Searching History

Searching History ইতিহাস ও সংস্কৃতির পাঠশালা
(4)

সার্চিং হিস্ট্রির পক্ষ থেকে স্বাধীন বাংলা সালতানাতের সবাইকে ১৪৪৭ হিজরী ঈদুল আজহার শুভেচ্ছাঈদ মোবারক!তাকাব্বালাল্লাহু মিন...
27/05/2026

সার্চিং হিস্ট্রির পক্ষ থেকে স্বাধীন বাংলা সালতানাতের সবাইকে ১৪৪৭ হিজরী ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা

ঈদ মোবারক!
তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম


ছবি: ১৯০৮ সালের অটোমান অধ্যুষিত হেজাযেরআরাফায় হাজীদের অবস্থানের দূর্লভ চিত্র (পরিমার্জিত)
26/05/2026

ছবি: ১৯০৮ সালের অটোমান অধ্যুষিত হেজাযের
আরাফায় হাজীদের অবস্থানের দূর্লভ চিত্র (পরিমার্জিত)


আজ ২৪শে মে ঠিক এই দিনে, ১৮৯৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহন করেন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। তিনি শুধু ব...
24/05/2026

আজ ২৪শে মে ঠিক এই দিনে, ১৮৯৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহন করেন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। তিনি শুধু বাংলাদেশের জাতীয় কবিই নন; তিনি বাঙালি মুসলমানদের জন্য একজন সাংস্কৃতিক পুরোধা ছিলেন।

"কারার ঐ লৌহ কপাট", "কান্ডারী হুশিয়ার" "বিদ্রোহী" "জাগরণী"-র মত বিপ্লবী ও জাগরণী গান রচনা করেছেন। “ত্রিভুবনের প্রিয় মুহাম্মদ" "চাঁদের চেয়ে সুন্দর তুমি" "তোমার নামে এ কি নেশা" "আল্লাহকে যে পাইতে চায়" এর মত হৃদয়ঙ্গম নাতে রাসুল তার অনন্য সৃষ্টি। তার এসকল প্রলয়ঙ্কারী কীর্তিসমগ্র বিপ্লবীদের অগ্নিশিখায় কাঠের যোগান দেয়। গোলামি আর দাসত্বের শেকল ভেঙে তার তৌহিদী কলম থেকেই শাহাদাতের তিব্র স্ফুলিঙ্গ বের হয়ে ঘোষণা করেছিল,

"উহারা চাহুক দাসের জীবন, আমরা শহীদি দরজা চাই;
নিত্য মৃত্যু-ভীত ওরা, মোরা মৃত্যু কোথায় খুঁজে বেড়াই!"



21/05/2026

সুলতান নুরুদ্দীন জেঙ্গিকে বাদ দিয়ে সালাহুদ্দীন আইয়ুবীর কুদস বিজয়ের প্রাসঙ্গিকতাকে অনেক ইতিহাসবিদই প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।...
15/05/2026

সুলতান নুরুদ্দীন জেঙ্গিকে বাদ দিয়ে সালাহুদ্দীন আইয়ুবীর কুদস বিজয়ের প্রাসঙ্গিকতাকে অনেক ইতিহাসবিদই প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।

আজ ১৫ ই মে ঠিক এই দিনে, ১১৭৪ সালে দামেস্কে ইন্তেকাল করেন তুর্কি বংশোদ্ভূত জেঙ্গী সুলতান নুরুদ্দিন মাহমুদ। তিনি ছিলেন জেঙ্গি বংশের প্রতিষ্ঠাতা, মসুলের ও আলেপ্পোর শাসক মহাবীর সুলতান ইমদাদুদ্দীন জেঙ্গির সন্তান।

দ্বাদশ শতাব্দীতে প্রথম ক্রুসেডে মুসলমানদের পরাজয়ের পর খ্রিষ্টীয় শক্তির বিরুদ্ধে কারোরই মাথা উঁচু করার সাহস ছিল না। সেলযুকরা তখন বিধ্বস্থ। এমনই সময়ে মুসলমানদের আশার আলো হয়ে উঠে দাঁড়িয়েছিলেন জেঙ্গী সুলতান ইমাদুদ্দীন ও তার পুত্র নুরুদ্দীন মাহমুদ। পিতার শাহাদাতের পর জি-হাদের ঝান্ডা পুত্রের হাতে এসে পড়ে। আলেপ্পো থেকে দামেস্কের সিংহাসনে আরোহন করলেন নুরুদ্দীন মাহমুদ। খলিফা তাকে 'মালিকুল আদিল' উপাধি দান করেন।

ক্রুসেডারদের জন্য নুরুদ্দীন মাহমুদ দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠলেন। বিভিন্ন যুদ্ধে সম্মিলিত ক্রুসেড বাহিনী তার হাতে পরাজয় বরণ করল, তন্মধ্যে ইনাব, হারেম ও আস্কালানের যুদ্ধ অন্যতম। এসময় সংখ্যালঘু ইহুদিরাও নানান চক্রান্তে লিপ্ত হয়। প্রতিবারেই তাদের চক্রান্ত তিনি নস্যাৎ করেছেন।

সুলতান নুরুদ্দীন তার সেনাপ্রধান আসাদুদ্দীন শিরকুহকে মিসর অভিমুখে প্রেরণ করেন। শিরকুহ সেখানে বিশ্বাসঘাতকদের শিরচ্ছেদ করে মিশরকে জেঙ্গীদের আওতাধীন করেন। এই অভিযানে শিরকুহের সাথে ছিলেন তার ভাতিজা ইউসুফ বিন আইয়ুব। এই ইউসুফ আর অন্য কেউ নন; তিনি হলেন ইতিহাসের মহানায়ক সালাহুদ্দীন আইয়ুবী। চাচার মৃত্যুর পর সালাউদ্দিন মিশরের শাসনকর্তা হন। এতে নুরুদ্দীনের মনোবল, জি-হাদের স্পৃহা আরো বেড়ে যায় এবং বায়তুল মাকদিস পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন আরও উজ্জীবিত হয়।

এত ধন দৌলত থাকা সত্ত্বেও দুনিয়ার প্রতি লোভ করতেন না নুরুদ্দীন । প্রখ্যাত ঐতিহাসিক ইমাদুদ্দীন ইস্ফাহানি লিখেছেন, "সফর মাসে একদা আমরা দামেস্কে অবস্থান করছিলাম। আমাদের সামনে সুলতান নুরুদ্দীন জেঙ্গি বসা ছিলেন। আমরা দামেস্কের মনোরম পরিবেশ, সুন্দর প্রাসাদ ও সুশীতল আবহাওয়া নিয়ে কথা বলছিলাম। সুলতান এসব শুনে বললেন, জি-হাদের ভালোবাসা আমাকে এসব ভুলিয়ে দিয়েছে। এসবের প্রতি আমার এখন কোন আগ্রহ নেই।"

সুলতান প্রজাদেরকে অত্যন্ত কদর করতেন। জীবনের শেষ সময়ে যখন নুরুদ্দীন অসুস্থ হয়ে পড়েন, গোটা শাম তখন শোকে কাতর হয়ে পড়ে। ইবনে আসির নুরুদ্দীন জেঙ্গীর ন্যায়পরায়ণতাকে খোলাফায়ে রাশেদা এবং খলিফা ওমর ইবনে আব্দুল আজিজের পরেই স্থান দিয়েছেন।

নুরুদ্দীন জেঙ্গি জেরুজালেমের মজলুমদের আশার আলো হয়ে সারাটা জীবন ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে জি-হাদ অব্যাহত রেখেছেন। তিনি একটি মিম্বার নির্মাণ করেছিলেন, তার আশা ছিল যেদিন তিনি কুদস জয় করবেন সেদিন এটি মসজিদুল অ|কসার মাঝে স্থাপন করা হবে। কিন্তু আল্লাহ তাআলার ইচ্ছা ছিল অন্যরকম; নুরুদ্দীনের মাধ্যমে না হলেও আল্লাহ তাআলা সালাহুদ্দীনের মাধ্যমে এই মিম্বারকে মসজিদুল অ|কসায় চির প্রতিষ্ঠিত করান।



"নাকবা দিবস: বিপর্যয়ের শেষ ধাক্কা"নাকবা (النكبة) আরবি ভাষায় যার অর্থ "মহাবিপর্যয়"। এই শব্দটি মুসলমানদের জন্য একটি বেদনা...
15/05/2026

"নাকবা দিবস: বিপর্যয়ের শেষ ধাক্কা"

নাকবা (النكبة) আরবি ভাষায় যার অর্থ "মহাবিপর্যয়"। এই শব্দটি মুসলমানদের জন্য একটি বেদনাদায়ক ইতিহাস, যা আজ থেকে ৭৮ বছর আগে ১৯৪৮ সালের আরব-হিসরায়েল যুদ্ধের পরবর্তী সময়ে Filiস্তিনিদের বিপুল হারে নির্যাতন ও নিজ ভূমি হতে উৎখাতের ঘটনাকে স্মরণ করিয়ে দেয়। প্রতি বছর ১৫ই মে এই দিনটি "নাকবা দিবস" হিসেবে পালিত হয়।

১৯৪৮ সালের ১৪ই মে হিসরায়েলের অবৈধ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর পরই প্রায় ৭ লক্ষ মুসলমানদেরকছ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য করা হয়। ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, হিসরায়েলি বাহিনী বহু FIliস্তিনি গ্রাম ও শহর ধ্বংস করে দেয় এবং বহু নিরীহ মানুষকে হত্যা করে। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করেছেন,

الَّذِينَ أُخْرِجُوا مِن دِيَارِهِم بِغَيْرِ حَقٍّ إِلَّا أَن يَقُولُوا رَبُّنَا اللَّهُ
"তাদেরকে তাদের নিজ বাড়ী-ঘর থেকে অন্যায়ভাবে বের করে দেয়া হয়েছে শুধু এ কারণে যে, তারা বলে, ‘আমাদের রব আল্লাহ’।" [হাজ্জ:৪০]

নাকবা দিবসে filiস্তিনিরা বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে এই ট্র্যাজেডির কথা স্মরণ করে। শোক মিছিল, প্রতিবাদ সমাবেশ এবং শহীদদের জন্য দুআ করা হয়। এই দিনটি কেবল একটি ঐতিহাসিক একটি ঘটনার দিন ই নয়, বরং Filisস্তিনিদের তাদের নিজ ভূমিতে ফিরে যাওয়ার অঙ্গীকারের দিন।

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসকারী Filiস্তিনিরা এবং তাদের সমর্থকরা এই দিনে একাত্মতা প্রকাশ করে। ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়ানো হয়। তারা সংহতি ও সহমর্মিতা প্রকাশের জন্য তাঁদের ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্ব করে এমন নানা মোটিফ বা চিহ্ন প্রকাশ করে। এসবের মধ্যে জলপাই, জলপাইয়ের পাতা ও ডাল, তরমুজ কিংবা ঘুঘু পাখির কথা না বললেই নয়। তবে এসব চিহ্নের কোনো কিছুই কেফিয়াহকে ছাড়িয়ে যেতে পারেনি। Gaযায় হিসরায়েলি হামলার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের অংশ হিসেবে কেফিয়াহ নামের বিশেষায়িত এই রুমাল এখন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।

নাকবা দিবস Filiস্তিনি ও সকল মুসলমানদের জন্য কেবল একটি শোকের দিন নয়, বরং এটি তাদের পুনরুত্থানের প্রতীক। এই দিনটি বিশ্বকে মনে করিয়ে দেয়, "মুসলমানরা শেষ হয়ে যায়নি; আবারো আসবে তারা তাদের নিজেদের ভূখণ্ডে, হয় ওমর ইবনুল খাত্তাব হয়ে নাহয় সালাউদ্দিন আইয়ুবী হয়ে।"




তিতুমীরকে লেখা সৈয়দ আহমদ বেরলভীর চিঠি ________________________________ বালাকোটে সিপাহসালার সৈয়দ আহমদ শহীদ বেরেলভী ছিলে...
07/05/2026

তিতুমীরকে লেখা সৈয়দ আহমদ বেরলভীর চিঠি
________________________________
বালাকোটে সিপাহসালার সৈয়দ আহমদ শহীদ বেরেলভী ছিলেন আমাদের তিতুমীরের পীর। ১৮২১-২২ সালে হজ্জ করতে গিয়ে মক্কায় তিতুমীর প্রথম সৈয়দ আহমদের সাক্ষাৎ লাভ করেন এবং তাঁর তরিকা-ই-মুহাম্মদিয়া আন্দোলন ও যুদ্ধের ডাক শুনে এতটাই মুগ্ধ হন যে, তিনি আর দেশে ফিরে আসেননি। পুরো চার বছর (১৮২২-১৮২৬) তিনি সৈয়দ আহমদের সঙ্গে মক্কা-মদিনায় থেকেছেন, তাঁর কাছে ইলমে দ্বীন, তাসাউফ, ও সংগ্রামের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন, এবং আনুষ্ঠানিকভাবে বায়আত গ্রহণ করেছেন। এই সময়টাতে তিনি সৈয়দ আহমদের সবচেয়ে নিকটবর্তী ও প্রিয় সঙ্গীদের একজন হয়ে ওঠেন।

সৈয়দ আহমদ তাঁর জীবদ্দশায় মোট চৌদ্দ জনকে খিলাফত দিয়েছিলেন, যাদের মধ্যে বাংলা অঞ্চলের একমাত্র খলিফা ছিলেন তিতুমীর। তরিকা-ই-মুহাম্মদিয়ার অভ্যন্তরীণ দলিলে তাঁকে “সাইয়েদীনা মীর নিসার আলী তিতুমীর আল-বাঙ্গালী” বলে সম্বোধন করা হয়েছে – এই সম্মানসূচক “সাইয়েদীনা” শুধুমাত্র তিতুমীর এবং শাহ ইসমাইল শহীদের জন্যই ব্যবহৃত হতো।

১৮৩১ সালের ৬ মে বালাকোটে সৈয়দ আহমদ শহীদ হওয়ার খবর বাংলায় পৌঁছানোর পর তিতুমীর কয়েকদিন রোজা রেখে কাঁদেন এবং তারপর ঘোষণা করেন: “আমার উস্তাদ শহীদ হয়েছেন। এখন বাংলায় আমিই আমীরুল মুমিনীন। যুদ্ধ ফরজ হয়ে গেছে।” এরপরই তিনি বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেন এবং প্রকাশ্যে ব্রিটিশ ও জমিদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেন।

তিতুমীর কেবল একজন খলিফাই ছিলেন না; তিনি ছিলেন সৈয়দ আহমদ শহীদের সবচেয়ে প্রিয় ও বিশ্বস্ত সঙ্গী, বাংলা অঞ্চলের জন্য নির্বাচিত “আমীরুল মুমিনীন” এবং উত্তর-পশ্চিম ভারতের বালাকোট যুদ্ধের পর বাংলায় সেই বিদ্রোহের আগুনকে জ্বালিয়ে রাখা একমাত্র ব্যক্তি। তাঁর ১৮৩১ সালের নারিকেলবাড়িয়ার বিদ্রোহ আসলে সৈয়দ আহমদের অসমাপ্ত স্বপ্নেরই বাংলা অধ্যায় ছিল।

১৮২৭ থেকে ১৮৩১ সাল পর্যন্ত সৈয়দ আহমদ তিতুমীরকে বেশ কয়েকটি গোপন চিঠি লিখেছিলেন। মোট চিঠির সংখ্যা কত এ ব্যাপারে ঐতিহাসিকগণ একমত হতে পারেন নাই। ভারতের বিভিন্ন জাদুঘরে সৈয়দ আহমদ শহীদের নিজের হাতে লেখা বা তাঁর সীলমোহরযুক্ত মোট চারটি চিঠি এখনও সংরক্ষিত আছে। এগুলোর ফার্সি ভাষায় লিখিত। এরমধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত তৃতীয় চিঠি। “সীরাতে সৈয়দ আহমদ শহীদ” গ্রন্থে এর পূর্ণ উদ্ধৃতি আছে।

লেখা: মীর সালমান শামিল



১৮৩১ সালের ৬ মে।ঐতিহাসিক বালাকোটের প্রান্তর। মিট্টিকোট পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থান নিয়ে কৌশল আটছিলো শিখ বাহিনি। সকালের নাস...
06/05/2026

১৮৩১ সালের ৬ মে।
ঐতিহাসিক বালাকোটের প্রান্তর।

মিট্টিকোট পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থান নিয়ে কৌশল আটছিলো শিখ বাহিনি। সকালের নাস্তা খেতে খেতে পাহাড় আর শহরের মধ্যবর্তী কর্দমাক্ত ধানক্ষেতে ঢুকে পড়েন সৈয়দ আহমদ বেরলভী নেতৃত্বাধীন মুজাহিদ বাহিনীর সৈন্য সৈয়দ চেরাগ আলী। তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে পাহাড়ের চূড়া থেকে শিখ বাহিনি। মুহূর্তেই লুটিয়ে পড়ে সেখানেই। আর শুরু হয় ৭০০ মর্দে মু জাহিদ ও ১০ হাজারের অধিক সৈন্যের শিখ বাহিনির এক অসম যুদ্ধ। মু জাহিদের রক্তে লেখা হতে থাকে ঐতিহাসিক বালাকোটের ময়দানের নাম; যেখান থেকে ভিত আরো মজবুত হয় উপমহাদেশীয় ইসলামী রাজনৈতিক, ধর্মীয় চিন্তার, ইতিহাসের এবং আজাদীর রূপরেখা।

অষ্টাদশ শতকে ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম বিপর্যয়ের প্রতিক্রিয়া হিসেবে গড়ে উঠা একটি আদর্শিক আন্দোলন, শিখ সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ এবং ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক কাঠামোর বিরুদ্ধে মুসলিম মানসের জাগরণ এই তিন ক্ষেত্র একত্রিত হয়ে ফলিত হয় বালাকোটের প্রান্তরে এই ঐতিহাসিক যুদ্ধ। তাই বালাকোটকে মূল্যায়ন করতে তিন পরস্তের এই দেওয়াল ধরেই বিশ্লেষণ অত্যাবশ্যক।

১৭০৭ সালে সম্রাট আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর মুঘল সাম্রাজ্যের কর্তৃত্বের পতন শুরু হতে থাকে। ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির উত্থান ও ১৭৬৪ সালে বক্সারের যুদ্ধে ব্রিটিশদের জয় হলে তাদের কর্তৃত্ব শুরু হয়। তারা শুরু করে তাদের রাজনৈতিক বিস্তার এবং সুযোগ নিয়ে কাজে লাগায় ধর্ম, বর্ণ ও আঞ্চলিক বিভেদ। এমতাবস্থায় উপমহাদেশীয় মুসলমানের তাকদীরে নেমে আসে এক বিশাল বিপন্নতা। একদিকে হঠাৎ ক্ষমতা থেকে দূরে চলে যেতে বাধ্য হওয়া অন্যদিকে মুসলিম রাজনৈতিক স্বত্বার অবক্ষয়। শাসক থেকে প্রান্তিক সংখ্যালঘু হওয়ার এই রূপান্তর, ঘরের উপর চেপে বসা বেদ্বীন ইংরেজ শাসন মুসলিম সমাজে তৈরি করে মনস্তাত্বিক ও আদর্শিক সংকট।

উপমহাদেশীয় মুসলমানের এই চরম সংকটকালে ইসলামী রাজনৈতিক চিন্তায় পূনর্জাগরণী দার্শনিক ভিত্তি গড়ে দেন শাহ্ ওয়ালীউল্লাহ দেহলভী। তিনি খোদার সার্বভৌমত্ব এবং মুসলমানি সমাজের জন্য সামাজিক ন্যায়বিচারের আবশ্যকতার উপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর মৃত্যুর পর পুত্র শাহ আবদুল আজিজ দেহলভী জারি রাখেন পিতার চিন্তাধারার সংগ্রাম। এবং পরবর্তীতে একে রূপ দেন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে। এরই ফলশ্রুতিতে ভারতকে ঘোষণা করেন "দারুল হারব" হিসেবে এবং ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে জি হাদ ওয়াজিব ঘোষণা করেন।
শাহ আব্দুল আজিজ দেহলভীর এই ফতোয়াই আদর্শিক ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায় বালাকোট প্রান্তরের শহীদ সেনাপতি সৈয়দ আহমদ বেরলভী (রহ) এর।

শাহ আব্দুল আজিজ দেহলভীর হাতে বাইয়াত গ্রহণ করেন সৈয়দ আহমদ বেরলভী। দুআ পান তাঁর কাছ থেকে। অতঃপর তিনি অনুভব করলেন এই উপমহাদেশের মুসলমানের আজাদীর। তার জন্য প্রয়োজন মুসলিমদের আত্মশুদ্ধি ও জি হাদের। এরই প্রেক্ষিতে তিনি সূচনা করেন "তরিকা-ই মুহাম্মদী" এর। এই তরীকার আন্দোলনের ছিল তিনটি প্রধান লক্ষ্য। তাওহীদ পুনঃপ্রতিষ্ঠা সহ হিন্দু ও শিয়া প্রভাবিত অনুশীলন থেকে মুসলিম সমাজকে মুক্ত করা, ভারতে দারুল ইসলামে রূপান্তর করা, মুসলমানদের অভিন্ন রাজনৈতিক কাঠামোর অধীনে সংঘটিত করা।

এই তরিকা নিয়ে তিনি চষে বেড়ান গোটা ভারতবর্ষ। সাড়া পান ব্যাপক, দলে দলে তার কাছে ভিড়তে শুরু করে ভারতীয় জোয়ানরা। এই বাংলা থেকেও অসংখ্য বীর তার ডাকে সাড়া দিয়ে আন্দোলনে যুক্ত হয়। সৈয়দ বেরলভী বয়স ও সামর্থ্যের বিচারে তাদেরকে বাইয়াত ও প্রশিক্ষণ দেন। পরবর্তীতে তাদের সাথে নিয়ে তিনি ১৮২৬ সালে হিজরত করেন পেশোয়ারে এবং গোড়াপত্তন করেন এক ইসলামী রাষ্ট্রের। পরবর্তী চার বছরের মধ্যেই পেশোয়ার শহর সহ সমগ্র উপত্যকা ও হাজারার কিছু অংশ নিতে পেরেছিলেন তার অধীনে। কিন্তু একদিকে শিখদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন তিনি, আবার অন্যদিকে পাঠান মুসলিম সরদাররা বেরলভির ধর্মীয় অনুশীলনের বিরুদ্ধে চলে যান। ফলে বেরলভির বেশকিছু অনুসারী হত্যার শিকার হন সেখানে।

অতিরিক্ত উৎপাতের ফলে সৈয়দ বেরলভী সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি এবার হিজরত করবেন কাশ্মীরের দিকে। তিনি কাশ্মীরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলে তাঁর চার বছরের খানকাহ্ সাথেসাথেই দখল করে নেয় শিখরা। এবং ওই এলাকার জনগণের উপর নির্যাতন শুরু করে।

পথিমধ্যে সাহায্য চায় বিভিন্ন মুসলিম সরদার এবং সে ডাকে সাড়া দেন তিনি। পাঠান মু জাহিদ বাহিনীর একাংশও। কিন্তু এদিকে শিখ সেনা রঞ্জিত সিংহ বিরাট বাহিনী নিয়ে সমাবেশ করে নখলি নামক স্থানে। এই সময়ে তিনি সংঘর্ষে লিপ্ত না হয়ে হাজারাতেই থেকে যান কাশ্মীরে যাত্রা না করে। কিন্তু তিনি যখন খবর পেলেন রনজিত সিংহ আক্রমণের পরিকল্পনা করছে, তখন তিনি এবং শাহ ইসমাইল ধাপে ধাপে উপনীত হন বালাকোটের প্রান্তরের দিকে।

মু জাহিদ বাহিনী দ্বারা সেনাচৌকি বসান মেটিকোট পর্বতের পাদদেশে। কিন্তু সংঘর্ষ হয়ে মেটিকোট দখলে গেলো শিখ সেনাদের। ৫ মে এই মেটিকোট টিলার শিখরে উঠতে সক্ষম হয় শিখ সৈন্য গণ। ৬ মে তারা নামতে থাকে বালাকোটের প্রান্তরের দিকে। মুসলিম মু জাহিদ বহিনীও প্রস্তুতি নেয় প্রতিরোধের। কিন্তু ১৯ হাজার শিখ সৈন্যের বিপরীতে ৭০০ জন এর সাথে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের শহীদ হোন শহীদ সৈয়দ আহমেদ বেরলভী রহ. সহ প্রায় ৩০০ মুসলিম সেনা।

সৈয়দ আহমদ ও শাহ ইসমাঈল সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন, যুদ্ধ পরিচালনা করেন এবং আত্মত্যাগের এক অমর দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। যুদ্ধের একপর্যায়ে সৈয়দ আহমদ শহীদ হন মেটিকোট পাহাড়ের একটি ঝরনার পাশে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই শাহ ইসমাঈল দেহলভীও শাহাদাতের অমীয় সুধা পান করেন। তাঁদের শাহাদাতের খবর মু জাহিদদের কাছে সঙ্গে সঙ্গে না পৌঁছানোয় অনেকে ইমামকে খুঁজতে খুঁজতে বিভ্রান্ত হয়ে শত্রুর হাতে নিহত হন। এদিকে কিছু সাহসী মু জাহিদ যুদ্ধ চালিয়ে গেলেও সংখ্যার ভারে দীর্ঘক্ষণ টিকে থাকা সম্ভব হয়নি।

যুদ্ধ চলাকালে স্থানীয় গোত্রের কিছু ব্যক্তি প্রচার করে, "সৈয়দ সাহেব নিরাপদে পাহাড়ের ওপরে আছেন, সবাই দ্রুত সেদিকে চলে যান।" এই ঘোষণায় বিভ্রান্ত হয়ে অনেক মু জাহিদ পিছনে সরে যান এবং সেই সুযোগে শিখ বাহিনী পুরোপুরি জয়লাভ করে। এই দিনের ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে প্রায় ৩০০ মু জাহিদ শহীদ হন, যাদের মধ্যে তৎকালীন বাংলা অঞ্চলের মু জাহিদরাও ছিলেন। শিখ সৈন্যরা সৈয়দ আহমদের মৃতদেহ খুঁজে পেয়ে শিরশ্ছেদ করে এবং বহু অনুসারীকেও নির্মমভাবে হত্যা করে। যুদ্ধ শেষে বালাকোটের ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে তারা মুসলমানদের বড় ধরনের ক্ষতি সাধন করে।

শহীদদের এই রক্ত দিয়েই লেখা হয় উপমহাদেশে সাম্রাজ্যবাদী থেকে আজাদী, মুসলমানের আজাদী। আবিষ্কৃত হয় উপমহাদেশে মুসলমানের ধর্মীয় চিন্তার নতুন এক স্বত্বা। প্রাণ সঞ্চার হয় নতুনভাবে। দিকভ্রান্ত থেকে দিশা খোঁজ আসে নয়া আঙিনায়।



“সিংহের মত এক দিন বাঁচা শেয়ালের মত একশ বছর বাঁচার চেয়ে শ্রেয়”— টিপু সুলতানআজ ৪মে ঠিক এই দিনে, ১৭৯৯ সালে চতুর্থ ইঙ্গ-ম...
04/05/2026

“সিংহের মত এক দিন বাঁচা শেয়ালের মত একশ বছর বাঁচার চেয়ে শ্রেয়”— টিপু সুলতান

আজ ৪মে ঠিক এই দিনে, ১৭৯৯ সালে চতুর্থ ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধে বীরের মতো যুদ্ধ করতে করতেই শাহাদাত বরণ করেন টিপু সুলতান। ইতিহাসে “মহীশূরের বাঘ” নামে পরিচিত এই মহান শাসক শুধু একজন যোদ্ধাই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন এক দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক, সংস্কারক এবং উপনিবেশবিরোধী সংগ্রামের এক অনন্য প্রতীক।

টিপু সুলতানের প্রকৃত নাম ছিল ফতেহ আলী খান। তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১৭৫০ সালে দক্ষিণ ভারতের মহীশূর রাজ্যে। তাঁর পিতা হায়দার আলী ছিলেন মহীশূরের শক্তিশালী শাসক এবং একজন দক্ষ সামরিক নেতা। শৈশব থেকেই টিপু সুলতান যুদ্ধকৌশল, প্রশাসন ও কূটনীতির শিক্ষা লাভ করেন। পিতার সান্নিধ্যে থেকে তিনি অল্প বয়সেই যুদ্ধক্ষেত্রে অংশগ্রহণ করতে শুরু করেন এবং দ্রুতই নিজের দক্ষতার পরিচয় দেন। ১৭৮২ সালে হায়দার আলীর মৃত্যুর পর তিনি মহীশূরের সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং শাসনভার গ্রহণ করেন।

শাসক হিসেবে টিপু সুলতান ছিলেন অত্যন্ত দৃঢ়চেতা ও প্রগতিশীল। তিনি ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ক্রমবর্ধমান আধিপত্যকে ভারতের জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখতেন এবং তাদের বিরুদ্ধে নিরলস সংগ্রাম চালিয়ে যান। তাঁর শাসনামলে মহীশূর একটি শক্তিশালী ও সংগঠিত রাষ্ট্রে পরিণত হয়। তিনি প্রশাসনিক সংস্কার, রাজস্বব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে বিশেষ মনোযোগ দেন।

টিপু সুলতানের অন্যতম বড় অবদান ছিল সামরিক প্রযুক্তিতে নবতর উদ্ভাবন। তিনি লোহার নলযুক্ত রকেট অস্ত্রের উন্নত ব্যবহার করেন, যা সে সময়ের জন্য ছিল অত্যন্ত আধুনিক। এই রকেট প্রযুক্তি ব্রিটিশদের বিস্মিত করে এবং পরবর্তীতে তারা এই প্রযুক্তি অনুসরণ করে ইউরোপে নতুন ধরনের রকেট উদ্ভাবন করে। যুদ্ধক্ষেত্রে তাঁর কৌশল, সাহসিকতা এবং নেতৃত্বগুণ তাকে ব্রিটিশদের অন্যতম ভয়ংকর প্রতিপক্ষে পরিণত করে।

তাঁর জীবনের সঙ্গে “বাঘ” প্রতীকটি বিশেষভাবে জড়িত। কথিত আছে, একবার শিকারের সময় তিনি খালি হাতে একটি বাঘের সঙ্গে লড়াই করে তাকে হত্যা করেন, এরপর থেকেই তিনি “শের-ই মহীশুর" তথা মহীশূরের বাঘ উপাধিতে ভূষিত হন। তাঁর সিংহাসন, রাজকীয় পোশাক, অস্ত্র এবং সামরিক পতাকায় বাঘের প্রতীক ব্যবহৃত হতো, যা তাঁর সাহস ও শক্তির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।

আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও টিপু সুলতান ছিলেন সক্রিয়। তিনি ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী জোট গঠনের উদ্দেশ্যে ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্ট-এর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। যদিও সেই জোট বাস্তবায়িত হয়নি, তবুও এটি তাঁর দূরদর্শিতা ও কৌশলগত চিন্তাভাবনার প্রমাণ বহন করে।

অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রেও তিনি উল্লেখযোগ্য সংস্কার সাধন করেন। তিনি রাষ্ট্রীয় ব্যাংক প্রতিষ্ঠা, নতুন ক্যালেন্ডার প্রবর্তন, রেশম শিল্পের উন্নয়ন এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণে উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তাঁর শাসনামলে মহীশূর অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হয় এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত হয়।

টিপু সুলতান নিজেকে মুসলিম বিশ্বের একজন গুরুত্বপূর্ণ শাসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন এবং সে সময়ে উসমানীয় খলিফা ৩য় সেলিমের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেন। এই প্রচেষ্টার মূল উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সমর্থন ও বৈধতা অর্জন করা।
তিনি ওসমানীয় দরবারে দূত পাঠান এবং চিঠির মাধ্যমে নিজের সালতানাতকে স্বীকৃতি দেওয়ার অনুরোধ করেন। পাশাপাশি তিনি আশা করেছিলেন যে, খলিফার সমর্থন পেলে ভারতের মুসলিমদের মধ্যে তাঁর প্রভাব আরও বাড়বে এবং ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে একটি বৃহত্তর মুসলিম ঐক্য গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

ঐতিহাসিকভাবে জানা যায়, উসমানীয় সুলতান টিপুর প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন এবং তাকে সম্মানজনকভাবে গ্রহণ করেন। তবে বাস্তবিক সামরিক সহায়তা বা জোট গঠন তেমন কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়নি, কারণ সে সময় উসমানীয় সাম্রাজ্য নিজেই ইউরোপীয় শক্তিগুলোর সঙ্গে নানা সমস্যায় জর্জরিত ছিল।

১৭৯৯ সালে শ্রীরঙ্গপত্তনম-এ সংঘটিত যুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার ফলে মহীশূরের পতন ঘটে। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত টিপু সুলতান যুদ্ধক্ষেত্রে লড়াই করেন এবং বীরের মতো শহীদ হন। তাঁর এই শাহাদাত তাঁকে ইতিহাসে অমর করে রেখেছে।



আজ ৩ মে ঠিক এই দিনে, ১৪৮১ সালে ইন্তেকাল করেন ইসলামী ইতিহাসের অন্যতম মহাবীর "কনস্টান্টিনোপল বিজেতা" মহান অটোম্যান সাম্রাজ...
03/05/2026

আজ ৩ মে ঠিক এই দিনে, ১৪৮১ সালে ইন্তেকাল করেন ইসলামী ইতিহাসের অন্যতম মহাবীর "কনস্টান্টিনোপল বিজেতা" মহান অটোম্যান সাম্রাজ্যের ক্ষমতাধর শাসক সুলতান মুহাম্মদ বিন মুরাদ আল ফাতিহ। পূর্বসূরী সকল সাহাবী ও খলিফাদের বহুল আকাঙ্ক্ষিত বরকতময় শহর মাত্র ২১ বছর বয়সে সুলতান মুহাম্মদ জয় করে নেন এবং পূর্ব রোম সাম্রাজ্যের ধুলিস্যাৎ করে ইউরোপে ইসলামের নিশানকে ভু-প্রতিষ্ঠিত করেন।

ফাতিহ সুলতান উসমানীয় সাম্রাজ্যের সীমানাকে তার পিতা সুলতান মুরাদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি করেছিলেন। তার শাসনামলে, উসমানীয় সাম্রাজ্য পূর্বে আনাতোলিয়া থেকে পশ্চিমে বলকান পর্যন্ত এবং দক্ষিণে কৃষ্ণ সাগর থেকে উত্তরে এজিয়ান সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল। মৃত্যুর সময় সুলতান রোডোস দ্বীপ ও ইতালীর দিকে অভিযান পরিচালনা করছিলেন। মাত্র ৪৯ বছর বয়সে আল্লাহ ডাকে সাড়া দিয়ে চলে যান এই মহান সুলতান।

তার মৃত্যুসংবাদে গোটা ইউরোপের খ্রিস্টান মহলগুলোতে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। গির্জাগুলোতে ঘণ্টা বাজানো হতে থাকে। ভেনিসে তার মৃত্যু সংবাদ প্রকাশ করা হয় এই বলে,
la grande aquila e morta
"মহান ঈগলের মৃত্যু হয়েছে"



আজ ৩০ এপ্রিল ঠিক এই দিনে, ১০৩০ সালে ইন্তেকাল করেন মুসলিমদের ইতিহাসে 'ফাতেহুল হিন্দ' খ্যাত বীর সুলতান আবুল কাসেম মাহমুদ আ...
30/04/2026

আজ ৩০ এপ্রিল ঠিক এই দিনে, ১০৩০ সালে ইন্তেকাল করেন মুসলিমদের ইতিহাসে 'ফাতেহুল হিন্দ' খ্যাত বীর সুলতান আবুল কাসেম মাহমুদ আল-গজনবি রাহি.। তিনি ছিলেন গজনভি সাম্রাজ্যের সুলতান। তার সাম্রাজ্য মূলত আধুনিক আফগানিস্তান, ইরান এবং উত্তর-পশ্চিম ভারতীয় উপমহাদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। তার জীবদ্দশায় তিনি ১৭বার ভারতে অভিযান পরিচালনা করেছিলেন। ঐতিহাসিক সূত্রে সুলতান মাহমুদকে ইসলামের একজন একনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে দেখা যায়। আব্বাসীয় খলিফার আনুগত্য স্বীকার করে তিনি 'ইয়ামিন-উদ-দৌল্লা এবং আমিন-উল-মিল্লাত' উপাধি ধারণ করেছিলেন।

সুলতান মাহমুদ একজন অসাধারণ সামরিক কৌশলবিদ, ইনসাফপরায়ণ ও দক্ষ শাসক ছিলেন। তার সামরিক দক্ষতা এতটাই উন্নত ছিল যে তিনি তার ১৭টি ভারত অভিযানের একটিতেও পরাজিত হননি। তিনি একটি সুসংহত এবং শক্তিশালী সেনাবাহিনী গড়ে তুলেছিলেন, যেখানে তুর্কি, আরব এবং ভারতীয় সৈন্যদের সমন্বয় ছিল। প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও তিনি যোগ্যতার পরিচয় দিয়েছিলেন। তিনি জ্ঞানী ও গুণীদের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন এবং তার দরবারে বিখ্যাত পণ্ডিত ও কবি যেমন আল-বেরুনী এবং ফেরদৌসী সমাদৃত ছিলেন।

ভারতে প্রেরিত সুলতান মাহমুদ গজনবীর ১৭টি সফল অভিযানের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা নিচে দেওয়া হলো:

১. ১০০০: খ্রিস্টাব্দ: এসময় সুলতান মাহমুদের প্রথম ভারত অভিযান পরিচালিত হয়। এই অভিযানে তিনি খাইবার গিরিপথে অবস্থিত ভারতের সীমান্ত দুর্গ ও কয়েকটি সীমান্ত নগরীর অধিকার করেন।

২. ১০০১ খ্রিষ্টাব্দ: এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল পাঞ্জাবের হিন্দু শাহী শাসক জয়পাল। মাহমুদ পেশোয়ারের কাছে তাকে পরাজিত করেন এবং বিপুল ধনসম্পদ লাভ করেন। জয়পাল বন্দি হন, তবে পরে মুক্তি পান এবং অপমানে আত্মহত্যা করেন।

২. ১০০৪ খ্রিষ্টাব্দ: এই অভিযানে মাহমুদ মুলতান আক্রমণ করেন। সেখানকার শাসক দাউদ আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হন এবং মাহমুদ প্রচুর কর আদায় করেন।

৩. ১০০৪ খ্রিষ্টাব্দ: মাহমুদ ভাতিন্ডার শাসক বিজয় রায়কে পরাজিত করেন। ভাটিণ্ডার রাজার সাথে মাহমুদের পিতার ভালো সম্পর্ক ছিল। কিন্তু মাহমুদের আমলে সেই সম্পর্ক ছিন্ন করে বিজয় রায়। ফলস্বরূপ পরাজিত হতে হয় তাকে এবং তিনিও আত্মহত্যা করেন।

৪. ১০০৫ খ্রিস্টাব্দ: তিনি মুলতানের শাসনকর্তা বিদ্রোহী ইসমাইলী শাসক আবুল ফতেহ দাউদকে দমন করেন এবং সাথে সাথে মুলতানও অধিকৃত করেন।

৫. ১০০৭ খ্রিস্টাব্দ: এ সময় সুলতান মাহমুদ সুখপালের বিরুদ্ধে তার পঞ্চম অভিযান পরিচালনা করেন।

৬. ১০০৮ খ্রিষ্টাব্দ: এই অভিযানটি ছিল রাজা আনন্দপালের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়। আনন্দপাল কনৌজের প্রতিহার শাসক এবং অন্যান্য ভারতীয় রাজাদের সাথে জোট গঠন করেও মাহমুদের কাছে পরাজিত হন।

৭. ১০০৯ খ্রিষ্টাব্দ: মাহমুদ নগর কাটের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন। তেমন কোন বাধা না পাওয়ায় খুব সহজেই এ শহর জয় করেন এবং বিপুল পরিমাণ গনিমত লাভ করেন।

৮. ১০১০ খ্রিষ্টাব্দ: এসময় সুলতান মাহমুদ মুলতানে আরো একটি অভিযান পরিচালনা করেন। সেখানকার বিদ্রোহী শিয়া মুসলিমদের বিতাড়িত করেন।

৯. ১০১৪ খ্রিষ্টাব্দ: এই অভিযানে মাহমুদ নন্দনা অধিকার করেন এবং ত্রিলোচন পালকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেন।

১০. ১০১৪ খ্রিস্টাব্দ: মাহমুদ থানেশ্বর আক্রমণ করেন এবং সেখানকার হিন্দুরা তার বিরুদ্ধে তুমুল প্রতিরোধ গড়ে তুললেও শেষ পর্যন্ত তারা পরাজিত হয়।

১১. ১০১৫-১০২১ খ্রিষ্টাব্দ: এই অভিযানে মাহমুদ দুবার কাশ্মীর আক্রমণ করেন, তবে দুর্গম ভূখণ্ড এবং প্রবল প্রতিরোধের কারণে তেমন সুবিধা করতে পারেননি।

১২. ১০১৮-১০১৯ খ্রিষ্টাব্দ: এটি ছিল মাহমুদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভিযান। তিনি কনৌজ আক্রমণ করেন এবং সেখানকার প্রতিহার শাসক রাজ্যপাল পালিয়ে গেলে কনৌজ সহজেই মাহমুদের হস্তগত হয়।

১৩. ১০২০-১০২১ খ্রিষ্টাব্দ: এই অভিযানে মাহমুদ বুন্দেলখণ্ডের কালিঞ্জর দুর্গ অবরোধ করেন। চান্দেল্ল শাসক গণ্ড দেব প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তুললেও শেষ পর্যন্ত পরাজয়ের মুহূর্তে সে রাজ্য ছেড়ে পালিয়ে যায়।

১৪. ১০২১-১০২২ খ্রিষ্টাব্দ: মাহমুদ গোয়ালিয়রের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন। এর ফলে গোয়ালিয়রের রাজা তার বশ্যতা স্বীকার করে।

১৫. ১০২৩ খ্রিস্টাব্দ: গোয়ালিয়রের রাজা সুলতান মাহমুদের বশ্যতা স্বীকার করার পর তিনি ১০২৩ খ্রিস্টাব্দে পুনরায় হিন্দু রাজা নন্দার বিরুদ্ধে সৈন্যসামন্ত নিয়ে কালিঞ্জর আক্রমণ করেন। এই অভিযানকালে তিনি গোন্ডার বিখ্যাত দুর্গ অবরাধে করেন। কালিঞ্জরের রাজা তখন বার্ষিক কর প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আত্মরক্ষা করেন।

১৬. ১০২৬ খ্রিষ্টাব্দ: এটি ছিল মাহমুদের সবচেয়ে বিখ্যাত অভিযান। তিনি গুজরাটের সোমনাথ মন্দিরে অভিযান পরিচালনা করেন। হিন্দুরা এখানে তীর্থ করতে আসত। মন্দিরের স্থাপত্যশৈলী ছিল অশ্লীল চিত্র দ্বারা শোভিত। সোমনাথ বিগ্রহের খ্যাতি ছিল সমগ্র ভারতবর্ষব্যাপী এবং কর্মরত ব্রাহ্মণগণ মনে করতেন যে, বিগ্রহসমূহের অলৌকিক ক্ষমতা মাহমুদের আক্রমণ প্রতিরোধে সক্ষম। হিন্দুদের বিশ্বাস যে ভ্রান্তিমূলক ছিল, তা প্রমাণ করার জন্যই সুলতান মাহমুদ সোমনাথ জয় করতে মনস্থ করেছিলেন। ইবনে খালদুন, ফিরিস্তা এবং ডব্লিউ হেগ প্রমুখ ঐতিহাসিকগণ এই মত সমর্থন করেন।

১৭. ১০২৭ খ্রিষ্টাব্দ: সোমনাথ অভিযানের পর ফেরার পথে মাহমুদ জাঠদের দ্বারা আক্রান্ত হন। এই অভিযানে তিনি জাঠদের পরাজিত করেন।

সুলতান মাহমুদ এর ভারত অভিযানের উদ্দেশ্য–
ধর্মীয় উদ্দেশ্য: পৌত্তলিকতার ধ্বংস সাধন করে ইসলাম প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে সুলতান মাহমুদ ভারতে অভিযান পরিচালনা করেছিলেন। ইসলামের এই সুমহান দায়িত্ব পেয়ে মাহমুদ হিন্দুস্তানে ইসলামের ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করতে ব্রত ছিলেন। ফলস্বরূপ এ সকল অভিযানে কয়েকজন রাজাসহ অসংখ্য হিন্দু ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিল। তবে তিনি উদার এবং ইনসাফরায়ন ব্যক্তিত্ব ছিলেন, কারও উপর ধর্ম চাপিয়ে দেননি কখনো। যুদ্ধ লব্ধ সম্পদ ব্যতীত অবৈধ লুটতারাজ তার দ্বারা হয়নি।

রাজনৈতিক উদ্দেশ্য: একথা সত্য যে সুলতান মাহমুদ গজনী সম্রাজ্যের বিস্তারে জোর দিয়েছিলেন। গজনিকেন্দ্রিক প্রভাব বিস্তৃতে রাজ্য দখল তার জন্য অপরিহার্য ছিল। এছাড়াও উপমহাদেশের হিন্দু রাজন্যবর্গ কর্তৃক চুক্তিভঙ্গ, আনুগত্যহীনতা, শত্রুকে সাহায্য দান ও বিশ্বাসঘাতকতা সুলতান মাহমুদকে বারবার অভিযান পরিচালনা করতে বাধ্য করেছে।

অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য: প্রতিটি অভিযানেই সুলতান মাহমুদ বিপুল পরিমাণ গনিমত অর্জন করতেন। মধ্য এশিয়ার শত্রু দমন করা ও গজনীকে কেন্দ্র করে বিরাট সাম্রাজ্য গড়ে তোলার জন্য এর সম্পদের প্রয়োজন ছিল।

এত বড় মুসলিম বিজেতা হয়েও সুলতান মাহমুদ কখনো অহংবোধ করেননি। বরঞ্চ আল্লাহর সাথে তার গভীর সম্পর্ক ছিল। তিনি যুদ্ধের নিয়মের বাইরে কখনো শত্রুকে হত্যা করেননি। অসীম সাহসিকতার মাধ্যমে সাম্রাজ্য পরিচালনা করেছেন। হিন্দুত্ববাদীরা সবসময় সুলতান মাহমুদকে হিংস্র, বর্বর ও ধ্বংসকারী হিসেবে আখ্যায়িত করলেও প্রকৃত ইতিহাসবিদদের কলমে সুলতান মাহমুদ একজন আল্লাহভীরু দ্বীনদার শাসক হিসেবেই অমর হয়ে আছেন, যিনি যুদ্ধের ময়দানেও নফল সালাত আদায় করেছেন এবং যার রাত্রি কেটেছে কুরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে।



Address

Dhaka

Telephone

+8801975445039

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Searching History posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Searching History:

Share