08/03/2026
হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত যে,
أنَّ النَّبيَّ – صلى الله عليه وسلم – كَانَ إِذَا تَكَلَّمَ بِكَلِمَةً أعَادَهَا ثَلاَثًا حَتَّى تُفْهَمَ عَنْهُ، وَإِذَا أتَى عَلَى قَوْمٍ فَسَلَّمَ عَلَيْهِمْ سَلَّمَ عَلَيْهِمْ ثَلاثًا.
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোনও কথা বলতেন, তিনবার তার পুনরাবৃত্তি করতেন, যাতে তাঁর কাছ থেকে তা বুঝে নেওয়া হয়। তিনি যখন কোনও লোকসমষ্টির কাছে আসতেন এবং তাদেরকে সালাম বলতেন, তখন তাদেরকে সালাম বলতেন তিনবার।
সহীহ বুখারী: ৯৫; জামে তিরমিযী: ২৭২৩; মুসনাদুল বাযযার: ৯৪১৮; হাকিম, আল মুস্তাদরাক: ৭৭১৬; বাগাবী, শারহুস সন্নাহ: ১৪১
পাদটিকা:
এ হাদীছটিতে দুটি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। একটির সম্পর্ক কথা বলার সঙ্গে, অন্যটির সম্পর্ক সালাম দেওয়ার সঙ্গে। কীভাবে কথা বলতে হয়, কীভাবে সালাম দিতে হয়, তার সর্বোৎকৃষ্ট নমুনা রয়েছে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনরীতিতে। কথা বলার আছে বহু আদব-কায়দা। তার একটা হল প্রয়োজনক্ষেত্রে কথার পুনরাবৃত্তি করা। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা করতেন। এখানে বলা হয়েছে-
كَانَ إِذَا تَكَلَّمَ بِكَلِمَة أَعَادَهَا ثَلَاثًا حَتَّى تُفْهَمَ عَنْهُ
অর্থাৎ: তিনি যখন কোনও কথা বলতেন, তিনবার তার পুনরাবৃত্তি করতেন, যাতে তাঁর কাছ থেকে তা বুঝে নেওয়া হয়।
তিনি ছিলেন মানবজাতির মহান শিক্ষক। কথা ও কাজ দ্বারা উম্মতকে দীন শেখাতেন। তাঁর কোনও কথাই অহেতুক হত না। প্রতিটি কথাই ছিল অতি মূল্যবান- উম্মতের পথের নির্দেশনা। তাই তা ভালোভাবে বুঝে নেওয়ার দরকার ছিল। সুতরাং তাঁর শিষ্যবৃন্দ অর্থাৎ সাহাবায়ে কেরাম যাতে তা ভালোভাবে বুঝে নিতে পারেন, তাই একেকটি কথা একাধিক বার বলতেন। অনেক সময় তিনবারও বলতেন। তা বলার প্রয়োজনও রয়েছে। যেখানে প্রয়োজন হত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ কথার পুনরাবৃত্তি করতেন।