18/05/2026
সময়টা ২০১৯ সাল। ব্যাবসা শুরুর বছর। তিন বন্ধু মিলে শুরু করেছিলাম। মিরপুর বেনারসি পল্লীর একটা ভবনের ৬ তলায় ২ রুমের ফ্লাট নিয়ে শুরু। এক রুম অফিস, আরেক রুমে থাকতাম। ভাড়া ১৫০০০/-।
সাভারের এক বড় ভায়ের কাছ থেকে অল্প কিছু প্রোডাক্ট নিয়ে শুরু। সারাদিন ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে পোষ্ট করতাম। সেসময় ফেসবুকের গ্রুপ রিচ ভালো ছিলো, আর অ্যাড ক্যাম্পেইন, বুস্টিং এতো জনপ্রিয় ছিলো না।
দুই একজন ক্লায়েন্ট আসতো। লিফ্ট নেই, ক্লায়েন্ট ৬ তলায় হেটে উঠে যখন দেখতো অল্প কিছু প্রোডাক্ট, সে হতাশ হয়ে যেতো। অভিব্যাক্তি দেখে বোঝা যেত যে, মনে মনে গালি দিচ্ছে।
আমরাও হতাশ, বিক্রি নাই, এদিকে মাসে ১৫ হাজার ভাড়া, অন্যান্য খরচ তো আছেই।
৬ মাস পর, মিরপুর ছেড়ে চলে আসলাম সাভার। ৬ মাস শেষে ওই বড় ভায়ের কাছে ৫০ হাজার টাকা দেনা।
সাভারে এসে নতুন উদ্যমে শুরু করলাম।
জানুয়ারী ২০২০।
কো-ভিড কেবল শুরু হয়েছে, দেশে এ নিয়ে আলোচনা চলছে। আমরা তিনজন স্যাম্পল নিয়ে বের হয়ে গেলাম মার্কেটিং এ। আমি আমার এলাকা কুষ্টিয়া-ঝিনাইদাহ তে, ওরা দুজন গেল পাবনা-রাজশাহী।
তো, কুষ্টিয়াতে অনেকগুলো শোরুম ঘুরে একটা শোরুমে অর্ডার পেলাম। ১০০ পিস। সেসময় এটাই আমাদের কাছে অনেক বড় অর্ডার। প্রফিট থাকবে ৭০০০ টাকা। অনেক! কিন্তু বাধ সাধলো অন্য যায়গায়। কাস্টমার বললো, " ডেলিভারীর সময় ৫০% ক্যাশ পেমেন্ট দেবো আর ৫০% চেক দিবো, ১ সপ্তাহ পর তুলবেন। "
কনফিউশনে পড়ে গেলাম। ঐ বড় ভাই কে ফোন দিয়ে বললাম ঘটনা। সে বলল," সাগর ভাই, যেসব পার্টি চেক অফার করে, এরা এলিট শ্রেনীর বাটপার। ওই চেকের কোনো ভ্যালু নাই। অল্প কয়েক টাকার জন্য, আপনি কোনো একশনেও যেতে পারবেন না। এই পার্টি রে মাল দিয়েন না। "
এই সিচুয়েশনে নতুন উদ্যোক্তা যারা পড়ে তারা বুঝতে পারে, কেমন কনফিউশানল ব্যাপার। একদিকে ৭০০০ টাকার প্রফিট লোভ, একদিকে নতুন কাস্টমার, বড় অর্ডার। যাই হোক, অর্ডারটা নিলাম না এবং সেটাই ছিলো সঠিক সিদ্ধান্ত ।
আবার ঘুরতে লাগলাম। কাধে ব্যাগ, হাতে স্যাম্পল। দোকানদার রা পাত্তাই দিতে চায় না, একজন তো স্যাম্পল মুখে ছুড়ে মারলো। আরেকজন স্যাম্পল দেখার আগেই বললো, বাকী দিতে পারলে স্যাম্পল দেখান, নাহলে দেখানোর দরকার নেই।
সদ্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়া যুবক। রক্ত থেকে তখনো মাস্তানি ভাবটা যায় নি। ভীষন রাগ হচ্ছিলো, তারপরও দোকান থেকে দোকানে ঘুরতে লাগলাম। কয়েকজন অর্ডার করলো না ঠিকই, কিন্তু অমায়িক ব্যাবহার করেছে।
সারাদিন ঘুরে অর্ডার পেলাম ২ টা শোরুম থেকে, একজন ৪০ পিস, অন্যজন ৩২ পিস। তাতেই আলহামদুলিল্লাহ। তিনদিন পর ডেলিভারী। প্রফিট ৩২ পিসের অর্ডারে ০, ৪০ পিসের অর্ডারে ২০০০ টাকা৷
তিনদিন পর প্রথমে গেলাম ৩২ পিসের ডেলিভারী দিতে। দোকান মালিকের সে কি খাতির! ৩২ পিস চেক করে প্রোডাক্ট ভিতরে নিয়ে গেলো। আমাকে পাশের দোকানে নিয়ে চা বিস্কুট খাওয়ালো। কত গল্প! পেমেন্টের সময় বললো, ভাই ৫০০০ টাকা সর্ট আছে, দুদিন পর দেবো। আমি রাজী হলাম না। তখন কোথায় থেকে ৩০০০ টাকা নিয়ে এসে দিয়ে বললো, ২০০০ টাকা কাল দেবো৷ আপনার বিকাশে। সেই ২০০০ টাকার জন্য ২ মাস ঘুরতে হইছে।
আর ৪০ পিসের ডেলিভারী দিতে গিয়ে শুনলাম, " এখন টাকা নেই, দুদিন পর আসেন। " সেই ডেলিভারি দিলাম ১০ দিন পর।
এভাবেই শুরু😀... মাঝে কত হাজারো গল্প! অন্য কোনদিন করবো।
উদ্দ্যোক্তা হওয়া কঠিন, বাংলাদেশে তো আরো কঠিন। শুধুমাত্র স্বপ্নবাজ সাহসী মানুষগুলোই সফল হয়। বাকীগুলো ঝড়ে যায়, সকালের ঝড়া শিউলির মতো!