Poultry Professionals Bangladesh / PPB

Poultry Professionals Bangladesh / PPB Poultry farming & management informations.
(2)

প্রিয় খামারি ভাই বোন ও ফার্ম ম্যানেজারগণ,।। হীটস্ট্রেস সলিউশন ।।  পোস্টারটি ক্লিক করে বড় করে দেখুন। প্রয়োজনীয় মনে করলে প...
19/05/2026

প্রিয় খামারি ভাই বোন ও ফার্ম ম্যানেজারগণ,
।। হীটস্ট্রেস সলিউশন ।। পোস্টারটি ক্লিক করে বড় করে দেখুন। প্রয়োজনীয় মনে করলে প্রিন্ট অথবা সেভ করে রাখুন। 🙏 সাথে প্রয়োজনীয় বায়ুচলাচল,ঠান্ডা পানি, অতিরিক্ত গরমের সময় খাদ্য স্থগিত রাখা অবশ্যই করণীয়।
-------- অঞ্জন মজুমদার।।

03/05/2026

বাহারী মুরগী- দেশি স্বাদে। বিক্রি হবে ।। ওজন ৯৮০-১০০০ গ্রাম। যোগাযোগ +8801715156911 কাশিয়ানী, গোপালগঞ্জ।

https://agrilife24.com/2024/2018-03-19-12-26-20/14973-anj29ap.html
30/04/2026

https://agrilife24.com/2024/2018-03-19-12-26-20/14973-anj29ap.html

কৃষিবিদ অঞ্জন মজুমদার:বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে আমরা যখন আলোচনা করি, তখন প্রায়ই উৎপাদনের পরিমাণ, আমদানি-র

29/04/2026
আসন্ন বাজেট:পোল্ট্রি শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়ার পথ উন্মুক্ত রাখতে হবে।।বাংলাদেশের কৃষি অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত হিস...
27/04/2026

আসন্ন বাজেট:পোল্ট্রি শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়ার পথ উন্মুক্ত রাখতে হবে।।
বাংলাদেশের কৃষি অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে গত তিন দশকের পথযাত্রায় পোল্ট্রি শিল্প ইতোমধ্যে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে- দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেছে এবং পোল্ট্রি শিল্পের (ব্যাকওয়ার্ড -ফরোয়ার্ড) উৎপাদন ও বিপনন চেইনে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার একটি স্বতন্ত্র অর্তনৈতিক ইকোসিস্টেম গড়ে তুলেছে। প্রান্তিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারিরা হলো পোল্ট্রি শিল্পের মূল প্রাণ ভোমরা; লক্ষাধিক প্রান্তিক পোল্ট্রি উদ্যোক্তাদের স্বল্প পুঁজি, দ্রুত উৎপাদন চক্র(রিটার্ন)এবং গ্রামীণ পর্যায়ে সহজে ব্যবসা বিস্তারের সুযোগ থাকায় এ খাত লাখো মানুষের জীবিকার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হতে পেরেছে। দেশের স্বল্প মূল্যের উন্নত প্রাণিজ প্রোটিনের চাহিদার বড় একটি অংশ এখন ডিম ও মুরগির মাংস থেকেই পূরণ হচ্ছে; ফলে ভোক্তার পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য হ্রাস এবং গ্রামের তরুণ ও নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নেও পোল্ট্রি শিল্পের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও কাঠামোগত সমস্যার কারণে দেশের পোল্ট্রি শিল্প বহুমুখী চাপে রয়েছে; আসন্ন জাতীয় বাজেটে যথাযথ নীতিগত ও আর্থিক সহায়তা না পেলে পোল্ট্রি শিল্পের মতো সম্ভাবনাময় খাত অদূর ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে।
বর্তমানে পোল্ট্রি খাতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো উৎপাদন ব্যয়ের লাগামহীন বৃদ্ধি; ফিডের কাঁচামাল যেমন ভুট্টা, সয়াবিন মিল, ডি-ওয়েল্ড কেক, এডিটিভস,সাপ্লিমেন্টস ইত্যাদির অধিকাংশই আমদানিনির্ভর।বর্তমানে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে এসব পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, ডলার সংকট, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং শুল্ক-কর কাঠামোর কারণে ফিডের দাম ক্রমাগত বাড়ছে।বর্তমানে পোল্ট্রি উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি, শ্রমব্যয়, পরিবহন খরচসহ অন্যান্ন ব্যবস্থাপনা খরচ বৃদ্ধি এবং ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার।অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হল প্রান্তিক খামারিরা, প্রচলিত ব্যাংক খাত ও অন্যান্ন তফসিল ভূক্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে সহজে ঋণ না পাওয়ায়, খামার চালু রাখতে- এনজিও এবং মহাজন/দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নেওয়ার ফলে উৎপাদন ব্যয় এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারি তাদের খামার বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন- ছোট ও মাঝারি খামারিদের এই বাস্তবতার প্রভাব শুধু উৎপাদনে নয়, সরবরাহ ব্যবস্থাতেও পড়ছে, যা ডিম ও মুরগির বাজারে অনেক সময় অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।
দেশের বৃহত্তম সুসংগঠিত কর্মসংস্থান খাত পোল্ট্রি শিল্পের বর্তমান সংকট মোকাবিলা ও সুরক্ষায় আসন্ন বাজেটে কিছু বাস্তবমুখী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ ও বিশেষ বরাদ্ধ রাখা অত্যন্ত জরুরি- বিশেষ করে পোল্ট্রি শিল্পের উৎপাদন ও বিপনন ব্যবস্থায় টার্নওভার ট্যাক্স হ্রাস, পোল্ট্রি ফিডের কাঁচামাল আমদানির ওপর শুল্ক প্রত্যাহার বা হ্রাস এবং ফিড উপাদানের স্থানীয় কাঁচামাল ক্রয় পর্যায়ে ভ্যাট প্রত্যাহার—এই মুহূর্তে বাস্তবায়ন করা গেলে ফিড উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে এবং এর সরাসরি প্রভাব পড়বে বাজারে ফিডের দামে।ফিডের দাম কমে গেলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারিরা উৎপাদনে টিকে থাকতে পারবেন, একই সঙ্গে গ্রামীণ অর্থনীতিতে পোল্ট্রি খাতের মাধ্যমে যে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, তা সুরক্ষিত থাকবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের পথও উন্মুক্ত থাকবে।
দেশে স্থানীয়ভাবে ফিডের কাঁচামাল উৎপাদনে উৎসাহ দেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন; ভুট্টা ও সয়াবিন চাষে প্রণোদনা,গবেষণা সহায়তা,সংরক্ষণ এবং বাজার নিশ্চয়তা প্রদান করা গেলে আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে।দীর্ঘমেয়াদে এটি ফিডের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হবে এবং দেশের কৃষি খাতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
পোল্ট্রি খামারিদের জন্য সহজ শর্তে স্বল্পসুদে ঋণপ্রাপ্তি নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; বর্তমানে ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার অনেক খামারিকে বিনিয়োগ থেকে বিরত রাখছে। একটি বিশেষায়িত “পোল্ট্রি উন্নয়ন তহবিল” গঠন করে ৪–৫ শতাংশ সুদে ঋণ প্রদান করা হলে খামারিরা উৎপাদন অব্যাহত রাখতে পারবেন এবং নতুন উদ্যোক্তারাও এই খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন।
পোল্ট্রি বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করাও জরুরি; অনেক সময় ডিম ও মুরগির দামের অস্বাভাবিক ওঠানামা মধ্যস্বত্বভোগী বা অসাধু চক্রের কারণে ঘটে; সরকারিভাবে বাজার মনিটরিং জোরদার, ডিজিটাল সাপ্লাই চেইন ও ট্রেসাবিলিটি সিস্টেম গড়ে তোলা এবং উৎপাদক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত সরাসরি সংযোগ বৃদ্ধি করা গেলে এই সমস্যা অনেকাংশে সমাধান করা সম্ভব।
পোল্ট্রি খাতে রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ একটি বড় চ্যালেঞ্জ; বার্ড ফ্লুসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ খামারিদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে, পোল্ট্রি শিল্পের বর্তমান সংকট থেকে বেরিয়ে আগামী দিনে আরো বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও ক্রম বর্ধমান চাহিদার সাথে মিল রেখে, ডিম মুরগির উৎপাদন বৃদ্ধিকল্পে আসন্ন বাজেটে আধুনিক ভেটেরিনারি সেবার বিস্তার,উপজেলা পর্যায়ে ল্যাব স্থাপন, লাইভস্টক উৎপাদনে সম্প্রসারণ কার্যক্রম জোরদার এবং দ্রুত রোগ নির্ণয় ও ঝুঁকি পূর্ণ রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা প্রয়োজন- পাশাপাশি খামারিদের প্রশিক্ষণ ও বায়োসিকিউরিটি মানেজমেন্ট বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখতে হবে।
বাংলাদেশের পোল্ট্রি শিল্পজাত পন্য রপ্তানি সম্ভাবনাও এ খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক; আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে,ডিম ও প্রসেসড পোল্ট্রি পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানি করা গেলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন সুযোগ তৈরি হবে, এজন্য মান নিয়ন্ত্রণ, সার্টিফিকেশন এবং আধুনিক প্রসেসিং সুবিধা উন্নয়নে বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখা প্রয়োজন।
পোল্ট্রি শিল্পকে শুধু একটি বাণিজ্যিক খাত হিসেবে দেখলে চলবে না; পোল্ট্রি শিল্প একটি সেবা খাতও বটে; কারণ খামারিরা অনেক ঝুঁকি নিয়ে নিজের জন্য নয়, বরং ভোক্তা সাধারণের জন্য—দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে— ডিম ও মাংস উৎপাদন করেন।দেশের পোল্ট্রি শিল্পকে জাতীয় খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তার একটি কৌশলগত খাত হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।সমন্বিত নীতি সহায়তা,কর কাঠামোর সংস্কার এবং উৎপাদকবান্ধব পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে এই খাতকে টেকসই করা সম্ভব। জনবান্ধন বর্তমান সরকার দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসাবে, আসন্ন বাজেটে যদি, পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজের টার্নওভার ট্যাক্স হ্রাস, পোল্ট্রি ফিডের কাঁচামালের আমদানি এবং স্থানীয় পর্যায়ে ফিড উৎপাদন আইটেম ( কাঁচামাল) ক্রয়ে শুল্ক ও ভ্যাট কমানোসহ বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেয় , তবে তা শুধু পোল্ট্রি খাতকেই সুরক্ষা দেবে না বরং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাবে।
পোল্ট্রি শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়া মানে গ্রামীণ অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং দেশের ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত করা—এই সত্যটি অনুধাবন করেই পোল্ট্রি খাতের সুরক্ষা ও উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সুনির্দিষ্ট প্রণোদনাসহ পোল্ট্রি খাতের উন্নয়নে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ রাখা সময়ের দাবি।
লেখক: অঞ্জন মজুমদার
সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব,বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন।

পোল্ট্রি কেন হীটস্ট্রেসে পড়ে- কি ক্ষতি হয়।। খামারির কৌতূহল নয় বরং উৎপাদন টিকিয়ে রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষ...
26/04/2026

পোল্ট্রি কেন হীটস্ট্রেসে পড়ে- কি ক্ষতি হয়।।

খামারির কৌতূহল নয় বরং উৎপাদন টিকিয়ে রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়;বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ার দেশে হিট স্ট্রেস (Heat Stress) পোল্ট্রি খাতে বড় একটি চ্যালেঞ্জ- এই প্রবন্ধে গরমে মুরগির ধকলের পেছনের মূল কারণ, বিশেষ করে কর্টিকোস্টেরয়েড হরমোনের ভূমিকা, এ বিষয়ে নীন্মেবিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।

গরমে মুরগির শরীরে কী ঘটে?

মুরগি স্বাভাবিকভাবে ১৮–২৪°C তাপমাত্রায় সবচেয়ে ভালো থাকে কিন্তু যখন তাপমাত্রা ৩০°C ছাড়িয়ে যায়, তখন তাদের শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। মুরগির শরীরে ঘাম গ্রন্থি না থাকায় তারা মানুষের মতো ঘাম দিয়ে শরীর ঠান্ডা করতে পারে না; ফলে মুরগী হাঁপাতে থাকে (panting), ডানা ছড়িয়ে রাখে এবং খাবার গ্রহণ কমিয়ে দেয়।

এই অবস্থাকে বলা হয় হিট স্ট্রেস, যা ধীরে ধীরে শারীরিক ভারসাম্য নষ্ট করে এবং মুরগিকে “ধকল” বা দুর্বল অবস্থায় ফেলে দেয়।

কর্টিকোস্টেরয়েড হরমোন কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ?

কর্টিকোস্টেরয়েড (Corticosteroid) হলো এক ধরনের স্ট্রেস হরমোন, যা শরীরের অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি (Adrenal gland) থেকে নিঃসৃত হয়। মুরগির ক্ষেত্রে প্রধান কর্টিকোস্টেরয়েড হলো কোর্টিসল (Cortisol) বা কোর্টিকোস্টেরন (Corticosterone)।
যখন মুরগি অতিরিক্ত গরমে পড়ে, তখন তার শরীর এটাকে “স্ট্রেস” হিসেবে ধরে নেয় এবং প্রতিক্রিয়া হিসেবে কর্টিকোস্টেরয়েড হরমোনের নিঃসরণ বেড়ে যায়।

কর্টিকোস্টেরয়েড হরমোনের প্রভাব ⤵️

১. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় ✅
উচ্চ মাত্রার কর্টিকোস্টেরয়েড ইমিউন সিস্টেমকে দুর্বল করে; ফলে মুরগি সহজেই বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়—যেমন নিউক্যাসল, ককসিডিওসিস ইত্যাদি।
২. খাবার গ্রহণ কমে যায় ✅
এই হরমোন ক্ষুধা কমিয়ে দেয়; ফলে মুরগি কম খায়, ওজন বৃদ্ধি ধীর হয়ে যায় এবং ব্রয়লারের ক্ষেত্রে টার্গেট ওজন অর্জন সম্ভব হয় না।
৩. শক্তির অপচয় বৃদ্ধি ✅
কর্টিকোস্টেরয়েড শরীরে প্রোটিন ভেঙে গ্লুকোজ তৈরি করে (gluconeogenesis) ; এতে শরীরের পেশি ক্ষয় হয় এবং মুরগি দুর্বল হয়ে পড়ে।
৪. ডিম উৎপাদন কমে যায় ✅
লেয়ার মুরগির ক্ষেত্রে এই হরমোন ডিম উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে; ডিমের আকার ছোট হয়, খোসা পাতলা হয়।
৫. শরীরের তাপমাত্রা আরও বেড়ে যায় ✅
হরমোনজনিত পরিবর্তনের কারণে মেটাবলিজমের ভারসাম্য নষ্ট হয়, ফলে শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পায়—যা হিট স্ট্রেসকে আরও তীব্র করে।

“ধকল” কেন হয়?

“ধকল” বলতে আমরা যা বুঝি, সেটি মূলত একটি সম্মিলিত শারীরিক ভেঙে পড়া অবস্থা- এর পেছনে কাজ করে:
➡️ পানিশূন্যতা (Dehydration)
➡️ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতা
➡️অতিরিক্ত কর্টিকোস্টেরয়েড নিঃসরণ
➡️অক্সিজেনের ঘাটতি (panting-এর কারণে CO₂ কমে যাওয়া)
এই সবকিছু মিলেই মুরগি দুর্বল হয়ে পড়ে, হাঁটতে পারে না, খাওয়া বন্ধ করে দেয় এবং অনেক ক্ষেত্রে হঠাৎ মারা যায়।

বাস্তব খামারি পর্যায়ে এর গুরুত্ব ⤵️

কর্টিকোস্টেরয়েড হরমোনের এই প্রভাবগুলো বুঝতে পারলে খামারিরা সহজেই বুঝতে পারবেন কেন গরমে মুরগির উৎপাদন কমে যায় বা মৃত্যু বাড়ে, এটি শুধু বাহ্যিক সমস্যা নয় বরং হরমোনজনিত একটি জটিল শারীরবৃত্তীয় প্রতিক্রিয়া।

কীভাবে এই সমস্যা কমানো যায়?

গরমে কর্টিকোস্টেরয়েডের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যায়:
১. ঠান্ডা পরিবেশ তৈরি করা ✅
শেডে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল নিশ্চিত করা
ফ্যান, কুলিং প্যাড বা মিস্টিং ব্যবহার করা
২. পরিষ্কার ও ঠান্ডা পানি সরবরাহ ✅
দিনে বারবার পানি পরিবর্তন
পানিতে ইলেকট্রোলাইট ব্যবহার
৩. পুষ্টি ব্যবস্থাপনা ✅
ভিটামিন A, D₃, E এবং ভিটামিন C যোগ করা
বেটেইন (Betaine) ব্যবহার করা
৪. খাদ্য ব্যবস্থাপনা পরিবর্তন ✅
গরমের সময় কম খাওয়ানো, ভোর বা সন্ধ্যায় বেশি খাওয়ানো
৫. স্ট্রেস কমানো ✅
অতিরিক্ত ভিড় কমানো।
হঠাৎ শব্দ বা আলো পরিবর্তন এড়িয়ে চলা।

গরমে মুরগির ধকলে পড়া শুধুমাত্র পরিবেশগত সমস্যা নয় বরং শরীরের ভেতরের হরমোনজনিত একটি প্রতিক্রিয়া—যার কেন্দ্রে রয়েছে কর্টিকোস্টেরয়েড হরমোন, এই হরমোনের মাত্রা বেড়ে গেলে মুরগির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, উৎপাদন হ্রাস পায় এবং মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়।

খামার ব্যবস্থাপনায় যদি আমরা হিট স্ট্রেস এবং এর হরমোনগত প্রভাবগুলো বিবেচনায় রাখি, তাহলে সহজেই ক্ষতি কমিয়ে উৎপাদন ধরে রাখা সম্ভব।
এই জ্ঞান বাস্তবে প্রয়োগ করাই হবে সফল খামার ব্যবস্থাপনার চাবিকাঠি।

পোল্ট্রিকে গরম থেকে  সুরক্ষায় স্থানীয় প্রাণী চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে এই তালিকাটি অনুসরণ করতে পারেন।------ অঞ্জন মজুমদ...
25/04/2026

পোল্ট্রিকে গরম থেকে সুরক্ষায় স্থানীয় প্রাণী চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে এই তালিকাটি অনুসরণ করতে পারেন।

------ অঞ্জন মজুমদার
[পোল্ট্রি প্রোডাকশন এন্ড সাপ্লাই চেইন স্পেশালিষ্ট ]
বি:দ্র: ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা কমেন্টে যার যার সংশ্লিষ্ট প্রোডাক্টসের নাম উল্ল্যেখ পূর্বক কমেন্টে জানিয়ে দিন।

হীট স্ট্রেসে কেন মুরগী বসে যায়; আসল কারণ জেনে নিন।।ব্রয়লার মুরগিতে হিট স্ট্রেস একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদনজনিত সমস্যা, যা শ...
25/04/2026

হীট স্ট্রেসে কেন মুরগী বসে যায়; আসল কারণ জেনে নিন।।

ব্রয়লার মুরগিতে হিট স্ট্রেস একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদনজনিত সমস্যা, যা শুধু বৃদ্ধি কমায় না বরং শারীরবৃত্তীয় ভারসাম্য নষ্ট করে নানা জটিলতার সৃষ্টি করে। বিশেষ করে উচ্চ তাপমাত্রার পরিবেশে ব্রয়লারের শরীরে কার্বন ডাই অক্সাইড (CO₂) কমে যাওয়ার ঘটনা এবং তার পরবর্তী প্রভাব হিসেবে লেমনেস (খুঁড়িয়ে হাঁটা) দেখা দেওয়া—এই পুরো প্রক্রিয়াটি একটি ধারাবাহিক শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তনের ফল।

উচ্চ তাপমাত্রার কারণে ব্রয়লার মুরগি তার শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসের ধরন পরিবর্তন করে, যেহেতু মুরগির ঘাম গ্রন্থি নেই, তাই তারা শরীর ঠান্ডা রাখার জন্য দ্রুত ও অগভীর শ্বাস নিতে থাকে, যাকে প্যান্টিং (panting) বলা হয়- এই প্যান্টিংয়ের ফলে মুরগির শরীর থেকে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি CO₂ বের হয়ে যায়, এর ফলে রক্তে CO₂-এর মাত্রা কমে গিয়ে হাইপোক্যাপনিয়া (hypocapnia) তৈরি হয়।

রক্তে CO₂-এর মাত্রা কমে যাওয়ার সাথে সাথে শরীরের অ্যাসিড-বেস ভারসাম্যে পরিবর্তন ঘটে, CO₂ সাধারণত পানির সাথে বিক্রিয়া করে কার্বনিক অ্যাসিড তৈরি করে, যা রক্তের স্বাভাবিক অম্লতা বজায় রাখতে সাহায্য করে কিন্তু CO₂ কমে গেলে এই অ্যাসিডের পরিমাণও কমে যায়, ফলে রক্তের pH বৃদ্ধি পায় এবং তা ক্ষারীয় হয়ে ওঠে। এই অবস্থাকে রেসপিরেটরি অ্যালকালোসিস (respiratory alkalosis) বলা হয়।

রক্তের এই ক্ষারীয় অবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়ে ক্যালসিয়ামের উপর; বিশেষ করে রক্তে বিদ্যমান আয়নাইজড ক্যালসিয়াম (Ca²⁺), যা শরীরের জন্য সবচেয়ে কার্যকর রূপ, তার মাত্রা কমে যায়। মোট ক্যালসিয়াম উপস্থিত থাকলেও তা কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায় না। ফলে হাড়ে সঠিকভাবে ক্যালসিয়াম জমা হতে পারে না এবং হাড়ের গঠন দুর্বল হয়ে পড়ে।

ব্রয়লার মুরগির ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও গুরুতর হয়ে ওঠে, কারণ তারা খুব দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং তাদের শরীরের ওজন তুলনামূলকভাবে বেশি হয়; এই দ্রুত বৃদ্ধি ও অতিরিক্ত ওজনের চাপ দুর্বল হাড়ের উপর পড়ে, যার ফলে পায়ের হাড়, বিশেষ করে টিবিয়া, সহজেই বিকৃত বা দুর্বল হয়ে যায়। হাড়ের এই দুর্বলতা থেকেই লেমনেস বা খুঁড়িয়ে হাঁটার লক্ষণ প্রকাশ পায়।

লেমনেসে আক্রান্ত ব্রয়লার সাধারণত বেশি সময় বসে থাকে, স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারে না এবং খাওয়ার পরিমাণ কমে যায়। অনেক ক্ষেত্রে তারা দাঁড়াতে অক্ষম হয়ে পড়ে বা হঠাৎ করে পড়ে যায় (leg collapse)। এর ফলে উৎপাদন কমে যায়, ফিড কনভার্সন রেশিও খারাপ হয় এবং মৃত্যুহারও বৃদ্ধি পেতে পারে।

হিট স্ট্রেসের ফলে প্যান্টিং বৃদ্ধি পায়, যা শরীর থেকে অতিরিক্ত CO₂ বের করে দেয়। এর ফলে রেসপিরেটরি অ্যালকালোসিস তৈরি হয়, যা আয়নাইজড ক্যালসিয়ামের মাত্রা কমিয়ে হাড় দুর্বল করে তোলে এবং শেষ পর্যন্ত লেমনেস সৃষ্টি করে। তাই ব্রয়লার খামারে হিট স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ করা শুধু উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য নয়, বরং পায়ের স্বাস্থ্য ও সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

২৫.০৪ ২০২৬ ইং
পিপিবি, ঢাকা।

ব্রয়লার মুরগিতে হিট স্ট্রেস (Heat Stress) হলে এর প্রভাব খুব দ্রুত ও মারাত্মকভাবে দেখা যায়—বিশেষ করে বাংলাদেশে গরম ও আর্দ...
25/04/2026

ব্রয়লার মুরগিতে হিট স্ট্রেস (Heat Stress) হলে এর প্রভাব খুব দ্রুত ও মারাত্মকভাবে দেখা যায়—বিশেষ করে বাংলাদেশে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায়। নিচে এর প্রধান ক্ষতিগুলো পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা হলো:

১. খাবার গ্রহণ কমে যায় ✅
তাপমাত্রা বেশি হলে মুরগি কম খায় →
ওজন বৃদ্ধি ধীর হয়ে যায়
ফিড কনভার্শন রেশিও (FCR) খারাপ হয়।

২. বৃদ্ধি (Growth) কমে যায় ✅
নির্ধারিত সময়ে টার্গেট ওজন পাওয়া যায় না
বাজারজাত করতে দেরি হয় → খরচ বাড়ে।

৩. মৃত্যুহার (Mortality) বেড়ে যায় ✅
অতিরিক্ত গরমে হিট স্ট্রোক হতে পারে
বিশেষ করে বড় বয়সের ব্রয়লারে ঝুঁকি বেশি।

৪. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় ✅
ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে
সহজে রোগ (যেমন: নিউক্যাসল, ককসিডিওসিস) আক্রমণ করে।

৫. পানির গ্রহণ বেড়ে যায় ✅
অতিরিক্ত পানি খাওয়ার ফলে লিটার ভিজে যায়
অ্যামোনিয়া গ্যাস তৈরি হয় → শ্বাসকষ্ট ও রোগ।

৬. মাংসের গুণগত মান খারাপ হয় ✅
“Pale, soft, exudative (PSE)” মাংস হতে পারে
বাজারে দাম কমে যায়।

৭. ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্য নষ্ট হয় ✅
শ্বাস দ্রুত হয় (panting) → CO₂ কমে যায়
রক্তের pH পরিবর্তন হয় → শারীরিক সমস্যা।

৮. ফিড অপচয় ও অর্থনৈতিক ক্ষতি ✅
উৎপাদন খরচ বাড়ে
লাভ কমে যায় বা লোকসান হয়।

⚠️ কোন তাপমাত্রায় সমস্যা শুরু? ✅
৩০°C এর উপরে গেলে ঝুঁকি শুরু
৩৫°C+ হলে মারাত্মক হিট স্ট্রেস

➡️ হিট স্ট্রেস =
কম খাওয়া + কম ওজন + বেশি মৃত্যু + বেশি রোগ + কম লাভ।

24/04/2026

বাজেট নিয়ে পোল্ট্রি খামারিদের চাহিদা কি?

পোল্ট্রিতে হীট স্ট্রেস প্রশমনে বেটেইন ও অরগানিক ক্রোমিয়ামের ভূমিকা: কার্যপ্রণালী ও ব্যবহারিক প্রয়োগ।-------- অঞ্জন মজুমদ...
21/04/2026

পোল্ট্রিতে হীট স্ট্রেস প্রশমনে বেটেইন ও অরগানিক ক্রোমিয়ামের ভূমিকা: কার্যপ্রণালী ও ব্যবহারিক প্রয়োগ।
-------- অঞ্জন মজুমদার।।
উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ায় পোল্ট্রি উৎপাদনে হীট স্ট্রেস একটি প্রধান প্রতিবন্ধকতা, যা শারীরবৃত্তীয় ভারসাম্য বিঘ্নিত করে, ফিড গ্রহণ কমায়, উৎপাদনশীলতা হ্রাস করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে; এই প্রেক্ষাপটে বেটেইন ও অরগানিক ক্রোমিয়ামের মতো নিউট্রিশনাল সাপ্লিমেন্ট হীট স্ট্রেস কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। বেটেইন মূলত অস্মো-রেগুলেটর ও মিথাইল ডোনার হিসেবে কাজ করে কোষীয় জলীয় ভারসাম্য ও বিপাকীয় কার্যকারিতা বজায় রাখে, অন্যদিকে অরগানিক ক্রোমিয়াম ইনসুলিনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি, স্ট্রেস হরমোন নিয়ন্ত্রণ এবং ইমিউন প্রতিক্রিয়া উন্নত করে। এই প্রবন্ধে হীট স্ট্রেসের প্রভাবে বেটেইন ও অরগানিক ক্রোমিয়ামের কার্যপ্রণালী এবং তাদের যৌথ প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের মতো উষ্ণ-আর্দ্র জলবায়ুতে পোল্ট্রি খাতে হীট স্ট্রেস একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হয়। পরিবেশের তাপমাত্রা যখন বার্ডের সহনীয় সীমা অতিক্রম করে, তখন তাদের দেহে বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় ও বিপাকীয় পরিবর্তন ঘটে, যা উৎপাদনশীলতাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করে। এ অবস্থায় ফিড গ্রহণ কমে যায়, ফিড কনভার্সন রেশিও (FCR) খারাপ হয়, ডিম উৎপাদন হ্রাস পায় এবং ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় পুষ্টিগত ব্যবস্থাপনা একটি কার্যকর উপায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে বেটেইন ও অরগানিক ক্রোমিয়াম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

হীট স্ট্রেসের শারীরবৃত্তীয় প্রভাব:

হীট স্ট্রেসের ফলে পোল্ট্রির দেহে বিভিন্ন নেতিবাচক পরিবর্তন ঘটে- অতিরিক্ত তাপের কারণে শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং পাখি প্যান্টিং বা হাঁপানো শুরু করে, যার ফলে অতিরিক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইড বের হয়ে গিয়ে রেসপিরেটরি অ্যালকালোসিস তৈরি হয়। একই সঙ্গে কর্টিকোস্টেরন হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, যা স্ট্রেসের সূচক হিসেবে বিবেচিত। তদুপরি, অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বৃদ্ধি পায়, কোষীয় পর্যায়ে ফ্রি র‍্যাডিক্যাল তৈরি হয় এবং ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্য নষ্ট হয়।- এসব পরিবর্তনের ফলে ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে এবং উৎপাদনশীলতা হ্রাস পায়।

বেটেইনের ভূমিকা:

বেটেইন হীট স্ট্রেস মোকাবিলায় বহুমাত্রিক ভূমিকা পালন করে- এটি একটি কার্যকর অস্মোলাইট হিসেবে কোষের ভেতরে পানি ধরে রাখতে সাহায্য করে, ফলে কোষ ডিহাইড্রেশন থেকে রক্ষা পায় এবং কোষের স্বাভাবিক গঠন ও কার্যকারিতা বজায় থাকে। বেটেইন একটি মিথাইল ডোনার হিসেবে কাজ করে, যা মেথিওনিনের বিকল্প হিসেবে বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে এবং প্রোটিন সংশ্লেষণ ও লিভারের কার্যক্ষমতা উন্নত করে। তৃতীয়ত, এটি মেটাবলিক হিট ইনক্রিমেন্ট কমিয়ে শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপ উৎপাদন হ্রাস করে, যা হীট স্ট্রেস কমাতে সহায়ক। এছাড়া, বেটেইনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষা দেয়।

অরগানিক ক্রোমিয়ামের ভূমিকা:

অরগানিক ক্রোমিয়াম হীট স্ট্রেস পরিস্থিতিতে বিপাকীয় ও হরমোনাল ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে; এটি ইনসুলিনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে, যার ফলে কোষে গ্লুকোজ গ্রহণ বাড়ে এবং শক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হয়। পাশাপাশি, এটি স্ট্রেস হরমোন কর্টিকোস্টেরনের মাত্রা কমিয়ে স্ট্রেসের প্রভাব হ্রাস করে। অরগানিক ক্রোমিয়াম ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করে, যেমন অ্যান্টিবডি উৎপাদন বৃদ্ধি ও ম্যাক্রোফেজের কার্যকারিতা উন্নত করা। এছাড়া, এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এনজাইমগুলোর কার্যকারিতা বাড়িয়ে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে।

যৌথ প্রভাব (Synergistic Effects):

বেটেইন ও অরগানিক ক্রোমিয়াম একসাথে প্রয়োগ করলে তাদের সম্মিলিত প্রভাব আরও কার্যকর হয়; বেটেইন কোষীয় পর্যায়ে পানি ও কাঠামোগত স্থিতিশীলতা বজায় রাখে, অন্যদিকে অরগানিক ক্রোমিয়াম বিপাকীয় ও হরমোনাল নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এর ফলে ফিড গ্রহণ বৃদ্ধি পায়, পুষ্টি ব্যবহারের দক্ষতা উন্নত হয়, ইমিউন প্রতিক্রিয়া শক্তিশালী হয় এবং মৃত্যুহার কমে যায়- এই যৌথ কার্যকারিতা পোল্ট্রিকে হীট স্ট্রেসের প্রতিকূল পরিস্থিতিতে টিকে থাকতে সহায়তা করে।

ব্যবহারিক প্রয়োগ:
পোল্ট্রি উৎপাদনে বেটেইন ও অরগানিক ক্রোমিয়াম ব্যবহার একটি কার্যকর কৌশল হিসেবে বিবেচিত হয়; সাধারণত বেটেইন ০.৫–১.৫ কেজি/টন ফিড এবং অরগানিক ক্রোমিয়াম ২০০–৪০০ পিপিবি মাত্রায় ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে গ্রীষ্মকাল, হিট ওয়েভ, পরিবহন বা ভ্যাকসিনেশনজনিত স্ট্রেসের সময় এই সাপ্লিমেন্টগুলো ব্যবহার করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়, এর ফলে ফিড গ্রহণ বৃদ্ধি, FCR উন্নতি, ডিম উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মৃত্যুহার হ্রাস পায়।

✅ হীট স্ট্রেস ব্যবস্থাপনায় বেটেইন ও অরগানিক ক্রোমিয়াম একটি কার্যকর ও বৈজ্ঞানিকভাবে সমর্থিত পুষ্টিগত কৌশল। বেটেইন কোষীয় সুরক্ষা ও জলীয় ভারসাম্য বজায় রাখে, অন্যদিকে অরগানিক ক্রোমিয়াম বিপাকীয় কার্যকারিতা ও স্ট্রেস প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। বাংলাদেশের মতো উষ্ণ ও আর্দ্র পরিবেশে এই দুই উপাদানের সমন্বিত ব্যবহার পোল্ট্রি উৎপাদনশীলতা ও স্বাস্থ্য উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তথ্যসূত্র (References)
Attia, Y. A., et al. (2009). Effect of betaine supplementation on poultry performance under heat stress. Journal of Animal Physiology and Animal Nutrition.

Sahin, K., et al. (2002). Effects of dietary chromium on performance in heat-stressed broilers. Biological Trace Element Research.
Kidd, M. T., et al. (1997).

Dietary betaine and broiler performance. Poultry Science.NRC (1994). Nutrient Requirements of Poultry.
Zulkifli, I., et al. (2003).

Heat stress and immune response in poultry. Asian-Australasian Journal of Animal Sciences.

[লেখক: পোল্ট্রি প্রোডাকশন এন্ড সাপ্লাই স্পেশালিষ্ট ]

Address

Ring Road Shamoli
Dhaka
1207

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Poultry Professionals Bangladesh / PPB posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share