23/04/2026
'যাকাতখোর' শব্দটি গালি হিসেবে কেমন?
বাংলাদেশে বিভিন্ন সময় ‘লিল্লাহখোর’ কিংবা ‘যাকাতখোর’ বলে কওমী ঘরানার আলেমগণকে খোটা দিয়ে খাট করা হয়। এটা কারা করেন, সমাজের সবাই জানেন। তবে সম্প্রতি ইসলামের নামে রাজনীতি করা কয়েকজন আলেমের মুখে এই শব্দগুলো শুনে আমি আঁৎকে উঠি। কেনো আঁৎকে উঠলাম! কারণ, এগুলো কোন আলেম তো দূর কি বাত! একজন সাধারণ মুসলিমও বলতে পারবেন না। যদি তার মধ্যে আল্লাহর ভয়, হালাল-হারাম এবং ঈমানের বিষয়গুলো স্পষ্ট থাকে।
যাকাত কি হালাল!
যাকাতের মুস্তিহিক বা হকদার যিনি; তার জন্য তো যাকাত হালাল। বিত্তবানদের সম্পদে খোদা-নির্ধারিত দরিদ্রের অধিকার যাকাত। একজন হকদারের জন্য যাকাত পবিত্র রিজিক। এখন কোন হকদার যদি যাকাতের সম্পদ খান- তাহলে তাকে ‘গালির নিয়তে’ কিংবা ‘অপমানের নিয়তে’ ‘যাকাতখোর’ কিংবা ‘লিল্লাহখোর’ বলা জায়েজ হবে কি না! শরীয়ত এই বিষয়ে কী বলে? অথবা কোন হালালকে বা জায়েজকে ঘৃণা করা, তুচ্ছ করার হুকুম কী ফিকহ শাস্ত্রে? আমাদের স্মার্ট আলেম ভাইয়েরা কি একবার ভেবে দেখবেন?
কওমী মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষ কি যাকাত খান?
কওমী মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষ বলতে উস্তাজ, মুহতামীম ও কমিটি কি যাকাত নিজের জন্য ব্যবহার করেন? আদতে সেইটে কখনোই নয়। যতদূর জানি, (দুর্নীতি ভিন্ন কথা। যদি কেউ করে!) মাদ্রাসায় অস্বচ্ছ্বল তালেবে এলেমদের খাবার, ভর্তি ফি, পরীক্ষার ফি, কোথাও কোথাও বেতন, পোশাক ইত্যাদি কাজে যাকাতের অর্থ ব্যবহার হয়। এখন যে শিক্ষার্থী অস্বচ্ছ্বল, দরিদ্র সেই শিক্ষার্থীর জন্য তো যাকাত হালাল। তাহলে কারো হালাল খাদ্য ও ভরণপোষণকে গালি দেওয়া ইসলামের কোন আদর্শের দ্বারা বৈধ?
মাদ্রাসার উস্তাজের বেতন, নির্মাণ কাজসহ যাকাত ব্যবহারের খাত নয়; এমন কোন খাতে কওমী মাদ্রাসা যাকাতের সম্পদ ব্যবহার করে না। যদি কেউ করেন তাহলে সকল আলেম সেইটেকে হারাম বলেন।
কওমী মাদ্রাসা ছাড়া অন্যদের হালত কী?
দেশের সরকার স্বীকৃত শিক্ষা ব্যবস্থায় সরকারের ভর্তুকির টাকা কোত্থেকে আসে? সরকারী, আধা-সরকারী, স্বায়ত্বশাসিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যয়ভার কিংবা ভার্সিটিগুলোর ভর্তুকি সরকার কীভাবে দেয়? নিশ্চয়ই টেক্সট, ভ্যাট ও শুল্ক থেকে দেয়। এখন সরকার এইসব কর কোত্থেকে নেয়? একদম সফলভাবে বললে, “আফগারী শুল্ক, আমদানী শুল্ক, বার, সিনেমা, বিনোদন কেন্দ্র, ক্লাবগুলোসহ জনগণের কেনাকাটার ভ্যাট ও জনতার টেক্স সরকারের অর্থের উৎস। আর আছে বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান।
এখন যারা যাকাতখোর বলেন, লিল্লাহখোর বলেন; তারা একবার ভাবেন আপনার এডুকেশনের ভর্তুকি সরকার কোত্তথেকে দিচ্ছে!
মনে রাইখেন, যাকাত নিজে পবিত্র। সম্পদকে পবিত্র করে। যিনি দেন তার পক্ষ থেকেও পবিত্র। যিনি গ্রহণ করেন তার জন্যও পবিত্র।
আকেলমন্দ কে লিয়েন্ডার ইশারা কাফী হ্যায়!
এরপরেও…
এরপরেও যাদের সুকুন মিলেনি। মনের ভেতরে খচখচানি রয়ে গেছে। গালি দিয়ে শান্তি পাইতে চাইতাছেন। তাদের খেদমতে কুরআনুল কারীমের একখানা আয়াত পেশ করছি।
বাকিটা আপনাদের মর্জি… 'যাকাতখোর' কিংবা 'লিল্লাহখোর' বা প্রতিষ্ঠানের জন্য যাকাত গ্রহণকে 'ভিক্ষাবৃত্তি' শব্দে গালি দিয়ে নিজের ঈমানকে বিপজ্জনক করে তুলবেন নাকি জিহ্বায় লাগাম টানবেন!
এই আয়াতটি অনুধাবন করার জন্য আমি একটি ছোট শিরোনাম দিয়ে আয়াতখানা পেশ করছি।
সাদাকাহ ও খোটা:
"হে মুমিনগণ! দানের কথা বলে বেড়িয়ে এবং কষ্ট দিয়ে তোমরা তোমাদের দানকে ঐ ব্যক্তির ন্যায় নিষ্ফল কর না, যে নিজের ধনসম্পদ লোক দেখানোর জন্যে ব্যয় করে থাকে আর আল্লাহ ও আখিরাতে ঈমান রাখে না। তার উপমা একটি মসৃণ পাথর-যার ওপর কিছু মাটি থাকে; এরপর এর ওপর প্রবল বৃষ্টিপাত একে পরিষ্কার করে রেখে দেয়। যা তারা উপার্জন করেছে তার কিছুই তারা তাদের কাজে লাগাতে সক্ষম হবে না। আল্লাহ্ কাফির সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না।"
— সূরাতুল বাকারা। আয়াত: ২৬৪