20/12/2022
পেলের ৩ বিশ্বকাপের ইতিহাস জানুন!
পেলের হাতে বিশ্বকাপ নয় জুলেরিমে কাপ।
ব্রাজিলের বিশ্বকাপ ২টি।জুলেরিমে কাপ ৩টি
আর্জেন্টিনা ফ্রান্স ফাইনালের পর ব্রাজিল সাপোর্টাররা পেলের ৩ টি বিশ্বকাপের ছবি দিয়ে বলছেন আর্জেন্টিনা পেলের সমান হলো।
তাদেরকে বলবো,ভাই গতকালকের আগে অনেক অনেক ট্রল করতেন। যেমন জন্মের পরে দেখেছো আর্জেন্টিনাকে কাপ জিততে
৩৬ বছরে একটাও কাপ জিতছো
কিন্তু আজ যখন আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জিতলো তাহলে এখন ৬০ বছর আগের পেলের কাপ জয়ের কথা টেনে আনেন কেন..?
আপনারা তো ৩৬ বছরকেও অবহেলা করেন কিন্তু আজ ৬০ বছর আগের রেকর্ড তুলে ধরতে দ্বিধাবোধ করেন না।
কিন্তু কেন..? কই গেলো আপনাদের ৩৬ বছরের ডায়লগ..?
কই গেলো আপনাদের "মেসি কাপ জিতেনা" ডায়লগ..? লাস্ট ৩ টা আসরের ২ টাতেই তো ফাইনাল খেললাম বাট আপনারা?
আর ছবিতে দেখলাম পেলের হাতে ৩ টা বিশ্বকাপের ছবি?এডিট মারেন কেন?শরম হয় নাকি জুলেরিমে কাপ হাতে নিতে?
কেন ভাই তখন তো বিশ্বকাপ ট্রফির জন্মই হয়নি ওটা ছিলো জুলেরিমে কাপ।
তাহলে পেলে আবার কোনদিন বিশ্বকাপ জয় করলো..?
হ্যা,জুলেরিমে কাপকে আমরা বিশ্বকাপের মতোই রেস্পেক্ট করি।
বাট যদি বলেন কোন প্রতিযোগিতা কঠিন তাহলে ১০০% বলবো বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতা কঠিন।
১৯৩০ থেকে ১৯৭০ পর্যন্ত বিশ্বকাপে যে,ট্রফিটি দেওয়া হতো ওটা ছিলো জুলেরিমে। আর ১৯৭৪ থেকে বর্তমানে যে ট্রফিটি দেওয়া হয় ওটা হলো বিশ্বকাপ।
জুলেরিমে আর বিশ্বকাপের মধ্যে তফাৎ আছে-- এখানে বুঝা যাবে মেসি কি জিতলো? আর পেলে কি জিতলো..?
জুলেরিমে কাপ আর বিশ্বকাপ।
বিশ্বকাপে ৩২ টা দল অংশগ্রহণ করে।
জুলেরিমায় ১৬ টা দল অংশগ্রহণ করতো।
বিশ্বকাপ সরাসরি টিভিতে সম্প্রচার করা হয়।
জুলেরিমে প্রায় সবকটিই টিভিতে সম্প্রচার করা হয়নি।
বিশ্বকাপে VAR আছে।
জুলেরিমায় VAR এর কোন অস্তিত্ব ই ছিলোনা।
বিশ্বকাপে মোট ১১ জন খেলে।
অনেক জুলেরিমায় ৬ ম্যান খেলতো।
বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই হয়।
অনেক জুলেরিমেয় কোয়ালিফাই হয়নি।
বর্তমান বিশ্বকাপ যেই সেই দল অংশগ্রহণ করতে পারেনা,বাট জুলেরিমায় ভারতও খেলার সুযোগ পেয়েছিলো।
যাই হউক।এখন দেখবো ব্রাজিল আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ পরিসংখ্যান যা ১৯৭৪ থেকে শুরু হয়েছে।
মোট আসর হয়েছে ১৩ টি।
আর্জেন্টিনা ফাইনাল খেলেছে
৫ টিতে (১৯৭৮,১৯৮৬,১৯৯০,২০১৪,২০২২)
ব্রাজিল ফাইনাল খেলেছে ৩ টিতে (১৯৯৪,১৯৯৮,২০০২)
আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জয় করেছে
৩টি (১৯৭৮,১৯৮৬,২০২২)
ব্রাজিল বিশ্বকাপ জয় করেছে ২টি (১৯৯৪,২০০২)
আর্জেন্টিনা রানার্সআপ হয়েছে ২টিতে (১৯৯০,২০১৪)
ব্রাজিল রানার্সআপ হয়েছে ১ টিতে (১৯৯৮)
আর্জেন্টিনার ফাইনালে হার সর্বোচ্চ ১-০ গোলে (১৯৯০,২০১৪)
ব্রাজিলের ফাইনালে হার সর্বোচ্চ ৩-০ গোলে (১৯৯৮)
কিছুদিন আগে নিজের মাঠে সেমিফাইনালে ৭টা গোল খেয়েছে।
তখন বিশ্ব কাপের কোন তেমন গুরুত্ব ছিলো না কারন তখন ফুটবলের এত জনপ্রিয়তা ছিলো না।আমরা এমন এক সময় বিশ্ব কাপ জিতেছি যখন ফুটবল সব খেলার চেয়ে উর্ধ্বে। এবং ফুটবলের জনপ্রিয়তাও যখন তুঙ্গে
তো সব শেষে একটাই কথা বলবো জুলেরিমে কাপ জয় করা আর বিশ্বকাপ জয় করা কোনদিনই এক নয়।
আমরা গর্ব করে বলতে পারবো আমরা মেসিকে বিশ্বকাপ জিততে দেখেছি।
আমাদের বাবা চাচারাও গর্ব করে বলতে পারেন তারাও ম্যারাডোনাকে বিশ্বকাপ জিততে দেখেছেন।
বাট আপনারা কি বুকে হাত দিয়ে গর্ব করে বলতে পারবেন? পেলেকে আপনারা কাপ নিতে দেখেছেন..?
আপনাদের বাপ দাদারাও বলতে পারবেনা যে তারা পেলেকে বিশ্বকাপ নিতে দেখেছেন। কারন তখন বাংলাদেশে বিশ্বকাপ দেখার কোন সুযোগ ছিলোনা।
বিঃ দ্রঃ : তথ্যসূত্র উইকিপিডিয়া।