21/01/2020
বিএনপি কে বলছি.......
আমার এই লেখাটি যারা পড়বেন তাদের ভিতর অনেকেই ভাবতে পারেন আমি আওয়ামী লীগ এর পক্ষ নিয়ে কথা বলছি। কিন্তু না ,আমি একজন অতি সাধারন নাগরিক। আমার কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নাই। সে ক্ষেত্রে অনেকেই আবার প্রশ্ন করতে পারেন যে , তাহলে পুরো লেখাটিতে আওয়ামীলীগ নিয়ে কোন লেখা কেন নাই? সে ক্ষেত্রে বলবো, কোন মানুষ যখন সর্বোচ্চ ক্ষমতা নিয়ে জীবন অতিবাহিত করে তখন অনেক সত্যই তার চোখে ধরা পড়ে না, অনেক জ্ঞান-ই তার কাছে নিরর্থক মনে হয়, অনেক চিরন্তন সত্য কথা সে ভুলে যায়।তাই যখন কোন সাধারন মানুষ বা সাধারণ মানব গোষ্ঠী ক্ষমতার চরম শিখরে থাকে তখন তাকে জ্ঞান প্রদান করার প্রয়াস করাই এক ধরনের নির্বুদ্ধিতা। এখন প্রকৃত আলোচনায় আসি।
বিএনপি রাজনৈতিক দলটি মূলত যারা পরিচালনা করেন তাদের উদ্দেশ্যে বলছি। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা এবং খবরের চ্যানেল গুলোতে বিভিন্ন সময় বিএনপি নেতৃবৃন্দকে বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য দিতে শোনা যায়। যেমন: তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে, অমুক তারিখ এর ভেতরে দাবি না মানলে সরকার পতনের আন্দোলন শুরু হবে ইত্যাদি ইত্যাদি।
আপনাদের এসব ফাঁকা বুলিতে জনগণ যে বিন্দুমাত্র আস্থা রাখে না, তা অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ হিসেবে এখনো কেন বুঝতে পারছেন না আপনারা ? এখানেই আপনাদের ব্যর্থতা।
পৃথিবীতে বহুবার অন্যায়ের বিরুদ্ধে অস্ত্রের মুখে বড় বড় আন্দোলন হয়েছে এবং সেই সমস্ত আন্দোলন সফল-ও হয়েছে। এসব আন্দোলনের মূল অস্ত্র ছিল জনসম্পৃক্ততা।
বিগত সাত বছরে আপনারা আপনাদের কোন আন্দোলনে বাংলাদেশের সাধারণ জনগণকে সম্পৃক্ত করতে পেরেছেন? একবারের জন্যও কি ভেবে দেখেছেন কেন জনগণ আপনাদের আন্দোলনের সাথে যুক্ত হচ্ছে না?
একবার কি নিজেদের প্রশ্ন করেছেন যে, বিএনপি কোনদিন ক্ষমতায় না আসলে বাংলাদেশের আম-জনতার কি ক্ষতি হবে? আওয়ামী লীগ এর পরিবর্তে বিএনপি সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেলে বাংলাদেশের আমজনতা কি বিশেষ সুবিধা পাবে? বলতে পারেন?
রাজনীতিবিদদের প্রধান কাজ হচ্ছে সাধারণ জনগণের সেবা করা।আজকে আওয়ামী লীগ এর পরিবর্তে বিএনপি ক্ষমতায় আসলে বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ কি বাড়তি সেবা পাবে আপনাদের কাছ থেকে?
আপনারা এখন প্রায়ই খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য দেশবাসীকে আন্দোলনে নামতে বলেন। দেশবাসীর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেন।যখন বিএনপি ক্ষমতার মসনদে অধিষ্ঠিত ছিল তখন কি নেত্রী খালেদা জিয়ার কাছে দেশের একজন সাধারন মানুষ চাইলেই যেতে পারত? ক্ষমতার মসনদে থাকাকালীন সময়ে একবারের জন্যও কি ভেবেছিলেন যে, এই সাধারণ মানুষগুলোর প্রয়োজন কখনো হতে পারে? অবশ্যই ভাবেন নি।যদি ভাবতেন, তাহলে অন্তত আজ আপনাদের এই দুর্দশা হতো না।
রাজনীতিবিদদের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশের সাধারণ মানুষের সেবা করা অর্থাৎ সেখানে কিন্তু এমন কোনো শর্ত নেই যে শুধুমাত্র ক্ষমতার মসনদে বসে সেবা করতে হবে। ঠিক আছে, বিএনপি এখন ক্ষমতায় নাই।তাই বলে তারা কি দেশের সাধারণ মানুষের সেবা করা বন্ধ করে দেবে রাজনীতিবিদ হিসেবে অথবা একটি রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে?বলুনতো ক্ষমতা ছাড়ার পরে একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশের একদম অতি সাধারণ মানুষদের(যাদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নাই) জন্য নিঃস্বার্থভাবে আপনারা কি কি কাজ করেছেন? যেসব কাজ অতি সাধারণ জনগণের মনের ভিতর আপনাদের প্রতি ভালোবাসার সৃষ্টি করবে?
সাধারণ মানুষ খুব ভালোভাবে জানে,আপনাদের আকুতি নিজেদের অবস্থা পরিবর্তনের জন্য।সাধারণ বা রাজনৈতিক পরিচয়বিহীন মানুষদের জন্য নয়। আপনারা ক্ষমতায় আসলে আপনারা দামি বাড়িতে থাকবেন, দামি গাড়িতে চড়বেন ,আপনাদের ছেলে মেয়েরা বিদেশে পড়াশোনা করবে , অসুস্থ হলে আপনারা সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নিতে যাবেন কিন্তু সাধারণ জনগণকে সেই ভাড়া বাসায় থাকতে হবে,সেই লোকাল গাড়িতে চলাফেরা করতে হবে যানজটের ভেতর, তাদেরকে সেই ভাঙ্গা স্কুলেই পড়তে হবে আর অসুস্থ হলে যেতে হবে দুর্নীতিতে ভরপুর সেই সরকারি হাসপাতালেই।তবে কেন একজন সাধারণ মানুষ আপনার জন্য রাজপথে মাথা ফাটাবে, পঙ্গুত্ব বরণ করবে? ভেবেছেন কখনো?
আপনারা হয়তো বিভিন্ন পরিসংখ্যান দেখিয়ে বলবেন জনগণ আওয়ামী লীগের প্রতি বিরক্ত। কিন্তু তাতে কি? জনগণ আওয়ামী লীগের প্রতি বিরক্ত হয়ে নিজেরা আন্দোলন করে বিএনপিকে ক্ষমতার মসনদে বসাবে সেই দিন বোধ হয় এখন আর নাই।
প্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সাধারন জনগন সাধারন- ই হয়।এই সাধারন বিষয়টা-র ভিতরে এক অসাধারণ মাহাত্ম্য লুকিয়ে থাকে যা আপনারা কখনোই বুঝতে পারেন না। জীবিত অবস্থায় মানুষ শত শত টাকা খরচ করে বিভিন্ন কোমল পানীয়, হুইস্কি, শ্যাম্পেইন ইত্যাদি খেয়ে থাকে কিন্তু মৃত্যুর সময় আত্মা অতি সাধারণ জলের জন্য হাহাকার করে। আর ঠিক তখনই অতি সাধারণ জল তার অসাধারণত্বের মাহাত্ম্য বুঝিয়ে দেয়।
একটা কথা প্রচলিত আছে অনেক জায়গায় যে, মালিক পরিবর্তন হলেও চাকর চাকর-ই থাকে। বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ হয়তো এখন ধীরে ধীরে এই সত্যটি-র মর্মার্থ উপলব্ধি করতে পারছে। তারা বুঝতে পারছে, সরকার পরিবর্তন হলেও সাধারন জনগন সাধারন-ই থাকে।