17/11/2024
সাউথের মুভির সাথে বাংলা মুভির মার্কেটিং নিয়ে কথা বলতে যাচ্ছি, ভয়েই হাত পা কাপছে। পরিচালক, প্রযোজক আর ফ্যানরা ছিড়ে খেয়ে না ফেললেই হয়।
-------------------------------------------------------------------------
একটা মুভি হিট করার পেছনে ভাল গল্প, কাস্টিং কিংবা অভিনয় ছাড়াও অন্যতম ভূমিকা পালন করে থাকে স্ট্রং মার্কেটিং। একমাত্র মার্কেটিংই পারে একটা মুভিকে ওঠাতে বা নামাতে। গল্প কিংবা কাস্টিং ঠিক ঠাক থাকলেও প্রোপার মার্কেটিং না থাকার কারণে অনেক মুভি আছে যেগুলো ফ্লপ হিসেবে বিবেচ্য হলেও, পরবর্তীতে দর্শক হৃদয় ছুয়েছে।
💥 চলুন দেখে নেওয়া যাক, কীভাবে সাউথ ইন্ডিয়া ও ভারতীয় সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি তাদের সিনেমাকে ব্লকবাস্টারে পরিণত করে!
------------------------------------------------------------------------
১. ট্রেলার ও টিজারের পাওয়ার 🔥
-----------------------------------
সাউথ ইন্ডাস্ট্রি বিশেষত্ব: একটি সিনেমার প্রথম ইমপ্রেশন হয় এর টিজার ও ট্রেলার। সাউথের সুপারহিট সিনেমাগুলো, যেমন RRR, KGF, বা Pushpa, টিজার মুক্তি দিয়েই দর্শকের মনে উত্তেজনা তৈরি করেছিল। এবং সেটা ধরে রেখেছিল ছবি লঞ্চিং পর্যন্ত।
স্ট্র্যাটেজি: অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কয়েক মিলিয়ন ভিউ টার্গেট করে এই টিজার-ট্রেলারগুলো সোশ্যাল মিডিয়া ট্রেন্ডে পরিণত হয়।
২. সেলিব্রিটি প্রমোশন ✨
----------------------------
সুপারস্টারদের ফ্যান বেস বিশাল হওয়ায়, তারা সিনেমার প্রচারে নিজেদের উপস্থিতি দিয়ে দারুণ সাড়া ফেলে।
সাংবাদিক বৈঠক থেকে রিয়ালিটি শো পর্যন্ত, ফ্যানদের সঙ্গে সরাসরি ইন্টারঅ্যাকশন তৈরি করা হয়।
উদাহরণ: পুষ্পা (Pushpa) সিনেমার “থাগে দে লে” বা হিন্দিতে "ঝুকেগা নেহি" ডায়লগ ও অ্যাল্লু অর্জুনের সিগনেচার স্টেপ সারা দেশে ভাইরাল হয়েছে!
৩. মিউজিক ও সিঙ্গেল হিটস 🎶
-----------------------------------
মিউজিক হলো সিনেমার আত্মা। একটি শক্তিশালী গান বা আইটেম সং দর্শকের মধ্যে সিনেমার প্রতি আকর্ষণ তৈরি করে।
উদাহরণ: “Naatu Naatu” (RRR) গান শুধু ভারতের নয়, আন্তর্জাতিকভাবে এক আইকনিক সং হয়ে উঠেছে।
স্ট্র্যাটেজি: আগে থেকে হিট গান মুক্তি দিয়ে সিনেমার প্রত্যাশা বাড়ানো হয়।
৪. সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাম্পেইন 📱
---------------------------------------
সাউথ ইন্ডাস্ট্রি সোশ্যাল মিডিয়ায় ফ্যান এনগেজমেন্টের জন্য বিশাল ভাবে পরিচিত। তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমত ঝড় তুলতে পারেন।
মিমস: সিনেমার ট্রেলার বা ডায়লগ নিয়ে তৈরি মিমস দর্শকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। বিভিন্ন ডায়লগ রিক্রিয়েশন বা স্টেপ চ্যালেঞ্জগুলো দ্রুত ভাইরাল হয়, আর তাই তারা এই পন্থাটিকেই বেছে নেন সব সময়।
উদাহরণ: Pushpa-এর “Shrivalli” স্টেপ চ্যালেঞ্জ।
৫. পাবলিক এনগেজমেন্ট 💬
-------------------------------
প্রিমিয়ার শো, ফ্যান স্ক্রিনিং, এবং প্রথম দিনের দর্শকদের রিভিউ বড় ভূমিকা রাখে।
ফ্যানদের অভিজ্ঞতাগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে সিনেমার প্রচারণা আরও তীব্র করা হয়।
---------------------------------------------------------------------
---------------------------------------------------------------------
এইতো গেলো সাউথের মুভির বক্স অফিস হিট হবার পেছনের গল্প। এবার আসি আমার নিজের দেশের মুভি নিয়ে। আমাদের দেশে কি একেবারেই ভাল গল্প, অভিনেতা বা পরিচালক নেই? আমাদের দেশে কি একদমই ভাল ছবি তৈরী হয় না?
এখানেই বাধে বিপত্তি, ভাল মুভির সংজ্ঞা আসলে কি? ভাল মানে কি ব্যবসা সফল নাকি দেখতে ভাল লাগবে এমন?
আসলে, বাংলাদেশের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে "ডিম আগে না মুরগী আগে" রোগের ছোয়া লেগেছে। প্রযোজকরা মার্কেটিং এ টাকা ঢালেন না, কারণ তারা শুরুতেই ধরে নেন যে এই ছবি মূল বাজেটের সমপরিমাণ টাকা হয়ত উঠাতে পারবেন না। আবার তারা মার্কেটিং করেন না বলেন দর্শক সিনেমা হলে যাওয়ার উৎসাহ পান না।
তারই ব্যতিক্রম ছিল হাওয়া কিংবা তুফান ছবিটি। এই দুটো ছবির প্রযোজক মার্কেটিং নিয়ে অন্তত কিপটেমি করেননি। আর তার সুফল কিং এর অভিনেতা-অভিনেত্রী থেকে শুরু করে সবাই পেয়েছেন।
-------------------------------------------------------------------------
ছবিতে Irfan Sajjad অভিনিত নতুন একটা মুভির পোস্টার অ্যাড করেছি। নাম ভয়াল। প্রেম, বিচ্ছেদ, থ্রিলার মিক্সের দারুণ একটা মুভি হতে যাচ্ছে এটি। এবং সবচেয়ে বড় ব্যাপার, বাংলাদেশের সেন্সর বোর্ড থেকে ১৮+ লাইসেন্সের প্রথম ছবি এটি, শুধুমাত্র ভায়োলেন্স সিনের জন্য।
অথচ এই সিনেমাটি নিয়ে কোনো কথা নেই, গল্প নেই, তোলপাড় নেই। কেন জানেন? এই সিনেমাটির মার্কেটিং এর বাজেটই সেভাবে কারো মাথায় নেই। অথচ, হলফ করে বলতে পারি, এই ছবিটির মার্কেটিং সেভাবে হলে এইটা টানা হাউজফুল রিয়্যাকশন দিতে পারতো নূন্যতম ১২-১৫ দিন। আর এতেই এই মুভিটিকেও ব্যবসা সফল বলা যেতে পারতো।
কিন্ত আমাদের পোড়া কপাল, মুভি পাগল অনেক মানুষই হয়ত জানবে না বাংলাদেশেও কত সুন্দর সুন্দর কন্টেন্ট, মুভি তৈরী হচ্ছে বা আসলেই হলে গিয়ে এত সুন্দর কিছু মুভি এঞ্জয় করা যায়।
আমরা জাতি হিসেবে আসলেই অভাগা। আর এর জন্যই সিনেমা হলগুলোও বন্ধ হতে হতে শূন্যের কোঠায়। সেই দিন আর দূরে না, যখন আমরা কেবই টিভির স্ক্রিনে নেটফ্লিক্সেই মুভি দেখার অভ্যাস পুরোদমে করে ফেলতে পারবো।