01/11/2016
আমি একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যম মানের চাকুরীজীবি। কর্মস্থল মফস্বলের একটি থানা শহর। জেলা শহর ছেড়ে এবারই প্রথম থানা শহরে প্রথম পোস্টিং। এবছরের মার্চ-এপ্রিলের দিকেই বাৎসরিক বোনাসের টাকা হাতে পেয়ে গেলাম। মন খুব প্রফুল্ল। ভাবখানা এমন যেন আমি বিরাট বড়লোক হয়ে গেছি। টাকা দিয়ে কি করবো এটা নিয়ে চিন্তা করে একমাস পার করে দিলাম। তখন আমার বর্তমান কর্মস্থলে নতুন পোষ্টিং। নতুন বাসায় সবকিছুই ঠিক আছে, কেবল তিনতলা বিল্ডিং এর তিন তলায় হওয়ায় গরমটা অসহনীয়। ব্যস মুহুর্তেই সিদ্ধান্ত নিলাম বাসায় এসি লাগাবে। বৌয়ের কথা হল অপচয় করা হবে, কেননা বিদ্যুৎ থাকেনা। আমার যুক্তি হল ২/৩ ঘন্টা পর ১ ঘন্টার জন্য হলেও তো বিদ্যুৎ আসবে, তাতেই গরম যতটুকু সম্ভব কমবে, বাকী সময় ফ্যান তো আছেই (আমার বাসায় আইপিএস ছিল)। যেই ভাবা সেই কাজ, এসি নিয়ে আমার রিসার্চ শুরু হল। কোন ব্র্যান্ডের কিনবো, কত টনের কিনবো এবং কত বাজেটের মধ্যে কিনবো। পরিচিতজনেরা একেকজন একেক উপদেশ দিলেন। সবারটাই মনযোগ দিয়ে শুনলাম তবে সিদ্ধান্ত নিলাম নিজে। দেশী ব্র্যান্ডের কিনবো। ঘর ঠান্ডা করাই যেহেতু প্রথম প্রায়োরিটি, তাহলে দেশীটা কিনতে অসুবিধা কোথায় । অতএব কিনে ফেললাম কোনএক শূভ দিনে (১৬ কিমি দুরের জেলা সদর থেকে) এবং কোম্পানীর লোকসহ নিয়ে বাসায় এলাম লাগানোর জন্য।
প্রথম বিপত্তি শুরু হল তখনই। বাসায় আসার পর খেয়াল হল বাসায় এসি লাগানোর জন্য হয় দেয়ালে ফুটো করতে হবে, অথবা ভেন্টিলেটরে ছিদ্র করতে হবে। দু ক্ষেত্রেই বাড়িওয়ালার প্রতিনিধির অনুমতি নেয়া প্রয়োজন (বাড়িওয়ালা মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী) । বাড়ীওয়ালার প্রতিনিধিকে জানাতেই তিনি আকাশ থেকো পড়লেন এবং জানালেন বাসায় এসি লাগাতে বাড়িওয়ালার নিষেধ আছে কেননা অল্প কয়েক হাজার টাকা ভাড়ার টাকার জন্য তিনি তার বিল্ডিং এ কোন খুঁত তৈরী করতে দেবেন ন। আমার তো আক্কেল গুড়–ম কেননা এরকম যে হতে পারে তা ঘুনাক্ষরেও আমার মাথায় আসেনি। বেকুবীর চুড়ান্ত। কি আর করা, কিনে যেহেতু ফেলেছি এখনতো ফেরৎ দেয়া সম্ভব নয়, তাই কঠিন সিদ্ধান্ত নিলাম, এ বাসায় আর নয়। অতএব, পরের মাসেই বাসা চেঞ্জ ।
নতুন বাসাটি আগের বাসার তুলনায় রীতিমতো স্বর্গ। অনেক বড়, নিরীবিলী, খোলামেলা এবং সবচেয়ে বড়কথা বাড়ীওয়ালা তার দেয়াল ফুটো করতে দেবেন এই শর্তে যে পরবর্তীতে আমাকে নিজ খরচে ফুটো মেরামত করে দিতে হবে। রাজি হলাম এবং এসি লাগালাম । কিন্তু কপাল মন্দ, এসি তো চলেনা। মিস্ত্রিকে প্রশ্ন করতেই জানালো ভোল্টেজ কম (১৮০-১৯০ ভোল্ট)। কি করতে হবে জানতে চাইলে বললো বিদূতের খুঁটি থেকে আলাদা তার টেনে আনলে ভোল্টেজের উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব। দিলাম আরো ১০,০০০/- টাকা । কিন্তু একি এবারো একই ঘটনা, এসি একটানা ১০ মিনিট চলেই বন্ধ হয়ে যায় । দিলাম বিদ্যুৎ অফিসে ফোন। তাদের কথা হল জাতীয় গ্রীড থেকেই লো ভোল্টেজ অতএব আমাদের করার কিছূ নেই । দিলাম এসি কোম্পানীতে ফোন, পরদিন তাদের লোক এল, ভোল্টেজ মাপলো এবং যেটা বললো তা হলো যদিও তাদের এসির ম্যানুয়েলে লেখা এসি ১৮০-২৫০ ভোল্টে চলবে তবে বাস্তবে ২২০ ভোল্ট না হলে এসি চলবে না। ২২০ ভোল্টও নাকি স্ট্রং হতে হবে (ভোল্টেজের স্ট্রং এবং উইক এই টার্ম এই প্রথম শুনলাম)।
বিনয়ের সাথে আমার জানতে ইচ্ছা করে, এই কোম্পানীর এসিটি নাকি বাংলাদেশে তৈরী, তাহলে বাংলাদেশের সিংহভাগ জায়গায় যে লো ভোল্টেজের সমস্যা সেটি কি তারা জানে না? অথচ একই এলাকায় আমার অফিসে ৯ টি ছোট বড় চায়নিজ এসি ৫ বছর ধরে চলছে কোন রকম সমস্যা ছাড়া, তাহলে কি চায়নিজরা আমাদের দেশের ভোল্টেজ সম্পর্কে আমাদের দেশীয় কোম্পানীর চেয়ে বেশী জানে?
একটি ১ টনের এসির পেছনে আমার এ পর্যন্ত খরচ:
এসির মূল্য = ৪২,৫০০/-, এসি লাগাতে খরচ = ১,৫০০/-, বাসা পাল্টাতে খরচ = ৫,০০০/-, নতুন তার কেনা, সার্কিট ব্রেকার লাগানো, ইলেকট্রিশিয়ান বাবদ = ১২,০০০/- , সর্বমোট খরচ = ৬১,০০০/-, ফলাফল = ”০” + বৌয়ের মুখ ঝামটা। যামু কই ভাই।
ও হ্যা, আরেকটা সমাধানের কথা এসি কোম্পানীর লোকেরা বলেছে, যেটা হল আমি চাইলে ১৫,০০০/- টাকা খরচ করে একটা ভোল্টেজ স্ট্যাবিলাইজার বসাতে পারি। এতে করে আমার এসি চলার একটা সম্ভবনা আছে। কি করি এখনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না।