26/07/2026
পানির ফিল্টার
Icon আজহার মাহমুদ
প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
যুগান্তর
পানি আমাদের জীবনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ খাবার ছাড়া কিছুদিন বাঁচতে পারলেও পানি ছাড়া বেশিদিন বাঁচতে পারে না। কিন্তু এ পানি সব সময় পরিষ্কার পাওয়া যায় না। অপরিষ্কার পানির কারণে জীবন হুমকির মুখে পড়ে। প্রাচীনকালে মানুষের নদী, পুকুর বা কূপের পানি ব্যবহার করতে হতো। এসব পানিতে ময়লা, বালি ও জীবাণু থাকত। তাই মানুষ অনেক আগেই পানি পরিষ্কার করার উপায় খুঁজতে শুরু করে। এই খোঁজ থেকেই জন্ম পানির ফিল্টারের।
প্রাচীনকালে মানুষ খুব সাধারণ পদ্ধতিতে পানি পরিষ্কার করত। প্রায় চার হাজার বছর আগে মিশর, ভারত ও গ্রিসের মানুষ কাপড় দিয়ে পানি ছেঁকে নিত। এতে বড় ধরনের ময়লা ও পোকামাকড় দূর হতো। যদিও তখন তারা জীবাণুর কথা জানত না, তবুও তারা বুঝতে পেরেছিল যে, পরিষ্কার পানি পান করা ভালো। খ্রিষ্টপূর্ব প্রায় ১৫০০ সালে প্রাচীন মিশরের মানুষ পানি পরিষ্কার করার জন্য নানা পদ্ধতি ব্যবহার করত। তারা কখনো কাপড় দিয়ে পানি ছেঁকত, আবার কখনো বিশেষ পাত্রে পানি রেখে ময়লা নিচে বসে যাওয়ার অপেক্ষা করত। এরপর উপরের পরিষ্কার পানি ব্যবহার করত। প্রাচীন ভারতের মানুষও পানি বিশুদ্ধ করার বিষয়ে সচেতন ছিল। তারা পানি ফুটিয়ে খেত, কাপড়ে ছেঁকে নিত এবং কখনো কখনো বালি ও কয়লার স্তরের মধ্য দিয়ে পানি প্রবাহিত করত। এসব পদ্ধতি ছিল আধুনিক ফিল্টারের শুরুর দিকের ধারণা।
১৭শ শতকে বিজ্ঞানীরা পানির গুণাগুণ নিয়ে আরও গবেষণা শুরু করেন। ১৬৭৬ সালে ডাচ বিজ্ঞানী Antonie van Leeuwenhoek অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে পানিতে থাকা ক্ষুদ্র জীব দেখতে পান। এতে মানুষ বুঝতে পারে যে শুধু চোখে পরিষ্কার দেখালেই পানি নিরাপদ নয়। ১৮০৪ সালে আধুনিক পানির ফিল্টারের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে। স্কটল্যান্ডের পেইজলি শহরে বিশ্বের প্রথম বড় আকারের পানি পরিশোধন কেন্দ্র তৈরি করা হয়। সেখানে বালির স্তর ব্যবহার করে পানি পরিষ্কার করা হতো। এ পদ্ধতিকে বলা হয় স্যান্ড ফিল্টার বা বালির ফিল্টার। পরে বিশ্বের অনেক শহর এ পদ্ধতি গ্রহণ করে।
১৯শ শতকে বালির ফিল্টার আরও উন্নত হয়। শহরের মানুষকে নিরাপদ পানি দেওয়ার জন্য বড় বড় পানি শোধনাগার তৈরি করা শুরু হয়। এর ফলে পানিবাহিত অনেক রোগ কমে আসে। দু’হাজার শতকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে নতুন ধরনের ফিল্টার তৈরি হয়। অ্যাকটিভেটেড কার্বন বা বিশেষ ধরনের কয়লার ফিল্টার পানির দুর্গন্ধ ও অপ্রয়োজনীয় রাসায়নিক দূর করতে ব্যবহৃত হতে থাকে। পরে সিরামিক ফিল্টার, মেমব্রেন ফিল্টার এবং রিভার্স অসমোসিস (RO) প্রযুক্তিও জনপ্রিয় হয়।
বর্তমানে আমরা যে পানির ফিল্টার ব্যবহার করি, সেগুলো অনেক উন্নত। এসব ফিল্টার বালি, ধুলা, জীবাণু, ক্ষতিকর রাসায়নিক এবং অনেক ধরনের দূষণ দূর করতে পারে। ঘর, স্কুল, অফিস থেকে শুরু করে বড় বড় কারখানাতেও বিভিন্ন ধরনের ফিল্টার ব্যবহার করা হয়। পানির ফিল্টারের ইতিহাস আসলে মানুষের নিরাপদ পানির খোঁজের ইতিহাস। হাজার হাজার বছর আগে কাপড় দিয়ে পানি ছেঁকে নেওয়ার যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা আজ আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে আরও উন্নত হয়েছে। এ আবিষ্কার মানুষের স্বাস্থ্য রক্ষা এবং নিরাপদ জীবন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
Collected