01/12/2016
নরসিংদী প্রতিনিধি: নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার পান্থশালা-সায়দাবাদ খেঁয়াঘাটে যাত্রী পারাপারে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ফলে দূর্ভোগের শিকার হচ্ছেন যাত্রীসাধারণ। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নরসিংদী জেলা প্রশাসক কর্তৃক পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জানা যায়, মেঘনা নদী বেষ্টিত উপজেলার চরাঞ্চচলের ৬টি ইউনিয়ন। যেখানে তিন লক্ষাধিক লোকের বসবাস। আর বসবাসরত এ তিন লক্ষাধিক লোকের উপজেলাসহ জেলা সদরের সাথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম পান্থশালা-সায়দাবাদ খেয়াঘাট। এই ঘাট দিয়ে প্রতিদিন ১০/১২ হাজার যাত্রী পারাপার হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় তদারকি না থাকায় যাত্রীদের কাছ থেকে আসা-যাওয়া বাবদ ৮ টাকার স্থলে আদায় করা হচ্ছে ১৮ থেকে ২০ টাকা।
ফলে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন যাত্রীসাধারণ। যাত্রী সাধারনের অভিযাগের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সিদ্দিকুর রহমানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন নরসিংদী জেলা প্রশাসক আবু হেনা মোর্শেদ জামান। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, জেলা সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান, রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর মাহমুদা খানম, উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরী ও সহকারী কমিশনার ভূমি কর্মকর্তা মোঃ হুমায়ুন কবীর।জেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, পান্তশালা-সায়দাবাদ খেঁয়াঘাট ইজারার জন্য প্রতি অর্থ বছরেই দরপত্র আহবান করেন জেলা পরিষদ। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি অর্থ বছরে খেয়া ঘাটটির ইজারাদার মনোনীত করা হয় মোঃ মোশারফ হোসেন নামে একজন।
আর এ ইজারাদারের অধীনে রয়েছে আরো ১০জন পার্টনার। দরপত্র অনুযায়ী খেঁয়া পারাপারে আসা-যাওয়ায় জনপ্রতি ৮টাকা ভাড়া আদায়ের নিয়ম রয়েছে। সেই সাথে যাত্রী অনুপাতে ঘাটে তাদের পর্যাপ্ত নৌকা থাকতে হবে। কিন্তু এখানে সবকিছুই হচ্ছে তার উল্টো নিয়মে। ইজারাদার কর্তৃক ঘাটে কোন নৌকা পাওয়া যায় না। তবে সচেতন মহলের চোখে যাতে ধরা না পড়ে সেই কারনে ঘাটের কোনো প্রান্তে সাজিয়ে রাখা হয় ইজাদার কর্তৃক ২/১টি নৌকা। যাকে বলে বিনা পুঁজিতে ব্যবসা।যাত্রীদের অভিযোগ, সরকারী নিয়ম নীতি তুয়াক্কা না করে ইজারাদারের লোকজন যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। জনপ্রতি যাত্রীদের কাছ থেকে ঘাটের টোল আদায় করছে ৪ টাকা করে ৮ টাকা এবং ফাড়ি নৌকায় আরো ৫ টাকা করে ১০ টাকা ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। একজন যাত্রী আসা-যাওয়ায় ভাড়া গুনতে হচ্ছে ১৮-২০ টাকা। আবার সন্ধা ঘনিয়ে আসলে ভাড়া হয়ে যায় দিগুন।
তাছাড়া জনসম্মুখে ভাড়ার নির্ধারিত মূল্য তালিকা অর্থ্যাৎ সিটিজেন চার্টার টানানোর কথা থাকলেও রহস্যজনক কারনে তা টানানো হয়নি। ঘাটের দুই পাশে যাত্রীদের উঠা-নামার সুবিধার্থে ঘাটলা স্থাপনের নিয়ম থাকলেও এখন পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। যাত্রীরা জানান, ঘাটে ইজাদারের নৌকা থাকে না। তাই অতিরিক্ত ভাড়ায় ফাঁড়ি নৌকায় যাতায়াত করতে হচ্ছে।টোল আদায়কারী মোঃ হারুর মিয়া বলেন, আমরা জনপ্রতি ৪ টাকা করে আসা-যাওয়ায় ৮টাকা ভাড়া আদায় করছি। ঘাটের নৌকা দিয়ে যাত্রী পারাপার করলে অতিরিক্ত কোন ভাড়া দিতে হয় না।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান চৌধুরী আজান বলেন, উপজেলা প্রশাসন র্কর্তৃক অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে কড়া নিষেধাজ্ঞা সত্বেও অদৃশ্য ক্ষমতার বলে টোল আদায়কারীগণ তাদের মনগড়া মতো ঘাট পরিচালনা করছেন। অতিরিক্ত টোল আদায় নিয়ে খেয়া ঘাটে প্রায়ই আদায়কারী ও যাত্রীদের মধ্যে তর্কাতর্কির ঘটনা ঘটছে। আমি এর দ্রুত সমাধান কামনা করছি।উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন, পান্তশালা-সায়দাবাদ খেঁয়াঘাটে টোল আদায়ের নামে প্রতিনিয়তই হয়রানীর শিকার হচ্ছে চরাঞ্চলের তিন লক্ষাধিক মানুষসহ যাত্রী সাধারণ। ঘাটটি যেহেতু জেলা পরিষদের অধিনস্থ, সেহেতু তাদের শীঘ্রই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা উচিত বলে মনে করি। অন্যথায় যে কোন সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে যেতে পারে বলে ধারনা করা যাচ্ছে। এ ব্যাপারে কথা হয় নরসিংদী জেলা পরিষদ এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো: সিদ্দিকুর রহমানের সাথে।
তিনি বলেন, সর্বশেষ ২০১১ সালের টোল আদায় ধারায় জনপ্রতি চার টাকা টোল নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু তিন বছর পর পর টোলের পরিমান পূণ:নির্ধারণ করার নিয়ম থাকলেও সেটি হয়নি। যার ফলে টোল আদায় নিয়ে একটু সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। জেলা প্রশাসক মহোদয় পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। উক্ত কমিটি যাচাই বাছাই পূর্বক রিপোর্ট পেশ করার পর জন সাধারণের সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।