12/08/2024
নাম না জানা আরেক মুগ্ধের করুণ কাহিনি।
সময়টা ছিলো ১৯৯৭ সালের মার্চ মাস, তখন এক ধার্মিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করে দুই জমজ ছেলে।
ইব্রাহীম ও আব্দুর রহমান।
বংশে এই প্রথম জমজ ছেলে, খুশীর কি কোন সীমা থাকে?
ধার্মিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করায় পিতার ইচ্ছা দুই ছেলেকেই দ্বীনের দাঈ বানানোর।
যেই কথা সেই কাজ বাল্যকাল থেকেই মকতব মাদরাসায় পড়ালেখা শুরু।
অতি চঞ্চল দুই ভাইয়ের প্রতিভা তুলে ধরতে ভর্তি করানো হলো ইসলামী সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে, শিক্ষনীয় অভিনয় আর গান গাইতে পারতো এই দুইভাই।
জমজ ভাইদের দুষ্টুমি তে কি যে বিনোদন পেত সবাই তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।
কিন্তু কেউ কি জানতো খুব শীঘ্রই এই সুন্দর দিনগুলো শেষ হতে চলেছে?
বলছিলাম আমারই জমজ ভাই ইব্রাহীমের কথা।
২০১৬ সাল আমাদের পরিবারের জন্য একটি ভয়ানক বছর এমন বছর কারো জীবনে না আসুক।
ঘটনার শুরু ৮ই আগষ্ট। হলি আর্টিজানের পর যখন তৎকালীন সরকারের জনগী নাটক শুরু ঠিক তখনই ইব্রাহীম একদিন ফজরের নামাজে বের হলে আর ঘরে ফিরেনি।
অনেক খোঁজ করেও সন্ধান পেলাম না ওর।
থানায় জিডি করলাম, পত্র পত্রিকায় প্রচার করলাম আরো কত চেষ্টা। কিন্তু না, ইব্রাহীম কে খুঁজে পাওয়া গেলোই না।
ঠিক দুইমাস পর ৮ই অক্টোবর জানতে পারলাম গাজীপুরের পাতারটেকে ৭জনকে জনগী সন্দেহে ইনকাউন্টার করেছে পুলিশের CTTC ইউনিট।
তৎকালীন গাজীপুর জেলা পুলিশ কমিশনার ছিলো কুখ্যাত হারুনর রশীদ।
তখনও আমরা বুঝতেই পারিনি কি হতে চলেছে আমাদের সাথে।
তার দুইদিন পর কথিত CTTC এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে বেওয়ারিশ হিসেবে ইব্রাহীমের রক্তাক্ত নিথর দেহ সনাক্ত করি আমি নিজেই।
হায় হায় এতো দেখি ইব্রাহীম, ও এখানে গেলো কি করে? ওর ধার্মিকতাই কি ছিলো মূল অপরাধ? চোখে মুখে আধার নেমে এলো।
যাকে নিয়ে এত আশা আকাঙ্ক্ষা আমার। এত এত জিজ্ঞাসা মনে, জানতে চাইবো ইব্রাহীম.... এতদিন কই ছিলিরে ভাই? তোকে ছাড়া কুরবানীর ঈদ করলাম। এই প্রথম তোকে ছাড়া ঈদের নামাজ পড়তে গেলাম রে......
একা একা আর ভালো লাগে না জানিস? আরো ধুর তোকে তো বলাই হলো না তোকে অনেক ভালোবাসি ভাই। ছোটবেলায় অনেক মেরেছি তোকে।
যদি জানতাম যে তোর হায়াত এত অল্প,ওয়াল্লাহি আমি মার খেলেও তার জবাবে তোর গায়ে হাত তুলতাম না ভাই।
জীবনের ১৯ টা বছর তোর সাথে কাটালাম। জানিনা কতদিন এই ব্যাথা নিয়েই বেঁচে থাকবো। তবে জানিস তোর জন্য অনেক দোয়া করি। আল্লাহ যেন তোকে শহিদি মর্যাদা দেন।
এতদিন তোকে লুকিয়ে রেখেছিলাম। কারণ যদি আমি সব প্রকাশ করি তাহলে আজকে এসব প্রকাশ করার জন্য আমাকেও ওরা ছাড়তো না।
এই দেশে ইসলামি বই কারো কাছে পাওয়া গেলে সে জনগি, এই দেশে দাড়ি টুপি মানে জনগি, এই দেশে বেশি ধার্মিকতা মানেই জনগি। আমাদের এ-ই ভুল ধারণা কবে ভাঙবে!!!
জালিমের বিচার দুনিয়াতে একবার হবে। আর চুড়ান্ত বিচার কাল কেয়ামতে।
দুঃখিত আর লেখা সম্ভব না আমার দ্বারা।
লেখাঃ Abdur Rahman Ibn Azim