09/03/2017
HOW TO CONDUCT A NEVER-FORGETTING CLASS
কোনো সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একটি ক্লাসের ৩০-৫০ জন ছাত্রছাত্রীদেরকে সফলভাবে পাঠদান করা মুখের কথা নয়। রেজিমেন্টেড প্রতিষ্ঠান। কত নিয়মকানুন!
আপনার প্রথম ক্লাস। ভাল লাগা ও ভয় দুটোই কাজ করছে আপনার। নায়কের মত ক্লাসে ঢুকলেন। ক্লাসের মধ্যে আপনি যে দিকে ঘুরবেন, আপনার দিকে ওদের ৬০-১০০টি চোখ বড় বড় করে তাকাবে, আপনি যা যা ওদের সম্মুখে করবেন ৬০-১০০টি চোখ খুব ক্রিটিক্যালি তাই দেখবে। কি ভয়ানক ব্যাপার, তাই না? আপনি যদি ওদের ভয় পেয়ে যান, তাহলে আপনার পড়ানোর প্রাণ প্রাণহীন হয়ে পড়বে। আর যদি শিক্ষার্থীদের লেভেল বা স্তর নিয়ে খুব চুলচেরা পর্যালোচনা করতে থাকেন, অতি সচেতনতার কারণে আপনি হয়তো কিং কর্তব্য বিমূঢ় হয়ে পড়বেন। কোন পথ না পেয়ে যদি শিক্ষার্থীদের উপেক্ষা করেন, ওদের জীবনের সর্বনিকৃষ্ট শিক্ষকের চেয়ে ভাল কেউ হতে পারবেন না নিশ্চয়ই। এ ক্ষেত্রে আপনার অবশ্য করণীয় বিষয়টি হচ্ছে শিক্ষার্থীদেরকে আপনার চিন্তার জগতে প্রবেশ করিয়ে দেয়া এবং আপনার সুন্দর ও পরিকল্পিত চিন্তাগুলো ওদের সাথে শেয়ার করা। শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস প্রতিফলিত করুন, আপনার পড়ানোর বিষয়ের উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখুন। পড়ানোর ভয় দূর করার একটি অন্যতম কৌশল হচ্ছে নিজের প্রতি নয়, শিক্ষার্থীদের প্রতি সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান করা। পড়ানো, শেখানো, বক্তৃতা প্রদান, অনুপ্রেরণামূলক কথা বলা, উপস্থাপনা সম্পর্কিত বিষয়াদিতে একই ধরনের কৌশল অবলম্বণ করা জরুরি আর এই কৌশলসমূহ খুব সহজেই অর্জনযোগ্য।
আমরা অনেকেই ছাত্রছাত্রীদের বলতে শুনেছি ‘আজ জীবনের সেরা ক্লাসটি করলাম’। ঐ শিক্ষকগণ কারা যারা এরূপ সেরা ক্লাস উপহার দিতে পারেন? যারা তাদের শিক্ষার্থীদের উপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকেন তারাই তো সেরা শিক্ষক। সবচেয়ে ভয়ানক ব্যাপারটি হচ্ছে আজকাল শিক্ষার্থীরা টেলিভিশন, ওয়েবসাইট ও বন্ধুদের নিকট থেকে অনেক গোছালো তথ্য পেয়ে থাকে আর এখান থেকে লব্ধ জ্ঞান আপনার পড়ানোকে বোরিং করে দিতে পারে কারণ শিক্ষার্থীরা জানা বিষয়ে গভীর মনোযোগ দেয় না। তাই একজন সচেতন শিক্ষক হিসেবে ছাত্রছাত্রীদের তুলনায় জানার ক্ষেত্রে আপনাকে অনেক ধাপ এগিয়ে থাকতে হবে। কোন জানা বিষয় উপস্থাপনার প্রয়োজন হলে আপনার উপস্থাপনা কৌশলে পরিবর্তন আনতে হবে যেন ছাত্রছাত্রীরা মনে করে নতুন কিছু শিখতে যাচ্ছে ওরা।
আপনার পড়ানোর শুরুটা যেন গতানুগর্তিক শুরু না হয়, হতে হবে নাটকীয়, আকর্ষণীয়, কৌতুহল উদ্দীপক, প্রশ্ন উদ্রেকর ও ব্যতিক্রমধর্মী। পড়ানোর বিষয়ে আপনার নিজেকে আগেভাগেই খুব পছন্দ করতে হবে। আর এ পছন্দ আপনার ছাত্রছাত্রীদেরও প্রভাবিত করবে। আপনার পড়ানোর ভয়কে পরিবর্তন করতে হবে আত্মবিশ্বাসমূলক আবেগে। শিক্ষার্থীরা তাড়িত হবে এ আবেগে। মিশে যাবে আপনার সাথে, আপনার পড়ানোর স্থায়ী প্রতিফলন থাকবে ছাত্রছাত্রীদের মনের মনিকোঠায়। আরেকটি অপ্রিয় কথা, যে সকল শিক্ষক অতি মাত্রায় সচেতনতার সাথে পড়ান, তাদের ব্যর্থ হবার ভয় থাকে, তাদের চেয়ে আবেগ প্রবণ, প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব সম্পন্ন, রসিক, মিশুক ও বন্ধুভাবাপন্ন শিক্ষকদের পড়ানো খুবই প্রাণবন্ত হয়ে থাকে। সুতরাং, অতি সচেতনতা পরিহার করুন। পড়ানোকে ভালবাসুন। আপনার একটি ক্লাসের ফলপ্রসূতা তিনটি বিষয়ের উপর নির্ভর করেঃ আপনার শিক্ষার্থীদের মান, পড়ানোর মান এবং আপনি অর্থাৎ শিক্ষকের মান। এসব প্যারামিটারগুলো একজন অভিজ্ঞ শিক্ষক খুব সুন্দরভাবেই ছন্দময় ও নিয়ন্ত্রণযোগ্য করতে পারেন। একটি ব্যাপার যা খুবই খেয়াল রাখতে হবে আপনাকে আর তা হচ্ছে শিক্ষার্থীদেরকে আপনার দেয়া তথ্য প্রক্রিয়াকরণের সামর্থ্য। আপনি যদি ওদের সামর্থ্যের অধিক বা কম তথ্য প্রদান করেন, আপনার শেখানোর চূড়ান্ত ফল হবে কম বোধগম্যতা। তাই আপনার পক্ষ থেকে শধু প্রয়োজনীয় তথ্যই পাবে শিক্ষার্থীরা Ñ কমও নয়, বেশিও নয়। অযথা বিস্তারিত না করে, টু দি পয়েন্ট হওয়া, মূল বিষয়ে জোর দেয়া, শিক্ষার্থীদেরকে খুব কাছের করে নেয়া ও আপনার বোঝানোর পদ্ধতিটি এমন হতে হবে যেন মনে হয় ওদের সঙ্গেঁ একসাথে বসে আপনি খাওয়দাওয়া করছেন। আর এরূপ করতে পারলেই আপনি একজন সফল শিক্ষক হয়ে গেলেন, ব্যস।
ফলপ্রসূ শিক্ষা প্রদানের জন্য আপনাকে আরো কয়েকটি বিষয়ের প্রতি নজর দিতে হবে। প্রথমতঃ আপনার পড়ানোর কক্ষে মনোযোগ আকর্ষণে ব্যত্যয় ঘটায় এমন শব্দ দূষণ রোধ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের প্রশ্নবাণকে নিয়ন্ত্রনে রেখে উত্তর প্রদানের কৌশল আপনাকে আয়ত্ব করতে হবে এবং সর্বোপরি শিক্ষার্থীদের সাথে আপনার দৃষ্টি সংযোগ, ভাব বিনিময়, কাছে যাওয়া, আগ্রহভরে প্রশ্ন শোনা এবং দীর্ঘক্ষণ মনোযোগ ধরে রাখার জন্য প্রতি ২০ মিনিট পরপর পড়ানোর কৌশল পরিবর্তন, ভিন্ন ছন্দ প্রবর্তন, আসন পরিবর্তন, গ্রুপ করা, দলীয় জিজ্ঞাসা ও উত্তর, দলীয় খেলা, ছোটখাট বিষয় সম্পর্কিত খেলা প্রবর্তন, নিয়ন্ত্রিত রসিকতা, কৌতুক বলা, হঠাৎ কণ্ঠস্বর উঁচুতে উঠিয়ে নতুন কোন বিষয় শুরু করতে পারলে আপনার পড়ানো খুব আকর্ষণীয় হবে সন্দেহাতীতভাবে।
এবার আসা যাক আপনার ভুল করা প্রসঙ্গে। প্রত্যেক শিক্ষকেরই পড়ানোর সময় ভুল হয়ে যেতে পারে। যদি এমনটা ঘটেই যায়, অকপটে স্বীকার করুন এ অনিচ্ছাকৃত ভুলটি। ভুল নিয়ে লুকোচুরি খেলতে যাবেন না। সরাসরি ভুল স্বীকার করলে ছাত্রছাত্রীরা আপনার প্রশংসাই করবে, সমালোচনা নয়। ঠিক এমন, আক্রমণাত্মক না খেলে রক্ষণাত্মক খেলাই ভাল। তবে ভুল হয়ে যাওয়ার পরবর্তী মুহূর্তে যেন বেশি আকর্ষণীয়ভাবে আপনি পড়াতে পারেন সে খেয়াল রাখুন। ছাত্রছাত্রীরা ভুলের কথা ভুলেই যাবে। একটি ভুল আরেকটি ভুল দিয়ে মুছে ফেলা যায় না। বাংলাদেশের শিক্ষকদের মধ্যে ভুল স্বীকার করার গুণটি কম লক্ষ্য করা যায়। তবে এ পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটছে।
আপনাকে সর্বদা খেয়াল রাখতে হবে আপনার ছাত্রছাত্রীরা কতটুকু নিতে পারছে এবং আপনার পড়ানোর কৌশলকে তদানুযায়ী গোছাতে হবে। এর মানে এই নয় আপনার পড়ানো একদম সাদামাটা হবে; বরং এর অর্থ হচ্ছে আপনার শিক্ষাদান হবে টার্গেট অরিয়েন্টেড ও যথার্থ। একটি পাঠে অনেক ধরনের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার মানে হচ্ছে চূড়ান্ত ঋণাত্মক ফল এবং আপনার ছাত্রছাত্রীরা হবে মনোযোগ বিচ্যুত। অতিরিক্ত তথ্য ও বর্ণনা দিয়ে পাঠ্য বিষয়কে অহেতুক জটিল করে তুলবেন না। শুধু মূল পয়েন্টগুলো তুলে ধরুন আর আপনি নিজ থেকে বর্ণনা করুন।
পড়ানোর বিষয়বস্তু
একটি পাঠের মুলতঃ তিনটি বিষয় থাকে। প্রথম ও প্রধান বিষয়টি হচ্ছে দর্শক/শ্রোতা/ছাত্রছাত্রী। এরাই আপনার পাঠের মূল কেন্দ্রবিন্দু। এদের সন্তুষ্টির উপরই নির্ভর করে আপনার শেখানোর সফলতা বা ব্যর্থতা, এরাই আপনার শক্তির উৎস, এরাই আপনার শিক্ষকতা জীবনের উদ্দেশ্য।
পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছেন আপনি অর্থাৎ শিক্ষক। আপনি হচ্ছেন প্রধান আকর্ষণ, মূল নায়ক। আপনিই তো নির্ধারণ করেন আপনার লেকচারের গতি, স্বরভঙ্গী, স্টাইল ইত্যাদি। আপনিই দর্শক-শ্রোতার মূল বিন্দু, আবেগ, অনুভূতি, শক্তি, ভাল লাগা বা না লাগার ব্যক্তিটি। আপনার পারফরমেন্সেই নির্ধারিত হয় আপনার পাঠটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে কিনা, কতদিন আপনাকে মনে রাখবে ওরা, ওদের মনকে কতটুকু নাড়া দিতে পারলেন আপনার সুন্দর কথা দিয়ে ইত্যাদি।
তৃতীয় ও চূড়ান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে আপনার শেখানোর পদ্ধতি। লক্ষ্য করে থাকবেন বাংলাদেশের প্রায় ৯৯.৯৯% কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ ওয়ান ওয়ে লেকচার দিতে অভ্যস্ত। শিক্ষকই শুধু বলে যান, ছাত্রছাত্রীরা নিস্ক্রিয় থাকে, ঘুমায়, কথা বলে। আপনার সুন্দর চিন্তাগুলো কোন্ পদ্ধতিতে ছাত্রছাত্রীদের নিকট পৌছালে ওরা পুরোটাই নিতে পারবে, পেয়ে আনন্দিত হবে, মেনে নেবে না মনের মধ্যে নেবে, এসব বিষয়গুলো আপনাকেই ঠিক করতে হবে। আর এতগুলো ভাল বিষয়াবলী কোন শিক্ষকের মধ্যে রাতারাতি আসবে না। সেরা শিক্ষকদের ক্লাস থেকে সেরা জিনিসগুলো দুধের সরের মত তুলে নিয়ে খাওয়ার অভ্যাসে পরিণত করতে হবে।
প্রেষণা ও অনুপ্রেরণা
একজন শিক্ষক হিসেবে ছাত্রছাত্রীদের কাছে আপনি যে কত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি তা কখনো চিন্তা করেছেন? ধরুন, প্রায় ৫০ জন ছাত্রছাত্রী একটি শ্রেণিকক্ষে জড়ো হওয়া শুরু করলো। আপনার সাথে সাইফুরসে ওদের প্রথম নির্ধারিত ক্লাস। ওরা বসা শুরু করলো। আবেগ ও উৎকন্ঠার সাথে ওরা অপেক্ষা করছে আপনি কখন ক্লাসে আসবেন। যেইমাত্র আপনি শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করলেন, ১০০টি চোখ আপনার দিকে বড়বড় করে তাকিয়ে আছে। নির্বাক সবাই। কেউ আছে ভয়ের মধ্যে, কেউ আছে দ্বিধায় Ñ কেমন ক্লাস হবে আপনার সাথে, কিন্তু অধিকাংশজনই আছে আবেগ ও উত্তেজনার মধ্যে আপনার সাথে ওদের হয়তো জীবনের সেরা একটি ক্লাস হবে আজ। ক্লাস শুরুর আগ মুহূর্তে আপনি একটু নোটগুলোতে চোখ বুলিয়ে নিলেন, একটু চুমুক দিয়ে নিলেন পানির বোতলে। আপনিও উত্তেজিত Ñ কেমন ক্লাস হবে ওদের সাথে আজ।
আপনি নিশ্চিত যে এখনই ক্লাস শুরু করতে যাচ্ছেন আপনি। দ্বিধায় দ্বিধান্বিত, কোন্ শব্দাবলী দিয়ে শুরু করবেন? শুরু করলেন। কিছুটা গুঞ্জন, কিছুটা ওদের চোখাচোখি। অনেকে আপনার দিকেই তাকিয়ে আছে। এরপর কি বলছেন তা শোনার জন্য। ছাত্রছাত্রীদের উত্তেজনা চরমে। ওরা খুশি, আপনি সুখি। তারপর? আজকের ক্লাসের প্রতিটি মুহূর্ত এমন হবে তো?
নাকি এমনটি হবে আজ? ৫০ জন শিক্ষার্থীর অনেকেই কি ক্লাসের মধ্যে বিরক্তিতে ঘুমাতে শুরু করবে? ওরা কি এমনটি বলবে ‘ইনি কিভাবে এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক হলেন?’ ওরা ১:৩০ ঘণ্টা পর শ্রেণিকক্ষ থেকে বের হয়ে কি বলবে আপনার সম্পর্কে? সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ওরা আপনার সাথে কাটানো ১:৩০ ঘণ্টাকে কিভাবে মনে রাখবে, এ সময়টুকু ওদের জীবনে কি পরিবর্তন আনবে? এসকল অনিবার্য প্রশ্নগুলোর উত্তর আপনাকেই ঠিক করতে হবে। আপনিই তো ছাত্রছাত্রীদের দৃষ্টিভঙ্গীকে বদলে দেন, আপনিই তো ওদের হাত ধরে নিয়ে যান সুচিন্তার জগতের ওই প্রান্তে, আপনিই ওদের আলোর বাহক, আপনিই নির্ধারণ করে দেন ওদের জীবনের সেরা শিক্ষক আপনি নাকি অন্য কেউ।
একজন ভাল শিক্ষক সাধারণত নিজের পাঠদানের মূল্যায়ন নিজেই করে থাকেন। পূর্বেই তৈরি করা এক টুকরো কাগজে আপনার ক্লাসের মূল্যায়ন করতে বলুন আপনার ছাত্রছাত্রীদের। ওরা আপনার এসব কৌশল দেখে মুগ্ধ হবে নিশ্চিতভাবেই। আর মনে রাখবেন, আপানাকে ক্লাস শেষ করতে হবে এমন কিছু বলে, এমন নতুন কিছু দিয়ে যা আপনার প্রিয় ছাত্রছাত্রীরা ভুলতে চাইলেও ভুলতে পারবে না। যাকে আমরা বলি ‘Unforgettable Ending’.
By- Yeasir Ahmed Milan
Tag: Live English with Yeasir Sir, Yeasirbd.com, yeasirbd.com, Yeasir Ahmed Milan