16/09/2022
সাপ্তাহিক বন্ধ তবুও বের হলাম কাজের প্রয়োজনে এক নিভৃত পল্লীতে। গ্রামের মেঠো পথ ধরে যাওয়ার সময় এক প্রকার গন্ধ আমার পথ আগলে দেয়। আশেপাশে খুঁজে উদ্ধার করি, গন্ধের উৎপত্তি স্থান। হ্যা, আমি বলছি, গন্ধ ভাদালি গাছের কথা যা উত্তরের অনেক স্থানে বন ভাদালি পাতা নামে পরিচিত।
প্রচলিত নাম -- গুইন্যারী, গন্ধ ভাদুলে, গাঁদাল, গন্ধভাদালি, গন্ধভাদুরি, বনভাদুরি, গন্ধভাদাল, ভাদাল, ভাদালিলতা, গন্ধালি।
এই পাতা জঙ্গলে বা বাগানের ঝোঁপে-ঝাড়ে হয়৷ এই পাতা আয়ুর্বেদিক ঔষধ হিসাবে ব্যবহৃত হয়৷
এ গাছের পাতা শুঁকলে তো কথাই নেই, গাছের কাছে গেলেই গন্ধ। আমার অবশ্য এই গন্ধটাই খুব ভালো লাগে। রান্নার পরে এই বিশ্রী দুর্গন্ধ আর থাকে না। তখন সে হয়ে যায় অমৃততুল্য। অনেকে মাছের সাথে দিয়ে রান্না করে, মাছের দুর্গন্ধ দূর করার জন্য।
গাঁদাল পাতার ঔষধি গুণও অনেক যেমন আমবাত, আমাশা, অর্শ, অজীর্ণ, শক্তিহীনতায় গাঁদাল পাতা ধন্বন্তরীর কাজ করে।
কবিরাজরা এর গুণপনার কথা বলেন মুক্তকন্ঠে। আদর করে একে 'ভদ্রালতা'ও 'মধুলতা'বলেন।
পাতা কুচিয়ে বড়া তৈরি করে খাওয়া যায়৷
এই বড়া খুবই সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যকর৷ জ্বর,ঠান্ডা,কাশিতে রস বা বড়া বানিয়ে খেলে খুব উপকার হয়। বেটে/ভর্তা করে গরম ভাতে খাওয়া হয়।
পরিমানমত মটর ডালের পেস্ট সাথে এই পাতা পেস্ট, পরিমাণ মতো আদা বাটা, রসুন বাটা, পেয়াজ, মরিচ কুচি, লবন পরিমাণ মত মিশিয়ে ডুবো তেলে বড়া ভাজতে হয়। মজাটা হলো, ভাজার পরে পাতার দুর্গন্ধ এক অদ্ভূত ক্ষুধাজাগানিয়া আঘ্রাণে পরিণত হয়।