16/11/2025
২০১৬ সালে প্রথমবার চায়নায় গিয়েছিলাম।
তখনকার চীন দ্রুত পরিবর্তনের পথে ছিল, কিন্তু প্রযুক্তির ব্যবহার খুব গভীরভাবে চোখে পড়েনি। পরিবহন ছিল সাধারণ, ম্যাপ ছিল স্ট্যান্ডার্ড, আর পেমেন্ট প্রায় সবই ছিল ক্যাশ-ভিত্তিক।
২০২৫ সালে আবার চীন ভ্রমণ আমাকে বাস্তবভাবে বুঝিয়ে দিল—দেশটি শুধু উন্নত হয়নি, বরং প্রযুক্তিগতভাবে এগিয়ে গেছে সময়ের থেকেও অনেক দূর।
অনেকদিন ধরে মনে প্রশ্ন ছিল—গুগল ম্যাপ ছাড়া মানুষ কীভাবে আরামদায়কভাবে চলাচল করে?
এই সফরে এসে প্রশ্নটির উত্তর খুব সহজেই মিলল:
চীনের নিজস্ব প্রযুক্তি এতটাই উন্নত যে, গুগল ম্যাপের প্রয়োজনই নেই।
চীনের নেভিগেশন অ্যাপ Amap বাস্তব শহরের লাইভ, থ্রিডি অভিজ্ঞতা দেয়।
কোন লেনে আছি, সামনে ফ্লাইওভার নাকি টানেল, কোন আন্ডারপাস দিয়ে যেতে হবে—সব কিছুই তাৎক্ষণিক অ্যানিমেশনের মাধ্যমে দেখা যায়। এমনকি সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকলেও সুনির্দিষ্ট সময় দেখা যায়—কয় সেকেন্ড পর সিগনাল সবুজ হবে।
পরিবহনে Didi অ্যাপ এক নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে।
গাড়ির রিয়েল-টাইম লোকেশন, রুট পূর্বাভাস, পিকআপ পয়েন্ট মেলানো—সবকিছু অত্যন্ত নির্ভুল। অভিজ্ঞতা মনে করিয়ে দেয় ভবিষ্যতের কোনো ইন্টেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম।
২০১৬ সালে QR পেমেন্ট সীমিত ছিল, তথ্যভিত্তিক সেবা কম ছিল, এবং মোট ইকোসিস্টেম ছিল সাধারণ।
কিন্তু ২০২৫ সালে এসে দেখি—মানিব্যাগের প্রয়োজন নেই।
একটি মোবাইল ডিভাইসই জীবনকে সচল রাখে। মেট্রো, বাস, শপিং, খাবার, পেমেন্ট—সবই ডিজিটাল, দ্রুত এবং অটোমেটেড।
চীন প্রমাণ করেছে, প্রযুক্তি মানে শুধু অ্যাপ নয়—প্রযুক্তি মানে জীবনকে সহজ, নির্ভুল, এবং কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়া।
তারা ভবিষ্যৎকে ব্যবহার করছে আজই।
চীনের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি শুধু তাদের সমাজ নয়, পুরো বিশ্বের জন্য একটি নতুন মানদণ্ড তৈরি করছে।