19/10/2021
টাকা ও সম্পদ উপাজর্ন করা আমাদের সবার জীবনের একটা প্রধান উদ্দেশ্য। অনেকের ক্ষেত্রে সেটা না হলেও জীবনধারনের জন্যে টাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। চাকরি কিংবা ব্যবসা, যাই করি না কেন আমরা দিন শেষে অর্থই আমাদের জীবনধারণকে সহজ করে। অনেকেই আবার জীবনে সাফল্য হিসেবে টাকাটাকে মূখ্য করে দেখেন। আমাদের এতসব চেষ্টা, বাড়তি ইফোর্ট এসব কি টাকা কিংবা সম্পদ উপার্জন করতে যথেষ্ঠ?
অনেক ইফোর্ট দেয়ার পরেও কেউ স্ট্রাগল করে আবার কেউ কম ইফোর্ট দিয়েও অনেক বেশি উপাজর্ন করে। সমান মেধা ও যোগ্যতার লোকজনের ক্ষেত্রেও এই বৈষম্য দেখা যায়। কিন্তু কেন? কেন কেউ কম পরিশ্রম করে বেশি উপার্জন করে আবার কেউ অনেক পরিশ্রম করেও খুব বেশি উপার্জন করতে পারে না?
সিক্রেটসটা কি? পার্থক্যগুলো কোথায়? ইফোর্টে নাকি চিন্তায়! কে আমাদের এই বিষয়ে সবচেয়ে ভাল পরামর্শ দিতে পারেন? কিভাবে আমরা টাকা ও সম্পদ অর্জনের জন্যে একটা সিসটেম তৈরী করতে সক্ষম হবো?
ভারতের রিলায়েন্স গ্রুপের ওউনার মুকেশ আম্বানি’র চেয়ে ভাল আর কে হতে পারে? টাকা উপাজর্ন ও সম্পদ সৃষ্টির জন্যে ৯টি এডভাইস তিনি দিয়েছেন। উদ্যোক্তারা এই এডভাইসগুলো যথাযথ ভাবে চর্চা করলে তার বিজনেসে পরিবর্তন আসতে বাধ্য। আমরা জানি, সফলরা আজকে সফল হয়েছেন কেবল ভিন্ন ভাবে চিন্তা করতে পারার জন্যেই। আর তাই তাদের এক্সপেরিয়েন্সড এডভাইস নতুন উদ্যোক্তাদের জন্যে এক-একটা মনিমুক্তা সরূপ।
আসুন, শিখে নেই ৯টি অমূল্য এডভাইস যা আমাদের জীবনে টাকা উপার্জনে ও সম্পদ সৃষ্টির ইকো সিসটেম বিল্ড করতে সহযোগীতা করবে।
১) টাকাই সব কিছু নয় কিন্তু টাকা গুরুত্বপূর্ণ কিছুঃ
মুকেশ আম্বানীর বাবা, বিখ্যাত বিজনেসম্যান ধীরুভাই আম্বানী সব সময় এই কথাটা বলতেন যে, টাকাই সব কিছু নয় কিন্তু মনে রেখো, টাকা খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু। মুকেশ আম্বানী এই এডভাইসটাকে জীবনে সিরিয়াসলি নিয়েছিলেন। তিনি সব সময় টাকার পেছনে দৌড়াননি কিন্তু টাকাকে যথাযথ গুরুত্ব দিয়েছেন। বিজনেস করতে গেলে নাম্বারস, প্রফিট জরুরী বিষয়। সুতরাং বিজনেসের ক্যাশ ইন-ফ্লো এবং আউট-ফ্লো এর বিষয়ে সব সময় সচেতন থাকুন। টাকার সঠিক ব্যাবহার শিখুন।
২) স্বপ্ন দেখুন এবং স্বপ্নকে বাস্তবায়নের উদ্যোগী হোনঃ
মুকেশ আম্বানী বিশ্বাস করেন, টাকার পেছনে ছোটাটা ভুল কিন্তু স্বপ্নের পেছনে ছুটলে সেখানে ভুলের কিছু নেই। যদিও লোকে নানান কথা বলবে কিন্তু আপনি যদি আপনার স্বপ্ন পূরণে একাগ্রতার সাথে কাজ করে যান তাহলে টাকা এমনি এসে ধরা দিবে। তাই আপনাকে আপনার স্বপ্নটা সুনির্ধারিত করে জানতে হবে এবং তা বাস্তবায়নে সর্বত্মক চেষ্টা চালাতে হবে। মনে রাখবেন, টাকা নয় আপনার স্বপ্নটাই যেন আপনাকে প্রতিদিন চালিত করে।
৩) সেলিব্রেটি হবার দরকার নেই। আপনার কাজে সেরা হয়ে উঠুনঃ
ইদানিং দেখা যায় বিজনেস যতটা না গ্রো করছে তার চেয়ে বেশি উদ্যোক্তার নামডাক। তিনি সব মিডিয়াতে আছেন সব সময় কিন্তু কর্মস্থলে থাকেন কদাচিৎ। এমন উদ্যোক্তারা খুব দ্রুতই ঝড়ে পরেন। কারন তিনি ব্যবসায় সময় না দেয়াতে ব্যবসার সাথে একটা দূরুত্ব বাড়ে আর মিডিয়া তো সব সময় খোঁজে কিসে তার টিআরপি বাড়বে। যে মিডিয়া আজকে আপনাকে প্রমোট করছে তো এক বছর পরে অন্য কোন উদ্যোক্তাকে করবে। তাই নিজের কাজটা ভাল করে করুন। কারন আপনার লক্ষ্য সেলিব্রেটি হওয়া নয়। উদ্যোক্তা হওয়া। মুকেশ আম্বানী ভারতের সবচেয়ে বড় বিজনেস গ্রুপগুলোর একটির নেতৃত্ব দেন। কিন্তু মিডিয়াতে তাকে কালেভদ্রেই দেখা যায়।
৪) হৃদয়ের ডাক শুনুন। হৃদয় থেকে যা আসে বিশ্বাস করুনঃ
জীবনে চলার পথে আপনাকে পেছন থেকে টেনে ধরার লোকে অভাব হবে না। আপনার কাজ, পদক্ষেপ নিয়ে সমালোচনা করার লোকের অভাব হবে না। অপমান, অপদস্থ করার জন্যে লোক মুখিয়ে থাকবে। কোন ডিসিশন নিতে গেলে তখন আপনি দ্বিধান্বিত হয়ে পড়তে পারেন। পরিস্থিতি আপনাকে কনফিউসড করে দিতে পারে। এমন সিচ্যুয়েশনগুলোতে নিজের মনের ডাক শুনুন। মন থেকে উৎসরিত সিদ্ধান্তে বিশ্বাস রেখে সামনে এগিয়ে যান। রেজাল্ট আসতে সময় লাগতে পারে কিন্তু জেনে রাখুন, নিশ্চিত বিজয় আপনারই।
৫) সবাইকে বিশ্বাস করুন কিন্তু কারো উপর নির্ভরশীল হবেন নাঃ
আম্বানী বলেন, জীবনে খুব খারাপ সময় পার করেছি। অনেক চ্যালেঞ্জের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। ক্রাইসিস ম্যানেজ করা শিখেছি। আর ঐ সময় আমি আরেকটা জিনিস শিখেছি যে, আশেপাশের সবাইকে বিশ্বাস করতে হবে ঠিকই কিন্তু কারো উপর কোন কিছুতে নির্ভরশীল হওয়া যাবে না। আপনিও এই কথাটা মনে রাখুন। কাজটা আপনার। সুতরাং আপনাকেই শেষ করতে হবে। স্বপ্ন আপনার। সুতরাং গন্তব্যে পৌছানোর জন্যে আপনাকেই লড়াই করতে হবে। এখানে কারো উপর নির্ভরশীল হয়েছেন তো খারাপ অভিজ্ঞতা নিতে প্রস্তুত হয়ে যান।
৬) কোন কিছু শিখতে রিস্ক নিন। এটাই সর্বোত্তম পন্থাঃ
কোন কিছু করতে চাইলে শুরু করে দিন। কোন কিছু শিখতে চাইলে শুরু করে দিন। অনেক ভেবে চিন্তে কিছু হবে না। রিস্ক নিন। সাহস করুন। এই রিস্ক নেয়া, চেষ্টা করাটাই আপনাকে প্র্যাকটিক্যাল লার্নিং ও এক্সপেরিয়েন্স দিবে। আপনার সব সিদ্ধান্ত, সব পদক্ষেপ সব সময় সঠিক হবে না। কিন্তু সঠিকটা খুঁজে নিতে আপনাকে সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ নিতেই হবে। জীবনের সবচেয়ে বড় রিস্ক হলো কোন রিস্ক না নেয়া। আর যিনি রিস্ক নেননি তিনি জীবনে কিছু অর্জনও করেননি।
৭) নিজের এনার্জীকে ধরে রাখুন এবং অন্যদের এনকারেজ করুনঃ
নিজেকে ক্লান্ত হতে দেবেন না। কাজের মনোভাব সব সময় ধরে রাখুন। কাজকে ভালবাসতে শিখুন। আপনার সাথে যারা কাজ করেন তাদের কাজের ফলাফলের উপর ভিত্তি করে উৎসাহিত করুন। সাপোর্ট দিন। ভুল করলে শুধরে দিন। যোগ্য লোক সাপোর্ট ও এনকারেজমেন্ট পেলে নিজেকে ডেভলপ করবে আর অযোগ্য লোক সুযোগ নিবে। সেটা বুঝে সিদ্ধান্ত নিন।
৮) চারদিকে কি হচ্ছে! সেই বিষয়ে সজাগ থাকুনঃ
আম্বানি বলেন, আপনার মার্কেট, সেলস এবং চারপাশে কি ঘটছে সেই সম্পর্কে সজাগ থাকুন। চারপাশে কি হচ্ছে, কি হতে পারে সেই সব বিষয়ে তথ্য রাখুন। সতর্ক থাকুন। সর্বদা মনে রাখুন, আপনাকে সেরা হতে হবে এবং শীর্ষে পৌছাতে হবে।
৯) সুযোগের যথাযথ ব্যবহার করতে শিখুনঃ
প্রতিটা মানুষই সম্ভাবনাময় এবং সেটাকে কাজে লাগানোর একাধিক সুযোগ জীবনে আসে। সাহস করে একসেপ্ট করতে শিখুন। মনে রাখবেন, সুযোগ আপনার দরজায় কড়া নাড়ুক চাই না নাড়ুক আপনি সুযোগ খুঁজে নিন। সুযোগ সৃষ্টি করে তার যথাযথ ব্যবহার করতে শিখুন।
সাফল্য একটা চলমান যাত্রা। এর অনেক স্টেশন থাকলেও কোন শেষ ডেস্টিনেশন নেই। আর কাজও একটা জীবনব্যাপী বিষয়। স্বপ্ন দেখার পাশাপাশি কাজটাকে ঠিকভাবে করে যেতে পারলে সাফল্যের বিভিন্ন স্টেশনে বিচরণ করা যায়। জীবন তখন অর্জনে হয়ে উঠে পরিপূর্ণ। অভিজ্ঞতায় পরিপুষ্ট। এবং সামগ্রিক ভাবে সুন্দর।
এই ৯টি গুরুত্বপূর্ণ এডভাইস মনে রাখুন। নিজের কাজের সাথে, প্ল্যানের সাথে এডভাইসগুলোকে রিলেট করুন। হয়তো এই এডভাইসগুলো আপনাকে নতুন করে ভাবতে কিংবা বর্তমান ভাবনায় নতুন ভ্যালু এড করতে সাহায্য করবে যা আপনার উন্নতিকে ত্বরান্বিত করবে। শুভ কামনা রইলো আপনার জন্যে।
https://www.facebook.com/bdpreneur