28/06/2014
যেসব শিশুর বিশেষ পরিচর্যার প্রয়োজন
(এই লেখাটিতে স্মার্টশপের কোন কৃতিত্ব নাই, ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত)
প্রতি আটটি শিশুর মধ্যে একটি শিশুর হাসপাতালে বিশেষ যত্নের দরকার হয়। কোন কোন সময় এই প্রয়োজনটা দেখা দেয় জন্ম-পূর্ববর্তী ওয়ার্ডে, আবার কখনও বা বিশেষায়িত নবজাতক ওয়ার্ডে। যেকোনো বাবা-মায়ের জন্যই বিশেষায়িত কেন্দ্রে সন্তান প্রসব করা উদ্বেগের কারণ। এক্ষেত্রে প্রতিটি মুহূর্তে প্রয়োজনীয় তথ্য, যোগাযোগ ও সহায়তা নিশ্চিত করা খুবই জরুরি। আর সব হাসপাতালেই এ ধরনের সেবা থাকে না। কাজেই এরকম দরকার পড়লে আপনাকে অন্য হাসপাতালে শিশুকে স্থানান্তর করাও জরুরি হতে পারে।
শিশুদের কেন দরকার হয় বিশেষ সেবার
বেশ কয়েকটি কারণেই শিশুকে নবজাতক পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি করা হতে পারে:
নির্দ্দিষ্ট সময়ের আগেই জন্ম হলে - প্রতি ১০টি শিশুর একটির জন্ম হয় সময়ের আগে, আর ৩৪ সপ্তাহের আগে জন্ম নেওয়া শিশুদের শ্বাস-প্রশ্বাস, খাবার খাওয়ানো, উষ্ণতায় রাখাসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তার প্রয়োজন হয়।
সাধারণত অনেক ছোট হলে এবং জন্মের সময় ওজন কম হলে।
সংক্রমণ থাকলে।
মায়েদের সাধারণত ডায়াবেটিস থাকলে বা প্রসবে জটিলতা থাকলে কিছু সময়ের জন্য শিশুকে পর্যবেক্ষণে রাখা জরুরি।
জন্ডিস থাকলে।
কোন অপারেশন হলে বা অপারেশনের পূর্বে।
শিশুর সাথে যোগাযোগ
ইউনিটের পরিবেশ কিছুটা অদ্ভুত এবং জটিল মনে হতে পারে, বিশেষ করে আপনার শিশুকে যদি ইনকিউবেটরে রাখা হয় বা শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়ার কোন মেশিনে রাখা হয়। এক্ষেত্রে শিশুর মুখ এবং সারা শরীরের সাথে টিউব এবং তার জড়ানো থাকতে পারে। নার্সের কাছে জেনে নিতে পারেন, কেন এতোসবকিছু। কিভাবে আপনি আপনার শিশুর কোন সেবায় আসতে পারেন, আপনাকে তা দেখিয়ে দিতে বলুন কোন নার্সকে। যখন আপনার শিশুর অবস্থা স্বাভাবিক হবে, তখনই আপনি কেবল তাকে কোলে নিতে পারবেন। নার্সরা আপনাকে দেখিয়ে দেবেন, কিভাবে কোলে নিতে হবে সাবধানের সাথে এবং আপনার শিশু আপনার শরীরের সংস্পর্শে এসে দ্রুত ভাল হয়ে উঠতে শুরু করবে।
খাওয়ানো
শুরুতে আপনার শিশু হতে পারে খুব ছোট বা এতো দুর্বল যে সে নিজে থেকে খেতে পারবে না। এক্ষেত্রে আপনার কাছে বুকের দুধ চাওয়া হতে পারে, যা কিনা টিউবের সাহায্যে শিশুকে খাওয়ানো হবে। চিকন একটি টিউব তাদের নাক বা মুখ দিয়ে পাকস্থলীর সাথে সংযোগ করে দেওয়া হবে। এতে তাদের কোন ক্ষতি হবে না। বুকের দুধের নিজস্ব বিশেষত্ব আছে, বিশেষ করে অসুস্থ এবং নির্দ্দিষ্ট সময়ের আগে জন্ম নেওয়া শিশুদের জন্য। কারণ এই দুধে আছে স্নেহ এবং মিনারেল। জন্মের সাথে সাথেই যদি আপনার শিশু বুকের দুধ না খেতে পারে, তবে একে ঠান্ডায় রেখে দেওয়া যেতে পারে এবং যখন তারা খাওয়ার উপযুক্ত হবে, কেবল তখনই তাদের দেওয়া হবে। আপনি যখন বাসায় যাবেন, তখন নার্সদের কাছে এই দুধ রেখে যেতে পারেন, তারাই তখন দিয়ে দেবেন। দুধের পরিমাণ বা গুণগত মান নিয়ে উদ্বেগের কোন কারণ নেই। কোনো কোনো মায়ের কাছে এই বুকের দুধ দেওয়াটাই অন্যরকম এক অনুভূতি এনে দেয়। তাদের মনে হয় যে, তারা তাদের শিশুদের জন্য কিছু একটা করতে পারছেন।
এখানে দেখুন expressing your breast milk.
ইনকিউবেটর
যেসব শিশু খুবই ছোট হয় তাদেরকে শিশু খাটে রাখার চেয়ে ইনকিউবেটরে রাখাই শ্রেয়। কারণ এতে তারা উষ্ণ থাকে। এখানে থাকা অবস্থাতেও শিশুর সাথে আপনি নানাভাবে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারেন। কিছু কিছু ইনকিউবেটরের ওপরের অংশটি খোলা থাকে। আপনার শিশুর ইনকিউবেটরে এমন সুযোগ না থাকলে আপনি সহজেই এর পাশ দিয়ে যে ছিদ্রটি আছে তাতে হাত ঢুকিয়ে দিতে পারবেন এবং শিশুকে স্পর্শ করতে পারবেন। আপনার শিশু একটু সুস্থ হলেই নার্সরা আপনাকে শিশুকে ইনকিউবেটর থেকে বের করে কোলে নিতে দেবেন এবং দেখিয়ে দেবেন কিভাবে শিশুকে কোলে নিবেনে। কিন্তু তার আগে আপনাকে কিছু বিষয়ে সতর্ক হতে হবে। আপনাকে খুব ভাল করে হাত ধুয়েই তারপর শিশুকে ধরতে পারবেন। এসময় আপনি আপনার শিশুর সাথে কথাও বলতে পারেন, এতে করে দুজনেরই লাভ হয়।
নবজাতক শিশুর যখন জন্ডিস হয়
সদ্যজাত শিশুর জন্ডিস হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক একটা ঘটনা। অনেকেরই হয়ে থাকে। কারণ তাদের যকৃত থাকে অপরিণত। গুরুতর জন্ডিসে আক্রান্ত শিশুদের ফটোথেরাপি দেওয়া হয়ে থাকে। শিশুটিকে কাপড় ছাড়া একটি খুব উজ্জ্বল আলোর নিচে রাখা হয়, সাধারণত তাদের চোখের ওপর খুব নরম জাতীয় মাস্ক দেওয়া হয় এবং ছেলে হলে অন্ডাশয় ঢেকে রাখা হয়। বিশেষ এই আলোকে জন্ডিসের অন্যতম কারণ কেমিক্যাল ভেঙ্গে দিতে সাহায্য করে। আপনার শিশুর এমন জন্ডিস হলে আপনার বিছানার পাশে রেখেই এই থেরাপি দেওয়া সম্ভব। এতে করে আপনারও আলাদা হতে হবে না। এই চিকিৎসা বেশ কয়েকদিন ধরেই চলতে পারে, মাঝে শুধু খাওয়ানোর জন্য সময় দেওয়া হবে। ফটোথেরাপি মেশিনের উষ্ণতায় শিশু পানিস্বল্পতায় যেন আক্রান্ত না হয় তা নিশ্চিত করতে বেশি বেশি বুকের দুধ দিতে হবে। জন্ডিসের প্রকৃতি যদি ভয়াবহ আকার নেয়, তাহলে রক্ত পরিবর্তনের (ডায়ালাইসিস) প্রয়োজন হয়ে উঠতে পারে। (আপনার শিশুর শরীরের কিছু রক্ত নিয়ে সেখানে নতুন রক্ত দিতে হতে পারে)। এটা স্বাভাবিক ব্যাপার নয়। কোনো কোনো শিশুর যকৃতের অসুখ থেকে জন্ডিস হয়। তার ক্ষেত্রে অন্য চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। ফটোথেরাপি শুরুর আগে যকৃতের অসুখের জন্য রক্ত পরীক্ষার প্রয়োজন হয়। নবজাতকের জন্ডিসের অন্যান্য চিকিৎসা সম্পর্কে আরও তথ্য জানুন।
দুই সপ্তাহ পর জন্ডিস আক্রান্ত শিশু
জন্মের পর থেকে অনেক শিশুর জন্ডিস দুই সপ্তাহ পর্যন্ত থাকতে পারে। আর অপরিণত শিশুর ক্ষেত্রে তিন সপ্তাহও হতে পারে এই সময়টুকু। বুকের দুধ খায় এমন শিশুর ক্ষেত্রে এটি খুবই স্বাভাবিক ঘটনা এবং এতে কোন ক্ষতি হয় না। আর বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করার এটা কোন কারণও নয়। কিন্তু দুই সপ্তাহ পরও যদি জন্ডিস থাকে তবে ডাক্তার দেখানো অবশ্যই জরুরি। একদিন, বা দুদিনের মধ্যেই ডাক্তার দেখাতে হবে। বিশেষ করে আপনার শিশুর পায়খানা যদি চকের মতোন সাদা হয়, তাহলে দেরি করা উচিত হবে না। রক্ত পরীক্ষাতেই সব ধরা পড়বে। যদি এটা বুকের দুধ খাওয়ানোর ফলে সৃষ্ট জন্ডিস হয়ে থাকে, তবে তা আপনাআপনিই সেরে যাবে, কিন্তু অন্য ধরনের জন্ডিস হলে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।
প্রতিবন্ধী শিশু
আপনার শিশু যদি কোন না কোনভাবে প্রতিবন্ধী (মানসিক/শারীরিক) হয়ে থাকে, তবে বিভিন্ন ধরনের অনুভূতির সাথে আপনাকে পরিচিত হতে হবে। সেইসাথে অন্যদের বিশেষ করে শিশুর বাবা, আত্মীয়-স্বজন এবং বন্ধু-বান্ধব সবার অনুভূতির সাথেও আপনাকে মানিয়ে চলতে হবে। এই সময়ে অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে আপনাকে অন্যদের সাথে আলোচনা করতে হবে, বলতে হবে আপনার কেমন লাগছে, আপনার শিশুর স্বাস্থ্য এবং ভবিষ্যত এসব কিছু নিয়েই আপনাকে কথা বলতে হবে। এ ব্যাপারে আপনাকে আপনার নার্স, শিশু বিশেষজ্ঞ বা স্বাস্থ্য পরিদর্শক যে কেউ সাহায্য করতে পারেন।