31/07/2026
শিরোনাম: ভালোবাসার শেষ চিঠি
আরিফ আর মেঘলার পরিচয় হয়েছিল এক বর্ষার বিকেলে। প্রথমে বন্ধুত্ব, তারপর সেই বন্ধুত্বই ধীরে ধীরে পরিণত হয়েছিল গভীর ভালোবাসায়। দুজনেই স্বপ্ন দেখত—একদিন ছোট্ট একটা বাড়ি হবে, উঠানে থাকবে শিউলি গাছ, আর সন্ধ্যায় দুজনে একসঙ্গে চা খাবে।
কিন্তু বাস্তবতা তাদের স্বপ্নের মতো ছিল না।
মেঘলার পরিবার আরিফকে মেনে নেয়নি। কারণ, আরিফের ছিল না বড় চাকরি, ছিল না অনেক টাকা। বারবার চেষ্টা করেও সে মেঘলার পরিবারের মন জয় করতে পারেনি। তবুও তারা একে অপরকে কথা দিয়েছিল—"যাই হোক, ভালোবাসা কোনোদিন শেষ হবে না।"
একদিন হঠাৎ মেঘলার বিয়ে ঠিক হয়ে গেল। সেই খবর শুনে আরিফ ভেঙে পড়লেও শেষবারের মতো দেখা করতে চাইল। নদীর ধারে, তাদের প্রিয় সেই জায়গায় দুজনের দেখা হলো।
মেঘলার চোখে তখন শুধু জল।
সে কাঁপা কণ্ঠে বলল, "আমি তোমাকে ছেড়ে যেতে চাই না। কিন্তু আমার নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নেই।"
আরিফ হাসার চেষ্টা করল। বলল, "যদি ভালোবাসা সত্যি হয়, তাহলে একসঙ্গে না থেকেও ভালোবাসা বেঁচে থাকে।"
সেদিন বিদায়ের সময় মেঘলা আরিফের হাতে একটি চিঠি তুলে দিয়েছিল। বলেছিল, "আমি চলে যাওয়ার পর পড়বে।"
কিন্তু আরিফ সেই চিঠি আর কোনোদিন খুলে পড়তে পারেনি। কারণ, মেঘলার বিয়ের দিন সে শহর ছেড়ে অনেক দূরে চলে গিয়েছিল। চিঠিটা সে বুকের কাছে আগলে রেখেছিল, কিন্তু খুলে দেখার সাহস তার কোনোদিন হয়নি।
বছর কেটে গেল।
একদিন বৃষ্টিভেজা বিকেলে পুরোনো ব্যাগ গোছাতে গিয়ে সেই চিঠিটা আবার হাতে এলো। অনেক কাঁপা হাতে খাম খুলল সে।
ভেতরে মাত্র কয়েকটি লাইন লেখা ছিল—
"যদি কোনোদিন আমাকে খুঁজে না পাও, তবুও বিশ্বাস কোরো—আমার শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত আমি শুধু তোমাকেই ভালোবেসেছি। অন্য কারও স্ত্রী হতে পারি, কিন্তু হৃদয়টা কোনোদিন তোমার কাছ থেকে ফিরিয়ে নিতে পারিনি।"
চিঠির ওপর তখন আরিফের চোখের জল পড়ছিল।
বাইরে বৃষ্টি হচ্ছিল, আর ভেতরে ভেঙে যাচ্ছিল একটি অসমাপ্ত প্রেমের গল্প।
তারা দুজনেই একে অপরকে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত ভালোবেসেছিল।
কিন্তু পৃথিবী তাদের ভালোবাসাকে এক করতে পারেনি।
কিছু প্রেমের গল্পে বিচ্ছেদই শেষ অধ্যায় হয়ে থাকে, আর সেই অপূর্ণতাই তাদের ভালোবাসাকে।
শেয়ার করে অন্যদের পড়ার সুযোগ করে দিয়েন।