গল্প শুনতে শুনতে বড় হয়েছেন স্বাতী।
বেশ আগে নয়, মাত্র ৪ বছর আগে-সময়টা ছিল করোনাকাল। পুরো পৃথিবী থমকে ছিল। মানুষের হাতে ছিল অফুরন্ত সময়। নিজের অস্থিরতা দূর করতে স্বাতী ২০২০ সালের জুন মাসে অনলাইনে শুরু করেন ব্যবসার কাজ। নিজের অনলাইন ভিত্তিক প্ল্যাটফর্মের নাম দেন ‘গল্পের শুরু’।
স্বাতীর ভাষ্যে, ‘আমার ইচ্ছা নিজের একটা গল্প থাকবে বলার মতো। যে গল্পে আমাকে সবাই চিনবে। তাই ‘গল্পের শুরু’ নাম দিয়ে শুরু করলাম কাজ। এটা অনলাইন ভিত্তিক দেশীয় পোশাক এবং খাদ্যসামগ্রীর প্রতিষ্ঠান হলেও আমি এটাকে আমার জীবনের গল্পের অংশ বলে মনে করি। তাই এই নাম।’
নাহিদ আক্তার স্বাতী মাস্টার্স শেষ করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগ থেকে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের সঙ্গে কাজ করতেন। আর সে থেকে কিছু একটা করার স্বপ্ন দেখেন। সেই স্বপ্নই তাকে নিয়ে যায় ‘গল্পের শুরু’-এর কাছে।
যাত্রা শুরু হল কিভাবে এমন প্রশ্নের উত্তরে নাহিদা বলেন – বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়ে তিনি টানা ১৫ বছর চাকুরী করেছেন ডেভেলপমেন্ট সেক্টরে। আর চাকুরীর সূত্রেই তার সিলেটে আসা । কিন্তু চাকুরীতে অর্থনৈতিক সক্ষমতা অর্জন করলেও মানসিক শান্তির কিছুটা ঘাটতি ছিল। তাই নিজ চিন্তা ভাবনা থেকেই একসময় চাকুরী ছেড়ে দিয়ে তিনি উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখেন । যেই ভাবনা সেই কাজ - মায়ের দেওয়া ১০ হাজার টাকা দিয়ে তিনি শুরু করেছিলেন ‘গল্পের শুরু’।
এখন এই প্রতিষ্ঠান থেকে মাস শেষে তার আয় হয় ৮০ হাজার থেকে লক্ষ টাকা। উদ্যোক্তা হওয়ার পেছনে পরিবারের সহযোগিতা পেয়েছেন কি-না জানতে চাইলে স্বাতী বলেন, ‘আমার পরিবারের সহযোগিতায় আমি এত দূর এসেছি। পরিবারের সার্বিক সহযোগিতা না পেলে হয়তো এত দূর আসতে পারতাম না। পরিবারের পাশাপাশি পরিচিত বন্ধুরাও উৎসাহ দিয়েছেন। তাঁদের সকলের নাম আমার হৃদয়ের মণিকোঠায় শ্রদ্ধাভরে খচিত থাকবে।’
নাহিদ আক্তার স্বাতীর ‘গল্পের শুরু’ প্রতিষ্ঠানে গাওয়া ঘি, মিক্সড বাদাম ও শীতের মৌসুমে খেজুরের রসের ঝোলাগুড় এবং পাটালি গুড় পাওয়া যায়। এখানকার প্রাকৃতিক চাকের মধু সংগ্রহ করা হয় সুন্দরবনের বিশ্বস্ত মৌয়ালের কাছ থেকে। আর চা-পাতা, ক্লোন-টি, গ্রিন-টি সংগ্রহ করা হয় একজন বিশ্বস্ত লোকের কাছ থেকে। খাবারের পাশাপাশি এখানে পোশাক, শাড়িও বিক্রি করা হয়। এখানকার জামদানি, মণিপুরী, ব্লক-বাটিক এবং টাঙ্গাইল পোশাকগুলো সংগ্রহ করা হয় তাঁতিদের কাছ থেকে। স্বাতীর মতে, এভাবে সংগ্রহ করা হয় বলেই ‘গল্পের শুরু’-এর পণ্যের গুণগত মান নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকা যায়।