26/05/2026
বাজারের সমীকরণ বনাম ট্যাক্সের নীতি: সাধারণ মানুষের পাত থেকে কি তবে ডিম আর সবজিও দূরে সরে যাচ্ছে?
আজকাল বাজারে গিয়ে হিসাব মেলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দায়। কিন্তু এই চড়া বাজারদরের পেছনে শুধু সরবরাহ সংকট বা সিন্ডিকেটই নয়, আমাদের ট্যাক্স পলিসির কিছু অদ্ভুত বৈষম্যও যে বড় ভূমিকা রাখছে, তা কি আমরা খেয়াল করেছি?
চলুন একটা সাধারণ কিন্তু চোখ কপালে তোলার মতো তথ্য শেয়ার করি। আয়কর আইন ২০২৩ এর ধারা ৮৯ (৪) ও বিধি-৩ (৪)-এ উৎসে কর (Source Tax / AIT) এর বর্তমান কাঠামোটা একটু খেয়াল করুন:
ধান, ধানের কুড়া, চাল, গম, আলু, গবাদি পশু, মাছ, মাংস, পিঁয়াজ, রসুন, মটর, ছোলা, মসুর, আদা, হলুদ, শুকনা মরিচ, ডাল, ভূট্টা, আটা, ময়দা, লবণ, ভোজ্যতেল, চিনি, বীজ, পাটকাঠি, সরিষা, তিল, কাঁচা চা-পাতা, গোলমরিচ, এলাচ, দারুচিনি, লবঙ্গ, তেজপাতা এবং পাট সরবরাহের ক্ষেত্রে উৎসে কর ০.৫% কিন্তু এর মধ্যে শুকনা মরিচ থাকলেও কাঁচা মরিচ, ডিম ও শাক-সবজি নাই। আয়কর আইন ২০২৩ এর ধারা ৮৯ (১-১৮) তে বর্ণিত হয় নাই এমন সকল পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে উৎসে কর ৫%। কাঁচা মরিচ, ডিম ও শাক-সবজি আয়কর আইন ২০২৩ এর ধারা ৮৯ (১-১৮) তে বর্ণিত হয় নাই তার মানে হলো কাঁচা মরিচ, ডিম ও শাক-সবজি ক্ষেত্রে উৎসে কর ৫%। যেখানে উৎসে কর একলাফে ৫% (পুরো ১০ গুণ বেশি!)।
প্রশ্নটা এখানেই: এই নীতির যৌক্তিকতা কোথায়?
১. পুষ্টির বৈষম্য: মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের জন্য প্রোটিনের সবচেয়ে সস্তা এবং ভরসার জায়গা হলো ডিম। আর ভিটামিনের উৎস হলো শাক-সবজি। যেখানে মাছ-মাংস কেনার সামর্থ্য অনেকেরই নেই, সেখানে ডিম ও সবজির ওপর ৫% উৎসে কর আরোপ করা মানে পরোক্ষভাবে সাধারণ মানুষের পুষ্টির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করা।
২. কৃষক ও ভোক্তার ওপর প্রভাব: শাক-সবজি ও ডিম অত্যন্ত পচনশীল পণ্য। কোল্ড স্টোরেজ বা সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় খামারি ও কৃষকরা এমনিতেই ঝুঁকিতে থাকেন। তার ওপর সরবরাহ চেইনে (Supply Chain) যদি ৫% হারে উৎসে কর কর্তন করা হয়, তবে তার চূড়ান্ত প্রভাব গিয়ে পড়ে সাধারণ ভোক্তার পকেটে এবং প্রান্তিক উৎপাদকের আয়ে।
৩. নীতিমালার অসঙ্গতি: আলু আর পেঁয়াজ যদি প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্য হিসেবে ০.৫% করের সুবিধা পেতে পারে, তবে ডিম আর কাঁচা মরিচ, পটল বা লাল শাক কেন একই তালিকায় থাকবে না? সবজি কি বিলাসী পণ্য?
আমাদের চাওয়া: পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন।