07/12/2016
- চৈতী...!!
- হুম, শুনছি।
- আমি তোকে ভালোবাসি।
- জানি।
- আমি কিন্তু সিরিয়াস।
- জানি।
- আচ্ছা, তুই আমাকে এতো এড়িয়ে চলিস
কেনো?
- কোথায় এড়িয়ে চললাম?
- এই যে, আজকে সহকারে ৫৩ বার তোকে
প্রপোজ করলাম, অথচ একদিনও রিপ্লাই
করলি না।
- ওমা, তুই তো হিসাবও রাখিস দেখছি?
কেমনে কি, বুঝলাম নাতো।
- তুই মূলকথা এড়িয়ে যাচ্ছিস। আমি একটা
কোয়েশান্স করেছি, তুই আমাকে এড়িয়ে
চলিস কেনো?
- মূলকথা এড়িয়া গেলাম কখন? যেই
ছেলেটা প্রতি মাসে প্রেমিকা বদলায়
সেই ছেলেটা কখন, কোথায়, কাকে, কতবার
প্রপোজ করেছে সেটা মনে রাখতে পারে,
বিশ্বাস করতে সত্যিই কষ্ট হচ্ছে।
- দেখ, তুই তো জানিস অন্য সব সম্পর্কগুলো
টাইমপাস। তুই তো আমার সত্যিকারের
অনুভূতি। বিশ্বাস কর, আমি তোকেই
ভালোবাসি।
- হইছে, বিশ্বাস করাতে হবে না। এটা বল,
ঈশিতার কি খবর?
- কোন ঈশিতা যেনো?
- ওমা, গত মাসে যার সাথে কফিশপে
দেখলাম।
- ওহ্, ওইটার সাথে ব্রেকাম হলো
সপ্তাহখানেক হবে।
- তুই পারিসও বটে।
- আচ্ছা বলতো, এতো মেয়ে আমার প্রেমে
পড়ে আর আমি যাকে পেতে চাই সেই
আমাকে এড়িয়ে চলে কেনো?
- আব্বু ফোন দিছে, গেলাম....!!!
থামানোর বৃথা চেষ্টা করে লাভ নেই।
আগের যতবারই মেয়েটাকে এই প্রশ্নগুলো
করেছি প্রতিবারই সে এড়িয়ে গেছে।
চৈতী আমার একমাত্র বন্ধু। বন্ধু বললে ভুল
হবে। আমার মনের পুরোটা জুড়েই মেয়েটার
দখল। আমার লাইফের এমন কোনো ঘটনা
নেই যেটা চৈতীর অজানা। বড্ডো
ভালোবাসি মেয়েটাকে। কিন্তু কিভাবে
যে কি করি বুঝতেই পারছিনা।
(কিছুদিন পরের ঘটনা)
চৈতীকে দেখলাম কফিশপে। প্রায়শই
দেখি কিন্তু এই দেখা সেই দেখার মাঝে
তফাৎ আছে। অন্যদিন থাকে ওর বন্ধুদের
সাথে। কিন্তু আজকে একটি ছেলের সাথে।
দূরে বসে দৃষ্টি রাখছিলাম। প্রায়
ঘন্টাখানেক তাদের কথোপকথন চলছিল।
বুঝলাম চৈতীর আমাকে এড়িয়ে চলার কারণ
কি। বুকের বাঁপাশ টায় চিনচিনে ব্যাথা
অনুভূত হলো। চৈতী আমার সাথে
বিশ্বাসঘাতকতা করবে তা ভাবতেই কষ্ট
হচ্ছিল। নাহ্, চৈতীর তো কোনো দোষ নেই।
আমার প্রস্তাবে কখনো তো হ্যাঁ বলেনি
মেয়েটা। আমিই তো শুধু শুধু ওকে বিরক্ত
করে গেছি। যতটা পীড়া দিচ্ছিল এই
ঘটনাটা তার চেয়ে বেশি পীড়া দিচ্ছিল
অপরাধবোধ। এত্তোগুলো মেয়ের সাথে
বিশ্বাসঘাতকতা করার ফলাফল হাতে-
কলমে পাচ্ছি। আমি ওদের ভালোবাসা
নিয়ে খেলেছি আর চৈতী আমারটা নিয়ে
খেলছে।
সংকল্প করলাম, যেভাবেই হোক চৈতীকে
ভুলে যাব। প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে ওর সাথে
যোগাযোগের সব মাধ্যম বন্ধ করে দিয়েছি।
ভার্সিটিতে দেখা হলেও না দেখার ভান
করে এড়িয়ে যাচ্ছি। আমার পরিবর্তন লক্ষ্য
করে চৈতী ডাকলো,
- এই রিসান..!!!
(না শুনার ভান করে হাটছি)
- রিসআআন......!!!!! (আগের চেয়ে জোরে)
- কী হইছে? (বিরক্তি নিয়ে)
- তোর সাথে কথা আছে।
- কি বলবি বল।
- এখানে না।
- আমার কাজ আছে, যা বলার এখানেই বল।
- এই পরিবর্তনের মানে কী?
- কোনটার?
- এই যে, এড়িয়ে চলা।
- কই নাতো।
- কখনো আমি ডাকলে বিরক্তিভাব আগে
তো ছিলনা।
- কাজ আছে বললাম তো।
- ফোন অফ কেনো?
- খোলা রাখার ইচ্ছে নেই।
- তোর যা ইচ্ছে তাই করবি নাকি?
- হ্যাঁ, তোর সমস্যা?
- না তুই বন্ধ রাখতে পারবি না। এখনই
অপেন কর।
- পারবো না।
- তোকে পারতে হবে।
- আচ্ছা বলতো আমার প্রত্যেকটা বিষয়ে
তোর এতো মাথা ব্যাথা কেনো? আমি কি
করবো না করবো সেটা তোকে ঠিক না করে
দিলেও চলবে। কই, তোর কোনো বিষয়ে তো
আমার কোনো মাথা ব্যাথা নেই। এইযে, তুই
অন্য ছেলের সাথে কফিশপে বসে
প্রেমালাপ করিস এতে তো আমি কোনো
আপত্তি জানাই নাই। তাহলে আমার
প্রতিটা বিষয়ে তোর এতো আপত্তি কেনো?
- ওয়েট ওয়েট, কি বললি? কফিশপে
প্রেমালাপ? (ভ্রু কুঁচকে)
- তা নয়তো কি? সেদিন দুপুরে তুই কার
সাথে প্রেমালাপ করেছিলি আমি দূর
থেকে সব দেখেছি।
- আমি? প্রেমালাপ? কোন দিন?
- অবাক হওয়ার ভান বন্ধ কর। লাস্ট
বৃহস্পতিবার আমি সব দেখেছি।
কিছুক্ষণ নিরব থেকে থাপ্পড় দিয়ে কাঁদতে
কাঁদতে চৈতী হাটতে শুরু করলো। কিছু না
বুঝে বোকার মতো গালে হাত দিয়ে
দাঁড়িয়ে রইলাম। পাশে থাকা রিমা
(চৈতীর বন্ধু) তামাশা দেখছিল। হঠাৎ
বলতে শুরু করলো,
- তুমি চৈতীকে ভুল বুঝেছো।
- মানে?
- মানে হচ্ছে, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে তুমি
যে ছেলের সাথে চৈতীকে দেখেছো ও
আসলে আমার বয়ফ্রেন্ড ছিল। তুমি হয়তো
পাশের বেঞ্চিতে আমাকে খেয়াল
করোনি। আমাদের মধ্যকার কিছু সমস্যা
নিয়ে চৈতী রাহাতের সাথে কথা বলছে।
- তাহলে, এখন কি হবে?
- কি হবে আবার? দৌড়ে যাও, ওর পথ আগলে
স্যরি বলো।
- ওকে.....
- এই যে শুনে যাও। (দৌড় দিতে গিয়েও
থামতে হলো)
- কি হলো?
- এই গোলাপ টা ওকে দিবা, আমার
বয়ফ্রেন্ড এটা দিয়েই আমার রাগ
ভাঙিয়েছে। (আমার হাতে একটা টকটকে
লাল গোলাপ দিয়ে রিমা বললো)
- ধন্যবাদ....(গোলাপ নিয়েই ভৌঁ দৌড়ের
সাথে প্রস্থান)
হাঁপাতে হাঁপাতে সামনে গিয়ে
দাঁড়ালাম। চৈতীর চোখ ভেজা। এক
সেকেন্ডও সুযোগ না দিয়ে, কান ধরে উঠবস
শুরু করলাম। আর বলতে লাগলাম,
- স্যরি, স্যরি, স্যরি।
চৈতী চলে যেতে চাইলে পথ আগলে ধরলাম।
গোলাপটা হাতে নিয়ে বললাম,
- স্যরি বলছি তো। আমার কী দোষ? ওই
ছেলের সাথে এতক্ষণ কথা বলতে দেখে
সন্দেহ হইতেই পারে। তার উপর এতবার
প্রপোজ করা সত্ত্বেও এড়িয়ে যাচ্ছিস
দেখে ভাবলাম হয়তো ওই ছেলের জন্যেই
এড়িয়ে যাচ্ছিস। কখনো তো হ্যাঁ বলিস
নাই।
চোখ মুছে গোলাপটা হাতে নিয়ে বললো,
- না বলছি কখনো?????